আত্মহত্যা সম্পর্কিত সচেতনতামূলক আরেক কিস্তি লিখালিখি…


একটা গল্প দিয়ে শুরু করি।
যদিও পুরনো গল্প। আগেও বলেছি কোনো কোনো জায়গায়। তবুও বলছি, আরেকবার……
বেশ কিছুদিন ধরেই আমি মানসিক সমস্যা সম্পর্কে সচেতনতামূলক লিখালিখি করে যাচ্ছি। সেগুলোর মধ্যে আত্মহত্যা নিয়ে লিখাও ছিল।
এরকম প্রথম লিখাটা পড়ে আমার এক বেশ পুরোনো স্টুডেন্ট ফোন করে কি ঝাড়ি! কি ঝাড়ি!!
“লিখালিখির কি আর কোনো সাবজেক্ট পাচ্ছেন না, স্যার? এইসব কি হাবিজাবি লিখা শুরু করেছেন, আজকাল? আচ্ছা বলেন দেখি, কেউ যদি আত্মহত্যা করতে চায়ই, সে কি আপনার এসব ছাইপাঁশ পড়ার জন্য বসে আছে? এইসব লিখে কি একটা আত্মহত্যাও আপনি থামাতে পারবেন? আর যে স্বেচ্ছায় মরতে চায়, মরুক না সে! আপনার কি আসে যায় তাতে? কি দায় পড়েছে আপনার, তাকে বাচানোর?” ইত্যাদি…

সন্তান বড় হলে যেমন তারা বাবা-মায়ের পিতামাতার রোল নিয়ে নেয়, আমি মানি যে, স্টুডেন্ট বড় হয়ে গেলে তারাও তাদের একসময়কার শিক্ষকের শিক্ষক হয়ে যায়। আর শিক্ষক তখন তাদের কাছে থেকে শেখেন। কেবলই শেখেন।
আমি তাই তর্ক করি না। আমতা আমতা করে কৈফিয়াত দেয়ার সুরে বলার চেষ্টা করি,
“না, মানে লিখাটা ওদের জন্য না। ওদের কাছের মানুষদের সচেতন করার জন্য। যদি কেউ বোঝে যে তাঁর কাছের কেউ একজন অমনটা করার কথা ভাবছে, সে যেন তাকে তথ্য দিয়ে সহায়তা করার একটা চেষ্টা করতে পারে, এই আর কি………”
সেই বিজ্ঞ স্টুডেন্টকে কতটা কি বোঝাতে পেরেছিলাম, জানি না, কিন্তু এখন মনে হচ্ছে, ঐ লিখাটা লিখে বোধ হয় খারাপ কিছু করি নাই।

আত্মহত্যা প্রতিরোধে সচেতনতা জাগাতে এরকম আরও লিখালিখি হওয়া উচিৎ।
খুবই উচিৎ………


এখন পর্যন্ত যতটা জানা গেছে, তাতে বোঝা যাচ্ছে যে এক কিশোরী কর্তৃক একটি আত্মহত্যার ঘটনা ঘটেছে।
যা ঘটেছে, নিঃসন্দেহে তা একটি অতি দুঃখজনক ঘটনা।
এবং কোনোক্রমেই তা গ্রহনযোগ্য না।
তাই বলে এটা নিয়ে সিস্টেমসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে যথেচ্ছা দোষারোপ করা, বিষোদগার করাটা কি বাড়াবাড়ি হয়ে যাচ্ছে না?
কঠিন কিছু বলার আগে, আমরা কি একটু ধৈর্য্য ধরে অপেক্ষা করতে পারি না, দায়িত্বপ্রাপ্তরা কি বলেন, কি বের করেন, সেটা দেখার বা তা শোনার জন্য?

