খেরোখাতা – ছোট্ট বেলার নায়কেরা

১।

জাহাজের বদ-রাগী ক্যাপ্টেন গুলি করে খালাসী ব্যাটাকে প্রায় মেরেই ফেলেছিল আর কি। শেষ মুহুর্ত্তে তিনি হাত দিয়ে ক্যাপ্টেন কে ঠেলে দেয়াতেই সেই যাত্রায় বেঁচে গেল খালাসীটা। অবশ্য কৃতজ্ঞ খালাসী এর প্রতিদান দিতে সপ্তাহ দেড়েকে বেশি নিলনা যখন তার নেতৃত্বে সব অফিসারকে মেরে মেরে জাহাজ দখল করে নিল কর্মচারীরা। খালাসীটা প্রানে বাচিয়ে রাখল তাকে, কিন্তু অন্য বিদ্রোহীদের চাপে তাকে তার অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী সহ নামিয়ে দিতে বাধ্য হল কঙ্গোর গহীন জঙ্গলে, সংগে মাস খানেকের রসদ আর কিছু গোলাবারুদ। একা এই গহীন জঙ্গলে আর কত দিনই বা টিকে থাকা যায়? এর মাঝে স্ত্রীও ঘোরের মাঝে চলে গেছেন, স্ত্রী মনে করতেন তিনি লন্ডনেই আছেন, ফুটফুটে এক বাচ্চার জন্মও দিলেন। কিন্তু বেশী দিন টিকে থাকতে পারলেন না বৈরী এই পরিবেশে গরিলা সর্দারটা জন্য। ওত পেতে ছিল সে তিনি জঙ্গলে নামার পরদিন থেকেই, গুলির আওয়াজে ভয় পায় বলে বেশি কিছু করতে পারেনি। বাবা মাকে মেরে ফেলার পর গরিলা সর্দারটা বাচ্চাটাকেও ছুঁড়ে মেরে ফেলতে চেয়েছিল, পারেনি শুধুমাত্র “চিতারা”র জন্য। পরম মমতায় বাচ্চাটাকে নিজের বুকে তুলে নিল চিতারা। তার দুধ পান করতে দিল। বড় করতে লাগল তাকে আস্তে আস্তে নিজের সন্তানের মত করে।

আর এভাবেই এডগার রাইস বারোস তৈরি করলেন আমার ছেলেবেলার সবচেয়ে প্রিয় নায়ক টারজানকে।

টারজানের বই আক্ষরিক অর্থেই গোগ্রাসে গিলতাম। গাছের লতানো ঝুড়ি নিয়ে দোল দিয়ে দিয়ে এক গাছ থেকে আরেক গাছে যাওয়া, বাবার তৈরী কুড়েঘরের ডাইরী পাতা আনমনে নাড়াচাড়া, চিতারা মৃত্যুতে হাহাকার, এরপর একদিন গরিলা সর্দারকে মেরে নিজেই গরিলাদের সর্দার হয়ে যাওয়া, সংগে বাবার মৃত্যুর প্রতিশোধতো ছিলই। এরপর রোমাঞ্চের শিহরন উঠলো যখন বুনো টার্জান অবাক হয়ে দেখল একদম তার মত দেখতে একদল লোক আসল তার বাবার কুড়েঘরে। সেখানের একজনকে তার মনে ধরল খুব, তাকে আবার আরেক গরিলা টার্জাক অপহরন করে নিয়ে গেল। প্রিয় নায়কের মতই টার্জান মেরে ফেলল টার্জাককে, উদ্ধার করল “জেন” কে। জেন তাকে শিখালো সভ্য সমাজের নিয়ম কানুন, লেখাপড়া, আরও কত কি।

দৈনিক ইত্তেফাকে হঠাৎ করেই শুরু করল টার্জানের সিরিয়াল দিয়ে কার্টুন। তিন-নম্বর পৃষ্টায়। আমি এদিক-ওদিক থাকি, পড়া হয় না দেখে আব্বা সব গুলো কার্টুন কেটে কেটে আঠা লাগিয়ে বই বানাতেন। আমি মজা করে পড়তাম বাসায় গিয়ে। পরে আব্বা নিজেই এর নেশায় পড়ে যান। একবার দৈনিক ইত্তেফাক কি কারনে কয়েকদিন কার্টুন ছাপানো বন্ধ রাখে। এরপর নতুন সিরিজ শুরু করে তারা পুরোনোটা শেষ না করেই, আব্বা বিশাল এক ঝাড়ি দিয়ে একটা চিঠি লিখে ফেলেন সম্পাদককে, তাদের দায়িত্বজ্ঞানহীন কাজের জন্য।

