একজন মুক্তিযোদ্ধা বাবাকে বাঁচাতে এগিয়ে আসুন

মাত্র আঠারো বছর বয়স তখন। এস এম খালেদ অস্ত্র হাতে নেমে পড়েছিলেন স্বাধীন বাংলাদেশের পাবার স্বপ্নে বিভোর হয়ে। সে সময় আসামের লোয়ার হাফলং ক্যাম্প থেকে তিনি গেরিলা যুদ্ধের প্রশিক্ষণ গ্রহন করে চট্টগ্রামের সীতাকুন্ড অঞ্চলে যুদ্ধ করেন । মুক্তিযুদ্ধের ঠিক পরের বছরই তিনি উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেন এবং অত্যন্ত কৃতিত্বের সাথে পাশ করেন। পরবর্তীতে তিনি বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় ( বুয়েট)-এ ভর্তি হোন একদম প্রথম সারিতে এবং সেখানে শিক্ষাকালীন অবস্থাতাতেই বাংলাদেশ সরকারের একটি ফুলব্রাইট স্কলারশিপ নিয়ে, তত্‌কালীন সোভিয়েত ইউনিয়নে উচ্চ শিক্ষার জন্য যান । দেশে ফিরে এসে তিনি দীর্ঘদিন চট্টগ্রাম বি.আই.টি (বর্তমান চুয়েট) শিক্ষকতা, পরমাণু শক্তি কমিশনে, বিসিক (বাংলাদেশ কুটির শিল্প), ইয়াঙ্গওয়ান এবং বিভিন্ন শিল্পপ্রতিষ্ঠানে গুরুত্বপূর্ণ পদে নিয়োজিত ছিলেন।

বাংলাদেশের গার্মেন্টস সেকশনে তার অবদান এবং অভিজ্ঞতা ঈর্ষণীয় । এই সেক্টরে দীর্ঘদিন চাকুরী এবং শিক্ষকতা করবার কারনে , এই সেক্টরের নিয়ে তাঁর ভাবনাগুলো এবং টেকনিক্যাল বিষয়গুলো তিনি তাঁর প্রকাশিত গ্রন্থে তুলে ধরেছেন । আমাদের পোশাক শিল্পে এই বইগুলো এখন রেফারেন্স হিসেবে বহুল ভাবে ব্যাবহার করা হয় কোনোরকম বিজ্ঞাপন ছাড়াই।

সচলায়তনের ব্লগার জিফরান খালেদের বাবা আজ কঠিন ব্যাধিতে আক্রান্ত। তাঁর এই অসুস্থতা প্রথম ধরা পড়ে ১৯৯০ সালের দিকে । তাঁর স্কিনে আক্রান্ত হওয়া এই ক্যান্সারটিকে কিউটেনাস টি সেল লাইফোমিয়া বলে । এটি রক্তের শ্বেত কনিকার এক ধরনের ক্যান্সার যা রক্তের গতি প্রকৃতি কে স্লথ করে দেয় । গত সতেরো বছর ধরে বিভিন্ন ভাবে এই রোগটির চিকিৎসা হয়ে আসছিলো । রোগটিই মূলত এমন ধরনের যে, এটি ঠিক ভাবে নির্ণয় করাও বেশ দুঃসাধ্য । এই ধরনের ক্যান্সারের ক্ষেত্রে সাধারণত ডাক্তাররা একটু ধীরে চিকিৎসা করে থাকেন । ডায়াগোনিসিস করতেই ১০-১২ বছরের মতন লেগে যায় । জিফরানের বাবার ক্ষেত্রে সময় লেগেছে ১৭ বছর । এই ক্যান্সারটির প্রতিক্রিয়া ভয়াবহ রকমের । রোগীকে এক অসম্ভব যন্ত্রনার মধ্যে দিয়ে বার বার যেতে হয় । যেহেতু গায়ের চামড়াতে এই রোগটি ছড়িয়ে পড়েছে,সুতরাং এর কার্যক্ষমতাও বেশ তীব্র । পেছনের সব সময় গুলোতে এই অকুতোভয় মানুষটি ক্যান্সারের সাথে বীরের মতই যুদ্ধ করে গেছেন । কিন্তু আজ এত বছর পর রোগটি তার সকল শক্তি নিয়ে আঘাত করেছে । ডাক্তারদের কথা অনুযায়ী, এই রোগটির পুরোপুরি চিকিৎসা হয়ত সম্ভব নয় । তবে উপযুক্ত চিকিৎসা আর ঔষধ পেলে তাঁকে স্বাভাবিক জীবনে ফেরানো সম্ভব । সেক্ষেত্রে ডাক্তাররা কিছু মেডিকেশনের ব্যাপারেও বলেছেন । যেমন-