আমেরিকার একটা পরিসংখন দেই, ভাবনার খোরাক হিসাবে।
বিশাল এক সার্ভে (স্যাম্পল সাইজ ২৬ হাজার!!!) থেকে জানা যায়,
– আমেরিকার মোট ছাত্র-ছাত্রীর ৫৫% তাদের ছাত্র জীবনের কোনো এক সময় আত্মহত্যা করার কথা ভাবেন।
– ১৮% সেটা সিরিয়াসলি নেন, যার অর্থ হলো তারা কিছু একটা পরিকল্পনাও করেন।
– ৮% সুইসাইডাল এটেম্পট করেন……
সফল হন কত?
স্টে টিউনড!!! বলছি, একটু পরেই………

আমেরিকায় ২৫ বছর বা তাঁর আশেপাশের বয়সি ছাত্র-ছাত্রীর সংখ্যা ২১ মিলিয়ন। আর এডাল্ট ছাত্র জীবন গড়ে পাচ বছর।
তারমানে,
– ১ কোটির উপরে (১ কোটি সাড়ে ১৫ লক্ষ) স্টূডেন্ট ছাত্রজীবনে একবারের জন্য হলেও আত্মহত্যা করার কথা ভাবেন।
– প্রায় ৩৮ লক্ষ স্টূডেন্ট, একবার হলেও পরিকল্পনা করেন।
– প্রায় ১৭ লক্ষ স্টুডেন্ট কোনো না কোনো ভাবে তা এটেম্পট করেন।
কিন্তু সফল হন বছরে মাত্র ১০০০ এর মত…… পিরিয়ড!!!

তারমানে ছাত্র জীবনে প্রতি ১৭০০ এটেম্পটের মধ্যে বছরে ১ জন মারা যায়। যা কিনা বছরে ৩৪০ এটেম্পটে ১টি মৃত্যূ বলে ধরে নেয়া যায়।
আমি যদি এখন এই এটেম্পট বনাম সাকসেস রেশিওকে, দুর্ঘটনা বলতে চাই, সেটা কি খুব বাড়াবাড়ি হয়ে যাবে????

তবে হ্যা, দুর্ঘটনা ঘটার পর মানুষ সতর্ক হয়, সতর্কতামূলক পদক্ষেপ নেয়।
আমেরিকায় সেটা করা হচ্ছে বেশ কিছুদিন ধরে।
আর এর ফলোস্রুতিতে বছর পাচেক ধরেই আত্মহত্যার হার কমে আসছে।
পাচ বছর আগেও যেখানে সারাদেশে দৈনিক ১১৭ জন আত্মহত্যা করতো, সাম্প্রতিক কালে এটা কমে দৈনিক ৯৩-তে এসে দাড়িয়েছে।

যারা এই দুর্ঘটনা রোধে ভূমিকা রাখতে পারে, তাদের ঢালাও ভাবে দোষারোপ না করে বা হয়রানির সম্মুখিন না করে, বরং যদি তথ্য দিয়ে, উপাত্ত দিয়ে, আইডিয়া দিয়ে সহায়তা করি – আমার মনেহয়, সেটা ভবিষ্যতে এই জাতীয় দুর্ঘটনা কমাতে, এমনকি নিবারনেও ভূমিকা রাখবে।
কিন্তু তারা হয়রানির শিকার হলে, ভবিষ্যতে সবাই কিন্তু গা বাচাবে। আর তাতে করে এই দুর্ঘটনা যদি বেড়ে যায়, আমরা সবাই কি সেই অপরাধের ভাগিদার হয়ে যাবো না?


এই পর্যায়ে অনেকের মনে জাগা কিছু প্রশ্নের উত্তর দেয়ার চেষ্টা করি।
কাউকে কাউকে প্রশ্ন করতে দেখলাম, “১৩ বছরের একটা বাচ্চা মেয়ে আত্মহত্যা করে কি করে?”… “সে আত্মহত্যার বোঝেটা কি?”… ইত্যাদি।

তাদের অবগতির জন্য জানাচ্ছি, আমেরিকায় পাঁচসাত বছরের শিশুদেরও আত্মহত্যা করার রেকর্ড আছে এবং তা বেশ নিকট অতিতেও।

২০১৩-১৪র দিকে ছ’বছর বয়সি একাধিক শিশু রীতিমত সুইসাইড নোট লিখে আত্মহত্যা করেছিল। আবার এটা ওটা মুখে দিয়ে হঠাৎ মারা গেছে, তাও না।
একাধিক ফেইলড এটেম্পটের পর মানসিক স্বাস্থ্যসেবার আওতায় থাকা কালে সবার চোখে ধুলো দিয়ে ট্রেনের নীচে ঝাপিয়ে পড়ে বা গলায় দড়ি দিয়ে আত্মহত্যার ঘটনাও তার মধ্যে আছে।
ভাবা যায়???

