বর্ষপূর্তি …

এবং আজ থেকে ঠিক এক বছর আগে …

কালো রঙ্গের একটা ভাঙ্গাচুরা গাড়ি। সামনে দাড়িয়ালা ড্রাইভার। আর পেছনে আমি আর তুই। তুই আমাকে আর্কির বিল্ডিং থেকে পার করে দিলি ১৫ মিটারের মতো দুরত্ব। এইটুকু সময়ের মধ্যে আমি শুধু জিজ্ঞেস করতে পারলাম, তেসরা জুন বানানে “স” হবে নাকি? বললি, হ্যাঁ।

তার কিছুক্ষণ আগে, মধুর ক্যান্টিনে। অবশ্য আমরা ঠিক করছিলাম, যদি কখনও কোন অনুষ্ঠানে আমাদের দুইজনেরই যাওয়ার কথা থাকে- তাহলে আমরা যেকোন একজন যাবো। কারণ আমরা দেখা করবো না। আমরা শুধু ব্লগে কথা বলবো …

আচ্ছা সেদিন কী কারণে আমরা দুইজনেই আসার সিদ্ধান্ত নিলাম? মনে আছে তোর? অবশ্য মনে থাকার কথা না, মনে থাকে আমার। আর দেখ এই আমি খেয়ে ভুলে আছি।

আমি তোকে দেখেছিলাম প্রথমে। তুই ঠিক আমাদের নুরূল আলমের মতো, পেছনে হাত দিয়ে সামান্য নিচু হয়ে হাঁটছিলি। ক্লান্ত ছিলি মনে হয়- একটা পরীক্ষা দিয়ে সাথে সাথে চলে আসতে হলো। আর ফাজিল টেলিটকটা।

তোকে সিন্ডারেলা বানিয়ে আর আমি অস্টিন হয়ে, একটার পর একটা এসএমএস করছিলাম, কিন্তু একটাও পাচ্ছিলি না। ইচ্ছে ছিল এসএমএস পেলে তোর চেহারাটা কেমন হয় দেখার। অনেকক্ষণ পর এসএমএস দিলি একটা- “আমি মনে হয় তোকে চিনতে পারছি …”

আর দেখ আজকে আমি বিশাল একটা ক্যামেরা নিয়ে আসলাম- দুইজন অনেক ছবি তুলবো ভেবে। কিন্তু সেদিন? গ্রুপ ছবি তোলার সময় আমি যেইনা তোর পাশে যেয়ে দাঁড়ালাম, তুই মনে হয় একটু বিব্রত হয়ে পেছনে সরে গেলি। আমি বুঝলাম ক্যামেরায় আর আসবি না কিন্তু আটমাস পর যখন ছবিটা দেখতে পেলাম ক্যামেরা যেভাবে দেখেছিল সেভাবে, দেখলাম আমার পাশে তোকে দেখা যাচ্ছে …

ও আচ্ছা, তখনও তোর সাথে আমার প্রথম কথা হয়নি। কথা হয়নি বলা ঠিক না। কত কথা বলেছি আমরা- না হয় বাটন টিপে। হয় কি- বোর্ডের, নয়তো মোবাইলের …

তুই আমাকে চিনতে পারলেও কেন সবার সামনে এসে বললি, তোমাদের মধ্যে আবীর কে? না না, মনে হয় তখন রায়হান নামে ডেকেছিলি। তুই তো সবার সামনে আমাকে রায়হান ডাকিস। যাই হোক, আমার উপর অনেক রেগে ছিলি মনে হয়, ছবি তোলার সময় তোর পাশে এসে দাঁড়ানোয় … প্রথম কথাটাই তাই বিরাট এক ঝারি। তারপর বললি, চলে যাবি। চলেও গেলি।

আমার এতো মন খারাপ হলো। সন্ধ্যা অবদি বসে থাকলাম বুয়েটের শহীদ মিনারে। অবশ্য দেবদাসের মতো মদের বোতল হাতে একা না। সাথে অনেকেই ছিল। ঠিক তখন তুই এসএমএস দিলি, আর্কির সামনে একটু আসার জন্য।

তারপর তোদের সেই প্লিন্থে আমরা চুপচাপ বসে রইলাম। তুই একটা পিচ্চি মেয়েকে কী যেন একটা বললি। তারপর তোর সেই কালো ভটভটিটা। পনের মিটার পার করে দেওয়া- আজ থেকে ঠিক একবছর আগে …

৩,৮৮০ বার দেখা হয়েছে

১৪২ টি মন্তব্য : “বর্ষপূর্তি …”

  1. শার্লী (১৯৯৯-২০০৫)

    আমি প্রথম আন্দাজ করি মার্চের ১৮ তারিখ। মনে হইছিল ভুল আন্দাজ করতেছি। কিন্তু পরে সব ফকফকা হয়ে গেছিল। যে আমারে বেশি ঘুষ দেবে আমি তার পক্ষের আইনজীবি হব। 😀

    জবাব দিন
  2. ক্যাডেট কলেজ বহির্ভূত কারো মন্তব্য করতে বাধা না থাকলে এই গরীব এখানে মন্তব্যের ঘরে সাক্ষর করতে চায়। লেখাটা ভালো লাগলো এটা বলার চেয়েও এই লেখার লেখককে, তাঁর লেখনীকে পছন্দ করেই এখানে মন্তব্যের সাহস করা!

    গাণিতিক সূত্রের মধ্যে থেকে জীবনের নানা স্বাদ উপলব্ধি করা যায় না রায়হান। স্বাদ উপভোগের জন্য হিসাবের গণ্ডির বাইরে পা ফেলতেই হয়। সেই পা সবসময় যে নরম সবুজে ছাওয়া ঘাসের পরে পড়বে তা-ও নয়। কখনো গর্তেও পড়তে পারে, পড়বেই। মচকাবে, ভাঙবে, ব্যথা লাগবে, কষ্ট আসবে। আবার এর ঠিক পরপর-ই বিনাকারণেই আনন্দ উপচে পড়বে। এই তো মজা!