২।

রবিন হুড নটিংহামে এসেছিল তীর প্রতিযোগীতায় অংশ নেয়ার জন্য। কি একটা ঝামেলা হোল তার শেরিফের সংগে, হুলিয়া জারি হয়ে গেল তার নামে। পাশের শেরউডের জংগলে পালিয়ে গেল সে। কয়েকদিন এলোপাতাড়ি ঘুরে একটা দলের দেখা পেল, সবাই তারা যুবক এবং নানা ভাবে অতিষ্ট হয়ে উঠেছে অভিজাত শ্রেনী, সন্ন্যাসী আর শেরিফের অত্যাচারে। এই দলটার নেতৃত্ব ঠিক হল সেরা তীরন্দাজ বাছাইয়ের মাধ্যমে, জিতে গেল রবিন, হয়ে গেল দলের নতুন নেতা। কিছুদিনের মধ্যে দলে আসল বিশালাকার দৈত্যাকৃতি চেহারার জন লিটল, নাম বদলে হয় গেল লিটল জন। দলের পোশাক ঠিক হল লিনেনের সবুজ কাপড়, মাথায় হ্যাট, পাখির পালক গোজা, হাতে ওকের বিশাল লাঠি, পিঠে পেল্লাই ধনুক আর তুণে ভরা তীর। ডেরা বাধল তারা একদম শেরউড জংগলের মধ্যখানে। কিছুদিনের মধ্যেই দলে আসলেন অদ্ভুত পাগল এক সন্ন্যাসী, “ফ্রায়ার টাক”, বিশাল বপু তার, তরবারীতে সিদ্ধহস্ত।

প্রতিদিন রাতে শেরউডের বনে ভোজনের আয়োজন হত। অতিথি হিসাবে ধরে আনা হত জঙ্গলেরর পাশ দিয়ে যাতায়াত করা অভিজাত শ্রেনীর লোকজন দের। হরিনের মাংস দিয়ে ভুরিভোজের আগে হত লাঠি খেলা, তীর চালানো, মল্লযুদ্ধ আর গান বাজনা। ভুরিভোজের পরে, পারিশ্রমিক হিসাবে অতিথির টাকা পয়সা সব রেখে দেয়া হত। কারন এটাই ছিল নিয়ম। তাই গরীব লোকজন ছাড়া, শখ করে কেউ এই ভোজ খেতে চাইত না।

এভাবেই গল্প এগিয়ে যায়। রবিন হুড টাকা পয়সা নিজেদের কাছে রাখত না, বিলিয়ে দিত গরীব দুঃখীদের। নটিংহামের অধিকাংশ মানুষের প্রিয় হয়ে উঠে রবিন, অন্যদিকে তাকে ধরতে মরিয়া হয়ে উঠে নটিংহামের শেরিফ, শুরু হল চোর পুলিশ খেলা, রবিন ধরাও পড়ল একবার, চালান করে দেয়া হল তাকে রাজা রিচার্ডের কাছে, লিটল জনের নেতৃত্বে আবার তাকে ছাড়িয়েও আনলো রবিন হুডের দল। ঘটনা জমে উঠল যখন রাজা নিজেই ছদ্দবেশে ঘুরে বেড়াতে থাকলেন শেরউডের আশেপাশে, রবিনের ভোজ খাবার আশায়। কারন তিনি দেখতে চান, রবিন কে তার দলের লোক কেন এত সম্মান করে, রাজার চেয়েও বেশি। রাজা আশা পূরন হয় যেদিন তিনি অভিজাত পোশাক পড়ে সন্ধ্যার দিকে শেরউডের পাশ দিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা করেন।

ঢাউস এই বইটা পেয়েছিলাম সেবা থেকে, বাসায় কে এনেছিল মনে নেই, বড় ভাইদের কেউ হবে হয়ত। এটার সাইজ প্রথমে এটাকে পড়তে নিরুৎসাহিত করেছিল, সত্য কথা বটে, তবে এটাও সত্য, রবিন হুড পড়েই আমি আর ভাইয়া তীর-ধনুক বানিয়ে তীর চালানোর অনুশীলন শুরু করেছিলাম। পাড়ার মধ্যে পিঠে ধনুক আর হাতে তীর নিয়ে ঘুরতাম, অনেকটা রবিন যেভাবে ঘুরতো শেরউডের জঙ্গলে।

