নীলমনিলতা- মাধুরিলতা কিম্বা ত্বরণ-তরী

খেয়ালের বশেই একদিন ত্বরণ আর তরীর অনেকদিন পরের দেখা নিয়ে একটা ফেসবুক স্ট্যাটাস লিখে ফেলি, সময় গড়ায়, গড়াতে গড়াতে আমার চার টুকরো লেখা হয়ে গেছে। এরমধ্যে প্রথম দুই টুকরো হারিয়ে ফেলেছি, খোঁজা হচ্ছে, ভয়ে বাকি দুই টুকরোকে ব্লগে নিয়ে আসলাম। ফেসবুকের চটুল লেখা ব্লগের সাথে কতটা যাবে আন্দায করতে পারছি না। আসলে লেখা হচ্ছে প্রেমিকার মতো, হারাতে ইচ্ছা করে না, তাই ভাবলাম সাহস করে ব্লগে নিয়ে আসি।
ব্লগে শুভ পদার্পন ত্বরণ- তরী।

শেষ পর্যন্ত প্রথম দুই টুকরোও পাওয়া গেছে, চাঁদনী রায়ের সংগ্রহে ছিল, আমি নিতান্ত অধম মানুষ, আমার স্ট্যাটাস নিজের সংগ্রহে রেখে তিনি আমাকে অতিমাত্রায় কৃতজ্ঞ করেছেন। ত্বরণ- তরী এবং আমার পক্ষ থেকে তাকে ঝাপি ঝাপি ধন্যবাদ।

টুকরো (১)

আজ থেকে ঠিক ৪ বছর পর

পূর্বা- নাহিদের ওয়েডিং রিসেপশন ইভেনিং, বড় একটা স্টেজ সেখানে পরীর মতো ঝকমক করছে পূর্বা। সামনে অনেকগুলো বসার চেয়ার, এরপর খাবার টেবিল। ঝামেলাটা হচ্ছে এই অনুষ্ঠানে একমাত্র পূর্বাকে ছাড়া আরকাউকেই চেনে না ত্বরণ। পূর্বা তার অনেক পুরানো বান্ধবী।
ওর মুখটা এলুমিনিয়ামের চকচকে প্লেট বানিয়ে ফেলেছে মেকাপম্যান, তবে মেক্যাপের স্তর অনেক পুরু, ছবি তোলার জন্য এবং ভিডিও করার জন্য প্রচুর ফ্ল্যাশ মারা হচ্ছে। ফ্লাশ লাইটের তাপে মেক্যাপ গলে পরতে পারে, তখন বিতিকিচ্ছিরি অবস্থা হবে, একফাঁকে পূর্বাকে সতর্ক করার সিদ্ধান্ত নেয় ত্বরণ।
এদিক ওদিক ঘোরাঘুরি করতে করতে- ঠিক শেষ মাথার টেবিলের কাছে মুখোমুখি হয়ে যায় ত্বরণ- তরী।

তরী- তুমি?
ত্বরণ- কেন পূর্বা তোমার একার বান্ধবী?
– আশা করিনি তোমাকে!!!
– আমি তোমাকে আশা করেই গলায় সিল্কের রুমাল গুঁজে এসেছি। প্রেমিক প্রেসিডেন্ট এরশাদ স্টাইল
– বদলাও নি একটুও, একফোঁটাও না
– কে বলল! আগে পড়তাম, এখন পড়াই। আচ্ছা ওই টেবিলের তোমার পাশের চেয়ারের ভদ্রলোকই তোমার সাহেব নাকি?
– হু উনিই।
– তুমি আমার বুকের একদম অল্প পশমেও বিরক্ত হতে- আর তোমার উনার পশম তো রীতিমত শার্ট ফুড়ে বেরিয়ে ওয়েভ করছে!
– বাজে কথা বলবে না, বিয়ে করেছ?
– নাহ! তোমার দুঃখে পাপা টাইগার কর্নেল ওসমানী হয়ে গেছি।

এদিক ওদিক চেয়ে, উশখুশ করে বিদায় নেয় তরী, বিদায়ের আগে এক পা এগিয়ে আসে, ত্বরণের শার্টের তিন নাম্বার বোতামটা আটকে দেয়। এইটুকু স্পর্শের এতদিন পরে হয়ত খুব দরকার ছিল, বোতামটা লাগানো থাকলে তরী খুলে দিত,আর তরী আগে না বাড়লে হয়ত ত্বরণই, তরীর চিবুকের তিলটা নখে খুটে বলত- আসল নাকি আঁকা?

