যেভাবে পড়া শুরু করবেন আসিমভের ফাউন্ডেশন সিরিজ


অনেকদিন ধরেই ভাবছিলাম আসিমভ সাহেবকে নিয়ে একটা ব্লগ লিখবো। তার বই নিয়ে না বরং তার ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে। একজন বিজ্ঞান কল্পকাহিনীর লেখক হিসেবে তিনি ছিলেন কিংবদন্তী এবং মানুষ হিসেবেও ছিলেন অসাধারণ। প্রায় একবছর ধরে ভাবছিলাম তার জীবন নিয়ে একটা ব্লগ লিখবো। কিন্তু প্রত্যেকদিন মনে হয় আজকে না আসিমভের জন্মদিনে, তার জন্মদিনে মনে হয় অনেকেই তো পোস্ট দিচ্ছে আসিমভকে নিয়ে আমি না হয় ফাউন্ডেশন সিরিজ যে তারিখে বের হয়েছিল সে তারিখে লিখবো। কিন্তু কখনোই লেখা হয়নাই। ঠিক যেমনটি আজকেও লেখা হবেনা।
আজকে লিখবো ফাউন্ডেশন সিরিজ নিয়ে। আমি সুযোগ পেলেই এই কাজটা করি, ব্লগে এই প্রথম। কিভাবে পড়বেন এই বইটা? আসিমভ সাহেব যখন ১৯৫১ সালে যখন ফাউন্ডেশন লেখা শুরু করেন তখন তার ফাউন্ডেশন নিয়ে এত পরিকল্পনা ছিলনা। সিরিজের তিনটা বই লিখে ফেলার পর তিনি উৎসাহ হারিয়ে ফেলেন। যদিও ফাউন্ডেশন সিরিজ “Best All-Time Series” হিসেবে হুগো এওয়ার্ড লাভ করে তারপরও আসিমভ নতুন ফাউন্ডেশন বই লিখতে নারাজ ছিলেন। দীর্ঘ ত্রিশ বছর পর ফাউন্ডেশন সিরিজের ৪র্থ বই বের করেন এবং রোবট সিরিজ এবং এম্পায়ার সিরিজের মাঝে একটা ধারাবাহিকতা রাখার চেষ্টা করেন। তাই কেউ যদি সম্পূর্ণ ফাউন্ডেশন পড়তে চান তাহলে শুধু ‘ফাউন্ডেশন ট্রিলজি’ কিংবা ফাউন্ডেশনের সাতটা বই পড়লেই হবেনা সাথে রোবট সিরিজ এবং এম্পায়ার সিরিজ ও পড়তে হবে। কিন্তু পড়ার সময় কিভাবে ধারাবাহিকতা বজায় রাখা যাবে!!
মনে হতে পারে কোন বই কোন সালে পাবলিশ হয়েছে সেটা দেখেই সহজে বুঝে নেয়া যাবে, কিন্তু তাহলে ভুল করা হবে। আসিমভ সাহেব নিজেই বলেছেন বলেছেন কালানুক্রমে পড়তে। এই ক্রনোলজি বের করার জন্য বেশ কিছু ব্লগ এবং কোয়েরা ডাইজেস্ট এর উত্তর পড়ে আমার কাছে যেই সিরিয়ালে পড়লে সবচেয়ে ভাল মনে হবে সেটা লিখছি।

