না-গল্প পাঁচ(ক) – তোড়ার কথা: ফ্ল্যাশব্যাক

প্রথম কিস্তি
– তোকে এত করে বললাম, আজ অন্ততঃ রাশেদ ভাইকে যেমনে হোক ভুজুং-ভাজুং বুঝিয়ে নিয়ে আসবি? আজও একা এলি? এইডা কিছু হৈলো?
কপট না, শাওনের চোখে মুখে সত্যিকারের হতাশা ফুটে ওঠে।
তোড়া আগেও ব্যাখ্যা করেছে, রাশেদ কেন ওর বন্ধুদের এইসব গেট-টু-গেদারে আসতে চায় না। সেই খোঁড়া যুক্তির পুনরাবৃত্তি করতে আর ইচ্ছা হয় না তোড়ার। কেবলই একটা দীর্ঘ নিঃশ্বাস ফেলে সে, আর তা দিয়েই জানায় “আমার কিছু করার ছিল না”।
তোড়ার মনেপড়ে, বিয়ের পর কি দারুন উচ্ছাস নিয়েই না রাশেদের বন্ধুদের আড্ডায় গিয়েছে সে। তার কাছে ব্যাপারটা ছিল নতুন এক জগত আবিষ্কারের মত। নিজের গুনেই খুব অল্পক্ষনেই সে হয়ে উঠেছে সেই সব আড্ডার মধ্যমনি। আবার বাসায় ফিরেই তা নিয়ে নেমে এসেছে ঘোর দুর্যোগ।
-তুমি এত গা-পড়া কেন, বলতো? চেনা নেই জানা নেই, আমার এমন সব বন্ধুদের সাথে ঐসব কি? দেখো এইসব ঢলাঢলি বন্ধ করতে হবে তোমাকে। একটু পার্সোনালিটি গ্রো করো। ছোট থাকতেই তো ক্যাডেট কলেজে চলে গেছো, ঠিক মত সোশালাইজেশন হয়নি তোমার। এবার একটু সামাজিক হওয়া শেখো।
তোড়া বোঝে, রাশেদের এই অপমান করাটা ক্ষনিকের ঈর্ষাজনিত। তারপরেও তা হজম করতে পারে না। মুখের ওপর বলে ফেলে,
– ছোটলোকের মত এসব কি বলছো? আমি না হয় বুঝলাম, পরিবার থেকে দূরে থাকায় সোশালাইজেশনের অভাবে ছিলাম। তুমি পরিবারের সাথে থেকে কি এই ভদ্রতা শিখেছো? আমি তো নতুন বউ, দু সপ্তাহ এখনো হয়নি বিয়ের, এর মধ্যেই এরকম অপমান…
কথা শেষ হয় না তোড়ার। দেখে, বিদ্যুৎ খেলে যায় রাশেদের শরীরে। ছুটে এসে মুঠি করে ধরে তোড়ার চুল। ক্রোধে ঠিকরে বেড়িয়ে আসতে চাইছে চোখ। পিঠের ওপর দু ঘা বসাতে বসাতে চিৎকার করে বলতে থাকে, “হারা*জাদি মাগি, তুই খা*কিপনা করে বেড়াবি আর তা বললে, আমি ছোটলোক? দোষ আমার মা-বাবার? তুই আমার বাপ-মা তোলার কে রে? বেশী বাড়লে লাথি মেরে বার করে দেবো। তারপরে দেখি, তোর কোন ভাতার আসে তোকে নিতে!”
সেইদিন সারারাত কেঁদে ছিল তোড়া। মনে মনে অনেক জাল বুনেছিল, কি ভাবে বেরিয়ে যাবে এই জাল ছিড়ে। শেষ পর্যন্ত সেটা হলেও কিন্তু তখনই বের হওয়া হয়নি তার। কেন হয়নি, সেটা ভিন্ন গল্প। আজ ওটা তোলা থাক।
তবে তোড়া খুবই অবাক হলো, যখন দেখলো, এর কিছুক্ষণ পরেই রাশেদ ওর কাছে এলো স্বামীত্বের অধিকার আদায় করে নিতে। তোড়ার শরীর ও মন কোনটাই আর সাড়া দিল না রাশেদের আহ্ববানে। অথচ কাঠের পুতুলের মত পড়ে থাকা তোড়ার শরীরটাই বরং অন্যদিনের চেয়ে অনেক বেশী আকৃষ্ট করলো রাশেদকে। বিপুল উৎসাহে একক প্রচেষ্টায় দু-দুবার উপগত হলো সে। দ্বিতীয় বার আরও বেশী উৎসাহে!
তোড়া খুবই অবাক হলো। বুঝল, রাশেদের আচরনে “দেয়ার মাস্ট বি সামথিং রং……”
প্রথম দিন থেকে সে যত বেশী কোয়াপারেটিভ হতে চেয়েছে, দেখেছে রাশেদ বরং কুকড়ে গেছে। চোখে সন্দেহ নিয়ে তাকিয়েছে, যেন বলতে চাইছে – “এগুলো শিখলে কার কাছ থেকে?” ওসবের গুরুত্ব দেয়নি তোড়া। এই ইন্টারনেটের যুগে জ্ঞান পেতে, সে যেকোন জ্ঞানই হোক না কেন, কারো কাছ থেকে হাতে কলমে যে তা শেখা লাগে না, সেটা রাশেদের মত উচ্চ শিক্ষিত কে বোঝানোর কিছু নাই, সেটাই ভেবে নিয়েছিল তোড়া।

