আইইউটি পার্টি …

আমরা ছাড়াও তো অনেক অতিথিরা সিসিবিতে বেড়াতে আসেন প্রায়ই। অনেকে খোমাখাতার লিংক ধরে, কেউ মেইলা মেইলির কারণে কেউ বা গুগল করে। মজাটা হয় গুগল করে আসা অতিথিদের নিয়ে। গুগল অতিথিরা কী শব্দ টাইপ করে সিসিবির খোঁজ পেয়েছেন ড্যাশবোর্ডে ঢুকলে তা ঠিক দেখতে পাওয়া যায়। আমি দিনের মধ্যে যতবার ড্যাশবোর্ডে ঢুকি ততবার ঐ বক্সটায় চোখ যায়, আর ততবার দুইটা শব্দে চোখ আটকে যায়! অতিথিরা সাধারণত দুইটা শব্দ সবচেয়ে বেশি লিখে থাকেন- ১। গুপ্ত স্যারের ভালো নাম ২। স্যান্ডেল (পড়ুনঃ *ি)।

আমি ব্যপারটায় সেইরকম মজা পেলাম। মাঝে মাঝে পোলাপানকেও শুনাই এই কাহিনি। এইভাবে দিনের পর দিন কেটে যাওয়ার পর একদিন বাসা থেকে আইইউটি আসার পথে আবদুল্লাহপুরে কড়া রোদের মধ্যে বাসের জন্য দাঁড়ায়ে থাকার সময় আমারও মনে পড়লো, আরে আমিও তো একই ভাবে ব্লগের খোঁজ পেয়েছিলাম। অনেকদিন আগে যখন প্রথম বাংলা টাইপ করা শিখলাম তখন একদিন একলা রুমে হঠাৎ করে কী মনে করে ব্রাউজারের ট্যাব খুলে লিখলাম “স্যান্ডেল”। সাথে সাথে গুগল এনে দিলো সামু ব্লগের লিংক। আমি লিংকে গেলাম। দেখি কিছু নাই। তারপর আরেকটা লিংকে গেলাম, সেখানেও কিছু নাই। এইভাবে কয়েকবার লিংক থেকে লিংকান্তরে গিয়ে বুঝলাম সামহোয়ারিনব্লগ একটা ভ্রান্ত ধারনা। এইখানে কিছু নাই, আছে শুধু মূলা!

অবশ্য শুরুতে ভ্রান্ত ধারণা ভাবলেও কিছুদিন পরে বুঝলাম ব্লগ মানে কী! আমাদের মুহাম্মদ তখন গবেষণা মূলক এক প্রবন্ধ লিখলো সামুতে। তার এতো কষ্টের ফল পড়ে রইলো নিজের পাতাতেই, প্রধান পাতাতেও গেলো না, কেউ পড়লোও না। আমারও তখন ব্লগ লিখতে ইচ্ছা করে, কিন্তু মুহাম্মদের পরিনতি দেখে ভয় খাই। সেই ইচ্ছা কয়েকদিন পরেই পূরণ হলো ক্যাডেট কলেজ ব্লগের যাত্রায় সেইটা তো সবাই জানেনই।

সচলের খোঁজ পেয়েছিলাম ভারতের জাতীয় সংগীত নিয়ে গুগল করতে গিয়ে। আসলে আমি করি নাই, করছে জ্ঞানী মুহাম্মদ, আমি পাশে বসে ছিলাম। গুগল থেকে সচলায়তনে ঢুকে রাগিব হাসানের একটা লেখা পড়ে আমি খুবই ইম্প্রেসড। তারপর আরও কয়েকটা লেখা পড়ে ইচ্ছে হলো সেখানে রেজিস্ট্রেশন করার। সেই আমলে আমরা ব্রাউজার ব্যবহার করতাম অপেরা। এই অপেরা দিয়ে সচলে টাইপ করা যায় না। বহু কষ্টে রেজিস্ট্রেশন করলাম। বাংলা বিতর্ক নিয়ে লেখাটা কপি করে সেখানে পোস্টায়ে সেদিনের মতো ক্ষ্যামা দিলাম।

