একাত্তরের কর্নেল মনজুরুর রহমান

ঝিনাইদহ ক্যাডেট কলেজ। চীফ কর্নেল মনজুরুর রহমান। এই কলেজের অসম্ভব প্রিয় একটি মুখ।
যুদ্ধের সময় ক্যাডেট কলেজ থেকে সবাই পালিয়ে যান কিন্তু কর্নেল রহমান কয়েকজনের সঙ্গে থেকে যান। মুক্তিযোদ্ধাদের সহায়তার পাশাপাশি তিল তিল করে গড়ে তোলা এই প্রতিষ্ঠান ছেড়ে যেতে তাঁর মন সায় দিচ্ছিল না।
পাক আর্মি ঘিরে ফেলে একদিন এই কলেজ। নেতৃত্ব দিচ্ছিল ১২ পাঞ্জাব রেজিমেন্টের ক্যাপ্টেন ইকবাল।
সঙ্গে ঝিনাইদহের অল্প কয়েকজন স্থানীয় মানুষ। টমেটো নামের একজন মিথ্যা অভিযোগ করে, কর্নেল রহমান তার পরিবারের লোকজনকে মেরে ফেলেছেন।
পাক আর্মিরা একেক করে মারা শুরু করে।
পাক আর্মির ক্যাপ্টেনের সঙ্গে কর্নেল রহমানের কথা কাটাকাটি হয়। কর্নেল রহমান বলেন, আমি একজন সামরিক অফিসার। আমাকে এভাবে মারা অন্যায়। আমার অপরাধের বিচার একমাত্র সামরিক আদালতেই হতে পারে। একজন আর্মি কর্নেল একজন ক্যাপ্টেনের কাছে যে আচরণ পেতে পারে- আমাকে সেটা দেয়া হচ্ছে না কেন?
কর্নেল রহমানের কোন যুক্তিই এদেরকে প্রভাবিত করলো না। কর্নেল রহমান মৃত্যুর জন্য প্রস্তত হলেন। হাত থেকে খুলে দিলেন ঘড়ি, পকেট থেকে বের করে দিলেন কলেজের চাবি, যা ছিল তাঁর কাছে।একজন সিপাই তাঁর ঘড়ি উঠিয়ে নিজের হাতে দিয়ে দেখলো কেমন মানাচ্ছে তাকে- আর হ্যা হ্যা করে হাসতে থাকলো।
কর্নেল রহমান প্রাণ ভিক্ষা চাইতে রাজী হলেন না। শুধু ৫ মিনিট সময় চাইলেন।
ধীর পায়ে এগিয়ে গেলেন নিজ হাতে লাগানো গোলাপ গাছটার দিকে। হাঁটু গেড়ে বসলেন। কি যেন বিড়বিড় করে বলছিলেন- দূর থেকে শুধু ঠোঁটনড়া দেখা গেল। তারপর হাত তুলে মোনাজাত করলেন। মোনাজাত শেষ করে বললেন, আয়্যাম রেডী, তাকিয়ে রইলেন ক্যাপ্টেনের চোখে চোখ রেখে।
ক্যাপ্টেন ইকবাল পরপর ৩টা গুলি করলো।
লুটিয়ে পড়লেন কর্নেল রহমান। শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করার আগে প্রায় শোনা যায় না একটা স্বর শোনা গিয়েছিল,

মা আয়েশা, তোকে দেখে যেতে পারলাম না।

*****

এই ব্লগটি আমার লেখা না। নিচে যে ওয়েবসাইটের লিংক দেয়া আছে সেখানে গেলে আলী মাহমেদের ব্লগ পাওয়া যাবেনা। উনিই বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ বই থেকে এই অংশটুকু লিখে দিয়েছেন। সেখান থেকে এখানে আনা হল। একটি বই থেকে তথ্য নিয়ে ব্লগটি লেখা হয়েছে।

সূত্র: বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ, অষ্টম খন্ড, পৃষ্টা: ৬০৫-৬০৮
আন্তর্জাল সূত্র: //alimahmed.blogspot.com/2007/06/blog-post_9726.html

২,৩৪৫ বার দেখা হয়েছে

১২ টি মন্তব্য : “একাত্তরের কর্নেল মনজুরুর রহমান”

  1. আমরা কেমন অবলীলায় দুম করে বলে ফেলি: কিসের ছাতাফাতা স্বাধীনতা!
    আফসোস, কেমন করে এইসব মানুষদের কথা বিস্মৃত হই, শেকড়ের কাছ থেকে দূরে সরে যাই। কেমন করে আমরা ভুলে যেতে পারি আমাদের মায়ের গায়ের গন্ধ...!

    জবাব দিন
  2. Col.M M Rahman was our Principal and I have visited his grave in our Principal's Bunglow.Those who say that "কিসের ছাতাফাতা স্বাধীনতা",about them,a poet from Sandeep,Chittagong has written a perfect line some 400 years ago.. "সে সব কাহার জন্ম নির্ণয় ন জানি"

    I hope we recognize those people easily and laugh at them.

    জবাব দিন
  3. রাজীব (১৯৯০-১৯৯৬)

    ১৯৭১ সালে র কাডেট কলেজের মুক্তিযোদ্ধা ও শহীদদের নিয়ে লেখা। লিঙ্ক।


    এখনো বিষের পেয়ালা ঠোঁটের সামনে তুলে ধরা হয় নি, তুমি কথা বলো। (১২০) - হুমায়ুন আজাদ

    জবাব দিন

মন্তব্য করুন

দয়া করে বাংলায় মন্তব্য করুন। ইংরেজীতে প্রদানকৃত মন্তব্য প্রকাশ অথবা প্রদর্শনের নিশ্চয়তা আপনাকে দেয়া হচ্ছেনা।