১- The Complete Robot (1982) রোবট সিরিজের ৩১টা ছোট গল্পের সমগ্র।
২- The Caves of Steel (1954) রোবট সিরিজের ১ম উপন্যাস।
৩- The Naked Sun (1957) রোবট সিরিজের ২য় উপন্যাস।
৪- The Robots of Dawn (1983) রোবট সিরিজের ৩য় উপন্যাস।
৫- Robots and Empire (1985) রোবট সিরিজের ৪র্থ এবং শেষ উপন্যাস।
৬- The Currents of Space (1952) এম্পায়ার সিরিজের ১ম উপন্যাস।
৭- The Stars, Like Dust– (1951) এম্পায়ার সিরিজের ২য় উপন্যাস।
৮- Pebble in the Sky (1950) এম্পায়ার সিরিজের ৩য় এবং শেষ উপন্যাস।
৯- Prelude to Foundation (1988) এটা ফাউন্ডেশন সিরিজের ষষ্ঠ উপন্যাস হলেও হ্যারি সেলডনের কাহিনী শুরু হয় এখান থেকেই। সিরিজের ষষ্ঠ এবং ৭ম বই দুটো প্রিকুয়েল। তাই ১ম বই থেকে শুরু না করে ষষ্ঠ বই থেকে শুরু করলেও হয়। যদিও আমার কাছে পরে পড়েই ভাল মনে হয়েছে। অনেকগুলো ব্যাপার পরিষ্কার হয়েছিল।
১০- Forward the Foundation (1992) The second Foundation novel ফাউন্ডেশন সিরিজের ৭ম এবং শেষ বই। মজার ব্যাপার হলও আসিমভ সাহেব যখন এই সিরিজের ক্রোনোজিকাল সাজেস্ট করেন তখন এই বইটার নাম ছিলনা। কারণ তখন বইটা লেখা হয়নি। এটা শুধু ফাউন্ডেশন সিরিজের শেষ বই নয় বরং পুরো ফাউন্ডেশন, রোবট এবং এম্পায়ার সিরিজের শেষ বই। যদিও এটা পাবলিশ হওয়ার আগেই তিনি মারা যান।
১১- Foundation (1951) ফাউন্ডেশন সিরিজের প্রথম বই। ১৯৪২ সাল থেকে ১৯৪৯ সাল পর্যন্ত লেখা ৫টা গল্পের সমগ্র।
১২- Foundation and Empire (1952) ফাউন্ডেশন সিরিজের ২য় বই। ১৯৪৫ সালে লেখা ২টি গল্পের সমগ্র।
১৩- Second Foundation (1953) ফাউন্ডেশন সিরিজের ৩য় বই। ১৯৪৮ সাল এবং ১৯৪৯ সালে পাবলিশ হওয়া দুটি গল্পের সমগ্র।
১৪- Foundation’s Edge (1982) ফাউন্ডেশন সিরিজের ৪র্থ বই। পাঠক এবং প্রকাশকদের অনুরোধে প্রায় ৩০ বছর পর এই বইটি বের ফাউন্ডেশন ট্রিলজি শেষ হওয়ার পর।
১৫- Foundation and Earth (1983) ফাউন্ডেশন সিরিজের ৫ম বই।

১৫ টা বই এবং ৪০ এর গল্পকে এক সিরিজে আনতে গিয়ে কিছু জায়গায় খটকা লাগে। বই পড়ার সময় হালকা অমিল চোখে পড়ে। তাছাড়া যদি বড় কোনও ছুটি থাকে সামনে তাহলে ‘দা কমপ্লিট রোবট’ থেকে শুরু করে ‘ফাউন্ডেশন এন্ড আর্থ পর্যন্ত পড়ে ফেলতে পারেন। ফাউন্ডেশন সিরিজের ৭টা বই বাংলায় অনুবাদ হয়েছে। অনলাইনে ই-বুক আকারেও পাওয়া যায়।

৩,৯৭৮ বার দেখা হয়েছে

৫ টি মন্তব্য : “যেভাবে পড়া শুরু করবেন আসিমভের ফাউন্ডেশন সিরিজ”

  1. খায়রুল আহসান (৬৭-৭৩)

    যে বিষয়ের উপর এ পোস্ট লেখা, তাতে আমার আগ্রহ না থাকলেও বুঝতে পারি যে পোস্টটা ছোট হলেও এটা বেশ শ্রমব্যয়িত পোস্ট। আমার আগে ৩৯৪ জন পাঠক পড়ে গেছেন, অথচ কোন মন্তব্য নেই। কোন পোস্ট পড়ে পাঠক দুটো কথা বলে গেলে লেখক অনেক প্রেরণা পায়।

    জবাব দিন
  2. রাজীব (১৯৯০-১৯৯৬)

    ঐদিন জানলাম আসিমভ এইডস এ মারা গেছেন।
    কি এক হার্ট সার্জারির সময় এফেক্টেড হন।
    খুব খারাপ লেগেছে।


    এখনো বিষের পেয়ালা ঠোঁটের সামনে তুলে ধরা হয় নি, তুমি কথা বলো। (১২০) - হুমায়ুন আজাদ

    জবাব দিন
    • নাজমুল (০২-০৮)

      ব্যাপারটা উনি মারা যাওয়ার আগ পর্যন্ত গোপন ছিল, কারণ মানুষ তখন এইডস কি কারণে হয় ঠিকভাবে বুঝতোনা।
      কখনো যদি টাইম মেশীন টাইপ কিছু আবিষ্কার হয় তাহলে আমি কার্ল স্যাগান আর আজিমভের সাথে এক ঘন্টা কথা বলার চেষ্টা করবো।
      আরেকটা ব্যাপার আজিমভ হিউমেনিস্ট ছিলেন। এবং আমেরিকান হিউমেনিস্ট এসোসিয়েশনের ফাউন্ডিং প্রেসিডেন্ট ছিলেন মনে হয়।

      জবাব দিন

মন্তব্য করুন

দয়া করে বাংলায় মন্তব্য করুন। ইংরেজীতে প্রদানকৃত মন্তব্য প্রকাশ অথবা প্রদর্শনের নিশ্চয়তা আপনাকে দেয়া হচ্ছেনা।