গণ জাগরন নিয়ে আরেক কিস্তি

১৯শে ফেব্রুয়ারি ২০১৪-এ এই লিখাটাও বেরিয়েছে বিডি নিউজ ২৪-এ।

সিসিবি-র পাঠকগণের জন্য এখানেও দিলাম।

গণজাগরণ মঞ্চের উত্থান, সরকারের অবস্থান ও বিবিধ প্রচার-প্রচারণা

পূর্ব কথা:

গণজাগরণ মঞ্চের উত্থান প্রক্রিয়াটা অনেক দিক দিয়েই ছিল নজিরবিহীন। এই উত্থান প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে দেশের রাজনীতির মূলধারায় প্রবেশের একটি মডেল যে দেখতে পাওয়া গিয়েছে, রাজনৈতিক দলসমূহের জন্য আত্মবিশ্লেষণের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে, সে কথা আগে একটি লেখায় উল্লেখ করেছি।

আমার কাছে গণজাগরণ মঞ্চের উত্থান এই ভূখণ্ডে ঘটে যাওয়া এমন একটি ঘটনা যা থেকে কারও নিস্তার নেই। গত বছরের ফেব্রুয়ারিতে ঘটা এই গণজাগরণ অসংখ্য মানুষের ব্যক্তি-পারিবারিক-সামাজিক জীবনে বড় ধরনের নাড়া দিয়ে গিয়েছে। ভারতীয় চ্যানেলের উদ্ভট সিরিয়ালে বুঁদ হয়ে থাকা অলস দর্শক এখন বাংলাদেশি চ্যানেলের প্রচারিত টকশোর ধারাবাহিক অনুসরণকারী। অফিস-ফেরত মানুষ অলস দেহ বিছানায় এলিয়ে দেওয়ার আগে নেট নিয়ে এলেবেলে সাইটে ঘোরাঘুরি, স্কাইপ-চ্যাটে হুড়োহুড়ি, মুভি ডাউনলোড নিয়ে হুড়োহুড়ি না করে, ফেসবুক-ব্লগ-নিউজসাইটে ঢুঁ মেরে জেনে নেন সর্বশেষ রাজনৈতিক উত্তাপ-নিরুত্তাপ। চাই কি দু’কলম ঝেড়েও দেন– কলাম-অপএড-ব্লগে, ন্যূনতম ফেসবুক স্ট্যাটাস হিসেবে।

শিশুরা আর কৈশোরে-তারুণ্যে যারা আছে তারা আগের চেয়ে অনেক বেশি আগ্রহ নিয়ে দেশ-ঐতিহ্য-ইতিহাস সম্পর্কে জানতে চায়। গৌরবোজ্জ্বল অতীত যেমন গর্বে তাদের বুক ফুলিয়ে দেয়, হঠকারী অতীত তেমনি ব্যথিতও করে। তারা ব্যাখ্যা খুঁজতে চায় ওইসব হঠকারিতার। প্রত্যাখ্যান করে ওইসব ঘটনার পিছনে থাকা ব্যক্তিবর্গকে।

কেউ স্বীকার করুক বা না করুক, এই পরিবর্তন, এই জাগরণ এমনই একটি অনুষঙ্গ যা থেকে কারও যখন নিস্তার নেই, তখন রাজনৈতিক পক্ষগুলো কি একে এড়াতে পারবে?

এই কিস্তিতে বিশ্লেষণের চেষ্টা করেছি প্রধান রাজনৈতিক দলগুলো এই গণজাগরণ ঘটে যাওয়ার পর কতটা যৌক্তিকভাবে প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছে সেটি আর তার ফলাফল নিয়ে।