সেইসময়টা হলো যখন আমাদের তিন মাসের ছুটি চলছে। অফুরন্ত অফুরন্ত অবসর। আমি, মুহাম্মদ, মামুন হলে থাকি। মির্জাপুর মামুন মারফত জানতে পারলাম আমাদের জিহাদ ভাইও ব্লগান। সামুতে তার ছ্যাঁকা নিয়া একটা লেখার লিংকও পেলাম। অতঃপর আমি, মুহাম্মদ, জিহাদ ভাই, আমরা সবাই তাবলীগ পার্টি যেমন মসজিদে সময় লাগায় তেমন করে সচল, সিসবিতে সময় লাগাতে থাকলাম। কোত্থেকে কোত্থেকে খবর পেয়ে সিসিবিতে হাঁসের বাচ্চাটাও চলে আসলো।

ছুটি শেষ আমাদের ব্লগ ফাইটে যোগ দিলো মহিব। আমরা সবাই মিলে সচলে ফাইটাই। মহিবের বিষ্যুদবার রাতের সিরিজ বা আমাদের মন্তব্য- টন্তব্যে আইইউটি পার্টির নাম জেনে গেছে সচলের সবাই। ২১ দিনের মাথায় আমরা সচল হয়ে গেলাম। আমরা মানে আমি, জিহাদ আর মহিব। মুহাম্মদ বাদ পড়লো ক্যান! বাদ পড়লো, কারণ মুহাম্মদ যে আইইউটি পার্টির একজন এইটা সচলের মডুরা বুঝেনাই। ভাবছে আবদুল্লাহ আবু সাইদ টাইপের কোন বুড়া!

আর ঐদিকে সিসিবিতে একেরপরএক আইইউটি পোলাপান জমা হচ্ছে তখন। ব্লগটা মাঝখানে ঘুমায় পড়ছিল, হাসনাইন ডায়লগ সংকলন দিয়ে জমায়ে একাকার করে দিলো। বাইরের কয়েকজন ছাড়া তখন সিসিবতে প্রায় সব আইইউটিয়ান। ইশতিয়াক, হাসনাইন, জিহাদ, আমি, মুহাম্মদ, মহিব, হাঁসের ছানা … দিনরাত ব্লগে রক্করার কারণে একসময় আমাদের পুরা গ্রুপটার নাম হয়ে গেলো আইইউটি পার্টি! (৯৯-০৫) ব্যাচের ব্লগারদের হেড কোয়ার্টার হলো আইইউটি।

সচলের একটা গেট টুগেদারে গেলাম গতবছর। সেখানে জাপান থেকে সৌরভ ভাই এসেছেন, এসেই জানতে চান, আইইউটি পার্টি কই। মাঝখানে মুহিব হারায় গেলো, জিহাদ, আমি অনিয়মিত, একদিন একজন মেইল করে বলেন, আইইউটি পার্টি কই গেলো! আইইউটি পার্টি, আইইউটি পার্টি আর আইইউটি পার্টি।

হ! আমরা আইইউটি পার্টি ছিলাম, আছি, থাকবো। মাগার দুইদিন পর আইইউটিটা আর আমগো থাকবো না। আমার আউলা ঝাউলা রুমটায় দুইদিন পর কোন জুনিয়ার এসে পরিষ্কার করে মশারি টশারি টাংগায়ে রাতে ঘুমাবে ভাবতেই গা ঘিন ঘিন কর্তেছে। জীবন চুষে।

৪,২২৩ বার দেখা হয়েছে

৭১ টি মন্তব্য : “আইইউটি পার্টি …”

  1. রাশেদ (৯৯-০৫)