৩।

বুনো পশ্চিম কে প্রথম চিনেছিলাম “এরফান জেসাপ” কে দিয়ে। সেই শুরু।

এরপর কতকিছু শিখলাম, ষ্ট্যালিয়নে (ঘোড়ার নাম) কিভাবে চড়তে হয়, ল্যাসো ছুড়ে ধরতে হয় ঘোড়া কিংবা বুনো গরু, ট্র্যাকিং শিখলাম, ক্রীকের পাথুড়ে পানিতে পায়ের ছাপ সহজে পড়ে না, বৃষ্টি না হলে পানি জমিয়ে রাখতে হবে, নতুবা গরু গুলো খাবে কি, ঘোড়ার পায়ে নাল পড়াতে হবে, পাথরে ঘসে ঘসে আগুন জ্বালানো, আবার শত্রুরা যদি বাতাসের দিকে থাকে, তবে আগুন জ্বালানো যাবে না, তিন-চার দিন তো বটেই, চাইকি পুরো সপ্তাহ খেতে হবে শুধু শুকনো খাবার আর পানি।

ওসমান পরিবার আমাকে শিখিয়েছিল কিভাবে জিন ছাড়াই ঘোড়ার পিঠে চড়তে হয়, লাগাম ছাড়াই চালাতে হয় ঘোড়া। আমি আমার হোলষ্টার একটু নীচু করে বাঁধতাম, যেমন করে বাঁধে গানম্যানরা। সিক্স-শুটার গান আমার প্রিয় অস্ত্র ছিল, আর সবচেয়ে অপছন্দের ছিল শটগান। অ্যামবুশ আমি মোটেই পছন্দ করতাম না, কাপুরুষের কাজ মনে হত, আর সবচেয়ে প্রিয় কাজ ছিল গরুর পাল নিয়ে একখান থেকে আরেক খানে ছুটে চলা।

ছোট্ট একটা বাথান ছিল আমার, পাহাড়ের খাজে, পাশে ক্রীক, সন্ধ্যা হলেই ফোরম্যান এসে বলে যেত গরুগুলো র‌্যাঞ্চে ফিরেছে কিনা, আমি আয়েশ করে ফায়ার প্লেসের পাশে পাইন কাঠের টেবিলে কফি নিয়ে বসতাম, সোনালী চুলের প্রেমিকা রুটি সেঁকত আমার জন্য, বাচ্চারা খেলা করত কাউবয়দের সংগে।

আহা সেবা প্রকাশনী, তোমার ঋন কি কোনদিন শোধ করতে পারবো বলে মনে হয়?

৫,৩৭১ বার দেখা হয়েছে

১০৫ টি মন্তব্য : “খেরোখাতা – ছোট্ট বেলার নায়কেরা”

  1. সামি হক (৯০-৯৬)

    খেরোখাতায় দেখি এইবার নায়িকারা নাই B-) ...তিন গোয়েন্দারা আপনার ছোট বেলার নায়ক ছিল না? আহা তিন গোয়েন্দার মতো কতবার ট্রেইলারের মধ্যে অফিস বানিয়েছি, আর সোনালী চুলের জিনা :shy: ...

    আমার সব সময়েই মনে হয় এক সেবা বাঙ্গালী কে যতো বই পড়া শিখায়েছে আর কেউ মনে হয় ওতো পারে নাই।

    টারজানের বাবা মা র না প্লেন এ্যাক্সিডেন্ট করে আফ্রিকার জংগলে পড়ছিল? টারজানের ইয়া মোটা একটা বই বের হইছিল কলকাতার এক প্রকাশনী থেকে অইখানে তো ওই ভাবেই লিখা ছিল। টারজান অমনিবাস বইটা পাগলের মতো পড়ছিলাম।

    ফয়েজ ভাই আপনি মানুষ ভালা না খালি পুরান দিনের কথা মনে করায়ে মন খারাপ করান। তারপরও আপনাকে :boss: :salute:

    জবাব দিন
    • ফয়েজ (৮৭-৯৩)

      তিন গোয়েন্দা প্রথম দিকে নায়ক তো ছিলই, পরে মনে হচ্ছিল এই ব্যাটারা ভাড়ামো শুরু করেছে।

      আরও নায়ক ছিল টম স্যায়ার আর হাক ফিন (হাকলবেরী ফিন) দুই চউক্ষে দেখতে পারতাম না মাসুদ রানারে, শালা লুইস একটা।

      আমি টারজানের টারজান হয়ে উঠা অনেক ভাবে দেখেছি, তবে স্মৃতি যদি প্রতারনা না করে তবে এডগার রাইস এভাবেই দেখিয়েছিলেন টারজানের শৈশবকে।


      পালটে দেবার স্বপ্ন আমার এখনও গেল না

      জবাব দিন
  2. আহা সেবা প্রকাশনী, তোমার ঋন কি কোনদিন শোধ করতে পারবো বলে মনে হয়?

