ব্লগরোল ০৩

১।

সিসিবির জন্মদিন গেল, কিছুই লিখি নাই। একটা কমেন্ট পর্যন্ত না। শান্তাপা গ্রেড দিলেন, আমি সেইখানে ঢুকতে পারলাম না। সামিয়া “অতিপ্রিয় তৌফিক কই গেলেন” বলে চিল্লায়ে ব্লগ মাথায় তুলে ফেলল (ঠিক আছে, মানছি, অতটা করে নাই হয়তো, কিছুটা তো করছে B-) ), আমার কিবোর্ড তবু চালু হইল না। আমার দেশী মানুষ শীর্ষেন্দুর সাক্ষাৎকার একটা পড়েছিলাম অনেক আগে। প্রশ্নকর্তা জিজ্ঞাসা করেছিলেন, বাংলা সাহিত্যে নতুন লেখক আসছে না কেন। উনি উত্তর দিয়েছিলেন, এই সময়ের যুবকেরা অনেক ব্যস্ত। লেখালেখি করার জন্য অবসর দরকার, সেইটা তাদের নাই। আমিও তো এইসময়ের একজন যুবক (তরুণ বলার অধিকারও হারায়ে ফেলছি), তাই আমারক্ষেত্রেও কথাটা খাটে। 😉

এই প্রথমবারের মতো টিচিং এসিসটেন্টগিরি বাদ দিয়া একটা কোর্স পড়াইলাম, ফার্স্ট ইয়ারের। প্রথমে ভাবছিলাম, এক টুকরা পিঠার মতোই সহজ একটা কাজ হবে। কিন্তু বরাবরের মতোই আমার ভাবনার সাথে বাস্তবতার ফারাক ছিল। আসলে কাজটা কঠিন। হাইস্কুল পাস কতগুলা পোলাপান যেগুলার এখনো ইউনিভার্সিটি লেভেলের ওয়ার্ক এথিক নাই বা সেইরকম ম্যাচুরিটি নাই, তাদেরকে হ্যান্ডেল করাটা কঠিনই ছিল। ভাবতে অবাক লাগে, এই পোলাপানদের বয়েসে আমরা নিজেদের কত বড় ভাবতাম। বিড়ি খাইতে ভালো লাগত না, তবু বুকভরে টানতে থাক, বড় হইছ না! এখন মনে হয়, সেইদিনগুলা কতটা দূরে হইলে “বড় হওয়ার” দিনগুলাকে এতোটা “ছোট” মনে হয়। ফাদার টাইম, কাউরেই ক্ষমা করে না। আমার মনে হয়, হলিউডি সিনেমার মতো হইছে, “মিডলাইফ ক্রাইসিস”-এর ( 😛 ) মধ্যে দিয়া যাইতেছি। এনশাল্লাহ, ঠিক হয়ে যাবে।

২।

পুরা কানাডা সাদা হয়ে আছে, সন্ত জনের শহরে এখনো বরফের দেখা নাই। এইবার ক্রিসমাস সাদা হওয়ার কোন সম্ভবনা নাই। আমিন মিয়া তো ওইদিন আমারে পুরা ঝাড়ি, হুদাই বলছিলা শীত বেশি হবে। আমি তারে কেমনে বুঝাই, জাত নিউফিরাও অবাক এই আবহাওয়া দেখে। দুনিয়ার জলবায়ু চেঞ্জ হইয়া যাইতেছে। হে পৃথিবীবাসী, সাবধান! অচিরেই সমুদ্রপারের মানুষ পংগপালের ন্যায় আবির্ভূত হইবে তোমাদের দরজায় জলবায়ু শরণার্থী হইয়া। ওয়াজিবে কিফায়া পুরা কইরা দিলাম, এখন কেউ বলতে পারবে না আমি সাবধান করি নাই।