গণজাগরণ মঞ্চ নিয়ে আজ পর্যন্ত যে সংখ্যক ও যে বহুমাত্রিক প্রচার হয়েছে, অন্য কোনো একটি বিষয় উপজীব্য করে তা হয়েছে বলে মনে হয় না। তাই গণজাগরণ মঞ্চ যে কারও জন্য সহজে এড়িয়ে যাবার মতো বিষয় নয়, তা নিঃসংকোচে ও মোটা দাগে বলা যায়। বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন ইন্টারেস্ট গ্রুপ এই প্রচারণাগুলির পিছনে ক্রিয়াশীল ছিল। এইসব প্রচারণায় তাদের কার্যত কোনো লাভ যে হয়নি তা বুঝতে বিরাট কোনো ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণের প্রয়োজন পড়ে না। এমন ধারা প্রচারণার ফলে মঞ্চও যে সাময়িক অস্থিতিশীলতায়, সন্দেহে, আস্থাহীনতায় পড়েনি তা নয়। তবে শেষ পর্যন্ত তারা লক্ষ্য অর্জনে এগিয়ে যেতে পেরেছে। আর সেটাই প্রমাণ করে যে, ওই প্রচারণাগুলো ছিল মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।

এই জাতীয় প্রচারের একটি হল: গণজাগরণ মঞ্চ সরকারের পৃষ্ঠপোষকতায় তৈরি, সরকারের বি-টিম। আসুন একটু বিশ্লেষণ করা যাক এই দাবির সত্যাসত্য।

যে প্রশ্নের পাহাড় ঠেলে এই প্রচারণাটির দাঁড়াতে হবে তা হল:

১. পৃষ্ঠপোষকতা করে গণজাগরণ মঞ্চের মতো একটা প্লাটফর্ম সরকারিভাবে তৈরি করা কতটা সম্ভব; যদি সম্ভবই হয়, তাহলে আরও আগেই তা করা হল না কেন;

২. পৃষ্ঠপোষকতা করে এমন একটা প্লাটফর্ম তৈরি করলে সরকারে থাকা দলটির কী লাভ; আর পৃষ্ঠপোষকতা পেয়ে প্লাটফর্মটি যদি সরকারবিরোধী রূপ নেয়, সরকারে থাকা দলটির অবস্থা তখন কী হবে;

৩. পৃষ্ঠপোষকতা দেওয়ার জন্য নিজ দলের ছাত্র সংগঠনকে দায়িত্ব না দিয়ে, একদল অজানা-অচেনা মানুষ সমন্বয়ে গড়া প্রায় অচেনা সংগঠনকে দায়িত্ব দেওয়া এবং নিজ ছাত্র সংগঠনকে দিয়ে তাদের খেদমত করানো কতটা যৌক্তিক;

৪. এই প্লাটফর্ম যদি তাদের দাবি অর্জন করে, তা হবে তাদের একটি সাফল্য এবং সরকারের একটি পরাজয়; পৃষ্ঠপোষকতা করে সরকার নিজের পরাজয় ডেকে আনতে চাইছে, তাও নির্বাচনের আগে আগে, বিষয়টা খুব বেশি হাস্যকর হয়ে যাচ্ছে না কি;

৫. যে প্রক্রিয়ায় গণজাগরণ মঞ্চের উত্থান, সেখানে পৃষ্ঠপোষকতার জন্য সরকারের সঙ্গে আঁতাতটি ঘটল ঠিক কখন–

ক) কাদের মোল্লার রায়ের আগেই কি না–

তা যদি হয়, তাহলে তো রায়টা তাদের আগে থেকেই জানা– তাদের ওইদিনের বডি ল্যাঙ্গুয়েজ সে কথা বলে কি না;

খ) শাহবাগে অবস্থান নেবার পরে কি না–

সেটা কী করে সম্ভব– তারা অবস্থান নেবার ঘণ্টাখানেকের মধ্যেই এলাকাটি লোকে লোকারণ্য হয়ে উঠে, মঞ্চের উদ্যোক্তারা পুরোটা সময় হাজার হাজার মানুষের চোখের সামনে বসে– এই অবস্থায় আঁতাতের ও পৃষ্ঠপোষকতার আলোচনা হল, নেগোসিয়েশন হল, অথচ কেউ তা দেখল না জানল না, সেটা কী করে সম্ভব;

