ক্যালাইডোস্কোপ

ডিসক্লেইমার : অনেকদিন পরে কিছু একটা লিখতে ইচ্ছা হচ্ছিল। একেবারেই আবোল তাবোল লেখা।

প্রস্তুতি

দিন শেষ হয়ে গেলে ঘর সাজানোর প্রস্তুতি চলে, কিংবা বলা যায় ঘরটা সেজে যায় আপন মনেই প্রকৃতির খেয়ালে। ঘরটি যথেষ্ট বদ্ধ হওয়ার দরকার ছিলো কিনা সেটা নিয়ে প্রশ্ন থাকলেও আপাতদৃষ্টিতে ঘরটিকে প্রয়োজনের চেয়েও বেশি সংকীর্ণ মনে হয়। তবে তার মাঝেও বড় ঘুলঘুলি অথবা ছোট জানালা ফাঁক দিয়ে আলো আসবার সরু পথ খোলা থাকে। এই পথগুলিও নিয়ত তার আকৃতি বদলায় ঘরের বাইরের সদাসঞ্চরণশীল গাছের পতার জন্য। তারপরে ঘরের আলো একে একে নিভে গিয়ে সেই সময়ের অপেক্ষা থাকে। পটভূমি হিসাবে থাকা মসৃণ দেয়ালের উপর চোখ বুলালে কী কিছু দেখতে পাওয়া যায় এখন? না, সিনেমা শুরু হবার আগেকার প্রাণহীন পর্দার মতই নিস্তরঙ্গ দেখা যায় তখন। তার আগমনের শেষ প্রস্তিতি হিসাবে অন্ধকার ঘরে মৃদু স্বরে গান বাজে। গানটা মৃদু হলেও হেড ফোনের জন্যই শব্দগুলো কানের কাছে আছড়ে পড়ে অনেক বেশিমাত্রায়। অতঃপর শুরু হয় পথ চলা।

লঘুভাব

অনুভূতির লঘুভাবের সাথে আমরা কোনভাবেই অপরিচিত ছিলাম না। সেই কারণেই নিজের মাঝেকার লঘুভাব বিশেষভাবে আন্দোলিত করে তুলতে পারে না। ভ্রমণ শুরুর ঝাঁকুনি টের পাওয়া যায় সকল ইন্দ্রিয়ের মাঝে। আমার অনুভূতি আমার অবস্থান সবকিছুই একে একে তরল হতে থাকে। আর সেই সাথে আমার সামনের দেয়ালে আলো ছায়ার রহস্য খেলার শুরু হয়। ছায়া এবং আলো প্রথমে অল্প অল্প করে কাঁপতে থাকতে। তারপরে মায়াবী পর্দা দুলে উঠে এবং অল্প অল্প করে চলতে শুরু করে আপন গতিতে। অনুভূতি অল্প অল্প করে ফাঁকা হয়ে সেই সাথে নিজের উপরের আবরণ একে একে খসে পড়বার প্রস্তুতিও যেন নিতে থাকে। লঘুভাব আস্তে আস্তেই আধিপত্য নিয়ে নেয় আমার উপর। তাই আমি অস্তিত্বশূন্যতার আশঙ্কায় উদ্বেল হই অল্প অল্প। হঠাৎ করে কানের কাছে এক ধরণের শব্দ অনুভূত হয়। ফেরি ঘাট ছেড়ে চলে যাওয়ার আগে যেমন সতর্ক সংকেত দেয় এই শব্দটিও কি তেমনি? শব্দ, আলো, দুলুনি – এই তিন নিয়ামকের দ্রুত বৃদ্ধিতেই আমি টের পাই নিজের প্রস্থানের। তীব্র ঠান্ডা হঠাৎ করেই জাপটে ধরে আমাকে। এটা কি মৃত্যুর তুহিন শীতল স্পর্শ? হাতে পায়ে খিচুনি অনুভব করি প্রচন্ড। অল্প অল্প ভয় আমাকে ঘিরে ধরে যেন। নিজের শরীরকে মাতৃগর্ভে থাকা শিশুর মত করে বাঁকিয়ে ধনুকের মত করে ফেলি নিজের অজান্তেই। মাতৃগর্ভের স্মৃতি মস্তিষ্কের কোণ থেকে টুপ করে বেরিয়ে আসে। ভয়ভাব কেটে যায় আস্তে আস্তে। তারও পরে লঘুকরণের প্রক্রিয়ায় যেন ভেসে যেতে থাকি। ভেসে যেতে থাকি দুর্বার গতিতে অচেনা গন্তব্যে। নিজের অবস্থিতি হারিয়ে ফেলার সূচনা হয়তো তখনি ঘটে। সামনের দেয়ালে চোখ পড়তেই ভীষণভাবে চমকে উঠি। আর সেই সাথে আনন্দলোকের সিড়িও যেন এক এক করে খুলে যায় আমার কাছে।

