লাখো কন্ঠে সোনার বাংলা

খুব ভালো সংবাদ, ইসলামি ব্যাংকের চেক ফেরত দেয়া হচ্ছে, বা তাদের চেক দিয়ে ‘লাখো কণ্ঠে সোনার বাংলা’ গাওয়া হবেনা।
কিন্তু প্রথমেই তাদের চেক নেয়া হল কেন ? নাকি সরকার টাকার ক্ষেত্রে জামাতিদের ছাড় দিচ্ছেন!!
যেখানে সরকারের উচিৎ জামাত সহ তাদের সব ধরণের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দেয়া বা বাজেয়াপ্ত করা সেখানে তাদের কাছ থেকে অনুদান নেয়া?? ধরলাম এত সহজেই জামাতি ব্যাংক বন্ধ করা যাবেনা, অনেক আইনের ব্যাপার আছে কিন্তু তাদের সাথে সম্পর্ক না রাখলেও কি আইনি সমস্যায় পড়বে সরকার??
যেখানে সাধারণ মানুষ চাচ্ছে এইসব প্রতিষ্ঠানকে ছেড়ে অন্য কোথাও যেতে সেখানে সরকার এই ধরণের হাস্যকর কাজ করে কি সাধারণ মানুষকে তাদের ব্যাপারে আরও আগ্রহী করে তুলছেনা???
খবরে যেই জিনিসটা পড়লাম তা আরও ভয়ংকর,’
‘ইসলামী ব্যাংকের সহায়তা আইসিসি ওয়ার্ল্ড টোয়েন্টি-২০ বাংলাদেশ ২০১৪ তে দিতে পারে অথবা কোথাও নাও দিতে পারে, উল্লেখ করে বিৃবতিতে আরও বলা হয়েছে, ইসলামী ব্যাংক আইনগতভাবে একটি নিবন্ধিত আর্থিক প্রতিষ্ঠান এবং তারা এদেশে তাদের কার্যক্রম আইনগতভাবে চালিয়ে যাচ্ছে। তাদের সমন্ধে কারো কারো তেমন ভালো ধারণা নেই এবং তাদের সহায়তা গ্রহণে আগেও অনেক প্রতিষ্ঠান অস্বীকৃতি জানিয়েছে। তাই দ্ব্যর্থহীনভাবে বলা যেতে পারে যে, লাখো কণ্ঠে সোনার বাংলা অনুষ্ঠানে ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ লিমিটেডের সহায়তা গ্রহণ করা হচ্ছে না’
তার মানে দাঁড়াচ্ছে খেলার সাথে রাজনীতি মেশাবেননা। তাদের টাকা দিয়ে ‘লাখো কণ্ঠে সোনার বাংলা গাওয়া হবেনা কিন্তু টি ২০ বিশ্বকাপে ব্যাবহার করতে পারবে জামাতি ব্যাংক চাইলে।
এখানেই শেষ না, তবে এই শুরুর আগে আরেকটা জিনিস দিয়ে শুরু করতে চাই,
ধন্যবাদ এবং অভিনন্দন জানাতে চাই বাংলাদেশ হকি দলকে ৬-১ এ ওমানকে হারানোর জন্য। কিন্তু কষ্টের ব্যাপার হল, এই হকি দলের স্পন্সর হল ইসলামী ব্যাংক। এই ব্যাপারে কথা বলার অধিকার থাকলেও আমার বলা মানায়না কিন্তু না বলে থাকাও সম্ভব হচ্ছেনা। আমিতো হকি টীমকে স্পন্সর করতে পারবোনা তাহলে যে করছে তাকে আমি বাঁধা দেয়ার কে।
কিন্তু সরকার কি পারেনা অন্য কোনও উৎস থেকে কিংবা অন্য কোনও প্রতিষ্ঠানকে অনুরোধ করতে হকি দলের স্পন্সর হতে!!!!

জামাতির টাকা নিয়ে টাকা ফেরত দেয়ার সস্তা রসিকতায় হয়তোবা আমাদের হাসাতে পারেনি কিন্তু জামাতিদের মনে সাহস দিয়েছে আর আমাদের দিয়েছে সরকারকে বিশ্বাস করার শাস্তি।

৫৬০ বার দেখা হয়েছে

১৭ টি মন্তব্য : “লাখো কন্ঠে সোনার বাংলা”

  1. নাফিস (২০০৪-১০)

    গিনেজ রেকর্ড বুক জিনিসটাই ওভাররেটেড মনে হয় আমার কাছে। এখানে নাম তোলার রাষ্ট্রীয় ভাবে তোড়জোড় করার বিষয়টা লজ্জাজনক। প্রায়োরিটি লিস্টে বড় ধরণের গোলমাল আছে আমাদের 🙁