৬. সরকার ও গণজাগরণ মঞ্চের কারিগর বোয়ান যেহেতু পৃথক দুটি এনটিটি, তাদের মধ্যে আঁতাত বা পৃষ্ঠপোষকতার জন্য চুক্তি করতে কাউকে কাউকে নিজ নিজ পক্ষকে রিপ্রেজেন্ট করতে হয়েছে। বোয়ানকে রিপ্রেজেন্ট করল কে? নিশ্চয়ই ইমরান সরকার নন। তিনি তো পাদপ্রদীপে এলেন মঞ্চের কার্যক্রম শুরুর চব্বিশ ঘণ্টারও পরে। তাহলে কে তিনি যিনি আজ পর্যন্ত নিজেকে সন্তর্পনে পাদপ্রদীপ থেকে আড়াল করে রাখতে পেরেছেন? আর হ্যাঁ, সরকারকে রিপ্রেজেন্ট করলেন কে? প্রধানমন্ত্রী ছাড়া অন্য কেউ করে থাকলে, তাঁর কথামতো গণজাগরণ মঞ্চে সরকারি দলের বড় বড় নেতাদের কথা বলতে বাধা দেওয়া হচ্ছে, মতান্তরে তাদের দিকে বোতল ছুঁড়ে মারা হচ্ছে, আর তারা হাসিমুখে সব মেনে নিচ্ছেন– এতটা শৃঙ্খলা বাংলাদেশের কোনো দলে কখনও ছিল বলে শুনিনি!

কী দাঁড়াচ্ছে তাহলে? অখ্যাত সংগঠন বোয়ানের ততোধিক অখ্যাত এক রিপ্রেজেন্টেটিভের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী নিজে বসে আঁতাত করলেন, তাদের পৃষ্ঠপোষকতা করতে এমন একটা কাজে (আইন সংশোধনের জন্য জনমত তৈরিতে) যা কিনা সরকার ইচ্ছা করলে বিনা জনমতে যে কোনো সময়েই করতে পারতেন! আর এই পৃষ্ঠপোষকতার সুযোগ নিয়ে অখ্যাত সংগঠনটি পৃষ্ঠপোষকতা দানকারী দলের বড় বড় নেতাদের সঙ্গে যা-নয়-তা ব্যবহার করলেন, আর তারা মুখ বুজে তা সহ্য করে গেলেন– খুব বড় রকমের অসঙ্গতি বলে মনে হচ্ছে না কি?


সরকার তাহলে বাধা দিল না কেন:

এত কিছুর পরও পৃষ্ঠপোষকতা দেওয়ার গল্পটি যে তত্ত্বের উপর নির্ভর করে তা হল, সরকার যে শাহবাগের অবস্থানকে গণজাগরণ মঞ্চে পরিণত হতে দিলেন সে সম্পর্কিত ঈর্ষাপ্রসূত। সরকারের কাছে এ ছাড়া আর কী কী বিকল্প খোলা ছিল, দেখাই যাক না।

একটু লক্ষ করলেই দেখা যাবে, বোয়ানের শাহবাগে অবস্থান নেওয়া আর গণজাগরণ মঞ্চে রূপান্তরিত হওয়ার মধ্যে সময়ের ব্যবধান ছিল মাত্র কয়েক ঘণ্টা। কে ভাবতে পেরেছিল, যে মাত্র কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে এ রকম একটা মিরাকল ঘটে যাবে? আর শান্তিপূর্ণভাবে তা যখন ঘটেই গেল, কোন অজুহাতে সরকার তা ভাঙতে আসবে? আইন সংশোধনের আকাঙ্ক্ষা কোন আইনের কোন ধারাবলে শাস্তিযোগ্য অপরাধ, বলতে পারবেন কেউ?

