ব্ল্যাক লিস্ট

ক্লাস নাইন এ আর্টস পাওয়ার পর আমার “বি” ফর্মে আসতে হয়। ক্লাস সেভেন, এইট এই ক্লাসগুলোতে হাউজ ফিলিংস, ফর্ম ফিলিংস এগুলো বেশি থাকার কারণে অন্য ফর্মের পোলাপান গুলারে কেমন কেমন লাগতো। ওই ফর্মে গিয়ে শুনলাম, আমার নাকী খবর আসে, হামিম আমার খবর করবে। টিজ করতে করতে মাইরা ফেলবে একদম ~x(

কিন্তু দেখা গেল ক্লাস প্রেপ টাইম এই সময় গুলাতে “এ” ফর্মে যত না কথা বলতাম,বদমাসি করতাম “বি” ফর্মে এসে তার ডাবল হয়ে গেল, আমার সাথে সঙ্গী হল হামিম, মাহমুদ, ইফতেখার, মুস্তাকীম, লাইমুন এবং মামুন। কিছুদিন পর গেমস টাইম এ ষ্টাফ সবার সামনে ক্লাস নাইনের ব্ল্যাক লিস্ট ঘোষণা করলো, এই সাত জনের নাম। ক্লাস টাইমে কার্ড খেলা, টয়লেটে আড্ডা, কলেজের বাইরে যাওয়া, কাঠাল চুরি এইসব শুরু করে দিলাম ক্লাস নাইনে এদের সাথে।

আমাদের ইতিহাসের মুজিব স্যার কি কারণে জানিনা আমাকে দেখতে পারতোনা, প্রত্যেক ইতিহাস পরিক্ষায় ফেল :bash: ।
পাশ করলেও খাতায় লিখা থাকতো “দয়া করে পাশ করানো হলো”
টেস্ট পরীক্ষার সময় ইতিহাসে একটা বড় প্রশ্নের উত্তর দিতে পারলাম না, বুঝে গেলাম নিশ্চিত ফেল, আমার কিছু ক্লাসমেট কোনোভাবে সেই প্রশ্নের উত্তর আমার খাতায় এটাচ করে আমাকে ওই বারের মত আমাকে ইতিহাসে ফেল এর হাত থেকে বাঁচায়।

বাকিদের কথা বলবোনা, আমাদের ব্লগের মামুন, আমার কলেজ মেট তাদের মাঝে একজন ছিল।

একটু আগে মামুন এই অকৃতজ্ঞকে একটা মেসেজ পাঠায় ;
“”ভাই আজকে আমার বার্থডে, গরিব বলে উইস ও করলে না””

মামুন শুভ জন্মদিন দোস্ত। মাফ করে দিস আমাকে :bash:
আজীবন সুখে থাকিস ভালো থাকিস :hatsoff:

৪,২২৬ বার দেখা হয়েছে

৪০ টি মন্তব্য : “ব্ল্যাক লিস্ট”

  1. ফরিদ (৯৫-০১)

    অংকে আমাকে কেউ দয়া করেও পাশ করাতে পারেনি কোনদিন . না গক স্যার না পিকে স্যার, না বাবা লোকনাথ , না রকিবুল( চিকিবুল ) আলম , না মান্নান স্যার , না রিয়াজ স্যার না সাদিক স্যার. ~x(
    যাক , সে এক লম্বা হিস্ট্রি .....................
    শুভ জন্মদিন মামুন . :guitar:

    জবাব দিন
  2. মুহিব (৯৬-০২)
    আমার কিছু ক্লাসমেট কোনোভাবে সেই প্রশ্নের উত্তর আমার খাতায় এটাচ করে আমাকে ওই বারের মত আমাকে ইতিহাসে ফেল এর হাত থেকে বাঁচায়।

    :boss: :boss: :duel: :gulli2: :chup:

    :boss:

    জবাব দিন
  3. তানভীর (১৯৯৫-২০০১)

    "পাশ করলেও খাতায় লিখা থাকতো “দয়া করে পাশ করানো হলো” =)) =))
    একটা ব্যাপার বুঝলাম না, ক্লাস নাইনে ফরম চেঞ্জ কেন? এটা কি তোমাদের কলেজের নিজস্ব স্টাইল নাকি? সবার তো ফরম ফিক্স থাকে।

    জবাব দিন
  4. মুসতাকীম (২০০২-২০০৮)

    মামুন দোস্ত হেপি বার্থ ডে :party: :party: :party:


    "আমি খুব ভাল করে জানি, ব্যক্তিগত জীবনে আমার অহংকার করার মত কিছু নেই। কিন্তু আমার ভাষাটা নিয়ে তো আমি অহংকার করতেই পারি।"

    জবাব দিন
  5. মামুন (২০০২-২০০৮)
    ওই ফর্মে গিয়ে শুনলাম, আমার নাকী খবর আসে, হামিম আমার খবর করবে। টিজ করতে করতে মাইরা ফেলবে একদম

    =)) =))
    সত্যি এত বেশী মিস করতেছি ক্লাশ নাইন বি ফর্মের সেই দিনগুলা। কার্ড খেলা, আড্ডা দেয়া, টীস করা আর পরীক্ষার আগে সব প্রশ্ন আউট করার প্লান। মাঝে মাঝে মেহের কবির সার এর ছোবল। কি অসাধারন দিনগুলা আমরা একসাথে কাটা্ইছি।

    যাই হোক মামা, অসংখ্য ধন্যবাদ এই অধমকে নিয়ে এই পোষ্ট লেখার জন্য। আর সব ভাই্-ব্রাদার দেরও :just: ধন্যবাদ জন্মদিনের উইশ করার জন্য। 🙂

    অফটপিক: ফন্ট না থাকায় কমেন্ট করতে দেরি হইয়া গেলো।

    জবাব দিন
  6. আমিন (১৯৯৬-২০০২)

    বার্থ ডে উইশ করতে দেরি হয়া গেলো।লেট হ্যাপি বার্থডে মামুন,

    "দয়া করে পাশ করানো হলো" শুনে আমাদের "ভিক্ষা" কাহিনীর কথা মনে পড়ে গেলো। আমাদের এক ইংরেজি স্যার মাস পিপল কে ৫০ এ ১৫ দিতেন। খাতা দেয়ার সময় ৫ যোগ করে ভিক্ষা বলে ছুড়ে মারতেন। ইংরেজীতে বিশেষ দক্ষতা (!!) থাকায় ভিক্ষুক সারিতে মোটামুটি সামনের দিকেই আমার জায়গা থাকতো।
    আরেক স্যার তো পরীক্ষা পাশ করানো নিয়ে তুলকালাম করে দি্তেন। ইংরেজি বিষয়টা বড়ই ভুগাইছে। সেসব গল্প আরেকদিন বলবো।

    জবাব দিন
  7. তাওসীফ হামীম (০২-০৬)

    হামিম খুব ভাল ছেলে, টিজ করে না, তুই কেমন আছিস?? সুন্দর লেখা,অনেক দিন পর পড়লাম, ভাল লাগলো।


    চাঁদ ও আকাশের মতো আমরাও মিশে গিয়েছিলাম সবুজ গহীন অরণ্যে।

    জবাব দিন

মন্তব্য করুন

দয়া করে বাংলায় মন্তব্য করুন। ইংরেজীতে প্রদানকৃত মন্তব্য প্রকাশ অথবা প্রদর্শনের নিশ্চয়তা আপনাকে দেয়া হচ্ছেনা।