    ভাই সহমত। :thumbup:

    ভাইয়া, অনেক কথা মনে করায়া দিলেন। কত্ত সুন্দরী নায়িকারা ছিলো!! :dreamy: :dreamy:
    কতবার যে আমি ক্যাপ্টেন নিমোর সাথে সাগর তলে গিয়েছি, কতবার যে সুইস ফ্যামিলি রবিন্সনের সাথে বনের মাঝে সপরিবারে কাটিয়েছি আনন্দে...
    কতদিন যে নোংগর-ছেঁড়া জাহাজে করে পাড়ি দিয়েছি...

    আহা! বলতে পারতেছি না সংক্ষেপে :bash:
    একটা পোস্ট দিতে ইচ্ছা করতেছে ...

    ভাই, কী যে মনে করায়া দিলেন!!! :dreamy: :dreamy:
    দারুণ সুন্দর লেখা হইছে। ৫ তারা দিয়ে দিলুম 😀

    জবাব দিন
    • ফয়েজ (৮৭-৯৩)

      রবিনসন ক্রুশো বড় কষ্টে ছিল, এর চেয়ে বহুত আরামের জীবন ছিল সুইস ফ্যামিলি রবিনসনের।

      ঠিক ঠিক, জ্যাক হইছিলাম, ডোনাগান বেশি উলটাপালটা করত, টাইট করতে ঝামেলা হইছিল খুব।

      আর জুলভার্ন, আহারে, যদিও আমি পানিকে ডরাই খুব, সাতার পারি না তো।


      পালটে দেবার স্বপ্ন আমার এখনও গেল না

      জবাব দিন
  3. মুহাম্মদ (৯৯-০৫)

    নাহ, আমার লাইফটা বড়ই পাইনসা। ছোটবেলায় এইসব কিছুই পড়ি নাই। সিক্স-সেভেনের দিকে শুধু রবিন হুডটা পড়া হয়েছিল।

    আব্বা বিশাল এক ঝাড়ি দিয়ে একটা চিঠি লিখে ফেলেন সম্পাদককে, তাদের দায়িত্বজ্ঞানহীন কাজের জন্য।

    আব্বারা কিভাবে এত বস হয় ভেবে পাই না 🙁

    ছোটবেলায় না পড়লেও একটু বড় হয়ে সেবার বেশ কিছু বই পড়েছি। তবে তিন গোয়েন্দা বা মাসুদ রানা কিছুই পড়া হয়নি। অনুবাদ পড়া হয়েছে ভালই। সেবার সাথে আমার সবচেয়ে ভাল সম্পর্ক হয়েছিল হেনরি রাইডার হ্যাগার্ডের অনুবাদের মাধ্যমে। হ্যাগার্ডের সব বই শেষ করেছি সেবার হাত ধরেই। সেবাটা আজীবন ঋণী করে রাখবে।

    জবাব দিন
    • ফয়েজ (৮৭-৯৩)

      কিংস সলোমন মাইন্স তো অসাধারন। গুপ্তধন খুজে পাওয়া বুড়ির পাহাড়ের ধরজা বন্ধ করে দেয়া, এরপর গুহা দিয়ে ক্রলিং করে করে বের হয়ে আসা, আহা।

      তবে এরা নায়ক ছিল না, বুড়া ছিল তো সবডি। 😀


      পালটে দেবার স্বপ্ন আমার এখনও গেল না

      জবাব দিন
  4. শার্লী (১৯৯৯-২০০৫)

    আমার ছোট বেলার নায়ক চাচা চৌধুরি আর সাবু। এই কমিকটা গোগ্রাসে গিলতাম। আর টিনটিন ও ভালো লাগত। তবে আমার সবচেয়ে প্রিয় ছিল হারকিউলিস(যদিও তখন আমি খুব ছোট না)। এছাড়া সিন্দবাদকেও খুব ভালো লাগত।