কোনো রকমের বেআইনি কাজে লিপ্ত না হওয়া সর্বদলীয় একটি স্বতঃস্ফুর্ত বিশাল সমাবেশ ছত্রভঙ্গ করার মানসিকতা আর যারই থাকুক, জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগের থাকতে পারে বলে আমি বিশ্বাস করি না। প্রধানমন্ত্রীর জন্য যেটা সবচেয়ে স্বাভাবিক, তিনি তাই করেছেন। তাদের যুক্তিসঙ্গত দাবি ও নিয়মতান্ত্রিক শান্তিপূর্ণ আন্দোলনে প্রশ্রয় দিয়েছেন। তিনি তা দিয়েছেন বলেই দলের অন্য সবাই তা পছন্দ করুক বা না করুক, বিনা বাক্যব্যয়ে মেনে নিয়েছেন। এটাই সবচেয়ে সহজবোধ্য ব্যাখ্যা। কেউ মানুক আর না মানুক, কিছু যায় আসে না।

এছাড়া আর কী হতে পারত ওখানে?

অজানা-অখ্যাত-ক্ষুদ্র একটি সংগঠন লোক জমায়েত করে সরকারকে ফেলে দিতে পারে, এই রকম একটা অমূলক আশঙ্কার উপরে ভিত্তি করে, প্রথম দিনেই জননেত্রী শেখ হাসিনা পুলিশ-বিজিবি-সেনাবাহিনী দিয়ে ওদের ওখান থেকে উৎখাত করে দিতে পারতেন। মনে মনে কেউ এ জাতীয় স্বপ্ন দেখে থাকলেও বুঝতে কি পারছেন যে, তা কতটা অসংলগ্ন ও অর্বাচীনের মতো একটা কাজ হত? আওয়ামী লীগের মতো একটি পোড়-খাওয়া দল এহেন কাজ করতে পারে বলে যারা ভাবেন তাদের করুণা করা ছাড়া আর কী করার থাকে!

মনে রাখা দরকার, শহীদজননী জাহানারা ইমামের নেতৃত্বে অনুষ্ঠিত গণআদালতের শান্তিপূর্ণ বিশাল কার্যক্রমও কিন্তু তৎকালীন ক্ষমতাসীন বিএনপি সরকার ছত্রভঙ্গ করার ধৃষ্টতা দেখায়নি। তাছাড়া গুটিকয়েক পুলিশ দিয়ে যে লাখো উদ্বুদ্ধ জনতার মুখোমুখি হওয়া যায় না তা শুধু আমাদের নয়, পাকি আমলের বৈরি সরকারগুলোও জানত। তা যদি সম্ভবই হত, তাহলে একাত্তরের ৭ মার্চে সে কাজটি করা থেকে পাকি জেনারেল ইয়াহিয়া খানকে বিরত করা যেত না। পাকিস্তানের সামরিক সরকার সে কাজটি করলে বাংলাদেশ ওইদিনই স্বাধীন হয়ে যেত।

দেখা যাচ্ছে, গণজাগরণ মঞ্চ নিয়ে সরকার যে অবস্থান নিয়েছিলেন তাই ছিল সবচেয়ে স্বাভাবিক গণতন্ত্রমনা অবস্থান। এর বাইরে সরকারের জন্য নিবারণমূলক কোনো পদক্ষেপ নেওয়ার কোনো কারণও ছিল না। আর নিলেও তা শুধু বিরাট অন্যায়ই হত না, হত অমার্জনীয় পাপ। সরকার যে সে পাপ করেনি সে কৃতিত্ব নিঃসন্দেহে জননেত্রী মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার।

