আজ কিছুক্ষণ আগে একটি নির্বাচন হয়ে গেল।
নির্বাচনটা কোথায় হলো, সেটা খুব গুরুত্বপূর্ণ কিছু নয়।
তাছাড়া এখানকার পাঠকদের বেশিরভাগই সে সম্পর্কে অবগত।
তাই তা আর নাই বা বললাম।
এই লিখাটা নির্বাচনের ফলাফল নিয়ে আমার কিছু ব্যক্তিগত উপলব্ধি জানানোর জন্য লিখছি………
যদিও নির্বাচন হবার কথা ছিল ১৬টি পদের জন্য, কিন্তু তাঁর মধ্যে ১৩ টি পদে বিনা প্রতিদন্দ্বিতায় প্রার্থী নির্বাচিত হয়ে যাওয়ায়, সরাসরি নির্বাচন হয়েছে মাত্র তিনটি পদে।
প্রথম উপলব্ধি এত বিপুল সংখ্যক পদ বিনা প্রতিদন্দ্বিতায় নির্ধারন হওয়া নিয়ে।
এটা কি পদ বা প্রার্থিতা গ্রহনে অনীহার কারনে ঘটছে? নাকি অন্য কোন আভ্যন্তরিন চাপের কারনে ঘটছে?
আশা করছি এ দুটোর কোনটিই যেন প্রকৃত কারণ না হয়।
এ দুটির কোন একটিও যদি বিনা প্রতিদন্দ্বিতায় নির্বাচিত হবার কারন হয়ে থাকে, তা একদিকে যেমন অস্বাস্থ্যকর অন্যদিকে পদ-অর্জনকারীর জন্যেও মোটেও সম্মানজনক নয়।
এভাবে নির্বাচিত হলে নির্বাচকগনের প্রতি নির্বাচিতের কোন দায়বদ্ধতা সৃষ্টি হয় না।
গনতন্ত্রচর্চ্চার সংস্কৃতিতে এই নির্বাচন পরিহার করার প্রবনতা দায়বদ্ধতা সৃষ্টির পথে যে অন্তরায়, সেটা বুঝতে কাউকে রকেট সায়েন্টিস্ট হতে হয় না!!!
[এই বোল্ডটা করলাম আমার এক প্রিয়বন্ধুর কথা ভেবে, যে কিনা আমার এই মেটাফোর ব্যবহারটা খুব উপভোগ করে। 🙂 🙂 🙂 ]
দ্বিতীয় উপলব্ধি-টি হলো প্রতিদন্দ্বিতার মাধ্যমে নির্ধারিত হওয়া তিনটি পদ নিয়ে।
খুবই উৎসাহিত হলাম এটা দেখে যে সব কটি পদেই তরুণতম প্রার্থিই বিজয়ি হিসাবে অবির্ভুত হয়েছেন।
শুধু তরুণতর প্রার্থিই যে বিজয়ি হয়েছেন, তাই না, বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই তারা বয়োজেষ্ঠ্য প্রতিষ্ঠান থেকে আসা প্রার্থির চেয়ে বেশি ভোট পেতে সক্ষম হয়েছেন।
এই ব্যাপারগুলো কি কেবলই কাকতাল? নাকি এর পিছনে অন্য কোনো ডিনামিক্সও কাজ করেছে?
এটা যদি কোনো কাকতাল না হয়ে থাকে, তবে এর পিছনে যে ডিনামিক্সটি কাজ করেছে, আমার কাছে তা খুবই তারুন্য-বান্ধব বলেই মনে হচ্ছে।
আমি আশাবাদি যে আগামীতে যতই দিন যাবে, এই প্রতিষ্ঠানটি ততই তরুণ নেতৃত্বে মুখরিত হয়ে উঠবে।
তৃতীয় উপলব্ধি-টি হলো পূনঃনির্বাচন সংক্রান্ত।
একজন পদধারি তাঁর ট্যানিওরে সব কর্মকান্ডই যে সাফল্যের সাথে করবেন, এমন তো না?