    জবাব দিন
  5. শওকত (৭৯-৮৫)

    আহা। বহুদিন পর এরফানের কথা মনে পড়লে। এখ ওয়েষ্টার্ন পড়ে আর মজা পাই না। আর তখন পাগলের মতো পড়তাম। আসলেই সেবা আমারদের জন্য খুব ভাল একটা কাজ করে রেখেছে।

    ছোটবেলার নায়িকাদের নিয়ে একটা পোস্ট লিখতে মঞ্চায়।

    জবাব দিন
  6. মইনুল (১৯৯২-১৯৯৮)

    ছোটবেলায় তিন গোয়েন্দার রুপালী মকড়সা আর এ টেল অফ টু সিটিজ দিয়ে সেবার সাথে পরিচয়। এরপরে চিলড্রেন অফ দ্য নিউ ফরেস্ট, লাভ অ্যাট আর্মস, শী, রিটার্ন অফ শী, অ্যালান কোয়াটারমেইন, ক্রিস্মাস ক্যারল, থ্রী মাসকেটিয়ার্স, ম্যান ইন আয়রন মাস্ক, থ্রী ম্যান ইন আ বোট - কতবার যে পড়েছি ঠিক নাই। মাসুদ রানা পড়া শুরু করেছিলাম ক্লাস ১১ এ।

    আহা সেবা প্রকাশনী, তোমার ঋন কি কোনদিন শোধ করতে পারবো বলে মনে হয়?

    :thumbup: :thumbup: :thumbup:

    জবাব দিন
  7. জাহিদ (১৯৯৯-২০০৫)
    শী, রিটার্ন অফ শী, অ্যালান কোয়াটারমেইন,

    এই তিনটা বই নিয়ে আমার বেশ খারাপ অভিজ্ঞতা আছে। শেয়ার করিঃ

    তখন ক্লাস ৭-৮ এ পড়ি। এক বন্ধুর কাছে বইগুলা দেখলাম। যথারীতি লাইন (তোর পরে আমি টাইপের)। প্রথম বই পড়া শেষ করার আগেই তার সাথে কি নিয়ে যেন গন্ডোগোল :duel: :duel: , যথারীতি বইটা ছুঁড়ে মারলাম, :tuski: (তোর বই আর পড়বোনা)তখন তো সিরাম ভাবে :ahem: :ahem: থাকতাম। কিন্তু বইয়ের মায়া আর ছাড়তে পারি না। বুদ্ধি করলাম, সবার পরে রুম থেকে বের হতাম বইটা সাথে করে, ক্লাসে বসে পড়তাম, আবার সবার আগে রুমে এসে অর বই যেখানে ছিলো সেখানে রেখে দিতাম। এই ভাবে ১টার্মে ৩টা বইই শেষ করলাম :awesome: :awesome: :awesome: :awesome: ।

    পড়া শেষ করার পর ধরাও খাইছিলাম :no: :no: । সে এক বিশাল ইতিহাস। যেদিন ব্লগ লেখা শুরু করব, সেদিন লেখব

    জবাব দিন
  8. সাজিদ (২০০২-২০০৮)

    আহ সেবা :boss: :boss: .... রকিব হাসানের লেখা তিন গোয়েন্দা সব গুলা পড়া, নতুন লেখক আসার পর আর পড়ি নাই কারন তার মত লিখতে পারতনা 🙁 🙁 , এর পর ৯এ শুরু করি মাসুদ রানা B-) , ১ বছরের মধ্যেই প্রায় ৩০০ বই পড়ে ফেলসিলাম B-) B-) , একবারতো কলেজে মাসুদ রানা সহ সেবার বই ব্যান করে দেয়া হইসিল x-( x-( , আমি তাও লুকায় লুকায় প্রায় ২০-২৫টা বই ঢুকাইসিলাম কলেজে পুরা টার্মের রসদ হিসেবে, কিন্তু ধরা খেয়ে যাই হাউসমাস্টার আবুল হুসেন সারের কাসে 😕 😕 , উনি ওনার খাটি কোলকাতার উচ্চারনে সান্টিং দিসিল "তোমার লজ্জা করে না এই ধরনের খারাপ(!) বই পড়তে, তোমার বাবা মা শুনলে কি বলবে" আমি সাহস করে বলে ফেলসিলাম সার কিসুই বলবেনা কারন ওনারাইতো কিনে দিসে 😀 😀 আমার মাও আবার মাসুদ রানার বিরাট ফ্যান কিনা :awesome: :awesome: ।