    এরকম ছাড়া ছাড়া, ছোট ছোট ঘটনাগুলো খুব বেশি ভালো লাগে জানতে, পড়তে। লেখা থামিয়েন না কখনো। চালিয়ে যান আপনার মতো করে।

    জবাব দিন
    • মাসরুফ (১৯৯৭-২০০৩)

      গাণিতিক সূত্রের মধ্যে থেকে জীবনের নানা স্বাদ উপলব্ধি করা যায় না রায়হান। স্বাদ উপভোগের জন্য হিসাবের গণ্ডির বাইরে পা ফেলতেই হয়। সেই পা সবসময় যে নরম সবুজে ছাওয়া ঘাসের পরে পড়বে তা-ও নয়। কখনো গর্তেও পড়তে পারে, পড়বেই। মচকাবে, ভাঙবে, ব্যথা লাগবে, কষ্ট আসবে। আবার এর ঠিক পরপর-ই বিনাকারণেই আনন্দ উপচে পড়বে। এই তো মজা!

      ধূসর গোধূলি,

      অদ্ভুত সুন্দর মন্তব্যের জন্য অনেক অনেক ধন্যবাদ আপনাকে-অনেক দিন মনে থাকবে কথাগুলো।আর ক্যাডেট কলেজ ব্লগে শুধু ক্যাডেটরা লিখলেও পড়তে বা মন্তব্য করতে কারো বাধা নেই-সিসিবিতে আপনাকে সুস্বাগতম!

      জবাব দিন
    • রায়হান আবীর (৯৯-০৫)

      ধূ-গো, আমার পোস্টে আপনি মন্তব্য করবেন, সেইখানে করা যাবে কি যাবে না এতো প্রশ্ন কেনু কেনু কেনু 🙁

      গতকাল সকালে মোবাইলে আপনার মন্তব্য দেখে টাশকি টু দি পাওয়ার ইনফিনিটি খাইছিলাম। একটু শরমও পাইছিলাম ...

      আপনার কয়েকদিনের ক্যাম্নে কী' এর উত্তর পাওয়া গেছে আশাকরি। মন্তব্যের জন্য এক কোটি থ্যাংকস। 🙂

      জবাব দিন
  3. তানভীর (৯৪-০০)

    তোমাদের প্রথম বর্ষপূর্তির শুভেচ্ছা। :clap: :clap:
    দোয়া করি, আরো বড় হও, তিনপ্রহরের বিল দেখতে যাও আর বেশী করে আইসক্রীম খাও। 😀 😀
    লেখা দারুণ হয়েছে। :thumbup: :thumbup:

    জবাব দিন
  4. কাইয়ূম (১৯৯২-১৯৯৮)

    তোমাদের প্রথম বর্ষপূর্তির শুভেচ্ছা। :clap: :clap:
    দোয়া করি, আরো বড় হও, সেভয় আইসক্রিম ফ্যাক্টরি দেখতে যাও আর বেশী করে আইসক্রীম খাও। 😀 😀
    লেখা দারুণ হয়েছে। :thumbup: : thumbup:


    সংসারে প্রবল বৈরাগ্য!

    জবাব দিন
  5. ওরে...
    আবার পড়লাম রে !!
    :dreamy: :dreamy:

    প্রেম-প্রেম গন্ধে ভেসে আছি ... আহা !!
    :dreamy:

    তোদের কী সৌভাগ্য !
    ক'জনারই বা এরকম হয়??

    চালিয়ে যা... :thumbup: :thumbup:

    আমরা আছি তোদের সাথে
    সেই চিরচেনা বন্ধুরা.........
    😀 😀

    জবাব দিন
  6. ফাহিম (৯৯-০৫)

    বর পক্ষের প্রথম হিসেবে নাম লিখালাম। রুম্মেট বলে কথা। :hatsoff:
    আর এই সুদিনের আগের দুরদিনগুলোর আমিতো অন্যতম সাক্ষী। :dreamy:
    শুরু থেকেই বলে আসছি "যাই কর,আমরা আছি"। :thumbup:

    জবাব দিন
  7. শাহরিয়ার মামুন

    খুবই রোমান্টিক লেখা। দারুণ লাগল, বরাবরের মতোই। বর্ষপূর্তির দিনটা তো অনেক আগেই পেরিয়ে গেছে, তাই শুভকামনা জানাই যেন জীবনের শেষ দিনটা পর্যন্ত একসাথে দু'জন বর্ষপূর্তি উদযাপন করতে পারো। শুধু এই দিনটাই না, অন্য আরো অনেক অনেক বিষয়ের।

    জবাব দিন
  8. দিহান আহসান

    রায়হান এবং রায়হানা (সামী) বর্ষপূর্তির দিন যদিও চলে গেছে, তারপরও অনেক অনেক শুভেচ্ছা ।
    বরপক্ষের ভাবী হিসেবে আছি। বিয়ের সময় আচার-অনুষ্ঠানে ভাবীদের হস্তক্ষেপ করতেই হয় কিনা? ;;;

    অফটপিকঃ আমি এখনও বুঝতে পারছিনা, এই রায়হানা টা কে? ~x(

    জবাব দিন

মন্তব্য করুন

দয়া করে বাংলায় মন্তব্য করুন। ইংরেজীতে প্রদানকৃত মন্তব্য প্রকাশ অথবা প্রদর্শনের নিশ্চয়তা আপনাকে দেয়া হচ্ছেনা।