ইন্টারনেট এবং একজন ফারাবী

ইন্টারনেটের সাথে অনেকদিন ধরেই আমার যোগাযোগ থাকলেও, ফেসবুকে আমি কখনো কোনও কিছু গুরুত্ব নিয়ে লিখতাম-না এমনকি কারো পোষ্ট ও আমি ওভাবে পড়তামনা। এর কারণ ছিল, আমি ভাবতাম ফেসবুক শুধু বন্ধুদের সাথে চ্যাট করা আর ছবি ভিডিও শেয়ার করার জন্য ব্যবহার করা হয়। কিন্তু আমার সেই ধারণা অন্য সবার মতই আস্তে আস্তে পরিবর্তণ হয়।

অনেকে একটা কথা বলে, “আর কিছু পারেনা খালি বইসা বইসা ফেসবুক গরম করে”। সত্য কথা বলতে, এই ফেসবুকের কারণে বিদেশে বসে আমি দেশের অনেক কিছুর মাঝে যেন নিজের উপস্থিতি টের পাই। শাহবাগের সময় যেন আমি নিজেই ওখানে ছিলাম, এমন মনে হত। ভিডিও,ছবি সব কিছু এতটা জীবন্ত ছিল যে সাহাবাগের থেকে এত দূরে থেকেও যেন আমি সেখানে উপস্থিত ছিলাম। আসল কথায় আসি, এখানে ফেসবুকের উপকারিতা কিংবা অপকারিতা নিয়ে আমি লিখতে বসিনি আজকে। লিখতে বসেছি, ফারাবিদের মত কিছু লোকদের নিয়ে। আমার সাথে ফারাবীর কোনও ব্যক্তিগত সম্পর্ক কিংবা যোগাযোগ নাই।

আমি তাকে প্রথম চিনি, জীন পরী নিয়ে লেখা তার একটা নোট থেকে। মনে আছে ওটা পড়ে আমরা কত জোরে হাসাহাসি করেছি, এবং সত্য কথা বলতে আমার ওর জন্য মায়া লাগতো। আমার মনে হত এই বোকা ছেলেটাকে নিয়ে সবাই হাসাহাসি করে। মানুষের কাছে টাকা চায়, মেয়েদের বিরক্ত করে। ওকে নিয়ে কখনো কারো সাথে আলোচনাও করিনাই। ধীরে ধীরে ফারাবি লাইম লাইটে চলে আসলো। বিভিন্ন ধরণের হুমকি সহ পোষ্টের কারণে। তাকে নিয়া যাওয়া হল হাজতে, ফেসবুকে মরণ হুমকি দেয়ার জন্য। আরও বিখ্যাত হয়ে গেল, রকমারির কারণে। এখন সে অনেক বড় সেলিব্রেটি হয়ে গেছে রাহী ঘটনার কারণে। সবাই হয়তোবা জানেন, চট্টগ্রামে ১৭ বছরের দুই কিশোর রায়হান রাহী এবং উল্লাস দাসকে ধর্ম নিয়ে প্রশ্ন করার জন্য নিয়ে যাওয়া হয়েছে জেলে এবং তার আগে ৫০-৬০ জন লোক দিয়েছে তাদের গণপিটুনি। তাদেরকে মসজিদ থেকে মারতে মারতে বের করে নিয়ে আসা হয় এবং বাইরে যখন তাদের মারা হচ্ছিল তখন পুলিশ এসে তাদের থানায় নিয়ে যায়।