    জবাব দিন
  9. হিল্লোল (৯২-৯৮)

    ফয়েজ ভাই অনেক কথা মনে করিয়ে দিলেন। আপনার লিস্টেড সবগুলা তো আমার হট ফেবারিট , আপনিক খুব সুন্দর করে রিভিউ দিছেন , মনে হচ্ছিল সরাসরি বইইয়ের জগতে চলে গেছি।আর একটা বইইয়ের কথা না বললেই না , সেটআ হল সী আর রীটান' অব সী। আমার মনে প্রেপ টাইমে পড়তে গিয়ে বাংলা ম্যাডামের কাছে ধরা খাইছিলাম।

    জবাব দিন
  10. আজীজ হাসান মুন্না (৯১-৯৭)
    আহা সেবা প্রকাশনী, তোমার ঋন কি কোনদিন শোধ করতে পারবো বলে মনে হয়?

    🙂

    ফয়েজ ভাই, ঋন শোধ করা সম্ভব না এক জীবনে .... কারন আমাদের শৈশবটাকে তো রঙ্গীন করেছে সেবাই।

    অসাধারন এই লেখাটি পড়ে আর কমেন্ট না করে পারলাম না।

    জবাব দিন
  11. রকিব (০১-০৭)

    টারজান, রবিন হুড দুইটারেই ভালো পাইতাম। আমার আবার টারজানের মতো একখান প্যান্ট বানানোর শখ ছিল, প্যান্ট একটা কেচি দিয়ে কেটে সাইজও করছিলাম, আম্মার ঝাড়িতে আর শখ মেটানো হয় নাই 🙁 ।
    একস্কম্য দেদারসে ওয়েস্টার্ন, তিন গোয়েন্দা গিলছি, মাঝখানে কয়েকদিন বনহুর আর কুয়াশাও খাইছিলাম। সবচেয়ে ভালো পাইছিলাম সেবার অনুবাদগুলো; সত্যি বলতে অনুবাদের প্রতি আমার আকর্ষণ জন্মাবার পেছনে মুখ্য ভূমিকা সেবার।
    ফয়েজ ভাইয়া, অসংখ্য ধন্যবাদ এমন চমতকার একটা লেখার জন্য। জোশ :salute:


    আমি তবু বলি:
    এখনো যে কটা দিন বেঁচে আছি সূর্যে সূর্যে চলি ..

    জবাব দিন
  12. আজীজ হাসান মুন্না (৯১-৯৭)

    মাসরুফ
    আল্লাহর দুনিয়াতে সেবার এতো ভালো ভালো বই থাকতে তুমি অই বইডা কেন পড়তে গেলা ??? =)) =)) =)) =))

    অফ টপিকঃ নায়িকা জানি কেডা আছিল সোহানা নাকি অনীতা গিলবারট ? 😀 ।।বইতা কিন্তু সেইরাম 😀

    জবাব দিন
  13. আহসান আকাশ (৯৬-০২)
    আহা সেবা প্রকাশনী, তোমার ঋন কি কোনদিন শোধ করতে পারবো বলে মনে হয়?

    আহ কত কথা মনে করিয়ে দিলেন ফয়েজ ভাই... সেবা নিয়ে আগে একটা পোস্ট দিছিলাম গল্প বলার গল্পে


    আমি বাংলায় মাতি উল্লাসে, করি বাংলায় হাহাকার
    আমি সব দেখে শুনে, ক্ষেপে গিয়ে করি বাংলায় চিৎকার ৷

    জবাব দিন
  14. দিহান আহসান

    সালাম ফয়েজ ভাই। পুরোন কথা মনে করে দিলেন।এখনতো আবার বইগুলো পড়তে ইচ্ছে হচ্ছে।কিন্তু এখানে তো সেই সুযোগ টা নাই। :bash: ভাইয়া সব দোষ কিন্তু আপনার :((
    কার্টুন দেখেছিলাম দুটোই, আমার ভাই দুইটাই তখন রবিনহুড হত। সেবা'র কাছে অনেক ঋণী। এখন ছেলেদের দেখলে শৈশবে ফিরে যাই আবার। :dreamy:

    জবাব দিন
  15. আহসান আকাশ (৯৬-০২)

    রেজা-সুজার লোমহর্ষক সিরিজটাও চরম লাগত...তবে হুট করে শেষ করে দিছিল 🙁


    আমি বাংলায় মাতি উল্লাসে, করি বাংলায় হাহাকার
    আমি সব দেখে শুনে, ক্ষেপে গিয়ে করি বাংলায় চিৎকার ৷

