সালমান খান,একজন আলোকের দিশারী !

প্রথমেই বলে নেই যারা সালমান খান নামটি দেখে বলিউড হিরো সালমান খানের কথা ভেবেছেন তারা ভুল করছেন । এই সালমান খান একজন শিক্ষাবিদ।

সালমানের জন্ম যুক্তরাষ্ট্রের লুইজিয়ানার নিউ অর্লিন্স শহরে ১৯৭৭ সালে ।বাংলাদেশী বংশোদ্ভূত তিনি। তার বাবা বরিশাল থেকে অভিবাসী হয়ে যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমান, আর মা কলকাতা থেকে যুক্তরাষ্ট্রে যান।যুক্তরাষ্ট্রের ম্যাসাচুসেটস ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি (এমআইটি) থেকে গণিত, তড়িৎ কৌশল ও কম্পিউটার বিজ্ঞান_এ তিন বিষয়েই স্নাতক করেন সালমান। একই বিশ্ববিদ্যালয় থেকে তড়িৎ কৌশলে স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেন তিনি।এই মেধাবী তার পড়ালেখা এখানেই থামিয়ে দেন নি, হার্ভার্ড বিজনেস স্কুল থেকে এম বি এ কমপ্লিট করেন।
২০০৪ এর শেষের দিকে তিনি ইয়াহু এর ডুডল নোট প্যাড ব্যবহার করে তার কাজিন নাদিয়াকে গণিত বিষয়ে শিক্ষা দিচ্ছিলেন, পরে তা দেখে আরো কিছু কাজিন ও তাদের বন্ধু বান্ধব এই বিষয়ে উৎসাহী হয়ে ওঠে ।পরে তিনি ২০০৬ এর শেষের দিকে এই প্রক্রিয়া যাতে সবার উপকারে আসে এই কথা চিন্তা করে তার টিউটোরিয়াল গুলো ইউ টিউবে পোস্ট করার সিদ্ধান্ত নেন।এভাবেই শুরু হয় একজন মেধাবীর আলোকের পথে যাত্রা ।এই ভিডিও গুলোর জনপ্রিয়তা এবং আগ্রহী ছাত্রদের উত্সাহের কারণে তিনি ফান্ড এনালিস্ট এর জব ছেড়ে দেন ২০০৯ এর শেষে। এই চ্যানেল থেকে ভিডিও টিউটরিয়াল দেখা হয়েছে প্রায় ৩০ মিলিয়ন বার! আর এ ইউটিউব চ্যানেলটির স্থায়ী দর্শকসংখ্যা এখন প্রায় ৭৫ হাজার! এই চ্যানেল এর নাম ”খান আকাডেমি’। গড়ে প্রতি ভিডিও প্রায় ২০০০০ বার ক্লিক করা হয়েছে। খানের যৌক্তিক, বাস্তবিক এবং সহজ প্রক্রিয়ায় পাঠদানের কারণে দুনিয়ার প্রায় সব জায়গার ছাত্রদেরকেই এটা আকর্ষণ করে ।

সকল বয়সের ছাত্রদের জন্যে বিভিন্ন বিষয়ের উপর তার লেকচার আছে ।বিষয়গুলোর মধ্যে আছে – বীজগণিত ,পাটিগণিত ,জ্যামিতি ,ব্যাঙ্কিং ,ফিনান্স,ক্রেডিট ক্রাইসিস ,চলতি অর্থনীতি ,ডেভেলপমেনটাল ম্যাথ, পদার্থ ,রসায়ন ,জৈব রসায়ন ,কালকুলাস ,ডিফেরেনসিয়েশন,ব্রেন টিসের, জীব বিদ্যা ,কসমোলজি ,এস্ট্র ফিসিক্স ,পলসন বেইল আউট,পরিসংখ্যান ,ইতিহাস ইত্যাদি।সর্বমোট ১৮০০ এর উপরে ভিডিও আছে ।

তিনি ২০০৯ সালে মাইক্রোসফট এর টেক এওয়ার্ড পান শিক্ষায় ।এক টেলিভিশন সাক্ষাৎকারে সালমান সম্পর্কে বিল গেটস বলেন, “সালমান খান যে কাজটি করেছেন, সেটি সত্যিই ‘অ্যামেজিং’! কঠিন কঠিন বিষয়কে তিনি খুব সহজেই তুলে এনেছেন।” ১১ বছরের সন্তানের সঙ্গে বসে তিনিও এখন নিয়মিত খান একাডেমী থেকে অনলাইনে বীজগণিত ও জীববিদ্যার বিভিন্ন বিষয় শিখছেন বলে জানান বিল গেটস।

