আকর্ষণীয়া, সুন্দরী আর চঞ্চলার গল্প

আমরা সবাই তাদের দিকে মুগ্ধ হয়ে তাকিয়ে থাকতাম। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আমরা মাত্র কাশ শুরু করেছি। সে আমাদের অর্থনীতির ছাত্রী ছিল না। তার নাম দিলাম আকর্ষণীয়া। তার দুই বন্ধু পড়তো আমাদের সাথে। তাদের একজনের নাম দিলাম সুন্দরী, আরেকজন চঞ্চলা। মাঝে মধ্যে সাথে দেখতাম একটি ছেলেকে। তার নাম দিলাম পাজী। x-(
তখন আমাদের মধ্যে কয়েকটা গ্রুপ। সবচেয়ে বেশি এসেছিল ঢাকা কলেজ থেকে। ওরা একটা গ্রুপ। নটরডেম আরেকটা গ্রুপ। মেয়েদের গ্রুপ একটাই হলিক্রস। আর সব বিভাগের ক্যাডেট কলেজ নিয়ে আমাদের গ্রুপ।
আকর্ষনীয়া পড়তো পাবলিক অ্যাডে। কিন্তু তার বন্ধুরা সব অর্থনীতিতে। তাই সে আড্ডা দিতো আমাদের এখানে। আমরা দেখতাম, দীর্ঘশ্বাস ফেলতাম আর পাজীকে ঈর্ষা করতাম। :gulli2:
পান্না আকর্ষণীয়ার প্রেমে পড়েছিল। পান্নার পাল্লায় পড়ে আমরা একদিন গেলাম পাবলিক অ্যাডে ক্লাশ করতে। গিয়ে দেখি মুগ্ধ প্রেমিকের সংখ্যা এতো বেশি যে ক্লাশ রুমে জায়গা হচ্ছে না। বিষয়টি ম্যাডামের চোখ ঐদিন পড়লো। হুঙ্কার দিয়ে বললেন, অন্য বিভাগের কে কে আছে দাঁড়াও। বোকা কয়েকজন দাঁড়ালে ম্যাডাল দিলেন মহাঝাড়ি। আর আমরা সুবোধ বালকের মতো পুরো ক্লাশটা করে গেলাম। তারপর আর অন্য বিভাগের কোনো ক্লাশ করতে যাইনি। =((
একদিন শুনলাম ছাত্র দলের এক ক্যাডার আকর্ষণীয়ার প্রেমে পড়েছে। তার নাম কী ছিল এখন আর মনে নাই। তবে তাকে আমরা বলতাম বাংলা ভাই। সম্ভবত বাংলায় পড়তেন তিনি। কথা বলতো অদ্ভুদ এক ভঙ্গীমায়। ফিন্যান্সের মাসুক (রাজশাহী ক্যাডেট) হুবহু আবার সেটা দেখাতে পারতো। (মাশুক এখন এনবিআরে। সেদিনও বাংলা ভাইকে নকল করে দেখালো সে।)। বাংলা ভাই নিজে ক্যাডার ছিল না, তবে বাবার অর্থ ক্যাডারদের পিছনে খরচ করে নিজেও ক্যাডার ভাব ধরে ক্যাম্পাসে চলাফেরা করতো।
একদিন শুনি পাজীকে চর থাপ্পর মেরেছে বাংলা ভাই। পাজীর দোষ সে কেন আকর্ষনীয়ার সঙ্গে ক্যাম্পাসে ঘোরাঘুরি করে। এখানেই শেষ না, বাংলা ভাইয়ের প্রেম নিবেদনের যন্ত্রনায় আকর্ষর্ণীয়ার ক্যাম্পাসে আসাই দায়। তাকে উঠিয়ে নেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়। সে আসে না, আমরা মন খারাপ ভাব নিয়ে ঘুরে বেড়াই। সুন্দরী আর চঞ্চলা একা একা থাকে। পাজীকেও আর তেমন দেখি না। কিছুদিনের মধ্যেই আমাদের ক্যাম্পাস জীবন বিবর্ণ হয়ে পড়ে। ~x(
একদিন জানতে পারি আকর্ষনীয়া কলা ভবন ছেড়ে দিয়েছে। বিভাগ বদল করে সে ভর্তি হয়েছে আইন বিভাগে। 🙁
তারপর আমরাও ভুলে যাই আকর্ষনীয়াকে। চোখের দেখা আর হয় না। সুন্দরী আমাদের বন্ধু হয়। কিছুদিন পরেই সব সুন্দরী মেয়েদের মতোই বিয়ে করে চলে যায় আমেরিকায়। আমরা যখন মাস্টার্সে, সুন্দরীর সঙ্গে আবার দেখা। তার বিয়ে টেকেনি। চঞ্চলার সঙ্গে বন্ধুত্ব টিকে থাকে অনার্স পর্যন্ত। তারপর সেও চলে যায় বিভাগ ছেড়ে। পাজীর সঙ্গে ভাল একটা বন্ধুত্ব হয়ে যায় আমার। পাজী এখন ব্যাংকে কাজ করে। সুন্দরী নিশ্চই নতুন জীবন বেছে নিয়েছে। চঞ্চলার খবর জানি না। আর আকর্ষণীয়া?
সে এখন দেশের একজন নামকরা আইনজীবি এবং আইনী বিষয়ে একজন অ্যাক্টিভিস্ট। টক শোতে প্রায়ই দেখা যায়। সুন্দর করে কথা বলে। এখনো যথেষ্ট আকর্ষণীয়া। 🙂
বাংলা ভাই যদি অতখানি যন্ত্রনা না দিত আকর্ষণীয়ার তাহলে বিভাগ বদলের দরকার হতো না। পাবলিক অ্যাডে পড়ে তার ভবিষ্যৎ কোথায় যেতো জানি না। কিন্তু বাধ্য হয়ে আইন অনুষদে যেয়ে অন্য রকম এক জীবন হয়েছে আকর্ষনীয়ার। :party:

