নারীবাদ ও এর অপব্যবহার – দ্বিতীয় পর্ব

নারীবাদ ও এর অপব্যবহার – প্রথম পর্ব

টাইপ থ্রী : *** সেইসব নারীবাদি পুরুষ সম্পর্কে সাবধান হন, যারা জেন্ডার ইকুয়ালিটির মুখোস পরে, নিপিড়নের কৌশল (Abusive Tactics) লুকিয়ে রাখে ***
এদের ব্যাপারে সতর্ক হোন,
১) যারা আপনাকে “ম্যানিপুলেট” করার হাতিয়ার হিসাবে সামাজিক ন্যয়বিচারের ভাষায় বুলি কপচায়।
২) যারা “গ্যাসলাইটিং”-এর মত কিছু ম্যানিপুলেশন সম্পর্কিত শব্দ শিখে নেয় এবং দরকার মত আপনার উপরে তা প্রয়োগ করে। বিশেষ করে আপনি যদি তাদের কোনো কথার সাথে একমত না হন।
৩) যারা তাদের নির্যাতন-বিরোধী অবস্থানকে এমনভাবে ব্যবহার ও বর্ননা করে যাতে করে মনেহয়, তাদের পক্ষে আপনার প্রতি অবমাননাকর কিছু করা অসম্ভব। আর তা অসম্ভব, কারন তাঁরা দেখাতে থাকে যে আপনার অবস্থান তাদের চেয়ে অনেক উপরে। কিন্তু এর আড়ালে তাঁরা তাদের এবিউজ চালিয়ে যায়।
৪) যারা নিজেদেরকে নারীর প্রতি নিষ্ঠুরতা নিবারনের সমর্থক বলে প্রচার করে বেড়ায় কিন্তু নিজেদের গন্ডিতে সুযোগ পেলেই নিষ্ঠুর সব আচরন করে বেড়ায়।
৫) যারা এমনভাবে আপনাকে নির্যাতনের গতিপ্রকৃতি বুঝায় যে আপনিও তার অংশিদার। কিন্তু আপনি তখন তার উত্তর দিতে পারেন না, কারন তখন আপনি থাকেন মানসিকভাবে হত-বিহ্বল।
উদাহরন: “জানই তো আমার রাগটা একটু বেশিই। রাগের সময়টাতে একটু দূরে দূরে থাকলেই তো পারো। এই যে রাগের মাথায় বাড়াবাড়িটা করে ফেলি, এইটাতে তাই তোমারও ভূমিকা আছে। ঐ সময়টাতে একটু দূরে দূরে থাকলে তো আর এমন হয় না, তাই না?”
৬) যারা এই যুক্তিতে আপনাকে অর্থনৈতিকভাবে অপব্যবহার করে – “তুমি বেশি আয় করো, তুমিই তো বেশি খরচ করবাই…”
৭) যারা আপনার উপরে রেগে গেলে আপনাকে বর্ননা করতে অতি নিকৃষ্ট ভাষা (যেমন: bitch, slut, cunt ইত্যাদি) ব্যবহার করে।
৮) নারীবাদী কমুনিটিতে যাদের অবস্থান আপনার চেয়ে শক্ত এবং আপনার উপর প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ ভাবে ছড়ি ঘুরাবার অস্ত্র হিসাবে সেটাকে তারা ব্যবহার করে।
৯) যারা কথায় কথায় প্রশ্ন করে বসে, “আমি কি তোমার চোখে একজন খারাপ নারীবাদী?” কথাটা এমনভাবে বলে, যেন এটা শুনে আপনি আহত হবেন, যেন এটা কোনো কথা ঘুরানোর প্রচেষ্টা না।
১০) যারা জেন্ডার স্ট্যাডিজ ক্লাস করবার সময়ে সিমন দ্য বুভরের নাম শুনেছে, তাঁকে জেনেছে। আবার আপনার সাথে কোনো নারীবাদ নিয়ে কোনো বাদানুবাদ হলে আপনাকে আউলায় দিতে অথবা ঠান্ডা করতে গড় গড় করে বুভর আওড়িয়ে যায়।
১১) যারা আপনাকে চরমপন্থা গ্রহনের প্রয়োজনিয়তা বুঝান এবং সেই জন্য নিজের পছন্দের আচরন ও মতবাদ গ্রহনে আপনাকে উদ্বুদ্ধ করেন।

