ক্লাস নাইন(২য় পর্ব)

ক্লাস নাইন(১ম পর্ব)
তো মুস্তাকীম এবং হিশাম একটু দেরিতে ডিনার এ গেলো. সেদিন আবার ইংলিশ ডিনার ছিল 😛 বেচারাদের ভাগ্যে আর ভালোভাবে খাওয়া হলোনা। তবে বিল্লাহ স্যার মুস্তাকীম কে আশ্বাস দিয়েছিলেন যে ও ইচ্ছা করলে ঘ্নটার পর ও খেতে পারবে। তো সেদিন আমরা পুরো ক্লাস একটু টেনশনে ছিলাম। 😕 যে ওদের কী হয় সে জন্যে। পরের দিন আরেক অপরাধী কে খোজার কমিটি গঠন করা হলো। শফিক স্যার আমাদের ফর্মে এসে মশিউর কে দেখে শিউর হয়ে গেলেন যে মুস্তোর সাথে মশিউর ও ছিল। উনি বললেন “আমি cock sure” যে মশিউর মুস্তাকীম এর সাথে ছিল।মসিউর অনেক বোঝানোর চেষ্টা করলো, আমরাও বললাম না স্যার মশিউর কখনো যেতে পারেনা। উনি বললো যে, এখন নাকি উপর থেকে স্বয়ং খোদা এসে ওনাকে বললেও নাকি উনি বিশ্বাস করবেন না।তারপর বললেন “cock sure” বোঝো??? মানে হলো মূরগী যেমন প্রতিদিন সকালে ডাকে এটা যেমন সত্য ঠিক মশিউর মুস্তোর সাথে ছিল এটাও উনি সিউর। একটু পর হিশাম ধরা খাইলো। নিজে থেকে স্বীকার করে আসছে। তারপর ওদের পেরেন্টস কল আর ১০০০ টাকা জরিমানা হইসিলো। যেদিন পেরেন্টস কল হয় সেদিন মুস্তো আংকেল এর কাছ থেকে টাকা নিয়ে আসে।
তারপর ২/৩ সপ্তাহ আমাদের মধ্যে কেমন যেন নিস্তেজ নিস্তেজ ভাব চলে আসে। তারপর আবার চাঙ্গা হয়ে উঠি এবং কার্ড কম্পিটিসান ফালাই। ৮টা গ্রুপ হয় প্রত্যেক ফর্ম থেকে ২ জন হসপিটাল লিখে টয়লেটে এসে কার্ড খেলতাম। আমি সব সময় মিল্ক এর পর কার্ড শাফ্লিং করতাম ওইবার আমরা ৮+৫ শিউর করতাম। আমার টিম মেইট ছিল মামুন। তখন আমরা একডেমী তে সিগেরেট খাওয়া শুরু করে দিলাম। কারণ হাউজে ভাইদের ভয়ে খেতে পারতাম না। afternoon প্রেপে আগে চলে আসতাম একাডেমীতে পিটি সুর ভিতর প্যাকেট এবং লাইটার এবং পকেটে থাকতো কাগজে মুড়ানো পেষ্ট। একদিন উপর থেকে একজন ইমিডিয়েট সিনিয়র ভাই এসে বললেন পুরা একডেমী নাকি গন্ধে ভরে গেছে। তারপর থেকে একাডেমীতে খাওয়া নিষেধ হয়ে গেলো। তো আমাদের ক্লাস নাইন এ আর সিগেরেট খাওয়া হয়নাই। তখন আবার এক্সকীউজ এর season আসলো সবাই হস্পিটাল থেকে ১ দিনের এক্সকীউজ পেয়ে ওটাকে ৭/৪ দিন বানাতো। কিছুদিন পর ওইটাও একজন ৯দিন বানাতে গিয়ে ধরা খেয়ে গেলো। আমি আর মুস্তাকীম