তবে হ্যাঁ, কেউ কেউ বলতে পারেন, গণজাগরণ মঞ্চের প্রতি তড়িঘড়ি সমর্থন না দিয়ে, সরকার আরেকটু অপেক্ষা করে দেখতে পারতেন আন্দোলনটা কোন দিকে যায়। কিন্তু আমরা আশঙ্কা করি, এ আন্দোলন যেভাবে স্বল্প সময়ে দানা বেঁধে উঠেছিল, সরকারের নির্লিপ্ততাই বরং তাকে নিয়ন্ত্রণের বাইরে নিয়ে যেতে পারত, বিশেষ করে যদি সরকারবিরোধী পক্ষগুলো তওবা করে এদের পাশে এসে দাঁড়াত, তাহলে। সরকার যে দ্রুত সিদ্ধান্ত নিয়ে গণজাগরণ মঞ্চের দাবির যৌক্তিকতা ও জনমনের ক্ষোভের উৎস বুঝতে পেরেছেন, তাকে তাদের ‘তড়িঘড়ি সমর্থন’ হিসেবে না দেখে ‘দ্রুত বাস্তবতা বোঝার সামর্থ্য’ বলেই মনে করছি।

এটা তাই সাধুবাদ পাবার যোগ্য একটা কাজ। এই কাজটি সাধারণ্যে এতটাই গ্রহণযোগ্যতা পেয়েছে যে সরকারের নির্বাচন-পূর্ব সহনশীল যে কোনো অবস্থান জনগণ শাহবাগে নেওয়া সহনশীলতার সমতুল্য জ্ঞান করে তাদের পাশে থেকেছে। বরং বিএনপি গণজাগরণ মঞ্চের প্রতি এবং নির্বাচন-পূর্ব যে অসহনশীলতা দেখিয়েছে, সে দুটোর মধ্যে মিল খুঁজে পাওয়াটা জনগণের জন্য ছিল খুবই স্বাভাবিক। হয়তো এই কারণেই নির্বাচনের পরে খুব অল্প সময়ের মধ্যেই সরকার নিজের নিয়ন্ত্রণ স্থাপনে জনগণকে আস্থায় নিতে পেরেছে। বিএনপি তার ভুল পদক্ষেপের জন্য প্রত্যাখ্যাত হয়েছে। জনগণও সরকারের উপরে আস্থা রাখতে পেরেছে– তা সেই নির্বাচনটা যতই লোকদেখানো ও হাস্যকর বলে দাবি করা হোক না কেন।

আর তাই গণজাগরণ মঞ্চের উত্থান একদিকে যেমন বাংলাদেশের রাজনৈতিক জীবনে উল্টো যাত্রা থেকে রাজনীতিবিদদের লাইনে আনার জন্য একটি সতর্ক সংকেত ছিল, অন্যদিকে তা ছিল নাগরিকদের আশ্বস্ত করার এমন একটি উপকরণ যা থেকে তারা জনতার শক্তিতে আস্থা না হারানোর বার্তা পেয়েছেন।

রাজনৈতিক এলিটরা, টাউটরা রাজনীতিকে যতই বস্তাবন্দী করে নিজেদের দখলে রাখার চেষ্টা করুন না কেন, আশার জায়গা, আস্থার জায়গা যে থাকবেই– এই মঞ্চের উত্থান সবাইকে সে কথাই মনে করিয়ে দিয়ে গেল।

১,১০৮ বার দেখা হয়েছে

৬ টি মন্তব্য : “গণ জাগরন নিয়ে আরেক কিস্তি”

  1. মাহমুদ (১৯৯০-৯৬)
    হয়তো এই কারণেই নির্বাচনের পরে খুব অল্প সময়ের মধ্যেই সরকার নিজের নিয়ন্ত্রণ স্থাপনে জনগণকে আস্থায় নিতে পেরেছে। বিএনপি তার ভুল পদক্ষেপের জন্য প্রত্যাখ্যাত হয়েছে। জনগণও সরকারের উপরে আস্থা রাখতে পেরেছে– তা সেই নির্বাচনটা যতই লোকদেখানো ও হাস্যকর বলে দাবি করা হোক না কেন।

    - পারভেজ ভাই, তাইলে গুমখুন আর 'ক্রস ফায়ার' এর ঘটনাগুলোকে কিভাবে ব্যাখ্যা করবেন? আর সাম্প্রতিক উপজেলা নির্বাচনের ফফালকেই বা কিভাবে ব্যাখ্যা করবেন?

