সিরিয়াল রিভিউ

ব্যানশী
আইএমডিবি লিঙ্ক

ব্যানশী দেখে শেষ করলাম এই উইকেন্ডে, দুই সিজনে মোট ২০ এপিসোড। দারুন লেগেছে, রেটিং করলে ফারগো, ট্রু ডিটেকটিভের পরেই ব্যানশীকে রাখবো।
ব্যানশী আমেরিকার একটি ছোট শহর, অপরাধী নায়ক জেল থেকে ১৫ বছর পরে ছাড়া পেয়ে তার প্রেমিকাকে খুঁজতে এসে নতুন নিযুক্ত শেরিফ খুনের সাথে জড়িয়ে যায়। ঘটনাক্রমে শেরিফের ব্যাজ এবং পরিচয় চুরি করে নায়ক, এবং ক্রিমিনাল থেকে শরিফ হুড বনে যায়, হুডের সাথে সমান্তরাল গুরুত্ব পেয়েছে সিটি লর্ড কাই প্রক্টর চরিত্রটি।
বারম্যান, এক্স- বক্সার সুগার ক্যারেক্টারটির দারুন স্ক্রিনিং হয়েছে, কাই প্রক্টরকে সবচেয়ে বেশি ভালো লেগেছে আমার, কারন প্রোক্টরের মাংসের ফার্ম, আমারও বিশাল একটা মাংসের ফার্ম দেবার ইচ্ছা। মাংস মানে মুরগী নয়, পিউর রেড মিট।
কাহিনী এভাবেই গড়াতে থাকে, সিরিয়াল দেখতে বসলে কিছু জিনিস অবশ্যই লাগে আমার
১- ভালো কাহিনী
২- ব্যাড এস ডায়লগ
৩- প্রচুর ব্লাড
৪- হুইস্কি অ্যান্ড ফুড
৫- সেক্স অ্যান্ড নুডিটি
খুব চমৎকার ভাবে এই সবগুলো জিনিস ব্যানশীতে আছে। সময় হলে দেখে ফেলুন, সময় মারা যাবে না।
সাবেক প্রেমিকা আমাকে এই সিরিয়াল সাজেস্ট করলো, গ্যারান্টি দিয়ে বলেছিল ভালো লাগবে তোমার।
No one knows you better than your ex!
http://cdn.seriable.com/wp-content/uploads/2014/08/bansheesixseasons.jpg

দ্য লাস্ট শিপ
আইএমডিবি লিঙ্ক
ক্লিফহ্যাঙ্গার বিষয়টাকে বোঝাবার জন্য দ্য লাস্ট শিপের এপিসোডগুলো দারুন উদাহরণ হতে পারে।
ফ্যান্টাসীকে কেন্দ্র করে সিরিয়ালের ভিত্তি আঁকা হয়েছে, এক অজানা ভাইরাসের আক্রমণে পৃথিবীর ৩ ভাগের দুই ভাগ মানুষ মরে গেছে, বাকিরা মরছে খাদ্যের অভাবে, রায়টে, যখন এই এপিডেমিক ছড়াচ্ছে তখন মার্কিন যুদ্ধ জাহাজ জেমস ন্যাথান এটলান্টিক সাগরে। ভূমি থেকে দূরে থাকবার কারনে এই জাহাজের সবাই নিরাপদ রয়ে গেছে।
ক্যাপ্টেন চ্যান্ডলার তখন সিদ্ধান্ত নেন, যতদিন পর্যন্ত ভ্যাক্সিন আবিস্কার না হবে তারা তীরে ফিরবেন না, কিন্তু এক রাশিয়ান যুদ্ধ জাহাজও বেঁচে গেছে, তারাও ভাইরাস চায়, তাড়া করে বেড়ায় তারা চ্যান্ডলার এর জাহাজকে।
অবশেষে ডাক্তার ভাইরাস আবিস্কার করতে পারেন, কিন্তু ততক্ষণে চ্যান্ডলারকে আটক করে ফেলেছে রাশিয়ান যুদ্ধ জাহাজ।
সেই রাশানদের একজন ডাক্তারই সর্বপ্রথম ভাইরাসে হিউম্যান প্যাথোজন মিউটেশন করে এই ভাইরাসকে মানুষের জন্য ভয়াবহ করে তোলে, তার ধারনা ছিল সে ভাইরাসও আবিস্কার করতে পারবে, অথচ সেটা সে করতে পারেনি।
ব্যক্তিগত ভাবে আমি সারভাইভাল পছন্দ করি, খাবার নেই, পানি নেই, প্রতিকূল পরিবেশ এবং সেখানে যুদ্ধ করে বেঁচে থাকার ব্যাপারগুলো আমাকে খুব আকর্ষিত করে, এই ধরনের সময়ে একটা কমুনিটি গড়ে ওঠে, আর কমিনিটি গড়ে উঠলেই সেখানেই মিথ্যা, অপমান, গর্ব, ভায়োলেন্স, সেক্স, ইন্টারেস্ট, মানবতা ব্যপারগুলো চলে আসে।
দ্য লাস্ট শিপ দেখার রিকমেন্ডশন রইল।
http://hollywoodudotnet.files.wordpress.com/2014/05/screen-shot-2014-05-14-at-10-02-56-am.png

