একজন বৃহন্নলার আত্মকথন

(সামুতে প্রকাশিত এই লেখাটি ট্যাগ করতে পারলাম না। অবহেলিত একটি সম্প্রদায়ের জন্য অর্থহীন দীর্ঘশ্বাস বলা যেতে পারে একে।)

বিষন্ন নিস্তরঙ্গ জীবন বয়ে চলে নর্দমার জলের মত,
যে জীবনের আগমন এই নিষ্পাপ জীবনের বড় পাপ।
যে জীবনের স্বপ্ন নিঙড়ে গেছে অনেককাল আগে,
আমার জীবন আমাদের জীবনের মত বিবর্ণ ধুসর-
যে জীবন আমার বহুতল বাড়ির ক্ষুদ্র ঘরে বদ্ধ,
যে জীবন আমাকে দেখতে দেয় না কিছুই নিষ্টুর হয়ে বড়
অথবা আমাকে দেখতে চায় না কেউ কিংবা দেখতে চায়-
দেখতে চায় যারা চায় না পৃথিবীকে দেখাতে জীবনের অপমান।

তাই প্রতিটি দিন আমার একই রকম বিষন্ন – নিরর্থক
ভোরের প্রথম আলো আমার সরু জানালা দিয়ে ঢুকে ভয়ে
আর স্বপ্নময়ী মায়াবতী নিরুত্তাপ জোছনা আসে তার সোনালি বৃষ্টি নিয়ে
বাতায়ন গলে ঢুকতে গিয়ে হারিয়ে ফেলে তার শেষ সাদাকালো রঙ।
শুধু ঘন ঘোর লাগানো বর্ষা- তাকে আমার বড় আপন মনে হয়
সে যেন আসে আমার বুকের কান্নাগুলোকে একটু পরশ বুলিয়ে দিতে।
আমার কবিতার কাগজ কলম তীব্র বিদ্রুপ করে আমার দিকে চেয়ে
জগতের সমস্ত ভালোবাসা কবিতা ও গান আমাকে কটাক্ষ করে
কেননা ভালোবাসা কবিতা ও গান কেবল মানব মানবীর জন্য
আমাদের নেই অধিকার মানুষের সেই জগতের কাছে যাওয়ার।

আমার আকা ছবিগুলোও মানুষ হয় না হয়ে যায় আমাদের মত,
তারা পরিহাস করে মানুষগুলোর মত যারা আমদের উপহাস করে।
নিজেকে মনে হয় পরাজিত অভিশপ্ত স্বপ্নহীন ক্লীব সত্ত্বা
যাকে স্বীকার করে না ধর্ম সমাজ রাষ্ট্র মানুষ হিসাবে।
তাই তো লুকিয়ে রাখা এই ছোট্ট জীবন ছেড়ে আমি বেড়িয়ে পরি
বেরিয়ে পরি অজানার পথে অন্য দশটা বৃহন্নলার মত।

৯২৫ বার দেখা হয়েছে

১৪ টি মন্তব্য : “একজন বৃহন্নলার আত্মকথন”

  1. সাকেব (মকক) (৯৩-৯৯)

    কবিতার প্রশংসা-নিন্দা পরে করবো...

    প্রথমেই, এমন ব্যতিক্রমী বিষয় বেছে নেয়ার জন্য :hatsoff:


    "আমার মাঝে এক মানবীর ধবল বসবাস
    আমার সাথেই সেই মানবীর তুমুল সহবাস"

    জবাব দিন

মন্তব্য করুন

দয়া করে বাংলায় মন্তব্য করুন। ইংরেজীতে প্রদানকৃত মন্তব্য প্রকাশ অথবা প্রদর্শনের নিশ্চয়তা আপনাকে দেয়া হচ্ছেনা।