কিন্তু যখনই তিনি পুনঃনির্বাচিত হতে চাইছেন, এর মাধ্যমে কার্যতঃ তিনি একদিকে যেমন তাঁর পূর্ববর্তি ট্যানিওরের সব সফলতার স্বীকৃতি দাবী করছেন অন্যদিকে তিনি তাঁর সকল ব্যার্থতার দায়মুক্তিও চাইছেন।
নির্বাচকরা যে তাকে এদুটির যেকোন একটির জন্যে গ্রহন বা বর্জন করতে পারে, সেটা একজন পুনঃনির্বাচন প্রত্যাশির হিসাবে তার মাথার মধ্যে রাখা উচিৎ।
শত সাফল্যের চেয়েও কখনো কখনো একটি ব্যর্থতা নির্বাচকদের কাছে তাকে প্রত্যাখানের জন্য গুরুত্বপূর্ন হয়ে দাড়াতে পারে। আবার শত ব্যার্থতার চেয়েও কোন একটি বিশেষ সাফল্য নির্বাচকদের কাছে গুরুত্বপূর্ন হয়ে উঠতে পারে। ভবিষ্যতে পুনঃনির্বাচন প্রত্যাশিগন এই বিষয়গুলি গুরুত্ব দিয়ে ভাববেন বলে আশা করছি।
পাশাপাশি আরেকটি বিষয়ও ভাবালো। এটিও পুনঃনির্বাচন সম্পর্কিত।
একজন প্রার্থির সাথে নির্বাচকদের এরকম একটা অলিখিত বোঝাপড়া হয়ে যায় যে ভবিষ্যতের নির্বাচনে তিনি প্রার্থি হলে তাঁকে তাঁর বর্তমান ট্যানিওরের জন্য একধরনের জবাবদিহিতার মুখোমুখি করা যাবে।
কিন্তু একজন প্রার্থি যখন তার শেষ ট্যানিওরের জন্য নির্বাচন করেন, এই জবাবদিহিতার ক্ষেত্রটির স্বতঃপ্রবৃত্তভাবে অবলোপন ঘটে।
এমন একটা জবাবদিহিতাহীন পরিস্থিতিতে নির্বাচকগন যে চুড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহনের আগে গ্রেইন অব সল্ট সহযোগে তাদের সিদ্ধান্তটি পুনঃবিবেচনা করবেন, সেটা তো জানা কথাই।
মনে হচ্ছে এটা ভেবে ভবিষ্যতে, শেষ ট্যানিওরে পুনর্নিরবাচন প্রত্যাশিগন চলতি ট্যানিওরে আরও বেশি সতর্ক পদক্ষেপ নেবেন। আর তা নিতে না পারলে ফলাফলে তার প্রতিফলন দেখার সম্ভবনা কিন্তু অতি উজ্জ্বল।
পরিশেষে বলতে চাই যে আমার এই উপলব্ধিগুলোর কোনটিই চুড়ান্ত নয়।
সবই তাৎক্ষনিক।
অনেকেরই অনেক মতদ্বৈত্যতা এতে থাকা স্বাভাবিক।
তবে এগুলোর সবই হয়তো উড়িয়ে দেবার মতও না।
কেউ যদি এগুলোর কোনটি মনে রেখে তা থেকে উপকৃত হন, এতে আমার কোন কৃতিত্ব নাই।
আদ্যপ্রান্ত যাবতিয় কৃতিত্বই আপনার যিনি এই অধমের হালকা কথার মধ্য থেকে কিছু সারবস্তু খুজে বের করতে পেরেছেন।
ভাল থাকুন সবাই।
শুভরাত্রী!!!
নির্বাচন হওয়া দরকার ছিলো।
এখনো বিষের পেয়ালা ঠোঁটের সামনে তুলে ধরা হয় নি, তুমি কথা বলো। (১২০) - হুমায়ুন আজাদ
আমাদের পরিবেশটা জাতিয়ভাবেই নির্বাচন-বান্ধব না।
যারা নির্বাচনে আগ্রহী, তাদের এমনভাবে পচানো ও কোনঠাসা করা হয় যে মান-সম্মান রাখতে নির্বাচন এড়ানোই ভাল জ্ঞান করে সবাই।
আর পরাজয়ের পর খোচাখুচি করাটাও হলো বাড়তি পেইন।
ইভালুয়েশনের কথা বলছি না, অকারন তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য করে বেড়ানোর কথা বলছি.... (সম্পাদিত)
Do not argue with an idiot they drag you down to their level and beat you with experience.