তরীর চলে যাওয়া দেখে ত্বরণ, লম্বা পিঠের ব্লাউজের গোল সীমানার বাইরে মসৃণ ত্বক। তিন পেগ জ্যাক ডানিয়েলস এর মধ্যে একটা ডিমের কুসুম ফেটে দিলে যেমন রং হবে, তরীর পিঠের রং তেমন। আর নীচে শাড়ির ভাঁজ ভেঙে মাথাচাড়া দেয় বরগুনার পায়রা নদীর আগছালো ঢেউ। উদ্দমতা চার বছরে শুধুই বেড়েছে। ঠোঁটে এক চিলতে হাসি ঝুলিয়ে- পা দুটো হালকা ফাঁকা করে দাঁড়িয়ে একটা দীর্ঘ নিঃশ্বাস নেয় ত্বরণ। ভেতরের পদ্মগোখরা মোচড় দিচ্ছে, এই অনুভূতিটা একান্তই পুরুষের সহজাত।

টুকরো (২)

বনানী শর্মা হাউজে ঢুকেই থমকে দাঁড়ায় ত্বরণ। তরী বসে আছে ডান দিকের সেই সিঙ্গেল টেবিলটাতে, যেখান থেকে রাস্তা দেখা যায় মানুষ দেখা যায়, গুটি পায়ে চেয়ারে বসে ত্বরণ। তরী বেগুনী রঙের একটা জামা পরেছে, জুতাটাও বেগুনী
ত্বরণ- তুমি দেখা করতে এসেছ তোমার জামাই জানে?
তরী- নাহ জানে না।
– তোমার বাবু কোথায়? নাম কি?
– বাবুর নাম রাইন। ছেলে তাই রাইন, মেয়ে হলে নেভা রাখতাম।
– দুটো নদীই আমি দেখেছি, অনেক প্রিয় নদীর মধ্যে দুটি নদী।
– আমি জানি।
– চার বছর আগে এখানে আমাদের দেখা হয়েছিল ঈদের দিনে, তুমি আমার পায়ে পা রেখেছিলে , মনে আছে?
– ইতিহাস মনে রাখার জন্যই, তোমার শার্টটা সুন্দর।
– অহ থ্যাংকস, খুলে দেব? তোমার হাবির জন্য নিয়ে যাবে?
– আমার দেখা করতে আসাই উচিত হয়নি, আমি গেলাম

বনানী ব্রিজের এলোমেলো বাতাসে তরীর চুল ওড়ে, কিছু চুল ত্বরণের মুখে লেপ্টায়, খাতা কলমে চমৎকার রোমান্টিক সিন হলেও বাস্তবে মুখে চুল শুধুই চুলকানীর উপদ্রব করে। বিদায় নেয় তরী, তাড়াহুড়ো করে নিজের রিস্ট ওয়াচ খুলে ফেলে তরীর হাতে গুঁজে দিয়ে ত্বরণ বলে- এটা রাইনের জন্য, ঘড়ি পরার বয়স হলে পরিয়ে দিও।
কিছু বলার সুযোগ না দিয়েই চলে যায় ত্বরণ, ওর চলে যাওয়া দেখে তরী, সেই প্রশস্ত কাঁধ, যেখানে কারণে অকারনে বহু খামচি কেটেছে তরী। নিঃশ্বাস ভারী হয়ে আসে ওর। আবছা হয়ে যায় ত্বরণ।

টুকরো (৩)

