লো-লিবিডো : একটি উপেক্ষিত ডিসফাংশানালিটি – দ্বিতীয় পর্ব

লো-লিবিডো : একটি উপেক্ষিত ডিসফাংশানালিটি – প্রথম পর্ব
তিন
পুরুষদের লো-লিবিডোর পিছনে প্রথম যে কারনটা কাজ করে, তা হলো ইরেকটাইল ডিসফাংশান (ইডি)।
শারীরিকভাবে তেমন কোনো অসুস্থ্যতা না থাকার পরেও বয়সভেদে ৭% থেকে ২৫% পুরুষ এই সমস্যায় আক্রান্ত হয়ে থাকেন।
আবার চল্লিশোর্ধদের মধ্যে ডায়াবেটিস, হাইপারটেনশন, হৃদযন্ত্রের সমস্যা ইত্যাদি কারনে ৪০% বা তারও অধিক পুরুষেরা সার্বক্ষনিক না হলেও সময় সময় এই সমস্যায় ভোগেন।
এদের বেশিরভাগের ইডিই মেডিকালি ট্রিটেবল। কিন্তু চিকিৎসার আওতায় না এসে অনেকেই ইডি অবস্থার সাথে মানিয়ে নিতে লো-লিবিডোর শিকার হয়ে পড়েন।

এরপরেই যে কারনটা খুব বেশি দেখা যায়, তা হলো সঙ্গম জনিত উৎকণ্ঠা যা হতে পারে ক) পার্ফর্মেন্স এংজাইটি আকারে, অথবা, ২) দ্রুত-পতন আকারে।
আমেরিকায় ৭০% যৌনক্ষম মানুষই পারফর্মেন্স এংজাইটিতে এতটাই ভোগে যে তাঁরা নিজেদের প্রিম্যাচিওর ইজাকুলেশনের ভিক্টিম বলে মনে করেন। অথচ তাদের বেশির ভাগেরই আসলে কোনো সমস্যা নাই। কারন সেখানে প্রিম্যাচিওর ইজাকুলেশনে আক্রান্তের হার কোনোক্রমেই পপুলেশনের ৩০% এর বেশি না।
যারা এই রকম সঙ্গম জনিত উৎকণ্ঠায় ভোগেন, দেখা যায়, একটা সময়ে, এ থেকে তাঁরা লো-লিবিডো আক্রান্ত হয়ে পড়েন।

এই দুই দৈহিক, মানসিক বা মনঃদৈহিক সমস্যার বাইরে, খুব কম হারে হলেও, আরেকটা আরেকটা শারীরিক সমস্যাও পুরুষদের লো-লিবিডোর কারন হিসাবে দেখা যায়। আর তা হলো এনইজাকুলেশন বা বির্য্যপাতে অক্ষমতা।

এছাড়াও কিছু কিছু বার্ধক্যজনিত জটিলতা বা অসুস্থ্যতা কারনেও কোনো ইডি ছাড়াই লো-লিবিডো আক্রান্ত হতে পারেন কেউ কেউ। যেমন:
– যাদের ক্যান্সার, ডায়াবেটিস, হাইপারটেনশন, হৃদযন্ত্রের সমস্যা, থাইরয়েড সমস্যা, ইত্যাদি থাকে।
– মদ ও মাদকে আসক্তি ও কোনো কোনো ঔষধ সেবনের পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া হিসাবেও লিবিডো হ্রাস পেতে পারে।
– যারা রেস্টলেস লেগ সিনড্রোমে আক্রান্ত বা অকারনে পা নাচান তাঁরা।
– যাদের দেহে টেস্টেসটোরন এর মাত্রা কম বরাবরই।

পুরুষদের লিবিডো হ্রাসে নীচের কারন গুলিও স্মরণে রাখা দরকার:
– জব বা ওয়ার্ক স্ট্রেসের কারনেও লিবিড হ্রাস পাবার ঘটনা ঘটে।
– কোনো কারনে ট্রিগারড হওয়া বিষন্নতা বা ডিপ্রেশনের কারনেও পুরুষদের লিবিডো কমে যেতে পারে।
– ঘুমের অপ্রতুলতার কারনেও এটা ঘটে।
– সঙ্গিনীর সাথে সম্পর্ক যত বেশি ম্যাকানিকাল, রুটিন ও আবেগবিহীন হবে, সেটা লিবিডো হ্রাসে তত বেশি ভূমিকা রাখবে।
– আবার সঙ্গিনির সাথে সম্পর্কটা যদি অতি আবেগে টইটম্বুর হয়, দেখা যায়, সেটাও একসময় অকারণ টেনশন ও বিরক্তির উদ্রেক করছে। এই বেশি পিড়াপিড়ির থেকেও কারো কারো লিবিডো কমে আসাটার শুরু হতে পারে।
– কিছু কিছু ক্ষেত্রে জীবনের বড় বড় পরিবর্তনগুলোও লিবিডো হ্রাসে ভূমিকা রাখে। যেমন সন্তানের জন্ম, পেশা সম্পর্কিত রিলোকেশন, ইত্যাদি…