    আইইউটিতে পড়ি নাই, বন্ধুরা অনেক অনেক বার যেতে বলছে কিন্তু আমাদের প্রায় সবাই গেলেও আমার কেন জানি কখনও যাওয়া হয় নাই এবং সম্ভবত আর কখনও যাওয়া হবে না কিন্তু তারপরেও এই জায়গাটার কথা সারাজীবন মনে থাকবে। কারণ হয়ত আমার দারুণ কিছু বন্ধু এই জায়গায় পড়াশুনা করে ইঞ্জিনিয়ার সাব হয়ে গেল বলে হয়ত বা এই জায়াগার কিছু পোলাপাইন কে দেখে সাহস করে ব্লগীংটা শুরু বলে অথবা দুই কারণেই। হেই আইইউটিয়ান্স তোরা আসলেই রক্ককরিস :hatsoff:


    মানুষ তার স্বপ্নের সমান বড়

    জবাব দিন
  2. রহমান (৯২-৯৮)

    নাম দেইখা ভাবছিলাম অতি শীঘ্রই আইইইউটিতে কোন পার্টি হবে অথবা আইইইউটির পোলাপাইন কোন পার্টি থ্রো করতে যাচ্ছে। :just: মাস্ফ্যুরে সাথে নিয়া দাওয়াত খাঊয়ার প্ল্যান আসছিল মাথায় :dreamy:

    মাগার পইড়া তো দেখি এই পার্টি তো ঐ পার্টি না :no: :bash:

    জবাব দিন
  3. জিহাদ (৯৯-০৫)
    হ! আমরা আইইউটি পার্টি ছিলাম, আছি, থাকবো। মাগার দুইদিন পর আইইউটিটা আর আমগো থাকবো না।

    কয়দিন ধরে মন্টা ব্যাপক খ্রাপ । কিচ্ছু ভাল্লাগতেসেনা।


    সাতেও নাই, পাঁচেও নাই

    জবাব দিন
  4. সচলে তোমার বা জিহাদের কোন একটা লেখার শেষে ইমেইল এড্রেস দেখে বুঝলাম তোমরা আইইউটি ... সাথে সাথে অতিথি লেখকের ব্লগে গিয়া লেখা খোঁজা শুরু করলাম, দেখি এতিম-এতিম সব লেখা, কমেন্ট-টমেন্ট খুবই কম ... সবগুলিতে লাইন দিয়ে কমেন্ট দেয়া শুরু করলাম ... সমস্যা হচ্ছে আমিও বুঝি নাই যে মুহম্মদও আইইউটিয়ান, আর ওর লেখাগুলি বেশিরভাগই মাথার উপর দিয়া যায়, তাই আর কমেন্টানো হইলো না 😀

    আইইউটি থেকে বের করে দেয়া জীবনের করুণতম ঘটনাগুলির একটা 😐

    জবাব দিন
  5. কাইয়ূম (১৯৯২-১৯৯৮)

    আই ইউ টি'রে আমার ক্যান জানি সবসময়ই মনে হইছে ডিসিপ্লিনের কড়াকড়ি ছাড়া আরেকটা ক্যাডেট কলেজ 😀

    পোলাপাইন ভালো দিন শেষ 😀
    তিন প্রহরের বিল আর বাউনিয়া কি জিনিস এখন টের পাইবা :grr:
    তবে ব্যাপার্স্না, কজ রিয়েলিটি অলওয়েজ সাক্স :gulli2:


    সংসারে প্রবল বৈরাগ্য!

    জবাব দিন
  6. বড়োই আবেগময় লেখা। আইইউটি... হায় আইইউটি...

    যে জীবন এখন চুষে, সেই জীবনই একসময় আরও অনেক বড়ো সত্যের মুখোমুখি দাঁড় করিয়ে দিবে, দেখো। শুভকামনা থাকলো সেই সময়ের জন্য। সব সময়ের জন্য।

    জবাব দিন

মন্তব্য করুন

দয়া করে বাংলায় মন্তব্য করুন। ইংরেজীতে প্রদানকৃত মন্তব্য প্রকাশ অথবা প্রদর্শনের নিশ্চয়তা আপনাকে দেয়া হচ্ছেনা।