অবশ্য আফটার ইফেক্ট আমাদের মতই।
দীর্ঘ পুলিশি তদন্ত ও ডিটেইল ফোরেনিসিক এগজামিনেশন করে যখন সিদ্ধান্ত জানানো হলো যে ঘটনাগুলো আত্মহত্যাই ছিল, কেউ তাদের মেরে ফেলে নি, আজ পর্যন্ত তাদের নিকটাত্মীয় বা ঘনিষ্টজনরা তা মেনে নিতে পারছেন না।
আসলেই তো মানবেন কি করে? মাত্র ছ’বছরের শিশুর সুইসাইড নোট লিখা, ট্রেনের নীচে ঝাপ দেয়া, নিজে নিজে ফাঁস বানিয়ে সেটা গলায় পরা এবং তারপরে ঝুলে পড়া – এগুলো মানা কি আসলেই সম্ভব? এক্সপার্টরা বললেও মনকে মানানো আসলেই কঠিন। খুবই কঠিন………

এই লিখাটার উদ্দেশ্যও আগের মতই, কাউকে ভয় দেয়ার জন্য না, বরং সবাইকে সচেতন করার জন্য।
আত্মহত্যা কোনো ছেলে খেলা না, এটা যেমন ঠিক, ছেলেখেলা খেলতে খেলতেও কারো কারো “মরিবার সাধ” যে জেগে উঠতে পারে, এটাও তেমনিই ঠিক।
আর তা যদি হয়ই, তাদের কেউ কেউ আবার বলেো বসতে পারে, “আমি মরে গেলে কারো কিছু আসবে যাবে না, তাহলে কি লাভ, বেঁচে থেকে? অথবা “কী ক্ষতি মরে গিয়ে?”
অথচ, অন্যসময়ে মানে স্বাভাবিক অবস্থায়, তারাও খুব ভাল করেই জানে, কত কত কাছের মানুষ সারাটা জীবন গোপনে চোখ মুছে যাবে তাদের কথা ভেবে ভেবে।

আমার এত কথা বলার উদ্দেশ্য আসলে একটাই, যে যত হালকা ভাবেই আত্মহত্যার কথা বলুক না কেন, সেটা দয়া করে হালকা ভেবে উড়িয়ে দেবেন না।
তাঁর সাথে কথা বলুন। আরও কথা বলুন। যত ছোট হোক বা বড়, যত অবুঝ হোক বা বুঝবান – কথা বলুন।
কথা বলতে না চাইলেও লজ্জাশরমের মাথা খেয়ে কমুনিকেশনের প্রচেষ্টা চালিয়ে যান।
পাশাপাশি, সর্বাত্মক চেষ্টা করুন তাঁর এখনকার ঘনিষ্টজনদের গোচরে ব্যাপারটা আনতে যে অমুক কিন্তু এমন একটা কথা আমাকে বলেছিল।
“সুযোগ হলে তাকে বুঝাও, সে যেন এমন কিছু না করে বসে, যে জন্য সে সব কিছুর উর্ধে উঠে গেলেও আমরা যারা তাঁর এখনকার বা একসময়ের প্রিয় মানুষরা পিছনে রয়ে যাবো, সারাটা জীবন তাঁর অনুপস্থিতির আগুনে জ্বলে জ্বলে মরবো।”
“বেঁচে থেকেও মরবো, আর তা প্রতিনিয়তই………”

আগের কিস্তি পড়া যাবে এখানে

৩,০০৪ বার দেখা হয়েছে

৬ টি মন্তব্য : “আত্মহত্যা সম্পর্কিত সচেতনতামূলক আরেক কিস্তি লিখালিখি…”