শান্তিনগর কাঁচা মাছের বাজারে ওকে চিত হয়ে শুয়ে থাকতে দেখেই প্রেমে পরে যায় ত্বরণ। লাভ এট ফার্স্ট সাইট বলে একটা কথা আছে বুঝি। ওর ভেজা ভেজা শরীর, উত্তাল মোচড়, ভীষণ ভালো স্বাস্থ্য আর রুপালী চকচকে পেট। বাধ্য হয় বোয়াল মাছটি কেনার জন্য ত্বরণ
– কি ফরিদ ভাই, বোয়ালের কেজি কত?
– স্যার, কেজি ৭০০ টাকা, আপনার জন্য ৬৫০ টাকা, একদাম, রফিক মাছ ওজন দিয়া পিস কর।
– শোনেন, কেজী ফেজী নাই, আমি আপনাকে ৭০০ টাকা দেব।
– স্যার মাছ আছেই দেড় কেজি। ৭০০ টাকা দিলে আমার লস হয়।
– দেখেন ফরিদ ভাই, ঘরের বউর টিভির নায়িকা না হইলেও চলে, আমার কাছে আপনার লাভ না খাইলেও চলবে।
– হা হা, দেন স্যার ৮০০ টাকা সই।
বিজয়ীর বেশে ব্যাগে করে অতীব সুন্দরী পিস করা বোয়াল মাছ নিয়ে বাসার দিকে রওনা দেয় ত্বরণ।

বোয়াল মাছ রাধার কিছু নিয়ম আছে, কিছু কম্বিনেশন আছে, রোস্তভ শহরের স্বপন ভাই হইল মাছ মাস্টার। যেকোন মাছ তার হাতে সুস্বাদু হয়ে ওঠে, দেশি আর বিদেশী ব্যপার না। শোল মাছ রাধতে হয় মূলা দিয়ে, বোয়াল মাছের বেলায় মূলা চলে না, বোয়াল মাছের রসায়ন হল নতুন আলু। গরম পানিতে নতুন আলু ধুয়ে নিয়ে তরকারীতে ছাড়ে ত্বরণ। নতুন আলুর খোসা ছড়ালে সেই আলুর কোন স্বাদ নেই। একটা গোল টমেটো ঠিক ৬ টা ফালি করে কাটা হয়েছে, মোট টমেটো দেয়া হবে ৩ টা। এর বেশি দিলে নতুন আলুর ঘ্রান চলে যাবে।
রান্না শেষ হয়ে এসেছে, চুলো বন্ধ করে এক বাটী কুচো করা ধনে পাতা ঢেলে দিল ত্বরণ, আহ, আস্তে আস্তে এখন ঘ্রান শুষে নেবে বোয়াল। পারফেক্ট।

ডোর বেলের শব্দ শুনে দরজা খুলেই মুসুরী ডাল রঙের শাড়ি পরা তরীকে দেখতে পায় ত্বরণ। মনের মধ্যে তীব্র উসখুশ ভেঙে রেনু রেনু হয়ে ছড়িয়ে পরছে। রিন রিন করে ওঠে তরীর গলা
– আমার ৫ বছরের বাচ্চা হাফ প্যান্ট আর গেঞ্জি পরে, তুমিও একই জিনিস পরে আছো, ধামড়া হয়েছ,নিজেকে একটু ঢাকতে শেখো।
– গরম অনেক, এইজন্য পরেছি, এমন করছ কেন?
– বাসায় কেউ নেই?
– নাহ বাসা ফাঁকা, আজ পাশা খেলবো রে শ্যাম, মুহাহাহা
– বখাটে কোথাকার, অসভ্য যত। টেরিং ভেঙে দেব আসে পাশে আসলে

কাঠ-ফাটা রোদেলা দুপুরে দুজন টেবিলে খেতে বসে, মোটা চালের ভাত দেখে চোখ কপালে ওঠে তরীর, দ্বিতীয় বাটির ঢাকনা তুলে আরো বিস্মিত হয় তরী, সেখানে বোয়াল মাছ রাঁধা, পাশে টমেটোর চাটনী, তেতুলের টক, চিংড়ি ভাজা, সালাদ, আর পেপের জুস।

– এই সব তুমি করেছ?
– হু, তুমি আসবে তাই ভাবলাম ইম্প্রেস করি
– মোটা চালের ভাত দিয়ে কেউ অতিথি খাওয়ায়? গোশত ছাড়া কেউ দাওয়াত সাজায়?
– উহু, হালকা লাল আশ বের হওয়া মোটা চাল ছাড়া বোয়াল মাছ জমে না।
– বুঝলাম, কিন্তু ইম্প্রেস কেন হতে হবে?
– কারণ, তোমার সাবেক প্রেমিকেরা, কোক পিতজা, নান কাবাব, চিকেন ফ্রাই সালাদ, অর্ডার দিয়ে কিনে এনে খাওয়াতে পারবে, কজন নতুন আলু আর টমেটো দিয়ে তাজা বোয়াল রাঁধতে পারবে? আই এম আনপ্রেডিক্টাবেল অ্যান্ড ইন্টারেস্টিং।
– হয়েছে হয়েছে, বুঝতে পেরেছি এবার খাও।