১৩,৬০৪ বার দেখা হয়েছে

১৩২ টি মন্তব্য : “আকর্ষণীয়া, সুন্দরী আর চঞ্চলার গল্প”

  1. আহসান আকাশ (৯৬-০২)

    বস "বাংলা ভাই" নামটা কপিরাইট কইরা ফেলাইতেন তখন।


    আমি বাংলায় মাতি উল্লাসে, করি বাংলায় হাহাকার
    আমি সব দেখে শুনে, ক্ষেপে গিয়ে করি বাংলায় চিৎকার ৷

    জবাব দিন
  2. সে এখন দেশের একজন নামকরা আইনজীবি এবং আইনী বিষয়ে একজন অ্যাক্টিভিস্ট। টক শোতে প্রায়ই দেখা যায়। সুন্দর করে কথা বলে। এখনো যথেষ্ট আকর্ষণীয়া।

    আমাদের মাসুম ভাইও এখনো অনেক হ্যান্ডসাম। 😉

    কিছুদিন পরেই সব সুন্দরী মেয়েদের মতোই বিয়ে করে চলে যায় আমেরিকায়।

    পৃথিবীর সব সুন্দরীদের ব্যান চাই। 😉 😉

    চমৎকার স্মৃতিচারন ভাইয়া। :thumbup: ক্যাম্পাস জীবনটা কি দারুন ছিলো। আহা!! আমাদের যে দিন গেছে তা কি একেবারেই গেছে ? 🙁

    জবাব দিন
  3. ওবায়দুল্লাহ (১৯৮৮-১৯৯৪)

    বস,

    খুব ভাল লাগলো।

    এত সুন্দর করে প্লটের অবতারনা করেন আর অল্প শব্দের বিন্যাসে অনেক কথা বলে ফেলেন- পড়তেই জোস্‌ লাগে।

    আর মুগ্ধতা থেকে যায় অনেকক্ষন। :boss:

    সালাম। :salute:


    সৈয়দ সাফী

    জবাব দিন
  4. এহসান (৮৯-৯৫)

    শওকত ভাইয়ের আকর্ষনীয়াটা কে জানি না। কিন্তু ২০০১ এ পরিবেশ বিষয়ক এক সম্মেলনে একজন আইনজীবির সাথে দেখা হয়েছিলো। জটিল কথা বলে। পাব্লিক হেলথ ইঞ্জিনিয়ারিং এর চিফ ইঞ্জিনিয়ার মুখ হা করে চোখ বের করে দিয়ে কথা শুনেছে আর সভাপতিত্ব করেছে। ৫ মিনিট সময় নিয়া ৫০ মিনিট কথা বলেছে। সবাই হা করে ওই আকর্ষনীয়া আইনজীবির কথা শুনেছিলো।

