কোন এক স্বপ্নকন্যার আরো কিছু লিখা

স্বপ্নকন্যা

আমার আগের পোস্ট টার লিংক দিয়ে এই লেখার রেফারেন্স দিলাম। মাইনুল ভাইয়ের উৎসাহে কোন এক স্বপ্নকন্যার আরো কিছু লেখা শেয়ার করলাম।

ঘন গৌরবে নব যৌবনা বর্ষা

আবার ও বর্ষা এসে পড়ল। কালো মেঘে ঢাকা আকাশ আর শ্বেত শুভ্র বারিধারা। সাদা আর কালোর কী অপূর্ব সমন্বয়। সাদা আর কালো দুটো রং ই আমার বড় পছন্দের। কিন্তু কোন রংয়ের সৌন্দর্য নয় কিংবা বারিধারার একঘেয়ে সুললিত ছন্দে ছন্দিত হয়ে নয় বরং আমার কাছে বড় হয়ে উঠে এর অলস সৌন্দর্যে। এই বর্ষা মনে নিয়ে আসে অদ্ভুত আনন্দের জোয়ার। বর্ষার একঘেয়ে বর্ষনে ঘরের কোনে বসে কবিগুরুর গান শুনার আনন্দ অপার্থিব। রবিবাবুর সুর বর্ষার রাগিনীর সাথে মিশে তৈরি করে নতুন সুরের। সুরের দেশ ,গানের দেশ,চিরসবুজের বাংলাদেশ নতুন রূপে নতুন সুরে নতুন গানে সেজে উঠে।

বর্ষা শুনায় যৌবনের গান। প্রকৃতির বুকে নতুন সবুজের বন্যা। আর আমি?সবুজ জামা পড়ে ছাদে চলে যাই যাই এর সাথে একাত্মতা ঘোষনা করে। গতকাল এমনি ভিজলাম। বাদলের প্রতিটি ফোটা যেন শরীরে বইয়ে দিচ্ছিল পবিত্রতার আস্বাদ। আর আকাশের মেঘকে মনে হচ্ছিল যেন নিজের মিতা। মন চাইছিল আমার লম্বা কালো চুলকে ছড়িয়ে দিয়ে ঐ মেঘের সাথে এক করে দিতে। আর মেঘের গর্জনের সাথে নিজের অজান্তেই বেরিয়ে আসছিল

পাগলা হওয়ার বাদল দিনে……

আবার ও রবি বাবু এসে পড়লেন। তা তিনি আসবেনই। আমাকে বর্ষার এই অপার্থিব সৌন্দর্যতো তিনিই শিখিয়েছেন। কত গান কত কবিতা কত সুর এই বর্ষাকে ঘিরে। দুসাহসিকের মত সেই বর্ষা নিয়ে আমিও কত কিছু বলে ফেললাম। হা হা হা। চোখে ভাসে ছোট বেলায় বৃষ্টিতে ভেজার স্মৃতি। তা বলতে গিয়ে অবশ্য সুফিয়া কামাল এসে পরলেন। মনের কোনে ভেসে উঠল সেই কবিতা পল্লীস্মৃতি –
…………. কভু পুলকিত মনে
গান গাহিয়াছি মল্লার রাগে বাদলের ধারা সনে।

মল্লার রাগে গান গাইতে আমি জানি না। রবীন্দ্রসংগীত তো জানি। তাই গুনগুন করে গাই আমার প্রিয় গান গুলি….
বাদল ও দিনের ও প্রথম কদম ফুল….
হারিয়ে যাই অন্য ভুবনে। বৃষ্টির ধারার মাঝে। আহা বর্ষা। ভালো লাগে বড়ই। সে তো আসলেই যৌবনের গান গায়। আর আমার পুলকিত মনে ছড়ায় নতুন যৌবনের সৌরভ। মনে পড়ে কবিগুরুর লাইন…

ঘন গৌরবে নব যৌবনা বর্ষা,
শ্যাম গম্ভীর সরষা………..

একটি কবিতার অপপ্রয়াস ( স্নিগ্ধ স্বপ্নরাশি)

আমার পথ আজ ছুটে চলেছে সেথা
যেথা তোমার সাদাকালো ছায়া পড়ে,
যেথা তুমি দাড়িয়ে থাকো,
সেই সুদূর স্বপ্নসীমান্ত পানে।
কিংবা শুধু দাড়িয়ে থাকো না,
ছুটে চল শুধু সামনের দিকে
আমার সামনে মরীচিকার মত।

তোমাকে আমি দেখি আমর কল্পনার চোখে,
কখনও তুমি আমার মতই কোমল শ্বেতশুভ্র,
আবার কখনও কৃষ্ণ রাতের মত কঠোর নিস্তব্ধ,
কখনও বা ভোরের ঘাসের শিশিরসম বর্ণহীন,
কিংবা মৃদু মলয়ের স্নিগ্ধ সন্ধ্যার ন্যায় বর্নালী।

আমার স্বত্তা পেতে চায় ছুতে চায়,
কিন্তু তুমি আমাকে ধরা দাও না কভু,
আমাকে ছুটিয়ে নিয়ে চল ,