(1). PUVA / UVB + Interferon + Retinoid / Rexinoid (Bexarotene)
(2). Total Skin Electron Beam Radiation (TSEB) + Interferon + Retinoid / Rexinoid
(3). Photopheresis + Interferon + Retinoid / Rexinoid

উপরের মেডিকেশন গুলো আবার সব দেশেও সম্ভব নয় । ডাক্তাররা সবার আগে যুক্তরাষ্ট্রের স্ট্যানফোর্ড ম্যাডিকেল এবং পেনিসেলভিনিয়া ইউনিভার্সিটি মেডিকেল সেন্টার কেই বার বার এই মেডিকেশন গুলোর জন্য আদর্শ যায়গা বলে মনে করছেন । এই পুরো চিকিত্‌সাটির খরচের ব্যাপারে ডাক্তারা ৯০,০০০ ইউ এস ডলারের একটি আনুমানিক ধারনা দিয়েছেন । বহুদিন এই দুটো বিশ্ববিদ্যালয়ের সাথে যোগাযোগের পরে ওখানে চিকিৎসার ব্যাপারটি থেমে যায় ভিসা জটিলতা এবং বিপুল পরিমাণের অর্থের সামনে। ইতিমধ্যেই ১০-১২ লাখ টাকা খরচ করা হয়েছে।

এর মধ্যেই তাঁকে ভারতের চেন্নাই এবং ভেলোরের দুইটি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে । ২০০৬-০৭ থেকেই সন্দেহ করা শুরু হয় যে উনি লিম্ফামাতে আক্রান্ত। কিন্তু, কোনোমতেই নিশ্চিত হওয়া যাচ্ছিল না। অবশেষে চেন্নাইয়ে রিপোর্ট আসে। ডাক্তারদের পরামর্শ অনুযায়ী ছয়টি চক্রের ,তিন সপ্তাহের একটি কেমোথেরাপির সেশনও শেষ হয় গত ২৭,সেপ্টেম্বর ২০০৮ এ । এই কেমোথেরাপি কিছুটা স্বস্তি আনলেও , রোগটিকে পুরোপুরি নির্মূল করা যায়নি । ডাক্তাররা তাই PUVA / UVB + Interferon + Bexarotene –এই মেডিকেশনটি শুরু করবার পরামর্শ দিয়েছেন । এই চিকিৎসা বাংলাদেশে নেই তেমনভাবে। যার কাছে চিকিৎসা আছে, তার কাছে ডাক্তার নেই। ডাক্তারেরা থিওরীর ওপর এগুতে ভয় পাচ্ছেন।

তবুও, মেডিকেশনের পুরো প্রক্রিয়াটি শুরু করা গেলেও Bexarotene, এই ঔষধটি আমাদের দেশে পাওয়া যায়না । যদিও এই ঔষধ গুলোর পার্শ্ব পতিক্রিয়া প্রচন্ড রকমের । সুতরাং ঔষধের পাশাপাশি ডাক্তারের ক্রমাগত অবযারভেশনও প্রয়োজন । ইংল্যান্ড এবং আমেরিকায় এই ঔষধটি পাওয়া যায় । আমরা লন্ডন থেকে অনেক বার চেষ্টা করেও , প্রেসকিপশান জটিলতা আর অত্যন্ত উচ্চমূল্যের কারনে কিনতে পারিনি । পরবর্তীতে আমাদের আরেক সচল স্নিগ্ধা আপা এই অসাধ্য কাজটিকে সহজ করে দেন । তিনি সাহায্য না করলে এই ঔষধ হয়ত আর কখনই কেনা যেতনা । এই মানুষটির জন্য অন্তরের অন্তঃস্থল থেকে ভালোবাসা আর শ্রদ্ধা জানালাম । এর ঠিক পর পরই আমার একদম ছোটবেলার বন্ধু সঞ্জয় এলেন পেরেরা ( সচলায়তনের ব্লগার রেনেট জন পল গোমেজের ভাই) ঔষধ গুলো কেনেন এবং বাংলাদেশে পৌঁছানোর ব্যাবস্থা করেন । এই এক মাসের ঔষধ কিনতেই খরচ পড়েছে প্রায় তিনহাজার দু’শ ইউ এস ডলারের মত । এই ওষুধ কমপক্ষে চার থেকে ছ’মাস চালাতে হবে। এই দুঃসাধ্য ব্যায়ের হিসাব নিকাশে জিফরানের বাবাকে বাঁচানোর স্বপ্নগুলো বার বার থমকে যেতে চাইছে।

