মনে হচ্ছে পদ্মায় এবার ব্রীজ হবেই

বাহাত্তর সালে প্রথম ফেরী দিয়ে পদ্মা পাড়ি দিয়েছিলাম।
তখনো, নয়ারহাট, তরাঘাট ফেরীতে পার হতে হতো। তবে সেতু নির্মানের কাজ চলছিল। কাজ, নয়ার হাটে বেশ এগিয়েছে। তরাঘাটে হালকা পাতলা।
পথে বংসি কালিগঙ্গার মত নদীগুলো যেখানে ফেরীতে পারি দিতে হলো, সেখানে সেসময়কার প্রমত্তা পদ্মায় কখনো ব্রীজ হতে পারে, এইরকম চিন্তা আসাই তো পাগলের চিন্তা বলে ভাবা উচিৎ?

কিন্তু আমার সেই স্বপ্নটাই জন্মালো। জন্মালো, কোচের এক সহযাত্রির কথায় যিনি ছিলেন বৃটেন-প্রবাসি। সংক্ষেপে বিলাত-ফেরত।
তার মুখে সেইসময়ে শোনা একটা আশাবাদ, “নয়ারহাট-তরাঘাটেতো ব্রীজ হয়ে গেল বলে। একদিন পদ্মায়ও ব্রীজ হয়ে যাবে। তখন আমাদের মত দক্ষিনাঞ্চলবাসীদের যাতায়ত জীবন যাত্রা অনেক উন্নত হয়ে যাবে।”
এই খবরটা দেখে সেই কথা খুব মনে পড়ছে।
বেয়াল্লিশ বছর অপেক্ষায় আছি, থাকি না আরও চার বছর।
আমি নিশ্চিত, যেদিন প্রথম গাড়ি চালিয়ে পদ্মা ব্রীজ পার হবো, আমার চোখ আনন্দে ঝাপসা হয়ে আসবে।

আজ পদ্মাব্রীজের কার্যাদেশ দেওয়া নিয়ে একটা খবর দেখলাম নতুনবার্তায়

পরিকল্পিত পদ্মাব্রীজ

“চায়না মেজর ব্রিজ ইঞ্জিনিয়ারিং কোম্পানি” কেমন কোম্পানী? পদ্মাব্রীজ বানাতে পারবেতো? – এইসব নিয়ে যারা আশঙ্কায় আছেন তাঁদের জন্য দুটি কথা।
এরাই সেই কোম্পানি, যারা সাগরে ৩৬ কিমি দীর্ঘ্য হংঝৌ বে ব্রীজ এবং ৩১ কিমি দীর্ঘ্য সাউথ ইস্ট ব্রীজ নির্মান করেছিল। দুটি ব্রীজই টু-ওয়ে ও ছয় লেন সম্বলিত।
মনেহয় না, ৬ কিমি দৈর্ঘের পদ্মা ব্রীজটি সাড়েতিন-চার বছরে শেষ করতে এদের তেমন কোন সমস্যা হবে।

কীপিং ফিঙ্গারস ক্রসড……

হংঝৌ উপসাগরের মধ্য দিয়ে ছুটে চলা ৩৬ কিমি দীর্ঘ হংঝৌ বে ব্রীজ

 

এটা ৩ বছরে নির্মিত ৩১ কিমি দীর্ঘ্ সাউথ ইস্ট ব্রীজ

৫৮৬ বার দেখা হয়েছে

১১ টি মন্তব্য : “মনে হচ্ছে পদ্মায় এবার ব্রীজ হবেই”

    • মোকাব্বির (৯৮-০৪)

      গত দুই বছরের দুর্নীতির অভিযোগ, বিশ্বব্যাংকের সাথে মারামারি ইত্যাদির পরে ভেবেছিলাম কিছুই ঠিক মত হয় না। এই এক বিশ্বব্যাংক নিজে এক ফুটা চালুনি। যাই হোক শুরু হচ্ছে। শুরু যখন হচ্ছে শেষও অবশ্যই হবে। যমুনার মত ফাটল না ধরলেই হয়!


      \\\তুমি আসবে বলে, হে স্বাধীনতা
      অবুঝ শিশু হামাগুড়ি দিল পিতামাতার লাশের ওপর।\\\

      জবাব দিন
  1. আহসান আকাশ (৯৬-০২)

    কয়েকমাস আগে পদ্মা পার হবার সময় দেখলাম এপ্রোচ রোডের কাজের জন্য পাথর, বালি জড়ো করা হচ্ছে।

    ব্রিজ হয়ে গেলে দারুন একটা ব্যাপার হবে, তবে নিশ্চিত ভাবে লঞ্চ,ফেরি বা ঘাটের ইলিশ মাস মিস করবো।


    আমি বাংলায় মাতি উল্লাসে, করি বাংলায় হাহাকার
    আমি সব দেখে শুনে, ক্ষেপে গিয়ে করি বাংলায় চিৎকার ৷

    জবাব দিন
  2. পারভেজ (৭৮-৮৪)