আনন্দলোক

আমার সামনের দেয়ালে আলোর বিস্ফোরণ হয়; শব্দের নাচন ধ্বনি আমাকে জানান দেয় আনন্দলোকে পৌছে যাবার সংবাদ। আমার আশেপাশের রূপ রঙ রস ক্রমাগত ভেঙে গিয়ে বিনির্মান হতে থাকে। দেয়ালের উপরে আলোরা খেলা করতে করতে নানা রূপে সেজে যায় নানা রকম গল্প নিয়ে। শৈশবের হারানো সময়ের গল্প আমি দেখতে পাই চোখের সামনে। নিজের হারানো সুন্দর সময়ের বায়োস্কোপ হয়ে নানা রঙে ভেসে যাচ্ছে আমার সামনে। আমি অনুভব করতে পারছি প্রতিটি রঙের আলাদা মানে আছে, মানে আছে প্রত্যেকটা প্যাটার্নেরও। এই মানেগুলোকে অনুভব করা যায় কিন্তু বলে বোঝানো যায় না। নিজের মাঝেকার হতাশার পরতগুলোও আসে মাঝে সাজে। আনন্দগুলো প্রবল উল্লাসে গড়িয়ে চলে। মানবীয় অনুভূতির এমন রঙিল উপস্থাপন যেন কোনদিন অনুধাবন করি নি। এ এক অদ্ভুত জগত। এ যেন যাদু বাস্তবতার জগত। কারন আমি দেখতে পাচ্ছি অদ্ভুত কিছু সূত্র। অথচ আমি জানতাম আমার শৈশবের ভালোলাগার পুকুরের মাঝে এই আমির থাকার কথা ছিলো না। আমার পাশের আরেকটি আমিও যেন যোগ দেয় মাঝে। আমার পাশে বেজে চলা প্রিয় গান গুলো যেন অতীত থেকে ভেসে আসছে। অতপর তারাও বিশ্লিষ্ট হয়ে যাচ্ছে। রঙ বর্ণের দাপাদাপি বাড়ছে ক্রমাগত। তাদের উত্তেজনার প্রতিটি স্পন্দন আমি অনুভব করছি। এমন সুন্দর সময়ের জন্য কী আমি অপেক্ষা করে ছিলাম। হঠাৎ করেও বুঝতে পারি আমার দুলুনি আমার অনুভূতির দুলুনি দ্রুততর হয়েছে। অন্য জগতে আমি পৌঁছে গেছি। আমার মস্তিষ্কের মাঝে আমার অতীতের স্মৃতিগুলোর দ্রুত বয়ে চলা টের পাই। সুন্দর অসুন্দরে মিলে মিশ্রন হয়ে গেলে আনন্দলোকে উত্তেজনার আঁচ পাই। অদ্ভুত কিছু প্যাটার্ন অদ্ভুত কিছু মানুষ ও সময়ের মুখোমুখি হয়ে যাই যেন। আসলে হঠাৎ করেই আমি বুঝতে পারি আমি কাল স্থানের সীমাকে অতিক্রম করে ফেলেছি। তাই এখন আমার সামনে হাজির হওয়া অবয়ব গুলো কিছুটা অদ্ভুত কিছুটা বীভৎস আর কিছুটা আতঙ্ক জাগানিয়া। মস্তিষ্কের বিস্ফোরণ টের পাই। আনন্দের অনুভূতি জন্ম জন্মান্তর থেকে বয়ে নিয়ে আসে যেন একে একে। শৈশবের প্রিয় জায়গায় দাঁড়িয়ে থাকার ছবি আসে, আমার একদিন হারিয়ে যাওয়ার আতঙ্কের ছবিও আসে, হঠাৎ করেি আবার চলে আসা ফাঁকা লাগা ভোতা অনুভূতি। হঠাৎ করেই আবার জনবহুল শহরে কটকটে রোদে হেঁটে যাওয়া অতি সাধারণ নারী অবয়ব আসে। তারপরে হঠাৎ করেও যেন সব ছবি গুলো এক সাথে এক লয়ে মিশে অদ্ভুত দৃশ্য তৈরি করে। তার কিছুটা হতাশা, কিছুটা ঔৎসুক্য, কিছুটা আনন্দ আবার কিছুটা চাপা আতঙ্কের অদ্ভুত মিশেল। অপরিচিত অবয়বের এমন সমন্বয়ে খেই হারিয়ে ফেলি। জীবনের সব আনন্দকে খুব অল্প সময়ে অল্প স্থানে ধারণ করতে গিয়ে মস্তিষ্কের বিস্ফোরণ ঘটে। আতশবাজির শেষে অন্ধকারে শেষবারের মত জ্বলা আলোর মত করে জ্বলতে থাকে বিস্ফোরিত মস্তিষ্ক। এমন আনন্দ গ্রহণ করার ক্ষমতা নিয়ে জন্মায়নি বলেই হয় তো মৃত্যু ভয় পেয়ে বসে।