কিন্তু আজ তোড়ার নির্জিব শরীরের প্রতি রাশেদের এই আকর্ষণ, তোড়াকে নতুন করে ভাবায়। সাড়া না দেয়া শরীরে দ্বিতীয়বার সে অনেক ব্যাথা, অনেক কষ্ট পাচ্ছিল। আর সে কথা বলার পরেই বরং দেখলো, রাশেদ আরও উৎসাহিত হচ্ছে অঙ্গ চালনায়।
আনন্দ না বরং কষ্ট দেয়াটার মধ্যেই ওর যত আনন্দ লুকিয়ে আছে। খুবই অবাক হয় তোড়া। ওর জীবনে এমনটা না হলেই কি হতো না?

পরের সপ্তাহে কলিগদের সাথে পার্টি ছিল একটা। এবার শক্ত হয় তোড়া। ফুল স্লিভ ব্লাউজ দিয়ে ঢেকে ঢুকে নেয় সাজবিহীন শরীরটাকে গাড়িতে ওঠার আগে একটা হিজাবে মাথা ঢেকে জবুথবু এক বউ হয়ে ওঠে সে। পার্টিতেও কারো সাথে নিজ থেকে কোন কথা বলে না। হ্যাঁ না তেই উত্তর সারে সে।
সহপাঠিদের আগের পার্টিতে থাকা বাদশা যে রাশেদের কলিগ, জানা ছিল না তোড়ার। বাদশাই সবার কাছে বলে দেয়, কি দারুন গানের গলা তার। সেটা শুনে সবাই একযোগে পিড়াপিড়ি শুরু করে “ভাবী একটা গান শুনান” বলে।
কিন্তু কাঠের পুতুল হতে আসা তোড়া গলে না তাতে। “গলা ভাল নেই”, “অন্য আরেকদিন হবে”, বলে এড়িয়ে যায় সে। বোঝে না, কি বিপদে পড়তে যাচ্ছে সে এইজন্য।
বাসায় ফিরে কোন ভূমিকা ছাড়াই রাশেদের তোপের মুখে পড়ে সে।
– খা*কি মাগি, আজ তুই এত সীতা-সাবিত্রী চো*চ্ছিলি ক্যান? আজ কোনো ভাতার পছন্দ হয় নাই, না? এই ভাবে আমারে অপমান করলি ক্যান?
তারপরে সেই একই চুলের মুঠি ধরা। সেই একই আঘাত। এবার দু’ঘাতেই শেষ হয় না তা। চড় থাপ্পড়ও যোগ হয় তাতে। আর এসবে আরও নির্জীব হয়ে পরা তোড়ার উপর আরও বেশী বিক্রমে আরও বেশী উচ্ছাসে উপগত হয় রাশেদ।
তলপেটের ব্যাথায় যখন সে চিৎকার করে কান্না শুরু করে, রাশেদ যেন আরও বেশী উৎসাহ পায় তার এই পৌরুষের পরীক্ষায় উত্তির্ন হবার প্রমানে।