পৃথিবী বদলে দিতে পারে_এমন সব ‘আইডিয়া’ জনসমক্ষে তুলে আনার জন্য গুগল ২০০৮ সালে ১০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার মূল্যের ‘প্রজেক্ট টেন টু দ্য হানড্রেড’ পুরস্কার ঘোষণা করে। এ পুরস্কার জেতার জন্য সারা বিশ্ব থেকে এক লাখ ৫৪ হাজার ‘আইডিয়া’ জমা পড়ে। দুই বছর যাচাই-বাছাই শেষে সেরা পাঁচ আইডিয়া ঘোষণা করে গুগল কর্তৃপক্ষ। এর মধ্যে ‘শিক্ষা’ বিভাগে চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত হন সালমান খান।এর দরুন ২ মিলিয়ন ডলার যে অর্থ তিনি পুরস্কার পান তা আরো নতুন কোর্স সৃস্টি ও দুনিয়ার সবচেয়ে প্রচলিত ভাষা সমূহে এই লেকচার গুলো অনুবাদের জন্য ব্যবহার করা হবে ।আফ্রিকা ও এশিয়ার প্রত্যন্ত অঞ্চলে তার পাঠদান পৌছে দেওয়ার প্রোগ্রাম হাতে নেওয়া হয়েছে ।
‘সি এন এন’ এর পি বি এস নিউস আওয়ার এ তিনি সাক্ষাত্কার দেন ।তিনি তার উদ্দেশ্য সম্পর্কে বলেন :“With so little effort on my own part, I can empower an unlimited amount of people for all time. I can’t imagine a better use of my time” .

এখানে তার সাক্ষাত্কারের একটি ভিডিও :

তাঁর ওয়েব সাইট হলো : http://www.khanacademy.org

নিউজ সোর্স : উইকিপেডিয়া, দৈনিক কালের কন্ঠ ও ‘খান একাডেমি’ ।

১,৩৯০ বার দেখা হয়েছে

১০ টি মন্তব্য : “সালমান খান,একজন আলোকের দিশারী !”

  1. রকিব (০১-০৭)

    এই লোকটা দারুণ কিছু কাজ করেছেন। প্রথম প্রথম কিছুদিন খান একডেমি ব্যবহার করবার সময় জানবার সুযোগ হয়নি যে ভদ্রলোক বাংলাদেশি। পরে টের পেয়ে অসম্ভব ভালো লেগেছে।
    :salute: স্যালুট টু সালমান খান এবং খান একাডেমি।


    আমি তবু বলি:
    এখনো যে কটা দিন বেঁচে আছি সূর্যে সূর্যে চলি ..

    জবাব দিন
  2. তানভীর (০২-০৮)

    আমি গতকাল ই ফার্স্ট জানলাম ।তারপরে কিছু লেকচার দেখে ভালো লাগলো ,সবার উপরে বাংলাদেশী বংশদ্ভুত ।এইটা দেখে ওনাকে নিয়ে লেখার লোভ সামলাইতে পারলাম না ।

    জবাব দিন
  3. রিফাত (২০০২-২০০৮)

    বেশ কিছুদিন আগে জেনেছি ...
    খান একাডেমির সবচেয়ে মজার ব্যাপার তার পড়ানোর স্টাইল .....সহজ এবং সাবলীল,মনে হবে ভার্সিটির কোনো বড় ভাই এর কাছে কিছু একটা বুঝে নিচ্ছি!
    :salute: সালমান খান !

    জবাব দিন
  4. আহসান আকাশ (৯৬-০২)
    মোটামুটি সবকিছুই আগে থেকেই জানা তারপরও পড়ে ভালো লাগলো 🙂


    আমি বাংলায় মাতি উল্লাসে, করি বাংলায় হাহাকার
    আমি সব দেখে শুনে, ক্ষেপে গিয়ে করি বাংলায় চিৎকার ৷

    জবাব দিন

মন্তব্য করুন

দয়া করে বাংলায় মন্তব্য করুন। ইংরেজীতে প্রদানকৃত মন্তব্য প্রকাশ অথবা প্রদর্শনের নিশ্চয়তা আপনাকে দেয়া হচ্ছেনা।