নতুন প্ল্যান করলাম। আমরা হাস্পাতাল থেকে খালি শীট চুরি করে এনে ওইখানে নিজেরা সু এক্সকীউজ লিখে ডাক্তার স্যার এর সাইন দিয়ে দিতাম। এমন একটা সময় আসলো যে আমরা আর শীট বানাতাম না। নরমালি সেন্ডেল পরতাম ষ্টাফ রা জিজ্ঞেস করতেননা। কীন্তু আমার ভাগ্য আমাকে বেশিদিন সাপোর্ট করলোনা। আমি ৭ম শ্রেণী থেকে ক্লাস ১১ পর্জন্তো ১-৩ নাম্বার টেবিলে ছিলাম। তো নাইন এ ছিলাম ১ নাম্বার এ একদিন কলেজ গেমস প্রীফেক্ট তারিক ভাই, আমাকে ডাইনিং হলে খাওয়ার সময় হাই টেবিলে ডাকলেন এবং চীট দেখতে চাইলেন দেখাতে পারলামনা। হাইজে গিয়ে চরম মাইর এবং সেন্ডেল পরা নিষেধ হয়ে গেলো। টয়লেটে কার্ড খেইলা আর রুমে ক্রীকেট খেইলা আর ভাললাগতেসিলোনা তাই আবার প্ল্যান করলাম কলেজ এর বাইরে যাবো। এটা আমার প্রথম বারের মতো বাইরে যাওয়া। সকাল থেকে উৎসাহে কাপতেসিলাম লাঞ্চ এর পর পারসোনাল ড্রেস পরে ট্রায়াল দিতাম আর মুস্তো রে বলতাম দেখতো কেউ দেখলে চিনবে?? মুস্তো খুব খেপতো কারণ ও আর বাইরে যাবেনা কখনো প্রতীজ্ঞা করসে। তখন শীতকাল ছিল মাঙ্কী ক্যাপ কালো পুলওভার, কালো প্যান্ট পড়ে ট্রায়াল দিচ্ছিলাম। রাতে ডিনার এর আগে আমি,রেজা এবং লাইমুন টয়লেটে চলে গেলাম। ডিউটিতে ছিলেন ফারুক স্যার, উনি কী একটা ম্যাগাজিন পড়তে সিলেন(পোলাপানের মতে play boy) আমরা টয়লেটে গেলাম। গিয়ে শার্ট খুলে মুস্তো কে রাখতে দিলাম। আর আমরা একজন একজন করে টয়লেট এর পিছন দিয়ে লাফ দিয়ে নিচে পড়লাম। তারপর দৌড় দিয়ে বাউন্ডারীর কাছে গেলাম(মুস্তোরা ধরা কাবার পর কিছু নতুন নিয়ম আসে কলেজে যেমন কলেজ ডিউটি ক্যাডেটকে একটা রোষ্টারে প্রত্যেক ফর্ম এ কয়জন হাস্পাতালে ভর্তি,কয়জন লিভে এইসব লিখে ভিপি কে দিয়ে আসতো হতো। আর আগে একাডেমীর পিছনে লাইট ছিলোনা পরে লাইট দেয়া হয়) বাউন্ডারীর সাথেই ছিল গার্ডদের ছোট টয়লেট আমরা টয়লেট এর উপর উঠে তারকাটার উপর দিয়ে লাফ দিলাম।