মৃত্যুপুরী

অনুভূতিহীনতার মাঝে ডুবে গেলে অস্তিত্বের সংকটে পড়ে যায় মন। হাত পা কাঁপতে থাকে। কানের কাছে অদ্ভুত শব্দ আর চোখের সামনে অদ্ভুত রঙ খেলা করে। রঙ আর শব্দ গুলো যেমন করে পরস্পরকে আঁকড়ে ধরে তেমনি করেই আমি টের পাই আমি অতল থেকে আরো অতলে তলিয়ে যাচ্ছি। এই কী মৃত্যু যার জন্য আমি এতদিন ভয়ে ছিলাম? অথবা এটাই কী আমার মনের একেবারে গভীরে বসে থাকা অজানা আতঙ্ক। সময়ের সাথে সাথে আমার পতন প্রক্রিয়া দ্রুত হয়। এক সময় আমি কিছুটা ভীত হয়ে উঠি। এই ভয়ের উৎস মাটির পৃথিবীতে নয়। এ এক অন্য জগত। নিজের শরীরের কাঁপুনি বাড়ে। আতঙ্ক কমে না। ভয়ের জন্ম অন্ধকার। আমাদের আদি পুরুষরা অন্ধকার হতে বন্য প্রাণিদের ঝাপিয়ে পড়বার ভয়ে ভীত ছিলেন। আমার জিনে লিখে রাখা সেই ভয় কী আমাকে গ্রাস করে চলেছে। ভয়ের কাছে আত্মসমর্পণ করে বাতি জ্বালিয়ে দেই। ভয় কিছুটা কমে আসে। সেই সাথে মানবীয় অনুভূতোর ছোঁয়অ অনুভব করি। আমার ঠান্ডা লাগছে। আসলে প্রচন্ড ঠান্ডা লাগছে। নিজের অজান্তেই লেপে মুড়ি দেই। শৈশব বেলায় রাক্ষসের গল্প শুনে ভয় পেলে গেলে লেপের মাঝে নিজেকে আটকে ফেলতাম। সেই অনুভূতিই আসলে ফিরে এসেছে যেন। এক ধরণের অস্তিত্ব সংকটে ভুগছি যেন। এমন অবস্থায় কাউকে দরকার হয়। যার কোলে মাথা রেখে আশ্রয় খোঁজা যায়। এমনি করেই কী নিজেদের অস্তিত্বের সংকট কাটাতে আদিম মানবমানবীরা পরস্পরকে আলিঙ্গন করেছিল। আমার এই ছোট রুমের অল্প কিছু সময়ে আমি দেখে ফেলছি আমার মাঝে থাকা হাজার বছরের গল্প। মানুষের গল্প আমার গল্প আমাদের গল্প। দেয়ালে চোখ পড়তেই দেখি এতক্ষণের দেখা অবয়ব গুলো আর নেই। কিছুটা বাস্তবতার ছোঁয়ার মৃত্যু ভয় একটু হলেও মিইয়ে আসে। সুন্দর যেমন ভয়ঙ্কর হয় ভয়ঙ্কর জিনিসেরও আলাদা সৌন্দর্য থাকে। দেয়ালের অবয়বকে অবাস্তবতার যে নাচন চলছিল একটু আগেও সেখানে এখন একেবারেই সাধারন আলো। নিজের অবয়ব দেখবার জন্য নিজের অজান্তেই আয়নায় তাকিয়ে আপনারে খুঁজে বেড়াই।