  1. আত্মহত্যা প্রতিরোধের জন্য দেশে একটি এন জি ও কাজ করে - নাম 'কান পেতে রই'। হেল্পের জন্য যে কেউ ফোন করতে পারেন যে কোনো সময়।

    http://www.shuni.org/

    "কান পেতে রই বাংলাদেশের প্রথম মানসিক সহায়তা হেল্পলাইন, যেখানে যে কেউ ফোন করে আমাদের প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত স্বেচ্ছাসেবকদের কাছ থেকে জরুরী মানসিক সেবা পেতে পারেন। আমাদের হেল্পলাইনের মূল উদ্দেশ্য সমাজের অনেক মানুষের মনে হতাশা, একাকীত্ব, মানসিক চাপ এবং আত্মহত্যার প্রবণতা কাটিয়ে উঠতে সাহায্য করা, তাদের মানসিক সমর্থন জোগানো। এই লক্ষ্যটি মাথায় রেখে কান পেতে রই গোপনীয়তা এবং সহমর্মিতার সাথে, সম্পুর্ন খোলা মনে মানুষের কথা শোনে। বিশ্বের ৪০টি দেশে এই ধরনের প্রতিষ্ঠান রয়েছে, যারা আত্মহত্যা রোধ করা এবং মানসিক স্বাস্থ্যসেবায় উন্নয়নের জন্যে অনেক অবদান রাখছে। বাংলাদেশে কান পেতে রই এই ধরনের প্রথম প্রতিষ্ঠান।"

    গ্রামীনফোনঃ ০১৭৭৯৫৫৪৩৯১, ০১৭৭৯৫৫৪৩৯২ এয়ারটেলঃ ০১৬৮৮৭০৯৯৬৫, ০১৬৮৮৭০৯৯৬৬ বাংলালিংকঃ ০১৯৮৫২৭৫২৮৬ রবিঃ ০১৮৫২০৩৫৬৩৪

    ==

    আত্মহত্যা মানুষ বিভিন্ন কারনে করে। এ প্রবনতা সমাজের সব পেশা, বয়স, স্থান-কাল-পাত্র ভেদে বিদ্যমান। খবরে খুব কম আসে, কিন্তু দেশে অনেক আত্মহত্যার ঘটনা ঘটে।

    ==

    অনেক সফল মানুষরাও আত্মহত্যা করেছেন -

    লেখক/শিল্পী- আর্নেস্ট হেমিংওয়ে, ভ্যান গগ, ভার্জিনিয়া উলফ, ইয়াসুনরি কাওয়াবাতা, জীবনানন্দ দাশ (ট্রামের ধাক্কা গভীর রাতে, এটাকে আত্মহত্যা মনে করেন অনেকেই)
    এন্টারটেইনার - রবিন উইলিয়ামস, এমি ওয়াইনহাউস, কুর্ট কোবেইন

    লিস্ট অনেক বড় করা যায়।

    ==

    চরম হতাশাই এর কারন, অনেকের আবার টেন্ডেন্সি থাকে।

    পারভেজ ভাই এখানে ফেনী গালর্স ক্যাডেট কলেজের এক ছাত্রীর সাম্প্রতিক আত্মহত্যার কারনে তার লেখা দিয়েছেন। সেটা উল্লেখ না করায় বুঝতে অসুবিধা হচ্ছিল। এখানে লিন্ক:

    http://www.orbitnews24.com/archives/5612

    ক্যাডেটের বাবা মা অন্য ক্যাডেট কলেজের শিক্ষক (তার মানে সে কলেজেই বড় হয়েছে ও কলেজের পরিবেশ জানে) ও সে ছিল ক্লাসের সবচেয়ে মেধাবী (অনলাইন নিউজ থেকে জানা)। এ কারনে ঘটনাটি বুঝতে অসুবিধা হচ্ছে।

    ==

    আপনি একবার ভেবে দেখুন আপনার কি কখনো মনে হয়েছে যে জীবনে বেচে থেকে কোনো লাভ নেই?