    আমার Wild guess হলো, হয়তো ওই মহিলাই আকর্ষনীয়া। 🙂

    জবাব দিন
  5. তাইফুর (৯২-৯৮)
    সে এখন দেশের একজন নামকরা আইনজীবি এবং আইনী বিষয়ে একজন অ্যাক্টিভিস্ট।

    তাহলে তো মনে হয় 'বাংলা ভাই' বর্তমানে আইনী জটিলতার মধ্যদিয়া দিনাতিপাত করছেন ... 😀


    পথ ভাবে 'আমি দেব', রথ ভাবে 'আমি',
    মূর্তি ভাবে 'আমি দেব', হাসে অন্তর্যামী॥

    জবাব দিন
  6. জুনায়েদ কবীর (৯৫-০১)
    সে আমাদের অর্থনীতির ছাত্রী ছিল না...

    সময়ের সাথে সাথে কত কিছু বদলাইল... :-B
    ঢাকা ভার্সিটির অর্থনীতি বিভাগ বদলাইল না... :bash:
    এখন যদিও লাভ নাই, তবুও অর্থনীতি বিভাগের ব্যান চাই... 😡


    ঐ দেখা যায় তালগাছ, তালগাছটি কিন্তু আমার...হুঁ

    জবাব দিন
  7. সানাউল্লাহ (৭৪ - ৮০)

    ডিপার্টমেন্টে আমাগো আছিল একটা গ্রুপ "চার্লিস এঞ্জেলস"। আশির দশকে টিভি সিরিয়াল থেকে নেয়া নাম। বস ডিটেকটিভ চার্লি আর তার এজেন্ট তিন এঞ্জেল। আমি ছিলাম চার্লি, মানে বস। 😀 আর এঞ্জেল ছিল তিনটা : আয়েশা, শেগুফতা আর ইলা। চাইরটা বাদরামি কইরা বেড়াইতাম। অন্যদের পিছনে লাগতাম। বন্ধুগুলা যে কে কোথায় তাও জানিনা। কয় বাচ্চার মা হইছে কে জানে!

    চাপা পড়া স্মৃতিগুলো উঁকিঝুঁকি মারছে। না, এঞ্জেলগুলারে আবার খুঁইজ্যা বাইর করতে হইবো।


    "মানুষে বিশ্বাস হারানো পাপ"

    জবাব দিন
  8. আমিও তো পাবলিক অ্যাডে পড়ি 😀
    আমাদের এইখানে এখনো দেখি বাইরের পোলাপাইন ক্লাস করে 😀 দিন বদলায় নায় তাইলে 😛
    আপনার তাইলে এই ঘটনা 😉 আমি তো আর ডেঞ্জারাস ঘটানা জানি পরে বলব B-)
    আহা কি সুন্দর দিন :grr:

    জবাব দিন
  9. সানাউল্লাহ (৭৪ - ৮০)

    মাসুম : তোমার আকর্ষনীয়া কাল (সোমবার, জুন ০৮, ২০০৯) এবিসি রেডিও'র অপরাজিতায় অতিথি হয়ে আসছেন। বেলা ১২টার খবরের পর থেকে লাইভ। সময় পাইলে শুইন্নো!! B-) B-) B-)


    "মানুষে বিশ্বাস হারানো পাপ"

    জবাব দিন
      • সানাউল্লাহ (৭৪ - ৮০)

        ফয়েজ : উনি বেশ কয়েকবছর আগে (১০ বছরও হতে পারে) মারা গেছেন। তারপরই রিজওয়ানা বেলার চিফ এক্সিকিউটিভ হন। উনাকে নিয়েও অনুষ্ঠানে কথা হলো।


        "মানুষে বিশ্বাস হারানো পাপ"

        জবাব দিন
            • সানাউল্লাহ (৭৪ - ৮০)