আধ্যাত্মিকতা

আয়নার নিজের অবয়বে এক ধরণের সৌম্যভাব খুঁজে পাই। হঠাৎ করেই দেখতে পাই আমার পিছের দেয়ালে অদ্ভুত আলো। ক্ষণিকের জন্য আমি টের পাই আমি ছুটে গেছি হাজার হাজার বছর পিছনে। কোন খোলা মাঠের নিচে অথবা গহীন পর্বতের গুহায়। আলোর একধরণের বলয় যেন আকাশ থেকে বিচ্ছুরিত হয়েছিল। সেই আলো সত্যের আলো কিনা জানি না, তবে এই আলো বিভ্রমময়। সকল যুগের অবতার মুনি ঋষিদের দেখা যে আলোর কথা শুনেছিলাম, তাই কি এখন আমার কল্পনায় আসছে ফিরে ফিরে। হঠাৎ করেি একটা পেঁচার ডাক শুনে আমি অনুভব করি খাঁ খাঁ রাতে আমার গ্রামের ঘরের সামনে আমি দাঁড়িয়ে আছি। আশেপাশে কোন জনমানুষ নাই। পেঁচার মাঝেকার দার্শনিকতাটুকু ধারণ করে এগিয়ে যাবার চেষ্টা করি। নৈঃশব্দের যে একটা আলাদা ভাষা আছে সেটাও যেন পড়ে ফেলতে পারি নিজের অজান্তেই। এমন সময়ই আমার চোখের সামনে এক ঝাঁক পাখি উড়ে যায়। ঘুটঘুটে অন্ধকার আর নৈশ্ঃব্দের মাঝে তাদের সেই চলে যাওয়ার মাঝেও আমি নতুন মানে খুঁজে পাই। চাঁদের কথা জোছনার কথা আমরা ভেবেছি অনেক। কিন্তু এই জগতে এসে তার খোঁজ পাই না কোন। বরং কৃষ্ণপক্ষের শেষরাতের চাঁদের ক্লান্তি আমাকে পেয়ে বসে। হঠাৎ করেই অনুভব করি আমি ক্লান্ত। ভয়ঙ্কর রকম ক্লান্ত। শোবার জন্য বিছানার দিকে তাকাতে সেখান থেকে নকশা করা অবয়ব উঠে এসে প্রলয় নৃত্য শুরু করে। হঠাৎ করেই মনে আমি এদের সাথে মিলে মিশে থাকা বড় কোন পরিকল্পনার অংশ। শব্দ আলো সব কিছুই আবার আমার মাঝে চাঞ্চল্য ছড়ায়। আমি উঠে দাঁড়াই। টের পাই আমার বিছানার নকশার সাথে তালে মিল রেখে আমি সাপের মত নৃত্য করছি। আয়নার সামনে নিজের অবয়বে অনিশ্চয়তার দেখা পাই হঠাৎ করেই।

