ধূলোমাখা শহর, ধূলোমাখা স্মৃতি – ০৬

(একই সংগে অবাক আর খুশির খবর হচ্ছে, আমার এই সিরিজে ক্যাডেট কলেজ ঢুকে গেছে এবার। অবাক এই কারনে যে, এটা মাত্রই সিরিজের ছয় নম্বর পোষ্ট, আর খুশি এই জন্য, এটা কলেজের স্মৃতি)

ক্লাস নাইনের ক্রস-কান্ট্রি দৌড়ে সবার শেষে কলেজে ঢুকলাম, তাও দৌড়ে নয়, মেডিক্যালের গাড়িতে চড়ে। মাথা নীচু করে গাড়ি থেকে নামলাম, কলেজের শুভাকাঙ্খি, বন্ধু, হাউস মাষ্টার রুহুল আমীন স্যার, এমনি হাউসের চরম শত্রুরাও অবাক হয়ে গেল আমাকে গাড়িতে দেখে। সত্যিই অবাক হবার মতই একটা ঘটনা এটা।

আমাদের সেই সময়, রংপুরে ক্রস-কান্ট্রি দৌড় হত দুটো গ্রুপে। সিনিয়র আর জুনিয়র। ক্লাস এইট, নাইন, আর টেন জুনিয়র গ্রুপে, তাদের এক চক্কর, মাইলেজ হিসেবে পাচ এবং ছয়ের কাছাকাছি একটা সংখ্যা, আর সিনিয়র হচ্ছে ক্লাস ইলেভেন আর টুয়েল্ভ, তাদের দেড় চক্কর। ক্লাস এইটের ক্রস-কান্ট্রিতে সবাইকে অবাক করে দিয়ে ষষ্ঠ হয়েছিলাম আমি, আমাদের ব্যাচের রেজা হয়েছিল চতুর্থ। তাই ক্লাস নাইনে উঠে যখন ক্রস-কান্ট্রি রেসে আবার নামলাম আমরা, পুরো কলেজ ধরে নিয়েছিল, প্রথম আর দ্বিতীয় হবে রেজা-ফয়েজ। এর পর বাকীরা।

আর সেই আমি কিনা গাড়িতে?! ফেল্টুস?

বাবার হাত ধরে প্রথম কবে সকাল বেলা দৌড়তে বেরিয়েছি মনে নেই। তবে এটা মনে আছে, কি শীত আর গ্রীষ্ম-বর্ষা, বাবা ফজর নামাজ পড়েই আমাদের পিঠাপিঠি দু-ভাইকে ঘুম থেকে ডেকে তুলতেন, এরপর আমরা দৌড়তাম জি-এল রায় রোড ধরে মাহিগঞ্জের দিকে। রাস্তার দুধারের বেশ কিছু পুকুর, আম বাগান, পাট গবেষনা কেন্দ্র, তুলা গবেষনা কেন্দ্র আর রংপুর মহা-শ্মশান পেরিয়ে অন্ধকার চিরে আমরা দু-ভাই দৌড়ে যেতাম রেল লাইন পেরিয়ে সেই মাহিগঞ্জ সাত-মাথায়। এর পর ফিরতি চক্করে বাজি লাগতাম ভাইয়ের সংগে, কে আগে দৌড়ে গিয়ে বাবাকে ছুতে পারে। দূর থেকে বাবা আমাদের দেখলেই দু-হাত বাড়িয়ে দিতেন, যেন কাছে গেলেই কোলে তুলে নেবেন আমাদের। আমাদের দু-ভাইয়ের সেই খিঁচানো দৌড়, বাবাকে ছোয়ার জন্য। বাবাই আমাকে শিখিয়েছিলেন দৌড়ের প্রাথমিক নিয়ম, “দৌড়ের সময় পায়ের পাতা পুরো ফেলতে হয় না, ওতে কষ্ট বাড়ে, আর তাছাড়া গতি কমে যায় অনেক”।

বাবার এই শিক্ষাটা কাজে লেগে গেল ক্লাস এইটের ক্রস-কান্ট্রিতে। কিন্তু ক্লাস নাইনে এমন কেন হল? আমি সেদিন রাতের ছবি দেখতে গেলাম না আর, আজও মনে আছে কোন ছবি দেখিয়েছিল সেই রাতে, “ইন্ডিয়ানা জোন্স এন্ড দ্যা লাস্ট ক্রুসেড”, আমি মেডিকেলে ভবেশ দার কাছে বললাম আমার অসুবিধার কথা, তিনি তেমন গুরুত্ব দিলেন না, ভাবলেন ফাকি মারছি। আমি হাউস এসেম্বলী ফাকি দিয়ে মেডিকেলে চলে গেলাম পরদিন। ডাক্তার স্যার আমার কথা শুনলেন, দেখলেনও হার্টের বিট বেশি, কিন্তু ধরতে পারলেন না অসুকটা। তবে এড়িয়েও গেলেন না, পাঠিয়ে দিলেন আমাকে রংপুর সিএমএইচে, ইসিজির জন্য, হার্ট স্পেশালিস্ট এর কাছে। আর আমার ইসিজি রিপোর্ট ডাক্তারের ভ্রু কুচকিয়ে আমাকে ঢুকিয়ে দিল রংপুর সিএমএইচের ক্যাডেট ওয়ার্ডে।