              না, তারা আত্মীয় নন। আজ পরিচয়ের কাহিনী বললেন রিজওয়ানা। ধানমন্ডিতে উনাদের বাসা বেলার জন্য ভাড়া নিতে গিয়ে পরিচয়। তারপর রিজওয়ানাকে বেলায় কাজ করার আমন্ত্রণ জানান।

              তার যে পরিচয় আজ অনুষ্ঠানের শুরুতে দিয়েছি সেটা এরকম :

              সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান পরিবেশবাদী বলেই পরিচিত। পেশায় আইনজীবী হয়ে তিনি পরিবেশ নিয়ে কাজ করাটা জীবনের লক্ষ্য হিসেবে নিয়েছেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আইনে স্নাতক ও সম্মান পাস করেছেন। তারপর ১৯৯৩ সালে যোগ দেন বাংলাদেশ পরিবেশ আইনজীবী সমিতি- বেলা’য়। পরে বেলার প্রধান নির্বাহীর দায়িত্ব নেন। এই সময়ে পরিবেশ রক্ষায় জনস্বার্থে বেশ কিছু মামলা করে আলোচিত হয়েছেন তিনি ও তার সংগঠন। বেলা ছাড়াও আরো বেশ কিছু বেসরকারি সংস্থার সঙ্গে কাজ করছেন তিনি। এনজিওগুলোর ফেডারেশন এফএনবির সহ-সভাপতি, আরডিআরএসের চেয়ারপারসনসহ নিজেরা করি, অ্যাসোসিয়েশন অব ল্যান্ড রিফর্ম ও ডেভেলপমেন্ট-এর সঙ্গেও কাজ করছেন। দেশে-বিদেশে প্রচুর সেমিনার-ওয়ার্কশপে অংশ নিয়েছেন। আন্তর্জাতিক পরিবেশবাদী সংগঠন ফ্রেন্ডস অব আর্থ ইন্টারন্যাশনাল- এর নির্বাহী কমিটিরও সদস্য তিনি। পরিবেশ ও আইন বিষয়ে একাধিক বই লিখেছেন। পরিবেশের পক্ষে অবদানের জন্য পুরস্কারও পেয়েছেন বেশ কিছু। এ বছর পেলেন সম্মানজনক গোল্ডম্যান পরিবেশ পদক। ব্যক্তি জীবনে বিবাহিত সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান তিন সন্তানের জননী। এবিসি রেডিও’র নারীর গল্প-কথার অনুষ্ঠান অপরাজিতায় আজ তিনি আমাদের অতিথি। আপনাকে শুভেচ্ছা।


              "মানুষে বিশ্বাস হারানো পাপ"

              জবাব দিন
  10. আহসান আকাশ (৯৬-০২)

    এজন্যই মনে হয় বেলা মধুপুরের বন জঙ্গলের ব্যাপারে ব্যাপক একটিভ 😛


    আমি বাংলায় মাতি উল্লাসে, করি বাংলায় হাহাকার
    আমি সব দেখে শুনে, ক্ষেপে গিয়ে করি বাংলায় চিৎকার ৷

    জবাব দিন
  11. আশহাব (২০০২-০৮)
    সময়ের সাথে সাথে কত কিছু বদলাইল… :gulti: :gulti:

    কিন্তু ঢাকা ভার্সিটির অর্থনীতি বিভাগ এখনও বদলাইল না… :bash: :bash:

    এখনো দেখি বাইরের পোলাপাইন সব পাবলিক অ্যাডে ক্লাস করে... 😡 😡

    কিন্তু আমাদের আর ওদের সাথে ক্লাস করার জায়গা হয় না... ~x( ~x(

    জবাব দিন
  12. সামীউর (৯৭-০৩)

    বাংলা ভাই না জেনে একটা ভালো কাজ করসেন। আইনজীবি হইয়া আকর্ষণীয়া আফা আইজকা ম্যাগসাসে পুরষ্কার পাইসেন, জনপ্রশাসনে কাম করলে বেবাক কিছু পাইলেও মনে হয় ম্যাগসাসে পুরষ্কার পাইতে পারতেন না!

    জবাব দিন

মন্তব্য করুন

দয়া করে বাংলায় মন্তব্য করুন। ইংরেজীতে প্রদানকৃত মন্তব্য প্রকাশ অথবা প্রদর্শনের নিশ্চয়তা আপনাকে দেয়া হচ্ছেনা।