চার
নারীদের ক্ষেত্রে লো-লিবিডো সমস্যাটিকে Hypoactive Sexual Desire Disorder অথবা Female Sexual Interest/Arousal Disorder নামেও ডাকা হয়।
এটার সুনির্দিষ্ট কারন বের করা যেমন কঠিন, এ থেকে বেরুনোর পথ বের করাও কঠিন।
কারন, নারীদের যৌনাকাঙ্ক্ষা বেশ কয়েকটি অনুষঙ্গের মিথোস্ক্রিয়াজাত, তাই সেগুলার যেকোনো এক বা একাধিকটির সমস্যা তাদের লিবিডোকে ক্ষতিগ্রস্থ করে।
এই অনুষঙ্গগুলো হলো: ক) সঙ্গির সাথে ঘনিষ্টতার মাত্রা, খ) শারীরিক সুস্থ্যতা, গ) মানসিক সুস্থ্যতা, ঘ) সম্পর্ক নিয়ে পূর্বাভিজ্ঞতা, ঙ) ধর্ম বা সংস্কৃতি সম্পর্কিত বিশ্বাস, চ) জীবনযাত্রায় অভ্যস্ততার ধরন, ছ) চলমান কোনো সম্পর্কে থাকা বা না থাকা।

সুনির্দিষ্ট কারনগুলি বলার আগে এই অনুষঙ্গগুলির একটু ব্যাখ্যা দিয়ে রাখা উচিৎ।
– নারীদের ক্ষেত্রে যৌনাকাঙ্ক্ষা বোধ করার জন্য সঙ্গির সাথে একটা পর্যায়ের ঘনিষ্টতায় পৌছানো খুব জরুরী। কোনো রকম ঘনিষ্টতা ছাড়া একজন পুরুষ যত সহজে যৌনাকাঙ্ক্ষা বোধ করতে পারে, একজন নারী সাধারনতঃ তা পারে না। অবশ্য, বেশি ঘনিষ্টতা, বেশি কেয়ার অনেক সময় নারীদের বিরক্তির উদ্রেক করে, বা তাদের উত্যক্ত করে। আর এই কারনে তখন তা কখনো কখনো একটি টার্ন-অফ হিসাবেও কাজ করে।
– যৌনাকাঙ্ক্ষা অনুভবের জন্য, তা নিয়ে কিছু করার জন্য শারীরিক ও মানিসিকভাবে ফিট থাকাটা যে খুব জরুরী – সেইটা তো বলার কোনো অপেক্ষাই রাখে না।
– এবিউসিভ রিলেশনের মধ্য দিয়ে যারা গিয়েছেন, প্রথমতঃ তাঁরা নতুন সম্পর্কে স্কেপ্টিক থাকেন। দ্বিতীয়তঃ তাঁরা চলমান সম্পর্কে যত কম্ফোর্ট জোনেই থাকুন, মাঝে মধ্যে পুর্ব অভিজ্ঞতার কারনে টার্নড অফ বোধ করতে পারেন। আবার যৌন-অনভিজ্ঞ নারীদের ক্ষেত্রে যৌনাকাঙ্ক্ষায় অজ্ঞতা-প্রসুত ইনকন্সিস্ট্যান্সি পরিলক্ষিত হতে পারে।
– সামাজিক বা ধর্মিয় বিশ্বাসের কারনে যৌনাকাঙ্ক্ষা ক্ষুন্ন হতে দেখা যায়। অন্যসব অনুষঙ্গ অনুকুল থাকার পরেও “এ তো পাপাচার” বা “আমি এরকম করলে সমাজ কি ভাববে? মানুষকে মুখ দেখাবো কি ভাবে?” – এই জাতিয় কথাবার্তা অথবা নারীর যৌনতা সম্পর্কিত দীর্ঘদিন ধরে অর্জিত ও টিকে থাকা রক্ষনশীল চিন্তা-ভাবনা অনেকের জন্যই টার্ন-অফ হিসাবে কাজ করে।
– কতটা রক্ষনশীল জীবনযাত্রায় একজন নারী অভ্যস্ত, সেটাও তাঁর যৌনাকাঙ্ক্ষার ক্ষেত্রে ভূমিকা রাখে। কম রক্ষনশীলগন তাদের যৌনাকাঙ্ক্ষার ব্যাপারগুলো যত সহজ নিতে পারবেন, অতি রক্ষনশীলগন তা পারবেন না। তাদের জন্য তাই অনেক কিছুই হয়ে পড়বে জটিল।
– বেশীরভাগ নারীই কারো সাথে সম্পর্কাবদ্ধ অবস্থায় তাদের যৌনাকাঙ্ক্ষার বিষয়টা ঐ সঙ্গির জন্য রিজার্ভ করে ফেলেন। সেইক্ষেত্রে অন্যসব অনুষঙ্গ অনুকুলে থাকলেও, শুধু সেই সঙ্গিকে নাগালে না পাবার কারনে তাদের যৌনাকাঙ্ক্ষায় ভাটা পড়তে পারে।

আগামি পর্বে নারীর লিবিডো সমস্যার সুনির্দিষ্ট কারনগুলি নিয়ে লিখবো।
(চলবে………)
লো-লিবিডো : একটি উপেক্ষিত ডিসফাংশানালিটি – তৃতীয় পর্ব

১,১৪৫ বার দেখা হয়েছে

মন্তব্য করুন

দয়া করে বাংলায় মন্তব্য করুন। ইংরেজীতে প্রদানকৃত মন্তব্য প্রকাশ অথবা প্রদর্শনের নিশ্চয়তা আপনাকে দেয়া হচ্ছেনা।