    ধন্যবাদ পারভেজ ভাইকে এটা নিয়ে সচেতনতামূলক লেখা দেয়ায়।

    জবাব দিন
    • পারভেজ (৭৮-৮৪)

      মন্তব্য ও তথ্যগুলির জন্য অনেক ধন্যবাদ।
      একটি ঘটনার প্রেক্ষিতে যদিও লিখালিখি, কিন্তু আমি তাদেরকে ইচ্ছা করেই অন্তরালে রাখতে চেয়েছি।
      ছোট্ট একটি মেয়ে, তার পরিবার, মৃতদেহের ছবি - এসব নিয়ে এত টানাহেঁচড়া ভাল লাগছে না।
      তাকে বা তাদেরকে অন্তরালে রেখে অন্যদের জন্য যে লেসনটুকু আছে, সেখানেই শুধু কনসেনট্রেট করতে চেয়েছি।

      ভাল থাকার জন্য সঠিক তথ্য জানার আসলেই কোনো বিকল্প নাই.........


      Do not argue with an idiot they drag you down to their level and beat you with experience.

      জবাব দিন
  2. আত্মহত্যা কিন্তু মানুষ সবসময় দুখেই করেনা অনেকেই আছে জারা বেশী শুখেও করে।
    যেমন কিছু মানুষ এমনও আছে যারা সব কিছুই পেয়ে গিয়েছে জা পাবার ছিলো এখন আর কিছুই বাকি নেই। জা মনচায় সব করতে পাড়ছি জীবন টা তখন বড্ড এক গেয়ে মনে হয় কোন নতুনত্ব নেই অজানা কিছু পেতে মনচায় জার সন্ধান জানিনা আচ্ছা আত্মহত্যা র ভেতর কি তা পাব? খুজে দেখতে দোস কি?
    বানিয়ে লিখিনি আমার মনের ভাবতা প্রকাশ করলাম মাত্র 🙂

    জবাব দিন
    • পারভেজ (৭৮-৮৪)

      পপি, আপনি মনেহয় "ইচ্ছামৃত্যু"-র কথা বলছেন।
      ইচ্ছামৃত্যু ও আত্মহত্যার মধ্যে বড় রকমের ফারাক আছে। এবং কিছু কিছু ক্ষেত্রে ইচ্ছামৃত্যুটা শুধু নীতিগতই না, আইনসম্মতও।
      তাই যতদিন যাবে এটার সামাজিক গ্রহনযোগ্যতা আরও বাড়বে বলেই মনেহয়।
      ইচ্ছামৃত্যু জিনিষটা একধরনের রিটায়ারমেন্ট ফ্রম লাইফ।
      এটা আরও নিয়মতান্ত্রিকতার মধ্যে এলে আত্মহত্যার স্টিগমা তাতে থাকবে না।
      চিকিৎসা বিজ্ঞান যত উন্নত হবে, এই ইচ্ছামৃত্যুর ব্যাপারটা ততই জাস্টিফাইড হয়ে দাঁড়াবে বলে আমার ধারনা......


      Do not argue with an idiot they drag you down to their level and beat you with experience.

      জবাব দিন
  3. পারভেজ (৭৮-৮৪)

    লিখাটার তৃতীয় অংশে কিছু প্রশ্নের উত্তর দিতে চেয়েও মাত্র একটা প্রশ্নের উত্তরে গিয়ে থেমে গিয়েছিলাম কলেবর নিয়ন্ত্রনে রাখতে।
    এখানে সম্প্রতি পাওয়া আরেকখানা প্রশ্নের উত্তর দিচ্ছি:

    প্রশ্ন: "So what it was a suicide? The college authority has failed to protect the life of their own cadet"