    জবাব দিন
  2. রাজীব (১৯৯০-১৯৯৬)

    ভালো লেখা নাজমুল।

    ইসলামি ব্যাংক আমাদের ঘাড়ে অনেকটা সিন্দাবাদের ভূতের মতো গেড়ে বসে আছে।
    সহজে নড়ানো যাবে, এমন মনে হচ্ছে না।

    সরকার চাইলে পারে।
    কিন্তু আমাদের সচেতনতাটা বেশি জরুরী।

    আমরা যদি ইসলামি ব্যাংকে লেনদেন বন্ধ করি তাহলে কিন্তু কাজটা চার ভাগের তিনভাগ হয়ে যায় নয়কি!
    কিন্তু আমরা যে হালাল পছন্দ করি।


    এখনো বিষের পেয়ালা ঠোঁটের সামনে তুলে ধরা হয় নি, তুমি কথা বলো। (১২০) - হুমায়ুন আজাদ

    জবাব দিন
    • নাজমুল (০২-০৮)

      রাজিব ভাই মনে করেন, আমি আমার আম্মারে বললাম, সাথে মামারেও ম্যানেজ করলাম যে তারা ইসলামি ব্যাঙ্ক থেকে তাদের একাউন্ট বন্ধ করে দিবে। ওইদিন রাতে হকি খেলা দেখতে বসলাম আর দেখলাম বড় করে বাংলাদেশ হকি দলের বুখে লেখা '' জামাতি ব্যাঙ্ক''। পরে খবরে দেখলাম ম্যাডাম প্রাইমিনিষ্টার হাসি মুখে টেকা টুকা নিতেসে, তখন যদি আপনার আম্মা আর মামা আপনার দিকে তাকায় আপনি কি উত্তর দিবেন তাদের ??

      জবাব দিন
      • রাজীব (১৯৯০-১৯৯৬)

        ধরে নিচ্ছি তুই আন্টি আর আর তোর মামাকে বুঝিয়ে শুনিয়ে ইসলামী ব্যাংক থেকে সরিয়ে এনেছিস।
        এখন বল, তুই কি ভুল করেছিস?

        শেখ হাসিনার টাকা নেবার ব্যাপারটা আমি পলিটিকাল ভেবেছিলাম।
        নূর কথা বলে ঝামেলা করে ফেলছে।
        এরপরো বলবো শেখ হাসিনা গেইনার।
        কিভাবে?
        টাকা ফেরত দিয়ে।

        আরো ভেঙ্গে বলি।

        যখন টাকা নিলো তখন পাবলিক ক্ষেপলো।
        এই পাবলিক কারা?
        জামাত বিরোধীরা।
        লীগ সাপোর্টারদের একটা বড় অংশ কিন্তু এইটা সাপোর্ট দিয়ে গেছে, ঠিক যেমন করে বিএনপির সাপোর্টাররা জামাতের সাফাই গেয়ে যাচ্ছে আজো।

        শেখ হাসিনা যখন টাকা নিলো তখন কিন্তু বিএনপির সাপোর্টাররা হাত তালি দিলে ও নেতা পর্যায়ের লোকদের জান পানি হইয়া গেছিলো।

        এরপর আবার কি করলো শেখ হাসিনা?
        টাকা ফেরত দিলো।
        পাবলিক সুখ পাইল এই ভাইবা যে হুম হুম শেখ হাসিনারে কথা শুনাইয়া ছাড়ছি।

        বাট এন্ড অফ দ্যা ওয়ে জয় হইলো কার?
        হাসিনার।
        শী ইজ বেটার দ্যান কারপভ, কাসপরভ, আনন্দ এন্ড ববি ফিশার।
        আই স্যালুট হার পলিটিকাল থিঙ্কিং।

        এখন বল, আমি উপরে যা বললাম তা সব বুঝছিস?