(বাস চলাকালীন লাফ দেয়া যাবেনা কারণ বাসের লাইট এর আলোতে আপনাকে হয়তোবা দেখা যাবে আমি এবং রেজা ভালোভাবে নামলাম সমস্যা হলো লাইমুন কে নিয়ে ও লাফ দেয়ার সময় তারকাটায় আটকায় গিয়া সারা শরীর কেটে অবস্থা খারাপ করে ফেলসে, তাড়াতারি আমরা সাত মাইল এর ফার্মেসীতে গিয়ে অর ব্যাবস্থা করি কিন্তু কষ্টের ব্যাপার টিটেনাস পাওয়া গেলোনা। এবং মজার ব্যাপার আংকেল বুঝে ফেললো আমরা ক্যাডেট। এবং বললেন এর পরের বার থেকে আসলে উনি আমাদের জন্য পিছনে জায়গা করে দিবেন। আমরা সেখানে ড্রেস চেঞ্জ করতে পারবো এবং খুবই দুখী হলেন যে আমাদের মতো মেহমান কে কিছু খাওয়ানো তো দূরের কথা টিটেনাস দিতে পারলেননা। তবে ৪০ টাকা দিয়ে ২ সেট কার্ড কিনে দিলেন। ওইবার আমরা তাড়াতাড়ি চলে আসলাম
লাইমুনের কারণে। আমরা আবার মুস্তোর মত ছিলাম না। ও বাইরে গেলে সবার জন্য লাভ কেন্ডী নিয়ে আসতো তারপর আবার টয়লেট এর পিছন দিয়ে আসলাম ভিতর থেকে পোলাপান সাহাজ্য করলো ওঠার জন্য। তার ড্রেস আপ করে ফর্মে ঢোকার সময় দেখলাম ফারুক স্যার এখনো ম্যাগাজিন পড়তেসে। ফর্মে ঢোকার পর মনে হলো নিজেকে প্রেসিডেন্ট। সবাই কত কী জিজ্ঞাসা করে। কোন কোন স্যার এর সাথে তোদের দেখা হইসে, ওই স্যার তোদের দেখেনাই???এইসব আর কলেজ ক্যাম্পাসের ছেলে সামীন এসে জিজ্ঞাস করলো কোন ফার্মেসী, নাম কি? মসজিদের আগে নাকি পড়ে? লাইব্রেরীয়ান এর সিডি দোকান দেখসি নাকি(যেখানে কী নাকি পাওয়া জায়)। তবে সবচাইতে মজা পাইসি এই কথা বলতে যে লাইমুন কীভাবে ঝুলে ছিল বাউন্ডারীতে।
ডিনার এ জাওয়ার পর শাকীর ভাই বললো কীরে তুই আজকে বাইরে গেসোস ক্যান আমি কই নাতো আমি জাবো কী জন্য। উনি উপরের টয়লেট থেকে দেখসিলো। শাকীর ভাই বললো “ তোরে আজকে হাইজে জেই ড্রেসে রুমে হাটতে দেখসি সেই ড্রেসে তোরে বাইরে দেখসি আর তোরা ৩টা ইনত্রীস(১;৩) ফলীন করে আসতেসিলি। কী আর করার স্বীকার করতে হইলো। ইমিডিয়েট সিনিয়র কিছু তো আর বলবেনা।
তবে আমাদের জন্য যে এত মজা অপেক্ষা করতেসিলো তা জানতামনা। পরের দিন সকালে লাইমুন সীক রিপোর্ট করে। ওরে জলিল ভাই জিজ্ঞাস করলো এইভাবে ব্যাথা পাইলা ক্যামনে??? এইভাবে তো ব্যাথা পাওয়ার কথা না??? লাইমুন পাইসে সুজগ ও দিল ঝাড়ি কলেজের কোনো নিয়ম কানুন আছে??? যেখানে সেখানে তারকাটা ফালাই রাখেন। ফুটবল খেলতে গিয়া ঘাসে পড়লাম উইঠা দেখি গায়ে তারকাটা ঢুইকা গেসে। তাড়াতাড়ি টিটেনাস দ্যান। সামনা সামনি আমরা যখন দেখলাম হাস্তে হাস্তে আমাদের অবস্থা খারাপ আমাদের চোখের সামনে ভেসে আসে তারকাটার উপর ঝুলন্ত লাইমুন।