    জবাব দিন
  16. আজীজ হাসান মুন্না (৯১-৯৭)

    আমাদের সময় জেসিসিতে ছিলেন ফজলুল কড়িম স্যার (আমরা বলতাম ফক) আর নাজনীন ম্যাডাম দম্পত্তি। ইনারা দুইজনেই ছিলেন সেবা প্রকাশনীর ভয়াবহ রকম ভক্ত পাঠক। উনাদের ব্যক্তিগত সংগ্রহে ছিল সেবার অনেক অনেক বই। মিঃ ফকের কাছে শুনেই প্রথম হেনরী শ্যারিয়ারের প্যাপিলন পড়তে উদ্বুদ্ধ হই। মুভিটাও উনাদের ব্যক্তিগত সংগ্রহে ছিল কিন্তু অনেক বার চাওয়া সত্বেও দেন নি - যুক্তি ছিল অনেক দুষ্টু দুষ্টু দৃশ্য আছে যা ক্যাডেটদের দেখার জন্য উপযোগী না (এই সব বলে আমাদের আগ্রহটা আরো বাড়িয়ে দিতেন ফক):D

    নাজনীন ম্যাডাম ইউনিভারসাল নামে একটা ভুগোলের গাইড বের করেছিলেন সেই সময়(বায়োলজীর আতিক স্যারের প্রানপঙ্ক-এর সাফল্যে অনুপ্রানিত হয়ে) এবং আমি উনার অনেক গুলো গাইড বাইরে বিক্রি করে দিয়েছিলাম (কলেজ ছুটিতে বাড়ী যেয়ে) তাই খুশী হয়ে ম্যাডাম আমাকে তার সংগ্রহের সেবা থেকে বেশ কিছু বই পড়তে দিয়েছিলেন। ম্যাডাম আবার বেশী পড়তেন মাযহারুল করীমের সেবা রোমান্টিক। মমতাময়ী নাজনীন ম্যাডাম কোন ক্যাডেটকে অসময়ে সেবা পড়তে দেখলে শাস্তি না দিয়ে বইটা সীজ করে নিয়ে নিজেই পড়ে ফেলতেম এবং উনার মুখেই শুনেছি ফক স্যারও উনার পরেই বুকিং দিয়ে রাখতেন। 🙂

    জবাব দিন
  17. রবিন (৯৪-০০/ককক)

    স্কুলে থাকতে একবার তিন জন তিন গোয়েন্দা বানিয়েছিলাম। এমনকি কার্ডও ছাপিয়ে ফেললাম। তারপর কেস খুজে না পাওয়াতে আর গোয়েন্দাগিরি করা হলো না। কেস খুজতে একটা অনেক পুরাতন রাজবাড়ি (পোড়া বাড়ি টাইপ এর) গিয়ে কয়েকদিন ঘুরেছিলাম :)) :))

    জবাব দিন
  18. কামরুল হাসান (৯৪-০০)

    'ঠাকুরমার ঝুলি'র ডালিম কুমার , জুল ভার্নের 'ক্যাপ্টেন নিমো' সত্যজিতের 'প্রফেসর শঙ্কু', 'দিওয়ারের অমিতাভ বচ্চন, ৮৬ আর ৯০'র ম্যারাডোনা আরেকটু বড় হয়ে 'পুতুল নাঁচের ইতিকথা'র শশিভূষন ডাক্তার অথবা তারাশঙ্করের 'নিতাই' ছেলেবেলায় এরকম আরো অনেক নায়ক ছিলো, বড় হতে হতে তারা ক্রমশ হারিয়ে গেছে। 😛
    শুধু 'ম্যারাডোনা' আছেন আগের মতোই নায়কের আসনে। 😀

    আপনার ইদানীংকার লেখা নিয়ে আগের মতো অতটা উচ্ছাস নেই বরং অভিযোগ আছে। লেখায় আপনি মনোযোগ কমিয়ে দিয়েছেন, যা আমার ধারনা আপনিও বুঝতে পারছেন।

    হাবিজাবি তো আমরাই লিখছি, আপনি আগের মতো সময় নিয়ে কিছু লিখুন না যাতে বলতে পারি 'খেরোখাতা রক্স' ।