দুঃখজনক।
এখনো বিষের পেয়ালা ঠোঁটের সামনে তুলে ধরা হয় নি, তুমি কথা বলো। (১২০) - হুমায়ুন আজাদ
যদিও নির্বাচন হবার কথা ছিল ১৬টি পদের জন্য, কিন্তু তাঁর মধ্যে ১৩ টি পদে বিনা প্রতিদন্দ্বিতায় প্রার্থী নির্বাচিত হয়ে যাওয়ায়, সরাসরি নির্বাচন হয়েছে মাত্র তিনটি পদে - এ যে দেখছি জাতীয় নির্বাচনের ভূতটা সেখানেও গিয়ে বসেছে।
নির্বাচন পরবর্তী তাৎক্ষণিক ভাবনাগুলো নির্বাচনেচ্ছুদের দ্বারা সঠিক বিশ্লেষণের দাবী রাখে।
"এ যে দেখছি জাতীয় নির্বাচনের ভূতটা সেখানেও গিয়ে বসেছে"
- ঠিক বলেছেন স্যার, বিরাট একটা সমস্যা।
এতসব শিক্ষিত মানুষদের ভিড়েও নির্বাচনেচ্ছুদের প্রতি অন্যদের এটিচিউড কি যে নেভেটিভ, ভাবা যায় না!
ক্যাম্পেনের সময় অনেককে তো বলতেো শুনেছি, "তোমারে যে ভোট দেবো, আমার লাভটা কি"।
আবার পাল্টা প্রশ্ন করলে, "কি লাভ চান?" রেডি উত্তর হলো, "আরে ছোটভাই, ফানও বোঝো না?"
প্রার্থিদের অনেকও ট্রাডিশনাল ক্যাম্পেইন-ফিভারে আক্রান্ত থাকে।
তাদের ধারনা, সবার কাছে গিয়ে ভোট চাওয়াটাই বোধ হয় শেষ কথা।
বড়জোড় দু'চারখানা আনএটেইনেবল প্রমিজ সাথে ট্যাগ করে দিলেই হবে।
অথচ সবচেয়ে যেটা গুরুত্বপূর্ন - ভোটারদেরকে তথ্য দিয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহনে সাহায্য করা, সেটার কোন প্রমান, বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই অনুপস্থিত।
আমরা শিক্ষিতরাই যদি এসব ভাল কালচার প্রবর্তন ও অনুশীলন করতে না পারি, দেশের অন্যত্র হওয়া নির্বাচনগুলো যে ফ্রী ও ফেয়ার হবে, সে আশা করি কি করে???
Do not argue with an idiot they drag you down to their level and beat you with experience.
মনে হয় পান, বিড়ি, চা এখানেও খেতে চায় ভোটাররা। (সম্পাদিত)
এখনো বিষের পেয়ালা ঠোঁটের সামনে তুলে ধরা হয় নি, তুমি কথা বলো। (১২০) - হুমায়ুন আজাদ
=)) 😛 =)) 😛 =))
Do not argue with an idiot they drag you down to their level and beat you with experience.
আমি নির্বাচনের পক্ষে।
বিশেষত যেখানে ১০/১২ টি কলেজের মেম্বার রা রয়েছেন। এতাও বড় প্লাটফর্মে সিলেকশন বা বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতা য় নির্বাচন হাস্যকর বইকি।
এখনো বিষের পেয়ালা ঠোঁটের সামনে তুলে ধরা হয় নি, তুমি কথা বলো। (১২০) - হুমায়ুন আজাদ
ঠিক।
একদম ঠিক...
Do not argue with an idiot they drag you down to their level and beat you with experience.
আপনি কি এবার ইলেকশন করেছেন///
এখনো বিষের পেয়ালা ঠোঁটের সামনে তুলে ধরা হয় নি, তুমি কথা বলো। (১২০) - হুমায়ুন আজাদ
আমি তো করতে আগ্রহি কিন্তু আমার সিনিয়ারিটিতে ভাইস প্রেসিডেন্টের নীচে নামতে ইচ্ছুক না।
আবার, জীবনেও ইসি মেম্বার ছিলাম না। হঠাৎ করে ভাইস প্রেসিডেন্ট হতে চাওয়া কি ঠিক?
সমস্যা।
বিরাট সমস্যা...
Do not argue with an idiot they drag you down to their level and beat you with experience.