বৃহস্পতিবার

সময়টা এখন শুধুই অপেক্ষার,

ছিল কি এসবের কোন দরকার?

ব্যস্ততার এই জগৎজোড়া কারবার,

অবচেতনে মনের একান্ত সরলতাকে_

করে দেয় ছারখার।

মন শুধুই বলতে চাই বারবার_

আপনজনকে পাশে পেতে চাই আবার;

শতজনের সাথে খেয়ে নানান স্বাদের খাবার,

আমাদের সবার শুধু একহবার সময় হয়_

সপ্তাহের ছুটির আগেরদিন রোজ বৃহস্পতিবার।

…             …             …

সন্তান যায় মায়ের কাছে,

ব্যস্ত ভাই, বোন-দুলাভায়ের সাথে ;

বাবা থাকে মায়ের পাশে,

প্রিয় বন্ধুরা সবাই রাতে_

সুখ-দুঃখের গল্পে মাতে।

কতো গল্প, কতো কথা

ছোট বড় দুঃখ-ব্যথা,

হাসি-ঠাট্টা, ছড়া-কবিতা,

সময়ের সাথে পাল্লা দিয়ে_

মেলে ধরে স্মৃতির পাতা।

এরই মাঝে ফোন আসে আবার,

দূরের প্রিয় মানুষেরাও কাটাচ্ছে বৃহস্পতিবার;

বাঁধ ভেঙে দিয়ে যেন দীর্ঘ অপেক্ষার,

এক দীর্ঘ নিঃশ্বাস ফেলে_

আহ্লাদে হাসিমাখা কন্ঠে করে সব আবদার।

পরদিন সকালে জীবনের একটি লম্বা শ্রেষ্ঠ ঘুম,

দেরিতে উঠে ঘরের বাকিকাজ করার পড়ে ধুম;

ফাঁকে-ফাঁকে মনে পড়ে চিরচেনা সেই অফিসরুম,

সামনের সপ্তাহের প্রতিদিনের বিশাল কাজের চাপ_

চেহারায় ক্রমশ ফেলে গভীর চিন্তার এক ছাপ।

কর্মই জীবন, ব্যস্ততায় ক্লান্তি

ক্লান্তিতে ঘুম, বিছানায় শান্তি,

কত রকমের যন্ত্রণা মনে আনে শ্রান্তি;

কাউকেই যায় নাকো এখানে বলা

ধৈর্য ধরে আবার সেই বৃহস্পতির দিকে চলা।

 আসলো জীবনে আবারও সেই দিন,

মনের মাঝে বেজে উঠল আনন্দের বীণ,

প্রিয়জনের কাছে আবার কিসের ঋণ,

আলোচনায়,

                                     সমালোচনায়,

                                                                                               পর্যালোচনায় সুখে-দুঃখে ;

ভালবাসার মাঝে থাকে বৃহস্পতিবার নামের এই দিন।

-সমাপ্ত-

বঙ্গবন্ধু হল, ইবি, ১ অক্টোবর, ২০১৩।

৫০৭ বার দেখা হয়েছে

৬ টি মন্তব্য : “বৃহস্পতিবার”

মন্তব্য করুন

দয়া করে বাংলায় মন্তব্য করুন। ইংরেজীতে প্রদানকৃত মন্তব্য প্রকাশ অথবা প্রদর্শনের নিশ্চয়তা আপনাকে দেয়া হচ্ছেনা।