৩।

সাদিদার কথা পড়ছেন হয়তো আমার ব্লগে। অচিরেই চার বছরে পা দিতে যাওয়া এই young lady সেইদিন ড্যান্স পার্টনার পাচ্ছিল না। প্রিন্সেসরা কেমনে ব্যালে ড্যান্স করে সেইটা দেখানোর জন্য পার্টনার দরকার। প্রায় ১০-১২ জন চাচার গ্রুপ থেকে সে আমারে ডেকে নিয়ে গিয়েছিল নাচের ডেমো দিতে। আমি অবশ্য তারে খুব হতাশ করছিলাম, নাচে আমার বুৎপত্তি খুবই কম। যাহোক, ড্যান্স ডেমোর পরে সে প্ল্যান করতেছিল তার পরের জন্মদিনের পার্টি কেমন হবে সেটা নিয়ে। এই মাইয়া পুরাই নারীবাদী, আমারে বলে, only girls can come to my birthday party. নিজে দাওয়াত পাব না, মরিয়া হয়ে বললাম, I am a girl, can I come too? প্যাঁচে পইড়া সাদিদার মুখ সেকেন্ড দশেক বন্ধ ছিল। তারপরে যা বলল, তাতে মনে হইল ধরণী দ্বিধা হও, আমি হান্দায়ে যাই। সাদিদার সাফ জবাব, only beautiful girls can come. কপাল! বার্থডেতে দাওয়াত নাই কুৎসিত হওয়ার অপরাধে।

৬।

গোটা বিশ্বের তুলনায় একটা মানুষ যে কতটা ক্ষুদ্র সেইটা মাঝেমধ্যে এমন প্রকট হয়ে যায়! একটা ছিনতাইকারীর গুলি, একটা কার এক্সিডেন্ট, নিজের গায়ের উপর পড়ে যাওয়া বাস, পুকুরপাড়ে একটা ইটের টুকরা, মুহূর্তের অভিমান, ক্যান্সার কিংবা একটা প্লেন ক্র্যাশ- তারপর, সব শেষ। বিশ্বাসভেদে চলে যাও নাইট্রোজেন চক্রে অথবা অনন্ত জীবনে। পেছনে পড়ে থাকা মানুষগুলা কিছুই করতে পারে না, হুদাই তড়পায়।

৫।

আমার বৌ আর তার দুই বান্ধবী ছিল তিন বাটারবন। আমাদের ব্যাচে এই লিংগোটা চালু ছিল, কিছু জিগরি দোস্ত থাকে না ক্যাডেট কলেজে, সবসময় একসাথে থাকে। একাডেমি থেকে হাউসে যাবা, এরা একসাথে গল্প করতে করতে যাবে। মসজিদ থেকে মেসে যাবে, এরা একসাথে যাবে। প্রেপ ফাঁকি দিয়া বাথরুমে আড্ডা মারা চলছে, তখনো এরা একসাথে। আমরা এই ধরনের জুটিকে বাটারবন বলতাম। ওদেরকে বাটারবন ঠিক বলা যায় না, কারণ তারা ছিল তিনজন। তবুও আলোচনার সুবিধার্থে আমরা এদেরকে বাটারবন বলব।

প্রথমজনের বিয়ে ঠিক হইল, বাগদত্ত মইরা গেল ছিনতাইকারীর গুলিতে। দ্বিতীয়জনের বিয়ে হইল আমাদের বিয়ের একদিন আগে, বর মারা গেলেন প্ল্যান ক্র্যাশে। তৃতীয়জনের বর আমি নিজে। এখন আমার সিরিয়াল, আমি মইরা গেলেই চক্র পুরা হয়।

১,৬৬৭ বার দেখা হয়েছে

২০ টি মন্তব্য : “ব্লগরোল ০৩”

  1. সামিয়া (৯৯-০৫)

    আপনার লেখা পড়ে আমার চিৎকার করা উচিৎ ছিল, হাসতে হাসতে পিরা যাওয়া উচিৎ ছিল, কিংবা ...কিজানি কি করা উচিৎ ছিল...কিন্তু আমার খুবই মন খারাপ হচ্ছে।
    এইরকম কেন হয়?