    তবে আপনার সাথে যে বিষয়ে একমত সেটা আপনার কথা উদ্ধৃতি করে জানাই-

    রাজনৈতিক এলিটরা, টাউটরা রাজনীতিকে যতই বস্তাবন্দী করে নিজেদের দখলে রাখার চেষ্টা করুন না কেন, আশার জায়গা, আস্থার জায়গা যে থাকবেই


    There is no royal road to science, and only those who do not dread the fatiguing climb of its steep paths have a chance of gaining its luminous summits.- Karl Marx

    জবাব দিন
    • মাহমুদুল (২০০০-০৬)

      মাহমুদ ভাই, গুম খুন আর ক্রস ফায়ারের ঘটনা গুলো জনগনের কাছে কোন ইস্যু হয়ে দাড়ায়নি। কেননা বিএনপি জামাত শিবির গং রা এর চেয়েও বড় ইস্যু মাঠে তৈরি করে রেখেছিল। আগুন দিয়ে মানুষ পুড়িয়ে মারা, কুপিয়ে একসাথে ৫-৬ জন মানুষ মারা এর চেয়ে ছোট ইস্যু? কার্যত রাষ্ট্রের বিরুদ্ধেই যুদ্ধ ঘোষনা করেছিল তারা।

      আর সাম্প্রতিক উপজেলা নির্বাচন দেখে আমার মনে হয়েছে সরকার যে ১৫৩ আসনে নির্বাচন দেয়নি খুব ভালো কাজ করেছে। যতদিন মানুষ সচেতন না হবে ততদিন আমাদের গনতন্ত্র এভাবেই চলবে। গায়ের জোরেই চলবে। বিএনপি গায়ের জোরে জাতীয় নির্বাচন প্রতিহত করার চেষ্টা করেছিল আওয়ামী লীগ মাথা খাটিয়ে তা করে ফেলেছে।

      যদিও প্রশ্ন গুলো আপনি পারভেজ ভাইকে করেছিলেন তারপরও অনধিকার চর্চা করলাম 🙂


      মানুষ* হতে চাই। *শর্ত প্রযোজ্য

      জবাব দিন
  2. টিটো মোস্তাফিজ
    রাজনৈতিক এলিটরা, টাউটরা রাজনীতিকে যতই বস্তাবন্দী করে নিজেদের দখলে রাখার চেষ্টা করুন না কেন, আশার জায়গা, আস্থার জায়গা যে থাকবেই– এই মঞ্চের উত্থান সবাইকে সে কথাই মনে করিয়ে দিয়ে গেল।

    :gulli2: :gulli2: :gulli2:


    পুরাদস্তুর বাঙ্গাল

    জবাব দিন
  3. রাজীব (১৯৯০-১৯৯৬)

    তথাকথিত মঞ্চ বা ইমরান এইচ সরকার গং পুরা জিনিসটা নষ্ট করে দিলো। এইটা আমার অভিমত।
    তবে সবচেয়ে পজিটিভ ব্যাপার মানুষ জেগেছে।


    এখনো বিষের পেয়ালা ঠোঁটের সামনে তুলে ধরা হয় নি, তুমি কথা বলো। (১২০) - হুমায়ুন আজাদ

    জবাব দিন
  4. মাহমুদুল (২০০০-০৬)

    ইমরান এইচ সরকারের নেতৃত্বে এর গণজাগরণ মঞ্চের সৃষ্টিরও আগে সম্ভবত দুইটি ইভেন্ট অনুষ্ঠিত হয়েছিল। যার একটিতে আমি সরাসরি যুক্ত ছিলাম। বাংলাদেশ ক্রিকেট টিমকে পাকিস্তানে পাঠানো নিয়ে সবচেয়ে বড় যে মানববন্ধন টা হয়েছিল মিরপুরে স্টেডিয়ামের সামনে সেটারও আয়োজক ছিল ব্লগাররাই। ইমরান শুধু মুখপাত্র ছিল সেদিনও।