        ভালো দাবা খেলা দেখলে যেমন ভালো লাগে ঠিক তেমনি কিসিঞ্জারি পলিটিক্স দেখলে ভালো লাগে।
        আরো ভালো লাগে আমাদের দেশে এমন ওয়ার্ল্ড ক্লাস লেভেলের পলিটিশিয়ান আছে বলে।
        ৯০ কোটি টাকার ব্যাপার নিয়া বিরক্ত। চরম বিরক্ত। স্টিল, গুড গেম।


        এখনো বিষের পেয়ালা ঠোঁটের সামনে তুলে ধরা হয় নি, তুমি কথা বলো। (১২০) - হুমায়ুন আজাদ

        জবাব দিন
  3. রাজীব (১৯৯০-১৯৯৬)

    তবে ইসলামি ব্যাংক পাকিস্থানি প্লেয়ারদের থাকা-খাওয়ার বন্দোবস্ত করতে পারতো।


    এখনো বিষের পেয়ালা ঠোঁটের সামনে তুলে ধরা হয় নি, তুমি কথা বলো। (১২০) - হুমায়ুন আজাদ

    জবাব দিন
  4. রাজীব (১৯৯০-১৯৯৬)

    এইসব রেকর্ড টেকর্ড করা হচ্ছে ছেলেভুলানোর জন্য।

    এই যে খেলাধূলা আয়োজন থেকে শুরু করে বিজাতীয় শিল্পী - খেলোয়াড়দের দেশে আনা তা ঐ একই কারণে।

    মন্ত্রী-মিনিষ্টার-এমপিদের একাউন্টে জমা হয় হাজার কোটি টাকা, আর আমরা উল্লাস করি ক্রিকেট, ক্রিকেট।
    চার ছক্কা হই হই,

    বাঙাল এক জিনিস বটে।
    পেছনে আইক্ষা ওয়ালা বাঁশ নিয়েও হাসিমুখে বলে, ভালো আছি।


    এখনো বিষের পেয়ালা ঠোঁটের সামনে তুলে ধরা হয় নি, তুমি কথা বলো। (১২০) - হুমায়ুন আজাদ

    জবাব দিন
  5. আহসান আকাশ (৯৬-০২)

    এই উদ্যোগে যখন শুনলাম কোটি কোটি টাকা লাগবে তখনই অবাক হইছি এই ভেবে যে এই আয়োজনে এত টাকা খরচ হবে কেন? মানুষ খুশী মনে উপস্থিত হয়ে জাতীয় সঙ্গীত গাবে আর তার সাথে গানের নেতৃত্ত্ব দেবার জন্য থাকবে শিল্পীরা। এখানে টাকা খরচের তেমন কিছু তো আমার চোখে পড়ছে না। স্টেজ বানানো? ডেকোরেশন? সাউন্ড সিস্টেম? এগুলোর জন্য তো সেনাবাহিনীকে ডাকা হচ্ছেই, আর তার পরেও যদি কিছু খরচ হয়েই সেটা কোটির অংকে কিভাবে পৌছায়?

    আর গিনেস রেকর্ড নিয়ে হঠাৎ করে উন্মাদনা শুরু হয়েছে। most weird guinness records, guinness records gone wild নামে কিছু টিভি শো আছে। ইউটিউবে বা দেশে AXN এ এক ঝলক দেখে নিলেই বোঝা যাবে যে এই রেকর্ড জিনিষটা কত ফালতু লেভেলে নামতে পারে।

    জাতীয় সঙ্গীত গাওয়ার আয়োজনের বিরুদ্ধে আমি না, বরং আমি মনে করি মাঝে মাঝে এ ধরনের কিছু আয়োজন আমাদেরকে জাগ্রত করতে পারে, ঐক্যবদ্ধ করতে পারে। তবে সেটার বানিজ্যিকিকরন হয়ে গেলে হিতে বিপরিত হবার সম্ভাবনাই বেশি।


    আমি বাংলায় মাতি উল্লাসে, করি বাংলায় হাহাকার
    আমি সব দেখে শুনে, ক্ষেপে গিয়ে করি বাংলায় চিৎকার ৷

    জবাব দিন
    • নাজমুল (০২-০৮)

      আমার কথা হইলো টাকার কি দরকার?? সবাই একসাথে জাতীয় সঙ্গীত গাবে। সরকারকে আগে থেকে জানাই রাখলে সরকারের কাজ হইলো সেখানে সিকিউরিটির ব্যাবস্থা করা মানুষের কাছ থেকে টাকা নিয়া ব্যাবসা করা না। সাহাবাগে যে এত কিছু হইলো টেকা টুকাতো লাগেনাই। টাকা দিয়ে কিছু করলে তার মাঝে সিনসিয়ারিটি বেশি থাকতে পারে কিন্তু আন্তরিকতা না।

      জবাব দিন
  6. নূপুর কান্তি দাশ (৮৪-৯০)

    পাবলিকের সমালোচনার মুখে যে নেয়নি এটা বাংলাদেশের আজকের বাস্তবতা হলে খুব আশার কথা।তলে তলে অবশ্য খেলা চলবে। টাকাপয়সা সহজ ব্যাপার না।
    অর্থনৈতিভাবে এরা যদি জায়েন্ট হয়, শুধু আদর্শের বুলি দিয়ে এদের কিছু করা যাবেনা।