কিছুদিন পর তোড়ার বন্ধুদের দেয়া পার্টিতে আবার ভিন্ন অভিজ্ঞতা হয় তার। শুরুতেই ভিষণ আর্গুমেন্টের মুখে পড়ে সে। “কেন যেতে হবে আমাকে”, “কাউকে তো চিনি না, কি করবো ওখানে গিয়ে?”, “তুমি একাই যাও” ইত্যাদি।
অনেক পিড়াপিড়ি করে রাজি করায় তোড়া।
– দেখো, আমাদের জন্যই তো পার্টিটা থ্রো করেছে ওরা। তোমার সাথে পরিচিত হতে চায় সবাই। তুমি না গেলে কি করে হবে? আচ্ছা, তোমার সমস্যা বুঝেছি। এবারের মত চলো, লক্ষিটি। আর না হয় বলবো না।
অত্যন্ত নিমরাজী হয়ে লংফেস করে যায় রাশেদ ঠিকই কিন্তু সারাক্ষন মুখভার করে অন্যমনষ্কভাবে বসে থাকে সে। সবচেয়ে অদ্ভুত আচরন করে, যখন শাওনদের সাথে পরিচিত হয় সে। যেন একদল শত্রুর সাথে পরিচিত হচ্ছে সে। শাওন তুখোড় ছাত্র, ফার্স্টক্লাস ফার্স্ট হতে যাচ্ছে জেনে যেন রাগটা ওর ওপরেই পড়লো বেশী। ফেরার পথে গাড়িতেই তা ঝাড়া শুরু করলো। আর তার শুরুটা ঐ শাওনকে ঘিরেই।
তোড়া বুঝলো আজও তার কপালে একই পরিনতি অপেক্ষা করছে।

কাঁহাতক আর এইসব চলতে দেয়া যায়? তোড়াই মার খাওয়ার হাত থেকে বাঁচতে মেনে নেয়, রাশেদকে কোথাও নিয়ে না যাওয়াটা। আর সেভাবেই চলছিল সব। কিন্তু শাওনের এই পার্টিটা যে ছিল ভিন্নতর, সেটা কি আর সে জানতো না?
জানতো ঠিকই। কিন্তু ওর কিছু করার ছিল না……
(চলবে)

দ্বিতীয় কিস্তি
না-গল্প পাঁচ(খ) – তোড়ার কথা: শাওন-রিটা অধ্যায়

তৃতীয় কিস্তি
না-গল্প পাঁচ(গ) – তোড়ার কথা: নেপাল অধ্যায়

চতুর্থ ও শেষ কিস্তি
না-গল্প পাঁচ(ঘ) – তোড়ার কথা: ফেরা

আরও কিছু না-গল্প

একটি না-গল্প: সার্ভিস চার্জ

আরেকটি না-গল্প: বেল্ট কাহিনী

না-গল্প তিন: তোড়ার জন্য

না-গল্প চার : আড়াইখানা ব্রেক-আপ কাহিনী

৯৭০ বার দেখা হয়েছে

মন্তব্য করুন

দয়া করে বাংলায় মন্তব্য করুন। ইংরেজীতে প্রদানকৃত মন্তব্য প্রকাশ অথবা প্রদর্শনের নিশ্চয়তা আপনাকে দেয়া হচ্ছেনা।