বিনির্মান

আয়নায় নিজের সঞ্চালন দেখে বুঝতে পারি আতঙ্ক কিছুটা কেটে গেছে। তবে আমি অদ্ভুত সব শব্দ করছি আর অদ্ভুতভাবে হাত নাড়ছি। এটা যারা করে সমাজে তাদেরকে আমরা পাগল বলি। তাহলে কি তাদেরও নিজেদের একটা জগত আছে। সেই জগতকে বয়ে বেড়াতে বেড়াতে তারা একেবারে ক্লান্ত। সেই ক্লান্তি থেকে বাঁচতেই কি তাদের অদ্ভুত মানবীয় মুদ্রা। হয়তো বা কোন মহাউদ্দেশ্য হাসিল করবার নিমিত্তেই ঘটে তাদের সেই আপাত অর্থহীন অদ্ভুত প্রয়াস। আমার নিজের চেহারার মাঝে অনেক আগে টেলিভিশনে দেখা একজন মানসিক রোগীর চেহারা দেখতে পাই। তার পরে অনুভব করি আমার মাথা হাত পা সব ভেঙে গুড়িয়ে ছড়িয়ে পড়েছে আমার এই রহস্যময় রুমের প্রতিটি কোণায়। অথচ বিশ্লিষ্ট হয়ে যাওয়া এই আমির প্রতিটি কণা আমার অস্তিত্ব ঘোষণা করছে। এই অনুভূতি অড্ভুত। নিজে এমনভাবে ছড়িয়ে গিয়ে অনুভব করছি লালনের পড়শীকে। জীবাত্মা পরমাত্মার বাঁধনের রেশও অল্প অল্প করে ছড়িয়ে পড়ে যেন। ব্রেইন স্ট্রোকে অনুভূতি লোপ পেয়ে ক্রমশ সবজি হয়ে যাওয়া মানুষের অনুভূতিও কি এমন করেই শুরু হয়। হয়তো বা হবে। ভাবনা গুলো এসে আবার হারিয়ে যায়। তারপরে আবার ক্লান্তি গ্রাস করে। বাতি বন্ধ করে অন্ধকারের কাছে গিয়ে আবার গল্পের খোঁজ করি।

স্বপ্ন ওবাস্তবতা

এই পর্যায়ে স্বপ্ন আর বাস্তবতার দেয়াল ভেঙে পড়ে। আমার দেখা অনুভূতি গুলো থেকে থেকে ফিরে ফিরে আসে। আমার দেয়ালে আবার অবয়বগুলো ফিরে আসতে শুরু করে। তবে আগের চেয়ে অনেক ধীর লয়ে। তারচেয়েও বড় কথা এখন আমি আগের চেয়েও স্পষ্টভাবে বুঝতে পারছি অবয়বগুলোর মানে। পরম মানে না হলেও আমি বুঝতে পারি আপেক্ষিকতার শেষ ঘটে পরমতার মাঝেই। স্বপ্নের মাঝে সপুন্দর্য বীভৎসতা দুঈ আছে। তবে আলোকময় এক অদ্ভুত দিন মাঠায় চেপে বসে। হতে পারে স্বপ্ন হতে পারে সত্যি। হতে পারে পুরনো অনুভূতির সাথে নতুন করে পুনর্মিলন কিংবা কোন অতীত অভিজ্ঞতার পুনর্মঞ্চায়ন। চোখ ধাধানো আলো ক্রমশই সয়ে আসে। অদ্ভুত পৃথিবীর অদ্ভুত কিছু সৌন্দর্য আগি অনুভব করছি। স্বর্গ নরক মর্ত্য পাতাল একেবারের মিলেমিশে সঞ্চালন করতে থাকে দেয়ালের উপরে। ভালো লাগা ক্লান্তি এবং অবাক করে দেয়া দীপ্তি। কানের সামনে গানের শব্দগুলো তীরের মত বিঁধে। তবে সময়ের সাথে সাথে নিজেকে স্থিতধী করে স্বপ্নময় জগতের মাঝেই অপেক্ষা করি পরম শান্তির জন্য।

অতঃপর

একদম হুট করেই তীব্র সূর্য আমার জানালা ভরিয়ে দেয়। ঘুলঘুলি অথবা জানালা দিয়ে আসা এই সূর্যের আলোতে আমি আবিষ্কার করি আগের রাতকে। আমার সামনের দেয়াল আয়না সবই যেন বিশেষত্ব হারিয়ে ফেলেছে। শুধু মাথার মাঝে এক ধরণের প্রশান্ত অনুভূতি কাজ করছে। জীবন ও বাস্তবতার মুখোমুখি হবার জন্য আমি জানালা খুলে বাইরের দিকে তাকাই।