ওরেঞ্জ ইজ দ্য নিউ ব্ল্যাক
আইএমডিবি লিঙ্ক
ক্রাইম ধারার সিরিয়াল হলেও,প্রতি মুহূর্তে ডার্ক কমেডি, সামান্য একটা মুরগী অথবা তেলাপোকা নিয়ে জেলে হুলস্থুল, একপিস লিপস্টিক অথবা স্যানিটারী ন্যাপকিন দিয়ে বানানো মাস্ক, প্লাস্টিকের স্যান্ডেল নিয়ে কাড়াকাড়ি সত্যি ভয়াবহ।
চ্যাপমান, রেড এবং সুজানের অভিনয় ছিল পিন পয়েন্ট, প্রতিটি সিন পারফেকশনের সাথে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে।
গল্পটা এমন- চ্যাপমান একটা ড্রাগ ট্রাফিকিংয়ের আসামী হয়ে ১৫ মাসের জেলের সাজা পেয়েছে, তার প্রেমিকা এলেক্সই তাকে ধরিয়ে দিয়েছে, এবং জেলে আসার পরে দেখা গেলো এলেক্সও সেখানে বন্দী। অথচ চ্যাপমান এখন আর সমকামী নেই, বরং তার বয়ফেন্ড+ ফিয়ান্সে আছে।

পুরো স্ক্রিনিং একটি মহিলা জেলে হয়েছে, জেলের একাকীত্ব এবং সামগ্রিক অবস্থায় সম্পর্কের টানপোড়ন, সমান্তরাল ভাবে চলা কয়েকটি খুব স্পর্শকাতর গল্প, কিছু পিছুটান, ভায়োলেন্স সব মিলিয়ে সিরিয়ালটি ধরে রেখেছে ভয়াবহ ভাবে।

প্রচুর নুডুটি, লেসবিয়ানিজম, এবং ল্যাঙ্গোয়েজ ভায়োলেন্সের কারণে সবাইকে দেখার রিকমেন্ড করতে পারছি না, যারা ডায়লোগ বেইসড কমেডি পছন্দ করেন তাদের জন্য পারফেক্ট।
https://fbcdn-sphotos-c-a.akamaihd.net/hphotos-ak-xap1/v/t1.0-9/10402856_244347722428671_7166435428396663021_n.png?oh=d70ffd241e5f4e962c3c087fa4ae2f7b&oe=55182885&__gda__=1426506841_03738980b6d0090032251b977d923f1d

৭৬১ বার দেখা হয়েছে

৬ টি মন্তব্য : “সিরিয়াল রিভিউ”

  1. নাফিস (২০০৪-১০)

    একটাও দেখি নাই 🙁
    ট্রু ডি এর পরে নতুন কোন সিরিয়াল আর শুরু করি নাই। লম্বা সময় বা ইচ্ছে কোনটাই পাইনা ইদানিং। মাঝে মাঝে ফ্রেন্ডস দেখি। অরেঞ্জ ইস দ্যা নিউ ব্ল্জ্কা টা দেখার ইচ্ছে আছে কোনো এক সময়ে।