আমার মনে আছে, আমি যখন ছোট ছিলাম, ক্লাস ৫/৬ এ পড়ি। আজিমপুর থাকতাম, একদিন ঈদের আগে মামার বাসা থেকে হেটে আসার সময় দেখেছি একজন ডাকাত/চোরকে পিটানোর দৃশ্য। বিশ্বাস করবেন কিনা জানিনা, একটা মানুষকে এভাবে মারতে পারে সেটা না দেখলে বিশ্বাস করবেন না। আমাদের দেশের মানুষের মাঝ থেকে মানষিকতা ছোট থেকেই অন্য দিকে মোড় নিতে শুরু করে, যেই লোকটা ওই ডাকাতটাকে মারছিল হয়তোবা তার ছেলে কিংবা মেয়ের সামনে, তারা হয়তোবা গর্বিত তাদের বাবার জন্য। তারাও নিজেদের তাদের বাবার অবস্থানে দেখতে চায় আর একটু বড় হলে। আমার মাথায় আর অন্য কিছু ঢুকতেছে না, খালি মনে হচ্ছে ১৭ বছরের দুইটা কিশোরের বাবা মায়ের কথা। যখন তারা জানতে পারলো তাদের কিশোর পুত্রকে পিটিয়েছে ৫০-৬০ জন বয়স্ক পশুর বাচ্চা, তাদের ছেলে যারা সামনে উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষা দিবে, তাদের জন্য কেউ এগিয়ে আসবেনা, পাশের বাসার ভাবি এসে সান্ত্বনা দিবেন না। কারণ ধর্ম নিয়ে প্রশ্ন করেছে।
উল্লাস দাসের উকিল তার জন্য কিছু করবেনা বলে দিয়েছে, কারণ সে হিন্দু হয়ে মুসলমানের ধর্ম নিয়ে কথা বলেছে।

আমার আব্বা পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ মসজিদে গিয়ে পড়ে, আব্বাকে প্রশ্ন করতে হবে যে মসজিদে কোনও মানুষ কিংবা কোনও ১৭ বছরের কিশোরকে যদি বাকি মুসুল্লিরা ধর্ম নিয়ে প্রশ্ন করার জন্য মারে, তাহলে কি আমার বাবাও সেখানে বাকি মুসুল্লিদের সাথে যোগ দিবে!! নাকি উনি বলবেন,ওদের মেরোনা, বুঝিয়ে বল। মানুষের ধর্ম নিয়ে প্রশ্ন থাকতেই পারে।”

ছেলেগুলোর বয়স মাত্র ১৭, এই বয়সে আমরা ফেসবুকে কিছুই করতামনা, কিন্তু এরা জামাত শিবিরের বিপক্ষে, বাঙ্গালীর পাকিস্তানি প্রীতির কথা নিয়ে পোষ্ট দিত। লাভ কি হল, ৫০-৬০ লোকের হাতে মার খেল, এখন সময় কাটাচ্ছে জেলের ভিতর। আমাদের কি কিছু করা সম্ভব ?? আমরা কি কোনভাবে তাদের সাহায্য করতে পারি?? আসুন চেষ্টা করে দেখি। এদের যদি আমরা সাহায্য না করি, তাহলে ফারাবিদের দল ভারি হবে, তাদের সাহস বাড়বে। দুইদিন পর তারা আমাকে আপনাকে ভয় দেখাবে।

৭৪৯ বার দেখা হয়েছে

১১ টি মন্তব্য : “ইন্টারনেট এবং একজন ফারাবী”

  1. রাজীব (১৯৯০-১৯৯৬)

    এইটা আরেকটা দরকারি লিঙ্ক। ছাগু বন্ধু বের করার জন্য
    ক্লিক করুন।


    এখনো বিষের পেয়ালা ঠোঁটের সামনে তুলে ধরা হয় নি, তুমি কথা বলো। (১২০) - হুমায়ুন আজাদ

    জবাব দিন
  2. সামিউল(২০০৪-১০)

    ইসলাম ধর্মের মত মহান ধর্ম নিয়া এই শালারা ফাইজলামি শুরু করে দিছে।

    ধর্মের কোথায় লেখা আছে যে কেউ যদি ধর্ম নিয়ে সংশয় প্রকাশ করে, কিংবা প্রশ্ন করে তবে তাকে পিটিয়ে আধ মরা করে ফেলতে হবে??

    ধর্মের রক্ষক হিসেবে যারা নিজেদের পরিচয় দেয়। সেই মোল্লা, পুরুত পাদ্রীরাই ধর্মকে নষ্ট করছে। 🙁 🙁


    ... কে হায় হৃদয় খুঁড়ে বেদনা জাগাতে ভালবাসে!

    জবাব দিন

মন্তব্য করুন

দয়া করে বাংলায় মন্তব্য করুন। ইংরেজীতে প্রদানকৃত মন্তব্য প্রকাশ অথবা প্রদর্শনের নিশ্চয়তা আপনাকে দেয়া হচ্ছেনা।