    উত্তর: যতদুর জানি, আজকাল ফাইনাল সিলেকশনের আগে সাইকোলজিকাল স্ট্যাবিলিটির ব্যাপারটা প্রফেশনালদের দিয়ে নিশ্চিত হয়ে নেয়া হয়।
    এতসব প্রক্রিয়ার পরে কলেজ যাদের পাচ্ছে, তাদের সবাইকে যদি "স্ট্যাবল" ধরে নিয়ে কলেজ সেভাবে তাদের জন্য একটিভিটি ডিজাইন করে, সম্পুর্ন দোষটা কলেজের ঘাড়ে বর্তায় কোন যুক্তিতে?
    সাইকোলজিকাল এসেসমেন্টে একজন ইনস্ট্যাবিলিটি সম্পন্ন ক্যান্ডিডেট স্ট্যাবল বলে চিহ্নিত হতে পারে নীচের এক বা একাধিক কারনে:
    ক) ক্যান্ডিডেট এসেসমেন্ট সিস্টেমকে ডিসিভ করতে সক্ষম হয়েছিল। (এত কম বয়সে সেটা করতে পারা খুবই কঠিন)
    খ) এসেসমেন্ট সিস্টেমটা এই ক্যান্ডিডেটের জন্য এডিকুয়েট ছিল না। (এটা হবার সম্ভবনা খুবই বিরল)
    গ) এসেসরের দুর্বলতা, যে কারনে তিনি প্রাপ্ত তথ্যের যথাযথ ব্যাখ্যা করতে পারেন নাই। (এসব কাজে দুর্বল এসেসর নিয়োগ করার কথা না)
    ঘ) এসেসর ইনফ্লুয়েন্সড হয়ে সাইকোলজিকালি ইনস্ট্যাবল প্রার্থিকে স্ট্যাবল বলে ঘোষনা দিয়েছেন। (এই ব্যাপারে কমেন্ট করতে চাচ্ছি না)
    ঙ) অন্য কিছু...
    এখন কথা হলো, এর কোনোটা যদি ঘটে থাকে, সেজন্য কলেজের দায়টা কোথায়?
    এনালজি দেই।
    ফিটনেস সার্টিফিকেট থাকা ত্রুটিপুর্ন একটি গাড়ি যদি রাস্তায় দুর্ঘটনা ঘটায়, সেই গাড়িকে ফিট সার্টিফিকেট দিয়ে চলাচলের সুযোগ দেয়া তথা দুর্ঘটনা ঘটানোর দায় কি ফিটনেস প্রদানকারী কর্তৃপক্ষের? নাকি সড়ক রক্ষনাবেক্ষন বা ট্রাফিক নিয়ন্ত্রন কর্তৃপক্ষের?
    কলেজের ছিদ্রান্বেষণের এই প্রয়াসগুলো আমার কাছে "উদোর পিন্ডি বুদোর ঘাড়ে" চাপাবার মত বলেই মনে হচ্ছে......


    Do not argue with an idiot they drag you down to their level and beat you with experience.

    জবাব দিন
    • পারভেজ (৭৮-৮৪)

      একটি সম্পুরক প্রশ্ন ও তাঁর উত্তর:
      প্রশ্ন: ভাইয়া ত্রুটিপূর্ণ গাড়িকে ফিটনেস সার্টিফিকেট দেয়ার জন্যে অবশ্যই ফিটনেস প্রদানকারী কর্তৃপক্ষ দায়ী।
      আর একটা জিনিস ভাইয়া- আপনি মে বি আমার চেয়ে অনেক সিনিয়র। আপনাদের সময় কলেজ যেমনটা দেখে আসছেন এখনও কলেজ তেমনটাই আছে এটা ভাবাটা ভুল। একটা কলেজের সব স্টুডেন্ট একসাথে কখনোই অথরিটির বিরুদ্ধে কথা বলবেনা যদি না সত্যি সত্যিই অথরিটি এক্সট্রিম লেভেলের কিছু করে থাকে। আত্নহত্যা সবসময় নিজের ইচ্ছায়ই করে তা না। অনেক ক্ষেত্রেই একটা আত্নহত্যার জন্যে পরোক্ষভাবে অথরিটি/কোনো স্পেসিফিক ব্যাক্তি দায়ী থাকে। রেজালটের ভিত্তিতে বিভিন্ন রঙে রঞ্জিত হওয়াটা একটা স্টুডেন্টের জন্যে মানসিক চাপ। ৬০% এর নিচে মার্কস পেলে জরিমানা, প্যারেন্টস কল এটা একটা মানসিক চাপ। কথায় কথায় বাসার পরিস্থিতি, বাবার ইনকাম নিয়ে কথা বলাটা একটা মানসিক চাপ না শুধু, রীতিমত মানসিক টর্চার। এগুলি আগে হত কিনা জানি না, তবে এখন হয়। এবং এসবের জন্যে কলেজ এ্যাডমিনিস্ট্রেশন দায়ী, ভর্তির সময় সাইকোলজিক্যালি ফিট হিসেবে সার্টিফিকেট দেয়া ওই সাইকোলজিস্ট না।