    জবাব দিন
  2. পারভেজ (৭৮-৮৪)

    একটা সময় এমন কিছু সিরিয়াল ছিল, যেগুলো না দেখলে মনে হতো জীবনটাই অর্থহীন হয়ে যাবে।
    ফ্রেন্ডস দিয়ে সেই যে সিরিয়াল দেখায় ইতি নামলো, আর তা শুরু করা হয় নাই।
    মাঝে বাংলায় "সুবর্নলতাটা" দেখেছি।
    নতুন করে কোন কিছু দেখা শুরু করারও তেমন কোন আর্জ ফিল করি না
    তবে আমার কন্যার কেনা ও দেখে শেষ করে ফেলা বেশ কিছু সিরিয়াল আছে হাতের কাছেই। মাঝে মাঝে সিডিগুলি উল্টেপাল্টে দেখি আর ভাবি, একদিন দেখবো ক্ষণ।
    সেই একদিন যে কবে আসবে, কে জানে?


    Do not argue with an idiot they drag you down to their level and beat you with experience.

    জবাব দিন
  3. আহসান আকাশ (৯৬-০২)

    বানসি শুরু করে ভেবেছিলাম এটা সেক্স, নুড্যিটি ইত্যাদি দিয়ে দর্শক টানা আরেকটা সস্থা সিরিয়াল কিন্তু সেই ভুল ভাঙ্গতে দেরি হয়নি। বেশ ভাল লেগেছে। দ্য লাস্ট শিপ দেখা হয়নি এখনো, এত এত সিরিয়াল জমে আছে কবে দেখা হবে তাও জানি না।
    ডার্ক কমেডি সব সময়ই ভাল লাগে, অরেঞ্জ ইজ দ্য নিউ ব্ল্যাক সম্পর্কে তাই জানার সাথে সাথেই দেখেই ফেলেছি।

    আপাতত রেগুলার শোগুলোর ভেতরে দেখছি 'দি নিউজরুম', The smartest show on TV 🙂 দুঃখের বিষয় হচ্ছে এটাই শেষ সিজন। আর কিছু দিন আগ পর্যন্ত গভীর রাতে লাইভ স্ট্রিমিং করে দেখতাম ডক্টর হু। নতুন সিরিজ বার কয়েক রিভিশন দিয়ে পারফেক্ট হুভিয়ানের মত এখন আস্তে আস্তে ১৯৬৩ সিরিজ দেখা শুরু করেছি 🙂

    সিরিয়াল নিয়ে লেখা ভাল লাগলো, নতুন কিছু দেখলে রিভিউ দিও।


    আমি বাংলায় মাতি উল্লাসে, করি বাংলায় হাহাকার
    আমি সব দেখে শুনে, ক্ষেপে গিয়ে করি বাংলায় চিৎকার ৷

    জবাব দিন
  4. শাহরিয়ার (০৬-১২)

    অর‍্যাঞ্জ ইজ দা নিউ ব্ল্যাক নামটা দেখেই ভাল লাগছিল। কয়েকটা রিভিউ পড়ে দেরী করি নাই আর। কিছু ব্যাপার আসলেই টাচিং। বিপদের সময় খুব কাছের মানুষগুলা যেভাবে খালি নিজের সাইডটা দেখে সব দোষ আরেকজনের ঘাড়ে চাপায়ে পেইনটা আরো বাড়ায়ে দেয় এই ব্যাপারটা খুব ভালভাবে দেখাইছে।
    বানশী দেখবো মনস্থির করলাম আপনার রিভ্যিউ দেখে। :clap: :clap:


    • জ্ঞান যেখানে সীমাবদ্ধ, বুদ্ধি সেখানে আড়ষ্ট, মুক্তি সেখানে অসম্ভব - শিখা (মুসলিম সাহিত্য সমাজ) •

    জবাব দিন

মন্তব্য করুন

দয়া করে বাংলায় মন্তব্য করুন। ইংরেজীতে প্রদানকৃত মন্তব্য প্রকাশ অথবা প্রদর্শনের নিশ্চয়তা আপনাকে দেয়া হচ্ছেনা।