ত্বরণের প্লেট তুলে নিয়ে ভাত তোলে সেখানে তরী, সালাদ দেয়, চিংড়ী ভাজি প্লেটে দেয়। দৃশ্যটা স্রেফ অবশ করে দেয় ত্বরণের, প্রতিদিন এমন সামান্য নাটক ত্বরণ-তরীর মাঝে হলে পৃথিবীর কি খুব বেশি ক্ষতি হয়ে যেত?
অনেক কষ্ট হয় ত্বরণের, হচ্ছে তরীরও, দুজনেই নিজের মতো করে কষ্ট ঢাকছে।

টুকরো (৪)

তরীর অফিসের রিসেপশন রুমে বসে আছে ত্বরণ। এই ধরনের কর্পোরেট অফিসে সাধারনত চা আসে, চায়ের সাথে বিস্কুট আসে। কিন্তু এই অফিসে এখনও কেউ চা সাধল না। তবে অফিসে এসি আছে। হাদিসে বলা আছে ঘাম শুকানোর আগে শ্রমিকের মজুরি পরিশোধ করো, তাই কর্পোরেট অফিসে এসি লাগানো হয়, যাতে শ্রমিকের ঘামই বের না হয়।
– আমি শুধু চিন্তা করি তোমার কত সাহস!
– কারো অফিসে আসলেই অনেক সাহস দেখানো হয় নাকি? তুমিই না ঠিকানা দিলে!
– কি চাই? ঠিকানা আমি ভদ্রতা করে দিয়েছিলাম। উৎপাত করতে আসার জন্য না।
– আচ্ছা, তোমাদের অফিসে রিফ্রেশমেন্ট/ হোস্টিং বাজেট নেই? কেউ চা সাধল না
– শোন, নকশা করবে না, কি চাই?
– চারটার সময় তোমাকে নিয়ে একটু বেরোতে চাই।
– আমার অফিস শেষ পাঁচটায়।
– আচ্ছা তাহলে পাঁচটা পর্যন্ত অপেক্ষা করছি।
– যা ইচ্ছা করো, আমি চা পাঠিয়ে দিচ্ছি।

শাদা টাইলসের ফ্লোরে টক-টক শব্দ তুলে চলে যায় তরী। সামান্য উঁচু হিল পরেছে সে, শব্দটা হিল থেকে আসছে। স্যান্ডেল জাতীয় জুতোয় একটা ছ্যাচড়ানো শব্দ হয়, খুব কানে লাগে সেই শব্দ। তাকাবে না তাকাবে না করেও রুম ছেড়ে বের হওয়া পর্যন্ত তরীর দিকে তাকিয়ে থাকে ত্বরণ।

মটোরসাইকেল দেখে তরীর চক্ষু কপালে উঠেছে, সে শাড়ি পরে বাইকে উঠবে না, বহু ক্যারিকেচারের পর উঠতে রাজি হয়েছে। চারটার সময় অফিস ছাড়ার কারণে, তার মেজাজ খুব গরম হয়েছে, মেজাজ গরমের কারণে তার গা থেকে গরম গরম ঘ্রান আসছে, এতক্ষন যেটা ছিল গোলাপ পাপড়ির সাথে কাঁচা আম চটকানো ঘ্রান। তার পরনেও কাঁচা আমের রঙের শাড়ি এবং কাঁচা আম আর কলাপাতার মাঝামাঝি রকমের রং এর ব্লাউজ।

-কোথায় যাচ্ছি আমরা?
– বলা যাবে না
– শহর ছাড়ছি কেন?
– শহরে নিঃশ্বাস নেবার মতো বাতাস নেই, তাই
– তুই একটা হারামজাদা, আমাকে জ্বালাস কেন এত?
– তুমি এত্তগুলো সুন্দরী, তাই জ্বালাই