সিসিবির ব্লগারদের কাছে অনুরোধ থাকবে সাহায্যের হাত প্রসারিত করার। একজন মুক্তিযোদ্ধাকে নিশ্চয়ই বিনাযুদ্ধে আমরা চলে যেতে দেবো না।

* ইঞ্জিনিয়ার খালেদ সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্যের জন্যে নীচে দেখুন।

http://www.saveafreedomfighter.org/

বাংলাদেশে ব্যাঙ্ক একাউন্ট –

A. J. S. M. Khaled
Account no: 1510 2004 7077 5001
Swift Code: BRAKBDDH
Bank: BRAC Bank, Uttara Branch, Dhaka

If anyone wants to donate using debit/credit card, please do so using the PayPal link described below:

A website http://www.saveafreedomfighter.org has been created for the group. A Paypal account has also been set up. Anyone can donate through the Paypal ID. The ID is saveafreedomfighter@gmail.com.

আরও দেখুন

বিস্তারিত তথ্যের জন্য ফেসবুকের এই গ্রুপটি দেখুন।

* পরীক্ষার আগের শেষ সপ্তাহের মারাত্মক চাপের কারণে এই লেখাটি কপি পেস্ট করা হলো এখান থেকে

* একজন মুক্তিযোদ্ধাকে বাঁচাতে আমাদের লড়াই – আপডেট ১

১,১১২ বার দেখা হয়েছে

১১ টি মন্তব্য : “একজন মুক্তিযোদ্ধা বাবাকে বাঁচাতে এগিয়ে আসুন”

  1. রায়হান রশিদ (৮৬ - ৯০)

    ধন্যবাদ রায়হান আবীর নিজে দায়িত্ব নিয়ে এখানে পোস্টটি দেয়ার জন্য।
    এই পোস্টটাকে কিভাবে আরও ছড়িয়ে দেয়া যায়? আর যারা আমেরিকা থাকে তাদের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় ওষুধগুলোর নিয়মিত কোর্স কি অল্প অল্প করে দেশে পাঠানোর ব্যবস্থা করা যায় বিভিন্ন মানুষদের হাত দিয়ে? আমাদের বিস্তৃত নেটওয়ার্কে কেউ না কেউ তো সব সময়ই দেশে আসা যাওয়া করছে আমেরিকা থেকে। যত দিন স্থায়ী সমাধান না হচ্ছে তত দিন অন্তত ওষুধের চালানটা হয়তো এভাবে চালু রাখা সম্ভব। একটা পুরো প্ল্যান এর জন্য বিভিন্ন কলেজের গ্রুপ মেইলগুলো কোন ভূমিকা রাখতে পারে কি? পরামর্শ প্রয়োজন।

    জবাব দিন
    • রায়হান আবীর (৯৯-০৫)

      * ভাইয়া এরমধ্যে প্রায় সব ব্লগে পোস্ট করা হয়েছে। চারুকলার বিপরীতে ছবির হাটে একদিন সব প্ল্যাটফরমের বেশ কয়েকজন ব্লগারদের উপস্থিতিতে করণীয় কি এই নিয়ে আলোচনা হয়েছে।

      * ভাইয়া ওষুধের ব্যাপারটি আমার জানা নেই। আমি একজনকে ফোন করছি। উনার কাছ থেকে জেনে জানাচ্ছি।

      * গ্রুপ মেইলে অবশ্যই ছড়িয়ে দেওয়া যায়। আপনি ওফায় একটি মেইল করুন। সবাই যদি পেপ্যাল বা অন্যকিছু উপায়ে সামান্য করেও সাহায্যের হাত বাড়িয়ে এগিয়ে আসেন তাহলেও অনেক কিছু হবে।

      * আপনি যদি মেইল করে থাকেন তাহলে দয়া করে raihan1079 at gmail dot com এ সিসি করুন।

      ধন্যবাদ মন্তব্যের জন্য।

      জবাব দিন
  2. কামরুল হাসান (৯৪-০০)

    রায়হান তোরে ফোনে পাইতেছি না ক্যান? আমার সাথে যোগাযোগ করিস সময় পাইলে ।


    ---------------------------------------------------------------------------
    বালক জানে না তো কতোটা হেঁটে এলে
    ফেরার পথ নেই, থাকে না কোনো কালে।।

    জবাব দিন

মন্তব্য করুন

দয়া করে বাংলায় মন্তব্য করুন। ইংরেজীতে প্রদানকৃত মন্তব্য প্রকাশ অথবা প্রদর্শনের নিশ্চয়তা আপনাকে দেয়া হচ্ছেনা।