মনে রাখবেন, তারা যখনই আপনার উপর ক্ষমতা প্রয়োগের মাধ্যমে আপনার নিয়ন্ত্রন নিজেদের হাতে তুলে নিচ্ছে – আপনি নিপিড়িত হচ্ছেন।
নিপিড়ন শুধু শারিরিকই হয় না।
আপনাকে অসহায় ও নির্ভরশিল বানিয়ে ফেলাটাও কিন্তু একধরনের নিপিড়ন!!!

টাইপ ফোর : *** সেইসব নারীবাদি পুরুষ সম্পর্কে সাবধান হন, যারা নারীত্বকে একটি প্রতিযোগিতার বস্তু বলে গন্য করে ***
এদের ব্যাপারে সতর্ক হোন,
১) যারা বলে তাদের চেনা অন্যান্য নারীদের চেয়ে আপনি কত বেশি বুদ্ধিদিপ্ত ও পরিনত। তারা আরও বলে যে তাঁরা নাকি জীবনেও আপনার মত জ্ঞানদীপ্ত কারো সংস্পর্শে আসে নাই…
২) যারা বলে, তারা শয্যাসঙ্গিনি হিসাবে স্মার্ট বা উদার বা র‍্যাডিকাল নারীদের পছন্দ করে। কারন এদের সাথে সম্পর্ক করাটা তাদের জন্য স্মরনীয় অভিজ্ঞতা।
৩) যারা আপনার কাছে স্বপ্নেদেখা উন্মত্ত পরীর মত আচরন আশা করে যে কিনা তাঁর পারফর্মেন্স দিয়ে তাদেরকে নারীবাদী কল্পরাজ্যে উড়িয়ে নিয়ে যাবে।
৪) যারা নিজেদেরকে “আপনি কতটা নারীবাদী”-তা পরিমাপের উপযুক্ত হিসাবে উপস্থাপন করে। এবং তাদের বিচারে আপনি পর্যাপ্ত নারীবাদি না হলে সেজন্য আপনাকে তুচ্ছতাচ্ছিল্য করে।
৫) যারা আপনাকে “ভাল” বা “মন্দ” হিসাবে চিহ্নিত করে এবং তারপরে বিপরীত দলের সাথে আপনাকে একটা প্রতিযোগিতায় নামতে বাধ্য করে।
৬) যারা আপনার আচরন তাদের নির্ধারিত সংজ্ঞায় ফেলে আপনাকে মেয়ে, মহিলা বা নারী হিসাবে চিহ্নিত করে। তারপর তাদের পছন্দনীয় শ্রেনীভুক্ত হবার জন্য আপনাকে পিড়াপিড়ি করে।
৭) যারা অন্য নারীগন কতটা সঠিক নারীবাদি, তা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করে।
৮) যারা আপনার নারীবাদ, নারীত্ব ও নারীসুলভ আচরন তাদের পছন্দনীয় মানে হবার শর্তেই আপনার সাথে সম্পর্ক চালিয়ে যেতে আগ্রহী।

মনে রাখবেন, আপনার নারীত্ব আপনার নিজেস্ব গর্বের বিষয়, একান্ত আপন অহঙ্কারের বিষয়। এটা অন্য কারো সাথে কোনো প্রতিযোগিতায় নামার জন্য কোনো উপলক্ষ হতে পারে না।
আর, যে তা করতে আপনাকে উদ্বুদ্ধ করবে, সে আপনার কাছে অতি অবশ্যই পরিত্যাজ্য বলে গন্য হওয়া উচিৎ…

মূল লিখাটা দেখা যাবে এখানে

২,৯৫৪ বার দেখা হয়েছে

১টি মন্তব্য “নারীবাদ ও এর অপব্যবহার – দ্বিতীয় পর্ব”

মন্তব্য করুন

দয়া করে বাংলায় মন্তব্য করুন। ইংরেজীতে প্রদানকৃত মন্তব্য প্রকাশ অথবা প্রদর্শনের নিশ্চয়তা আপনাকে দেয়া হচ্ছেনা।