আমাকে ছুটিয়ে নিয়ে চল
মহাদেশ মহাসাগর পেরিয়ে ,
কোন অচেনা দেশে কোন অচেনা সময়ে।

তোমায় আমি ভালবাসি “আমার স্নিগ্ধ স্বপ্নরাশি”,
তাই তো তুমি শুধু আমার শুধুই আমার।

আজ আমি কিছুই করব না………

বসে আছি একা আমি আমার প্রিয় যন্ত্রটির সামনে। কিন্তু কিছুই ভালো লাগছে না। কেন জানি আজকের দিনটা আর সব দিনের চেয়ে অনেক বিষন্ন ঠেকছে আমার মনে। আজকের দিনটা কি বিশেষ কোন দিন? সকাল থেকে অনেক চেষ্টা করেও মনে করতে পারলাম না। আজ আমি কলেজে যাইনি। কেন যাইনি?এ প্রশ্নের উত্তর আমার জানা নেই। কখনও আমি বড় একা হয়ে যাই নিজের মাঝে। সেই একাকীত্বকে আমি উপভোগ করি। আজ আমার সেই বোধ যেন কাজ করছে না। না নিঃসঙ্গতা আমাকে গ্রাস করেনি। আমি আজ বসে আছি এখানে । আমার ক্যাসেট প্লেয়ারে বেজে চলা আমার বড় প্রিয় রবীন্দ্রসংগীত গুলো আজ বড্ড বেসুরো মনে হচ্ছে।আজ বৃষ্টিকন্যার আগমন ঘটেনি আমার ধরায়। আকাশের কান্নার সুর আজ বেজে উঠেনি যাতে আমি হারিয়ে যেতে পারি। কিন্তু তবু যেন কেমন এক ধরণের অর্থহীন বিষন্নতা অনুভব করছি আজ। আজ কিছুই ভালো লাগছে না। গল্পের বই খুলে পড়ার চেষ্টা করলাম। সেগুলোকে যেন কিছু নিরর্থক অক্ষরের সমষ্টি মনে হচ্ছে।কোন অর্থ সঞ্চার করতে পারছে না আমার মাঝে। বিষন্নতা বোধ চেপে বসেছে আজ আমার মনে। কী করব বুঝছি না কিংবা বুঝছি করতে পারছি না। বিছানায় শুয়ে আজকের ফ্যাকাশে ধূসর আকাশটা মনে হচ্ছে যেন আমার মনের প্রতিবিম্ব। ফ্যাকাশে হয়ে যাচ্ছি আমি। কোন কারণ ছাড়াই আজ আমি আনমনা হয়ে যাচ্ছি। ভালো লাগার বোধ যেন হারিয়ে গেছে আজ । আমি যেন কিছুর খোজ করছি কিংবা করছি না। আজকের দিনটা আমার উপর চেপে বসেছে যেন রূপকথার রাক্ষসের মত। সে আমাকে গিলে ফেলতে চাইছে।
সব ছেড়ে ছুড়ে বসে আছি আমি। আজ আর আমি কিছুই করব না…….।

৩ টি মন্তব্য : “কোন এক স্বপ্নকন্যার আরো কিছু লিখা”

  1. মইনুল (১৯৯২-১৯৯৮)

    বেশ অন্য রকম। আশা করি আরও লেখা আছে সামনে। কারন আমার কাছে মনে হচ্ছে তোমার স্বপ্ন কন্যা এখনো ভুমিকা লিখছে। একটা টিনএজ মেয়ের ডায়েরীতে, যেখানে সে নিজের মন খুলে লেখার কথা, শুধু নিজের কথা থাকবে, এইটা বেশ অস্বাভাবিক। অবশ্য তুমি যদি বাছাই করা অংশ বিশেষ তুলে ধরছো, এমন হয়ে থাকে, তাহলে আলাদা কথা।

    বিছানায় শুয়ে আজকের ফ্যাকাশে ধূসর আকাশটা মনে হচ্ছে যেন আমার মনের প্রতিবিম্ব। ফ্যাকাশে হয়ে যাচ্ছি আমি। কোন কারণ ছাড়াই আজ আমি আনমনা হয়ে যাচ্ছি। ভালো লাগার বোধ যেন হারিয়ে গেছে আজ ।

    এই ধরনের অনুভুতি কেন আসলো মেয়েটার মধ্যে জানতে ইচ্ছে করছে।
    তোমার স্বপ্নকন্যার লেখা ভালো লাগছে।
    পরের পর্বের অপেক্ষাতে থাকবো ............

    জবাব দিন
    • আমিন (১৯৯৬-২০০২)

      ধন্যবাদ মাইনুল ভাই । আপনার উৎসাহেই এই লেখাগুলো শেয়ার করেছি।
      লেখা গুলো নিছক অবসরের আঁকিবুকি । তাই তেমন ভেবে লেখা না. তবে স্বপ্ন কন্যার ডায়েরির বিচ্ছিন্ন পাতার বিক্ষিপ্ত লেখা এগুলো। সামনে আবার দিব আশা রাখি।

      জবাব দিন

মওন্তব্য করুন : স্বপ্নচারী (১৯৯২-১৯৯৮)

জবাব দিতে না চাইলে এখানে ক্লিক করুন।

দয়া করে বাংলায় মন্তব্য করুন। ইংরেজীতে প্রদানকৃত মন্তব্য প্রকাশ অথবা প্রদর্শনের নিশ্চয়তা আপনাকে দেয়া হচ্ছেনা।