১,০৯১ বার দেখা হয়েছে

৯ টি মন্তব্য : “ক্যালাইডোস্কোপ”

  1. নূপুর কান্তি দাশ (৮৪-৯০)

    ১০০ বছর পর লিখলে তুমি!
    স্বপ্নদৃশ্যের বর্ণণা বেশ লাগলো। হেডফোন কানে লাগিয়ে এতকিছু ভাবা/দেখা/অনুভব করা যায়?
    আমাকে তো জিনিসপাতি নিতে হবে। 😛 😛
    'আধ্যাত্মিকতা'র নামকরণ নিয়ে কিছু বলবে?

    জবাব দিন
    • আমিন (১৯৯৬-২০০২)

      সালাম ভাইয়া। লিখার তাগিদ থ্রেসোল্ড না পার হলে আমি লিখতে পারি না। সেইজন্যই লিখা হয় না ইদানিং তেমন। এই লেখাটার আউটলুক কেমন হলো সেটা নিয়ে আমি কনফিউজ। কারণ পুরা লেখাটাই একটা এবস্ট্রাক্ট কম্পোজিশন। আর্টের ক্ষেত্রে যেমন হয়, এদিক ওদিক পারস্পরিক সম্পর্খীন জিনিস গুলো জোড়া দিয়ে ডিসফিগারড কিছু জিনিস জোড়া দিয়ে গোপন সুতায় গাঁথা বড় অর্থ বহন করা কিছু। আরেকটা কথা বলা দরকার এই লেখাটা কেবলই স্বপ্ন দৃশ্য নয়। এটা ঘোর বিভ্রম ধ্যান ইত্যাদির সাথেও রিলেট করা যায়।

      এবার আপনি যে অংশটুকু জানতে চেয়েছেন সেই আধ্যাত্মিকতা নিয়ে কিছু বলি। আলো বলতে আসলে সত্য বুঝিয়েছি। এই সত্য দর্শকের কাছে সত্য কিন্তু পরম সত্য কিনা আমরা তা জানতে পারব না। এ সত্য হতে পারে মোজেসের দেখা তুর পর্বত, হতে পারে হেরা গুহার জিব্রাইল হতে পারে মুনি ঋষিদের ধ্যানে আসা গায়েবী জ্ঞান, হতে পারে গৌতম বুদ্ধকে গৃহত্যাগী করা আলো।

      পরের স্কেচ গুলো ছিলো ইনটিগ্রিটি প্রকাশ করতে। বুঝতে পারছি ব্যাপারগুলো একটু হেয়ালি মত লাগছে। আমি বলতে চেয়েছি খন্ড খন্ড চিত্রগুলোর শেষটা আসলে আমাদের অজানা কোন এনটিটির কোন মহান উদ্দেশ্য অথবা একেবারেই অর্থহীনভাবে শেষ হওয়া চোরাগলি। আলোর সত্যের অনিশ্চিয়তার মতই এই ইনটিগ্রিটিও সমানভাবেই অনিশ্চিত। অথচ সকল ধ্যানের শেষেই আমরা একের ভিতরে অপরের মিলিয়ে যাওয়ার কমফোর্টই কুঁজি কেবল আমাদের ভাবনায়।

      আন্তরিক ধন্যবাদ লেখাটা পড়বার জন্য। আপনাদের মত অগ্রজদের প্রশ্রয়েই আবোল তাবোল কী বোর্ডা চালাবার সাহস পাই।

      পুনশ্চ: লেখার প্রেক্ষাপট এবং প্যাটার্ন বিষয়ক কিছু জিনিসে ইচ্ছাকৃত ভাবেই বাদ দেওয়া হয়েছে। সামনা সামনি কথা হলে হয়তো এইটার বিষয়ে অনেক কিছু বলতে পারব। এই লেখাটা লিখে আমি নিজে অনেক তৃপ্ত। কারণ কিছু বলবার ইচ্ছা ছিল। সেটাকে পূরণ করা গেছে। তবে আরও অনেক ক্থাই না বলা রয়ে গেল।