চলবে………………।।

১,৮৯৬ বার দেখা হয়েছে

২৭ টি মন্তব্য : “ক্লাস নাইন(২য় পর্ব)”

  1. শাহরিয়ার (২০০৪-২০১০)
    পারসোনাল ড্রেস পরে ট্রায়াল দিতাম আর মুস্তো রে বলতাম দেখতো কেউ দেখলে চিনবে
    (পোলাপানের মতে play boy)

    :)) :)) :)) =)) =)) =))


    People sleep peaceably in their beds at night only because rough men stand ready to do violence on their behalf.

    জবাব দিন
  2. মইনুল (১৯৯২-১৯৯৮)
    সামনা সামনি আমরা যখন দেখলাম হাস্তে হাস্তে আমাদের অবস্থা খারাপ আমাদের চোখের সামনে ভেসে আসে তারকাটার উপর ঝুলন্ত লাইমুন।

    ছেলেটার জন্য খারাপ লাগছে, তার পরেও দৃশ্যটা কল্পনা করে না হেসে পারছিনা। :))

    জবাব দিন
  3. মাহমুদ (১৯৯০-৯৬)
    লাইমুন পাইসে সুজগ ও দিল ঝাড়ি কলেজের কোনো নিয়ম কানুন আছে???

    :)) :just: :pira:

    বিঃদ্রঃ লেখায় দাড়ি-কমার ব্যবহারটা আরেকটু খেয়াল রাখলে পড়ার মজাটা বাড়ত।


    There is no royal road to science, and only those who do not dread the fatiguing climb of its steep paths have a chance of gaining its luminous summits.- Karl Marx

    জবাব দিন
  4. রকিব (০১-০৭)

    যাক পোলাটা আসলেই ভালো, কইতে না কইতেই ক্লাশ নাইন পাস কইরা ফেললো। নে চা :teacup: খা। লেহা ভালো লাগছে; তবে লাইমুনের জন্য খারাপ লাগলো, পোলাডা আর কাম পাইলো না, কাটাতারে গিয়া নিজেরা ঝুলাইয়া দিলো শুকানোর জন্য :grr: ।


    আমি তবু বলি:
    এখনো যে কটা দিন বেঁচে আছি সূর্যে সূর্যে চলি ..

    জবাব দিন
  5. আহসান আকাশ (৯৬-০২)
    (পোলাপানের মতে play boy)

    ইংলিশের ফারুক স্যার হলে সহমত... :grr:


    আমি বাংলায় মাতি উল্লাসে, করি বাংলায় হাহাকার
    আমি সব দেখে শুনে, ক্ষেপে গিয়ে করি বাংলায় চিৎকার ৷

    জবাব দিন
  6. মুসতাকীম (২০০২-২০০৮)

    ভালো লিখছোস। :clap: :clap: :clap:
    আম কাঠাল তাল খাবার কাহিনি কই???????????????? x-( x-( x-(


    "আমি খুব ভাল করে জানি, ব্যক্তিগত জীবনে আমার অহংকার করার মত কিছু নেই। কিন্তু আমার ভাষাটা নিয়ে তো আমি অহংকার করতেই পারি।"

    জবাব দিন
  7. হাসান (১৯৯৬-২০০২)
    লাইমুন পাইসে সুজগ ও দিল ঝাড়ি কলেজের কোনো নিয়ম কানুন আছে??? যেখানে সেখানে তারকাটা ফালাই রাখেন। ফুটবল খেলতে গিয়া ঘাসে পড়লাম উইঠা দেখি গায়ে তারকাটা ঢুইকা গেসে। তাড়াতাড়ি টিটেনাস দ্যান।

    :goragori: :khekz: :just: :pira:

    জবাব দিন
  8. শোভন (২০০১-২০০৭)
    কী আর করার স্বীকার করতে হইলো। ইমিডিয়েট সিনিয়র কিছু তো আর বলবেনা।

    নাজমুল ভাল হইছে........ এস.এস.সি পরীক্ষার সময় ডাব চুরির কাহিনি মনে পইরা গেলো....

    জবাব দিন

মন্তব্য করুন

দয়া করে বাংলায় মন্তব্য করুন। ইংরেজীতে প্রদানকৃত মন্তব্য প্রকাশ অথবা প্রদর্শনের নিশ্চয়তা আপনাকে দেয়া হচ্ছেনা।