    চায়নিজদের নিয়ে নানা আশংকা থাকাটাতে দোষের কিছু নাই। কিন্তু হংঝৌ বে ব্রীজ বানানোর কাহিনী পড়ার পর এই ধরনের মেগা প্রোজেক্ট বাস্তবায়নে ওদের সক্ষমতার বিষয়ে আমার আস্থা অনেক বেড়ে যা।
    কাজ শুরুর আগে ৮০০ এক্সপার্ট ১০ বছর ধরে বে এলাকা চষে বেড়িয়েছেন বে নিয়ে অভিজ্ঞতা অর্জনে, স্থান নির্বাচন ও ব্রীজ লঞ্চিং ডিসিশন ফাইনালাইজ করার জন্য। আর এই এক্সপার্টদের মধ্যে জ্ঞান বিজ্ঞানের কোন বিষয়ই বাদ ছিল না।
    ভাবা যায়?
    আরও প্রায় দশ বছর লাগে কাজটা শেষ করতে। অথচ, ব্রীজ শেষ করার পরেও তাঁরা ১ বছর তা ব্যবহারের জন্য উন্মুক্ত করে নাই। ড্রাইভারদের সাইকোলজি স্ট্যাডি করেছে।
    তাঁরা আশঙ্কায় ছিল, মাঝপথে যেখানে ডাঙ্গা সবদিক দিয়ে ১৮ কিমি বা তারচেয়েও বেশিদুর, চারিদিকে উত্তাল সাগর ছাড়া আর কিছুই দৃষ্টি সীমায় নাই, কেমন মানসিক চাপ ফেলতে পারে তা চালকের উপরে?
    এই আইসোলেশন জনিত স্ট্রেস কি দুর্ঘটনার, নিয়ন্ত্রন হারানোর কোন সোর্স হতে পারে?
    আমি ওদের এই সব স্টাডি ইস্যু/সাবজেক্ট দেখে কেবলি মুগ্ধ হয়েছি।


    Do not argue with an idiot they drag you down to their level and beat you with experience.

    জবাব দিন
    • মোকাব্বির (৯৮-০৪)

      এই বিশেষ কম্পানির কথা বাদ। যেই দেশ থ্রি গর্জেস ড্যাম বানাতে পারে সেই দেশ চাইলে অনেক দেশের চেয়ে অনেক ভাল কিছু বানাতে পারার কথা! আমি আশাবাদী ভাল কিছু হবে যদি না দেশের বদ কোন সাব-কন্ট্রাক্টর কম্পানি দুই নম্বরী ইট-বালু-সিমেন্ট সাপ্লাই না দেয়!


      \\\তুমি আসবে বলে, হে স্বাধীনতা
      অবুঝ শিশু হামাগুড়ি দিল পিতামাতার লাশের ওপর।\\\

      জবাব দিন
  3. মাহমুদুল (২০০০-০৬)

    মাওয়া- কাওড়াকান্দি রুটে শেষ বিকেলে স্পিডবোটে পার হয়ে হাত মুখ ধুয়ে টাটকা ভাজা ইলিশের স্বাদ! আহ!

    পদ্মায় যে চর পড়ছে, আর ১০ টা বছর অপেক্ষা করলে রাস্তাই হয়ে যেতে পারতো। শুধু শুধু এত টাকা খরচ করার কি দরকার ছিল? :chup:


    মানুষ* হতে চাই। *শর্ত প্রযোজ্য

    জবাব দিন
  4. রাজীব (১৯৯০-১৯৯৬)

    ব্রিজ হলে ভালো।
    না হলে নাই।

    পদ্মা সেতু ইত্যাদি তে আমার আগ্রহ খুব কম।
    তবে একথা অনস্বীকার্য যে এইসব সেতু ইত্যাদি নির্মাণ দেশের আর্থসামাজিক উন্নয়নে ব্যাপক ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।
    ভাগ্যিস নদী তে মানুষ বাস করে না।
    নয়তো ঐ যে এয়ারপোর্ট স্থাপন নিয়ে ঝামেলা হলো তা হয়ে যেতো।

    দেখা যাক।
    আশায় আছি।


    এখনো বিষের পেয়ালা ঠোঁটের সামনে তুলে ধরা হয় নি, তুমি কথা বলো। (১২০) - হুমায়ুন আজাদ

    জবাব দিন
  5. সিরাজ(১৯৯১-১৯৯৭)

    হ্যা, পদ্মা সেতু এবার হবেই শেষ পর্যন্ত হাত ঘুরিয়ে ভাত খাওয়ার মতন করে। বিতর্কিতভাবেই একটি কোম্পানীকেই এবং অনেক বেশী খরচ দেখিয়ে মূল সেতুর কাজটি দেয়া হচ্ছে। পদ্মা সেতু অবশ্যই চাই কিন্তু সেটা নিয়ে দুর্নীতি এবং টাকার খেলার খেসারত যাতে আমাদের মতন সাধারন মানুষ কে দিতে না হয়।


    যুক্তি,সঠিক তথ্য,কমন সেন্স এবং প্রমাণের উপর বিশ্বাস রাখি

    জবাব দিন

মন্তব্য করুন

দয়া করে বাংলায় মন্তব্য করুন। ইংরেজীতে প্রদানকৃত মন্তব্য প্রকাশ অথবা প্রদর্শনের নিশ্চয়তা আপনাকে দেয়া হচ্ছেনা।