কর্মব্যস্ত এক ইটের ভাটিতে তারা থামে। সেখানে একদল মাটি বাক্সে ভরে ইটের শেইপ দিচ্ছে, একদল শুকাচ্ছে, একদল পোড়াচ্ছে।
– কোন যায়গা এটা?
– যায়গার নাম পাগলা।
– এই ইটের ভাটিতে কেন?
– ইটের ভাটির মালিকের মেয়ের সাথে আমার বিয়ের কথা চলছে।
– তাই নাকি?
– হু, খুব ঘরোয়া ও হিজাবী মেয়ে, সমাজবিজ্ঞান ১ম বর্ষ, শেখ বোরহানউদ্দিন কলেজ।
– আমাকে তোমার সাথে দেখলে বিয়ে ভেঙে যাবে না?
– সম্ভাবনা আছে।

মেশিন বন্ধ কর হাশেম, উপরে আয়। ট্রলারের উপর থেকে গলা চড়ায় ত্বরণ। ছইয়ের উপরে দাঁড়িয়ে হাল ধরে আছে সে, ছইয়ের উপর হতবাক হয়ে বসে আছে তরী, ভিতরে ইঞ্জিনে আছে হাশেম নামের একটা ছেলে। পাগলা ইটের ভাটি থেকে ট্রলার নিয়েছে ত্বরণ, চালিয়ে সেখান থেকে অনেকদূরে চলে এসেছে তারা, শহরের ছাপ মুছে গেছে, প্রচুর মাছ ধরা নৌকা, ইটের ভাটি, গ্রাম গঞ্জ আর সবুজ এখন।

– তুমি ট্রলারও চালাতে পারো জানতাম না
– স্পিড বোটও পারি
– যায়গাটা সুন্দর
– তোমার পছন্দ হয়েছে?
– হ্যাঁ হয়েছে, তুমি চা নিচ্ছ না কেন?
– আরে আরে, তুমি দাড়িও না, পরে যাবে, আমি আসছি।
– খুব টেক কেয়ার করা শিখেছ দেখা যাচ্ছে
– ভালো স্বামী হবার প্রাকটিস করে যাচ্ছি, বিয়ের প্রস্তাব রানিং ম্যাডাম। জীবনে ভালো প্রেমিকের থেকে ভালো স্বামী হওয়া জরুরী।

হুট করে চারিপাশ লাল হয়ে আসে, কেমন আলতার মধ্যে ডিমের কুসুম ফাটা একটা রং, সূর্যটাও লাল হয়ে গেছে, আধা ডুবে গেছে ইতোমধ্যে, এক মিনিট সময় নিয়ে পুরাটা ডুবে গেল, রেখে গেল পানিতে লাল মিহি আভা, নদীর মধ্যে থাকাতেই এই ডুব দেখা গেল। একটা সাধারন দিন এমন ভাবে শেষ হবে কল্পনায় ছিল না তরীর।
তরী আনমনে ত্বরণের শার্টের একটা হাতা খামচে ধরে, যেন ছেড়ে দিলেই ত্বরণ হারিয়ে যাবে। ডুব দেয়া সূর্যের দিকে তাকিয়ে আছে ত্বরণ, নড়বড়ে মুহূর্তে তরীর দিকে না তাকালেই সুবিধা, পানি টানি চলে আসলে সমস্যা।

১,৯১০ বার দেখা হয়েছে

২২ টি মন্তব্য : “নীলমনিলতা- মাধুরিলতা কিম্বা ত্বরণ-তরী”

  1. মোকাব্বির (৯৮-০৪)

    তরীর বাসায় গিয়ে একবার হাজির হয়। একটু গোসল করবে আর একটু খাবে বলে, তারপর শুধু গোসল করেই হঠাৎ চলে যায় ত্বরণ এই গল্পটা কোথায়? 🙁 🙁


    \\\তুমি আসবে বলে, হে স্বাধীনতা
    অবুঝ শিশু হামাগুড়ি দিল পিতামাতার লাশের ওপর।\\\

    জবাব দিন
  2. আহসান আকাশ (৯৬-০২)

    বাহ! দারুন লাগলো। এদের আগের কাহিনিও লিখেছিলে নাকি এখান থেকেই শুরু?


    আমি বাংলায় মাতি উল্লাসে, করি বাংলায় হাহাকার
    আমি সব দেখে শুনে, ক্ষেপে গিয়ে করি বাংলায় চিৎকার ৷

    জবাব দিন

মন্তব্য করুন

দয়া করে বাংলায় মন্তব্য করুন। ইংরেজীতে প্রদানকৃত মন্তব্য প্রকাশ অথবা প্রদর্শনের নিশ্চয়তা আপনাকে দেয়া হচ্ছেনা।