    জবাব দিন
  7. সিরাজ(১৯৯১-১৯৯৭)

    ইসালামী ব্যাংকের টাকা নিলেই-বা কী ক্ষতি সেটাও আমি বুঝলাম না। কয়েকজন উদ্যোক্তা মিলে প্রথমে একটি ব্যাংক গঠন হয়, কিন্তু এর আসল সম্পদ হচ্ছে লক্ষ লক্ষ গ্রাহক যাদের টাকা বা আমানত নিয়ে ব্যাংক ব্যবসা করছে এবং লাভ করছে। ইসলামী ব্যাংকের টাকা যদি সন্ত্রাসী কাজে ব্যবহার হয় তাহলে ব্যাংকের ম্যানেজমেন্টকে আইনের আওতায় আনা কেন হচ্ছে না? তা না হলে সবার সব পাওনা বুঝিয়ে দিয়ে ব্যাংকটি বন্ধ করা হচ্ছে না কেন যার বিরুদ্ধে এত অভিযোগ?

    মেনে নিলাম যে ইসলামী ব্যাংকের মালিকরা সবাই জামায়াতের সঙ্গে যুক্ত এবং ব্যাংকের কর্মীরা সবাই শিবির কিংবা জামায়াত। কিন্তু যেখানে কয়েক লক্ষ মানুষের টাকা জমা আছে সেসব মানুষ কি সবাই জামায়াত বা সন্ত্রাসী? ব্যাংক তো এই সাধারণ আমানতকারীদের কাছ থেকে টাকা নিয়ে ব্যবসা করে মুনাফা করে। আজকে বাংলাদেশ সরকারকে টাকা দিলে তো সেই লক্ষ লক্ষ মানুষের আমানতের লাভের টাকা থেকেই দিবে, তাহলে সেই টাকা নিতে এত অনীহা কেন? এতে কি সেসব মানুষকে অপমান করা হচ্ছে না?

    ২৬ মার্চ যারা জাতীয় সঙ্গীত গাইবেন তাদের ভেতরেও অনেকেই ইসলামী ব্যাংকের সঙ্গে ব্যাংকিং করেন। তাদেরকেও কি অপমান করা হচ্ছে না? আমার আশেপাশে অনেক খেটে-খাওয়া মানুষ, শ্রমিকদের টাকাও ইসলামী ব্যাংকে রয়েছে। অথচ ইসলামী ব্যাংকের টাকা না নেওয়া মানে তো এদেরকে হেয় করা। এদের কী দোষ?

    আর ইসলামী ব্যাংক তো নিজেদের টাকা সরকারকে দিচ্ছেনা। চুরি, ডাকাতি, সন্ত্রাস করে অর্জন করা টাকা বাংলাদেশ সরকারকে দিচ্ছে না। তাহলে এসব কেন হচ্ছে যে ইসলামী ব্যাংকের টাকা নেওয়া যাবে না? তারা খারাপ কাজ করলে তাদেরকে ধরা হোক, শাস্তি দেওয়া হোক। কিন্তু কয়েক লক্ষ গ্রাহককে এভাবে ছোট করার কোনো মানে হয় না।

    আরও মজা লাগে যে ইসলামী ব্যাংক তো সরকারকে শতকোটি টাকা ভ্যাট/ট্যাক্স দিচ্ছে, সেই টাকা নিতে লজ্জা করে না সরকারের? সেই টাকা দিয়ে তো সরকারের রেগুলার উন্নয়নকাজ হচ্ছে,সেই টাকার একটা অংশ মুক্তিযোদ্ধাদের বেতন দিতেও খরচ হচ্ছে ইত্যাদি। তাহলে সেই টাকা নিতে লজ্জা করে না আমরা যারা বিরোধিতা করছি?ত

    তাদের যুক্তি যদি এই হয় যে ইসলামী ব্যাংকের টাকা জামায়াতের টাকা, তাহলে অনুদান নেওয়া আর ট্যাক্স হিসেবে নেওয়া তো একই ব্যাপার। সবাটাই খারাপ।শুধু ৩ কোটি টাকার জন্য এত পানি ঘোলা করা হচ্ছে কেন।


    যুক্তি,সঠিক তথ্য,কমন সেন্স এবং প্রমাণের উপর বিশ্বাস রাখি

    জবাব দিন

মন্তব্য করুন

দয়া করে বাংলায় মন্তব্য করুন। ইংরেজীতে প্রদানকৃত মন্তব্য প্রকাশ অথবা প্রদর্শনের নিশ্চয়তা আপনাকে দেয়া হচ্ছেনা।