আরেকখানা যদু মধু কাহিনী

দেশ দেখি না কতদিন! দেশে দ্রুত ফিরিয়া আসিব বলিয়া খাইয়া না খাইয়া রিসার্চের কাজ করিতেছি। এমনকি প্রাণপ্রিয় সিসিবি হইতেও স্বল্পকালীন অবসর গ্রহণ করিয়া নীরব পাঠকে রুপান্তরিত হইয়াছিলাম। কিন্তু তা আর থাকিতে পারিলাম কই, সিসিবিতে সেইরকম কিছু লেখা পড়িয়া আমারও লিখিতে ইচ্ছা করিল। সু বলিতেছে, যা ব্যাটা থিসিসের কোয়ার্টার্নিয়ন নিয়া লেখাটা এইবেলা সেরে ফেল। আর কু বলিতেছে, কি হইবে থিসিস লিখিয়া, এর চেয়ে বরং একখানা দম ফাটানো হাসির ব্লগ লিখিয়া ফেল। মানবসন্তান মাত্রই জানেন, সু আর কু-এর এই দ্বন্দ্বযুদ্ধে কু-এর জয় অবশ্যাম্ভাবী। অতএব, আমি বহুদিন পর এই ব্লগখানির অবতারণা করিলাম।

দম ফাটানো হাসির ব্লগ মানেই কলেজের ঘটনা। কিন্তু যে ঘটনাটি আজকে বলিব, সেই ঘটনাটি কলেজের বন্ধুদের মধ্যে ঘটিলেও কলেজে ঘটে নাই। আমরা তখন একাদশ শ্রেণীতে পড়ি। এবং আমার অন্য ব্লগগুলির মতোই এই ঘটনার নায়কদ্বয়ের নাম ধরিয়া লওয়া যাক, যদু এবং মধু। যদু তখন সবে এক ষোড়শীর প্রেমে পড়িয়া হাবুডুবু খাইতেছে আর নির্দয় পাষন্ড ক্যাডেট বন্ধুরা এই নিয়া তাহাকে পরিহাসের কোন অন্ত রাখিতেছে না। তাহার তখন প্রেমজ্বরে পাগল পাগল দশা। তখন কলেজের অবকাশ সময় ছিল। বন্ধুরা সকলে মিলিয়া ধানমন্ডির মনোরম পুস্করিনিতে প্রমোদ বিহারে বাহির হইয়াছে। এই বন্ধুদলে যদু আর মধুও ছিল। হঠাৎ কথা নাই, কোন বার্তা নাই, যদু ষোড়শীর প্রেমে পড়িয়া তাহার কি উন্মাদ দশা হইয়াছে তাহা বর্ণনা করা শুরু করিল। আমরা সকলেই মানবসন্তান, সীমা পরিসীমার জ্ঞান আমারা প্রায়ই হারাইয়া ফেলি। যদুও ব্যতিক্রম নহে। সে নিজ উন্মাদদশা বর্ণনা করিতে করিতে দাবী করিয়া বসিল যে, প্রেমের এই গ্যাড়াকলে পড়িয়া তাহার শারীরিক দুঃখ কষ্টের বোধ লোপ পাইয়াছে। মধু আর সহ্য করিতে পারিল না। সে বলিয়া বসিল, তোর যদি শারীরিক কষ্টের বোধ লোপ পাইয়াই থাকে তবে প্রমাণ হাজির কর। নিজের প্রেম প্রমাণে বেপরোয়া যদু উত্তর করিল, কি প্রমাণ চাস? মধুর মাথাটা ফিচেল বুদ্ধির কারখানা ছিল, মুহূর্তেই সে যদুকে কুপোকাৎ করিবার একখানা বুদ্ধি বাহির করিয়া ফেলিল। তাহাকে বলিল, এই শীতকালীন অপরাহ্নে যদি তুই এই পুষ্করিনীতে একখানা ডুব দিয়া আসিতে পারিস তবেই বুঝিব তোর প্রেম আসলেই আসল। যদুও বা ছাড়িবে কেন, সে বলিল, দুইশত টাকা বাজি ধর, তবেই দিব। মধু সম্মতি জ্ঞাপন করিতেই, যদু প্যান্টালুনের পিছনের পকেট হইতে তাহার টাকার ব্যাগখানি বাহির করিয়া আরেক বন্ধুর হাতে দিল। প্রেমে পড়িয়া উন্মাদ হইতে উন্মাদস্য কার্যাবলি সম্মাদন করা যায়, তাই বলিয়া তো আর টাকার কথা ভুলিয়া থাকা যায় না। সকলকে অবাক করিয়া দিয়া যদু পুষ্করিনির ঢাল বাহিয়া নামিতে শুরু করিল। হাটুঁপানিতে নামিয়া সে পিছন ফিরিয়া মধুর দিকে তাচ্ছিল্যের একখানি হাসি দিল। এইদিকে মধুর শয়তান মস্তিষ্কের কলকব্জাগুলি পূর্ণগতিতে ঘুরিতেছে, দুইশত টাকা সে হারাইতে চাহে না। যদু পানিতে ডুব দেওয়া মাত্রই মধু আশ্চর্য ক্ষিপ্রতায় গচ্ছিত টাকার ব্যাগটি কাড়িয়া লইয়া অসম্ভব দ্রুততায় দুইশত টাকা হাপিশ করিয়া দিল। শীতকালীন শৈত্যপ্রবাহে কাঁপিতে কাঁপিতে যদু পুষ্করিনী হইতে উঠিয়া আসিয়া মধুর নিকট হাত পাতিয়া বলিল, আমার টাকা দে। লুন্ঠিত দুইশত টাকা মধু যদুর হাতে তুলিয়া দিয়া বলিল, আজি বিশ্বাস করিলাম, সত্যিকারের প্রেম মানুষকে কতটা উন্মাদ আর বোকা করিয়া দেয়।

পুনশ্চঃ আমার জানামতে যদু এই ঘটনা আজো জানে না। যাহাই হোক, বয়স বাড়িবার সাথে সাথে তাহার বুদ্ধি বাড়িয়াছে বলিয়া মনে হয় না। উপরন্তু দুর্জনেরা এখন দুর্নাম রটায় যে তাহার বুদ্ধি নাকি হাঁটুতে। আমার এই কথা অবশ্য বিশ্বাস হয় না। সর্বশেষ সংবাদ প্রাপ্তি পর্যন্ত জানি যে, সে বুদ্ধিমানের মতোই উক্ত ষোড়শীকে বিবাহ করিবার ইন্তেজাম করিতেছে।

২,২৫৬ বার দেখা হয়েছে

২৬ টি মন্তব্য : “আরেকখানা যদু মধু কাহিনী”

মন্তব্য করুন

দয়া করে বাংলায় মন্তব্য করুন। ইংরেজীতে প্রদানকৃত মন্তব্য প্রকাশ অথবা প্রদর্শনের নিশ্চয়তা আপনাকে দেয়া হচ্ছেনা।