    আপাতত রেটিং একটু কমিয়ে দিয়ে গেলাম। 😀


    ---------------------------------------------------------------------------
    বালক জানে না তো কতোটা হেঁটে এলে
    ফেরার পথ নেই, থাকে না কোনো কালে।।

    জবাব দিন
  19. তানভীর (৯৪-০০)

    ফয়েজ ভাই, কৈশোরে ফিরে গেলাম আপনার লেখা পড়ে। :boss: :boss:
    তিন গোয়েন্দা কেন জানি আমার খুব বেশি পড়া হয়নি। ইত্তেফাকে টারজান পড়তাম নিয়মিত। আমার সবচেয়ে প্রিয় ছিল রুপকথা। এখনও রুপকথার বই পড়তে আমার ভাল লাগে। একটা বই পড়েছিলাম "দেশ-বিদেশের রুপকথা/উপকথা" নামের, বইটা পরে অনেক খুঁজেছি, পাইনি। 🙁

    সোনালী চুলের প্রেমিকা রুটি সেঁকত আমার জন্য

    নাহ্‌! ফয়েজ ভাই মানুষ হইলেন না! :grr: :grr:

    জবাব দিন
  20. আরিফ (৯২-৯৮)

    "না যদি বলতেই হয়, তবে এমন ভাবে বল যেন সেটা হ্যা এর মত শোনায়"। অথবা, " উনি নিশ্চয়ই যুক্তি মানবেন"। B-) গদ ফাদার ভিটো'র এই ডায়লগ গুলার জন্যই লোকটার ফ্যান হয়ে গেসিলাম।
    এরপর ফাউন্ডেশনের স্যাল্ভর হার্ডিন। "যুক্তি হল এমন একটা এটমিক ব্লাস্টার যা দুইদিকেই তাক করা যায়"। অথবা, "স্পেসের দিব্বি, এতে আমার ইলেক্ট্রন পরিমানও আসে যায় না"। এখনও আমার হিরো।

    তবে ছোটবেলায় সেই টারজানই।
    জটিল লিখছেন ফয়েজ ভাই। :boss: :boss:

    জবাব দিন
  21. সামীউর (৯৭-০৩)
    সোনালী চুলের প্রেমিকা রুটি সেঁকত আমার জন্য

    পূর্ণিমার চাঁদের মতো রুটি, সেই রুটি দিয়ে বর্ষণমুখর দুপুরে ফজু মল্লিক লাঞ্চ খায় আর খিচুরীর স্বপ্ন দেখে 😉

    জবাব দিন
  22. সামিয়া (৯৯-০৫)

    সেবাকে আসলেই অনেক ভালো পাই। ছোট্ট বেলার প্রতিযোগিতা ছিল খালাত ভাইয়ের সাথে, ওয়েস্টার্ণ পড়া হয়নি, তবে সবচেয়ে ভাল লাগত কিশোর ক্লাসিক। একেকটার চেয়ে একেকটার অনুবাদ বেশি সুন্দর।

    জবাব দিন
  23. আদনান (১৯৯৪-২০০০)

    কয়েকটা হিরো বাদ গেছে । শার্লক হোমস আমার বয়াপক মজা লাগতো । সেবার যে কত বই পড়েছি হিসাব নাই । শুধু রোমান্টিক একদম পড়তাম না, ওয়ের্স্টান ও বেশি পড়া হয়নি । মাসুদ রানা সবচায়ে বেশি পড়েছি ক্লাশ নাইনে । ইদানিং এক্স ম্যান এর য়োলভারিন ক্যারাকটার টা খুবই ভাল লাগে । আহারে আগের মত বই পড়ার টাইম পাইনা, কত বই কিনে রাখি পড়া হয়না । জীবন টা একদম ডাল ।

    জবাব দিন
  24. ওবায়দুল্লাহ (১৯৮৮-১৯৯৪)

    জটিল হইলো কিন্তু বস।

    দেরীতে পড়লাম - তয় মজা পুরাটাই নিলাম। 😀

    কত কিছু যে মনে করায়ে দিলেন - কি আর কমু !
    🙁

    বেঁচে থাকুক সেবা - বাইচ্যা থাক সব্বার কৈশোর । :gulti:


    সৈয়দ সাফী

    জবাব দিন

মন্তব্য করুন

দয়া করে বাংলায় মন্তব্য করুন। ইংরেজীতে প্রদানকৃত মন্তব্য প্রকাশ অথবা প্রদর্শনের নিশ্চয়তা আপনাকে দেয়া হচ্ছেনা।