      জবাব দিন
  2. লুৎফুল (৭৮-৮৪)

    রাতের হেঁইয়ালীর এতোটুকু দোষ
    নয়তো রাতের ।
    সবটুকু তার অপরাধ্মাখা নির্বোধ
    অলস প্রাতের ।

    আকাশ জোড়া মেঘের মোচড়ে দেখি যে
    কত নানান আকার !
    অমন দেখার ভুত আমি নই, দোষী ওই
    খেয়ালী মেঘ মল্লার ।

    তার সাথে যদি জুড়ে দেয়া যায় কল্পলোকের
    ছড়ানো ডানা ।
    সূর্যালোকিত জগত তখন দেখবে দিব্যি সকল
    জন্ম কানা ।

    জবাব দিন
  3. খায়রুল আহসান (৬৭-৭৩)

    অকপটে স্বীকার করছি, লেখাটা পাঠকালে মনযোগ ধরে রাখতে বেগ পেতে হয়েছে। কয়েকবার উপক্রমের পর, লেখাটা আলো ছড়াতে লাগলো, কাঁপুনি ধরাতে লাগলো ঐ কল্পিত সেলুলয়েড কিংবা চিত্রকল্পের মতই। এত কম বয়সে এ ধরনের লেখায় তুমি বেশ মুন্সীয়ানা দেখিয়েছো, এজন্য সাধুবাদ।
    লেখার শিরোনামটা যথার্থ, বিভাজনগুলোও দক্ষতার সাথে করা হয়েছে। ডিসক্লেইমারে উল্লেখিত এটা কোন 'আবোল তাবোল লেখা' নয়, বরং কিছু আবোল তাবোল বিষয়ের উপর অত্যন্ত সুচিন্তিত ও প্রস্তুতিসম্পন্ন লেখা বলে আমার মনে হয়েছে।

    জবাব দিন
  4. খায়রুল আহসান (৬৭-৭৩)

    "নৈঃশব্দের যে একটা আলাদা ভাষা আছে সেটাও যেন পড়ে ফেলতে পারি নিজের অজান্তেই। এমন সময়ই আমার চোখের সামনে এক ঝাঁক পাখি উড়ে যায়। ঘুটঘুটে অন্ধকার আর নৈশ্ঃব্দের মাঝে তাদের সেই চলে যাওয়ার মাঝেও আমি নতুন মানে খুঁজে পাই।" - খুব ভালো লাগলো কথাগুলো। 'নৈঃশব্দের কথকতা' নামে আমার একটা কবিতা এ আসরে প্রকাশিত হয়েছেঃ //cadetcollegeblog.com/khairulahsan/49950
    "ব্রেইন স্ট্রোকে অনুভূতি লোপ পেয়ে ক্রমশ সবজি হয়ে যাওয়া মানুষের অনুভূতিও কি এমন করেই শুরু হয়। হয়তো বা হবে। ভাবনা গুলো এসে আবার হারিয়ে যায়।"
    - কোমাচ্ছন্ন ব্যক্তিদের নিয়ে আমার লেখা আরেকটা কবিতার প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করছিঃ http://www.bangla-kobita.com/ka13/post20141030120038/
    দুটো কবিতাই পড়ার আমন্ত্রণ রইলো। (সম্পাদিত) (সম্পাদিত)

    জবাব দিন
    • আমিন (১৯৯৬-২০০২)

      আন্তরিক ধন্যবাদ লেখাটি কষ্ট করে হলেও শেষ করবার জন্য। লেখাটা আসলে একটু খটমটে হয়ে গেছে। এটা পরে আমার নিজেরও মনে হয়েছে।

      আপনার লেখা আগে পড়া হয় নি। তবে সময় করে আপনার দেয়া লিংক গুলোতে গিয়ে আমার ভাবনা জানিয়ে আসব।

      শ্রদ্ধা ও শুভকামনা।

      জবাব দিন

মন্তব্য করুন

দয়া করে বাংলায় মন্তব্য করুন। ইংরেজীতে প্রদানকৃত মন্তব্য প্রকাশ অথবা প্রদর্শনের নিশ্চয়তা আপনাকে দেয়া হচ্ছেনা।