    জবাব দিন
  2. মইনুল (১৯৯২-১৯৯৮)

    ৪ নম্বর পয়েন্টটা কি ছিল?
    ভাবতেসিলাম -- অনেকদিন পর লিখলা, নিয়মিত লেখনা কেন? -- এই তাইপের কমেন্ট দিব| শেষ পয়েন্টটা পড়ে আশা করতেসি তোমার বউ এই লেখাটা পড়ুক এবং তারপরে তোমাকে ঝাটাপেটা কইরা হাফ ড্রেসে বাসার বাইরে দাড় করায়ে রাখুক |

    জবাব দিন
    • তৌফিক (৯৬-০২)

      ৪ নম্বরটাই ৬ নম্বর।

      নিয়মিত লেখি না, কারণ আগের মতো ঘুরঘুরি করি না। রুটিনবদ্ধ জীবন, সেইরকম কিছু ঘটে না যে লিখব। যাউজ্ঞা, আপনে লিখেন না ক্যান?? 😉

      আর আপনার আশার ব্যাপারে বলতে পারি, নাচুনে বুড়িদের ঢোলের বাড়ি না দিলে আমজনতা একটু শান্তিতে থাকবে। আমি কি ভাবীরে কুনু বুদ্ধি দিছি নাকি? আপনে আমার এতোবড় বেইজ্জতি চান??

      জবাব দিন
  3. রুম্মান (১৯৯৩-৯৯)

    ঐ ছ্যামরা,কি কছ এইগুলান ?


    আমার কি সমস্ত কিছুই হলো ভুল
    ভুল কথা, ভুল সম্মোধন
    ভুল পথ, ভুল বাড়ি, ভুল ঘোরাফেরা
    সারাটা জীবন ভুল চিঠি লেখা হলো শুধু,
    ভুল দরজায় হলো ব্যর্থ করাঘাত
    আমার কেবল হলো সমস্ত জীবন শুধু ভুল বই পড়া ।

    জবাব দিন
  4. কামরুলতপু (৯৬-০২)

    তুই তো অনেক আউল ফাউল প্যাচাল পাড়লি কেউ যে এখনো তোকে নীল ডাউন করাইল না ব্যাপার টা কি?
    ঐদিন আহসানের লেখা থেকে প্লেন ক্র্যাশ এর খবর শুনে খুবই খারাপ লেগেছে।

    জবাব দিন
  5. ফয়েজ (৮৭-৯৩)

    তোমারে ভালা পাই, কথা-বার্তা সোজাসুজি কইয়া ফেল এইজন্য।

    চক্র অন্যভাবেও পুরা হইতে পারে, সবাই মইরা গেল, লাস্টে তুমি মইরা চক্র পুরা করলা।


    পালটে দেবার স্বপ্ন আমার এখনও গেল না

    জবাব দিন
  6. গোটা বিশ্বের তুলনায় একটা মানুষ যে কতটা ক্ষুদ্র সেইটা মাঝেমধ্যে এমন প্রকট হয়ে যায়! একটা ছিনতাইকারীর গুলি, একটা কার এক্সিডেন্ট, নিজের গায়ের উপর পড়ে যাওয়া বাস, পুকুরপাড়ে একটা ইটের টুকরা, মুহূর্তের অভিমান, ক্যান্সার কিংবা একটা প্লেন ক্র্যাশ- তারপর, সব শেষ। বিশ্বাসভেদে চলে যাও নাইট্রোজেন চক্রে অথবা অনন্ত জীবনে। পেছনে পড়ে থাকা মানুষগুলা কিছুই করতে পারে না, হুদাই তড়পায়।

    :thumbup:

    জবাব দিন

মন্তব্য করুন

দয়া করে বাংলায় মন্তব্য করুন। ইংরেজীতে প্রদানকৃত মন্তব্য প্রকাশ অথবা প্রদর্শনের নিশ্চয়তা আপনাকে দেয়া হচ্ছেনা।