    বাংলাদেশে ব্লগ সৃষ্টির পর থেকেই কিছু ব্লগার মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে অত্যন্ত নিষ্ঠার সাথে লেখালেখি করেছেন, অন্তর থেকে তারা চেয়েছেন এই স্বাধীনতা বিরোধী চক্রকে রুখে দিতে। কিন্তু তাদের প্রচারনা, এবং সাংগঠনিক সক্রিয়তার কারনে ব্লগাররা সুবিধা করতে পারছিলেন না। শেষ পর্যন্ত যখন আর ধৈর্য রাখা দায় হয়ে পড়েছিল তখনই ব্লগাররা রাস্তায় নেমে আসে। এটাকে যদি কেউ বলে সরকারী সেটআপ তাহলে সোজা বাংলায় তারে 'আবাল এবং পাগল' ছাড়া আর কিছু বলবো না। কেননা অনেক কাছ থেকেই জিনিসটা আমি দেখেছি।

    মঞ্চ নষ্ট করার পেছনে যদি কারো হাত থাকে তাহলে সেটা হবে ছাত্রলীগ। ক্যামেরায় মুখ দেখানো হীন মানসিকতার রাজনীতিকরা যখন এমন ভালো, নির্দলীয় প্ল্যাটফর্ম পাবে তা হাতছাড়া করতে নারাজ ছিল। এক নাজমুল মঞ্চ নষ্ট করার পেছনে ৫০ ভাগ ভুমিকা রেখেছে। হ্যা তাদের অবদান অস্বীকার করার উপায় নেই। তাদেরও কন্ট্রিবিউশন আছে এখানে। তাহলে কি ছাত্রলীগকে অবাঞ্চিত ঘোষনা করা দরকার ছিল বা তাদের এখানে আসা প্রতিরোধ করা দরকার ছিল? না। যে কেউ সেখানে আসতে পারত। অনেক ছাত্রদলের নেতা কর্মীকে আমি দেখেছি সেখানে দিনের পর দিন, রাতের পর রাত বসে থাকতে। ম্যাডামের নাস্তিকতার বক্তব্য নিয়ে তারা অনেক নাখোশ হয়েছিলেন। অনেক কষ্ট পেয়েছিলেন তারা। ছাত্রলীগের ব্যাপারে, অনেক সময় নেতাদের কৌশলের আশ্রয় নিতে হয়। আমি এই করেছি সেই করেছি জাহির করতে থাকলে আখেরে ভালো ফল আসে না। মঞ্চের পেছনে থেকেও তারা কন্ট্রিবিউট করতে পারতো। তাতে বিতর্কটা কম হত।

    " বিএনপি তার ভুল পদক্ষেপের জন্য প্রত্যাখ্যাত হয়েছে।" জনগনের কাছ থেকে তো বটেই তাদের নিজের দলের কর্মীদের কাছ থেকেও প্রত্যাখ্যাত হয়েছে। শিবির সন্ত্রাসীদের উপর নির্ভর করার ফল হাড়ে হাড়ে টের পাচ্ছে।

    আর তাই গণজাগরণ মঞ্চের উত্থান একদিকে যেমন বাংলাদেশের রাজনৈতিক জীবনে উল্টো যাত্রা থেকে রাজনীতিবিদদের লাইনে আনার জন্য একটি সতর্ক সংকেত ছিল, অন্যদিকে তা ছিল নাগরিকদের আশ্বস্ত করার এমন একটি উপকরণ যা থেকে তারা জনতার শক্তিতে আস্থা না হারানোর বার্তা পেয়েছেন।

    :boss: :boss: :boss:


    মানুষ* হতে চাই। *শর্ত প্রযোজ্য

    জবাব দিন

মন্তব্য করুন

দয়া করে বাংলায় মন্তব্য করুন। ইংরেজীতে প্রদানকৃত মন্তব্য প্রকাশ অথবা প্রদর্শনের নিশ্চয়তা আপনাকে দেয়া হচ্ছেনা।