      উত্তর: কলেজে চাপ নাই, সেটা তো বলি নাই। এখনই যে শুধু চাপ আছে, আগে ছিল না - তাতো আর না।
      জরিমানা, মারধর, প্যারেন্টস কল, সব কিছুই আগেও ছিল।
      তাই সেগুলার চাপ আগেও ছিল।
      আমি যেটা বলতে চেয়েছি, তা হলো, সাইকোলজিকাল স্ট্যাবিলিটি থাকলে চাপের মুখে মানুষ ভেঙ্গে পড়ে কম, বরং তারা হয় প্রতিবাদ করে, ফাইট ব্যাক করে, নতুবা এডজাস্ট করে।
      চাপের মুখে যারা সহজে ভেঙ্গে পড়ে, বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই সেটা ঘটে সাইকোলজিকাল ইনস্ট্যাবিলিটি থাকার কারনে।
      তবে হ্যা, আজকালকার বেশিরভাগ শিশুদের ওভার প্রোটেকটিভ আপ ব্রিংগিং-এর জন্য তাদের মধ্যে স্ট্যাবিলিটির ঘাটতি থাকার হার আগের চেয়ে বেশি হবারই কথা।
      সে ব্যাপারটা এড্রেস করা উচিৎ। আর তা করা হচ্ছে বলেই তো মনেহয় আজকাল এই সাইকোলজিকাল এসেসমেন্ট চালু হয়েছে।
      আগে কিন্তু এটার তেমন কোনো দরকার ছিল না।
      বাই দ্যা ওয়ে, "আত্নহত্যা সবসময় নিজের ইচ্ছায়ই করে তা না" - এই কথাটা ঠিক না।
      যতকমই হোক, নিজের কিছু ইচ্ছা না থাকলে কখনো কোনো আত্মহত্যার ঘটনা ঘটতে পারে না।
      আচ্ছা, আমার দুইটা প্রশ্ন রাখি এবার।
      ১) আমরা এমন সব কথা কেন বলবো, যা একটি আত্মহত্যাকে জাস্টিফাই করে? এতে কার কি লাভ? এতে করে আরও কেউ কেউ যদি আত্মহত্যায় উৎসাহিত হয়, ব্যাপারটা কি ভাল হবে?
      ২) কলেজ তথা সিস্টেমের ঘাড়ে একচেটিয়া দোষারোপ করে কখনো কি সমস্যার উত্তরণ সম্ভব? তাদের দোষতো নিশ্চই কিছু আছে। যতটা দোষ, ততটার মধ্যে অভিযোগ রাখতে পারা কি সম্ভব? নইলে ডিফেন্ড করতে গিয়েই যদি তারা সব এনার্জি ক্ষয় করে ফেলে, ইমপ্রুভ করার রশদ আসবে কোত্থেকে???

      একটা দুর্ঘটনার কারনে কোনো সিস্টেম যেন ভেঙ্গে না পড়ে, সেটাও তো মাথায় রাখা দরকার, তাই না?


      Do not argue with an idiot they drag you down to their level and beat you with experience.

      জবাব দিন

মন্তব্য করুন

দয়া করে বাংলায় মন্তব্য করুন। ইংরেজীতে প্রদানকৃত মন্তব্য প্রকাশ অথবা প্রদর্শনের নিশ্চয়তা আপনাকে দেয়া হচ্ছেনা।