রংপুর সিএমএইচে টানা থাকলাম দুইমাসের কাছাকাছি সময়। প্রথম সাতদিন ছিলাম ক্যাডেট ওয়ার্ডে, এরপর অফিসার্স ওয়ার্ডে। অনেক স্মৃতি আছে সিএমএইচে থাকা নিয়ে, অনেক মজা। অন্য পোষ্টে বলব আশাকরি। শুধু বলি, আমার অসুখের নাম আমি শুনেছিলাম ঢাকা সিএমএইচে। প্রথম বার টেষ্ট করে তারা বলেছিল আমার অসুখের নাম “মাইট্রাল ভাল্ব প্রলেপস””। অনেক পরিশ্রম করলে আমার হৃদপিন্ডের একটা ভাল্ব পুরোপুরি বন্ধ হয় না, যার ফলে ফুসফুস থেকে বের হওয়া বিশুদ্ধ রক্ত আর ফুসফুসে ঢুকার অপেক্ষায় থাকা দূষিত রক্ত মিশে যায় একে অপরের সংগে। তখন প্রচন্ড ব্যাথা করে বুক। এর থেকে প্রচন্ড জ্বর হতে পারে, কিংবা বাতজ্বর। ডাক্তার আরও বললেন এটা জন্মগত ত্রুটি, সাধারনত ভালো হয়ে যায় বয়স বাড়ার সংগে সংগে, তবে ভালো না হলে অপারেশন করতে হয়। ঢাকা সিএমএইচ আমাকে ছয় মাস পরিশ্রম কম করতে বলল (ছয়টি মাস পিটি মাফ, সাথে গেমসও তবে ড্রিল করতে হবে) এবং ছয় মাস পড়ে আবার এই টেস্ট। এরপর “ফাইনাল রেজাল্ট””।

ছয় মাস “লো ডিউটি” আমার জীবনকে পুরা “তামা-তামা” করে দিল। বাস্কেটবল আমার প্রিয় খেলা ছিল। ক্লাস এইটে জুনিয়র হাউস টিমে বড় ভাইয়ারা নিয়েছিলেন খেলার জন্য। এডজুটেন্ট আমার পিছনে স্টাফ লেলিয়ে দিলেন, যাতে আমাকে বাস্কেটবল গ্রাউন্ডের আশে-পাশে দেখা না যায়। ক্লাস নাইনে ফুটবল কম্পিটিশন মিস করলাম। এটা অনেক বড় একটা “মিস” আমার ছোট্ট জীবনে। পুরা একবছর অপেক্ষায় ছিলাম এটার। এর আগের বছর তিতুমীর হাউসের কাছে ৩-২ গোলে হেরেছিলাম। আমাদের “গেটিস” গোলকিপার গালিব ভাই এর পায়ের ফাক দিয়ে দুটো গোল করেছিল ওরা, শোধ নিব এবার, কত পুরানা প্ল্যান এইটা আমাদের। ডাক্তার স্যার কড়া রিপোর্ট পাঠিয়ে দিলেন হাউস মাষ্টার স্যারের কাছে, আমাকে যেন হাউস টিমে রাখা না হয়। অনেক অনুনয় করলাম স্যারের কাছে, কিন্তু মন গলল না তাদের। ক্লাস এইটেই মাঠ মাতিয়েছিলাম হাউস কম্পিটিশনে, ক্লাস নাইনে টিমে চান্সই পেলাম না। অনেক কষ্ট পাচ্ছি দেখে কোচ বানানো হল আমাকে। আমার ছোট্ট বুকটা “প্রায় ফেটে” গিয়েছিল কান্নায়।

ছয় মাস পড়ে অনেক আশা নিয়ে আবার গেলাম টেস্ট করতে, ঢাকা সিএমএইচে। আশা, এবার হয়ত স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারব। কিসের কি। এবার ঢাকা সিএমএইচ আমাকে এডমিট করে নিল। ভর্তি করে রাখল টানা ১৭ দিন। শেষে বলেছিল অপারেশন করে ফেলতে। খুব বেশি রিস্ক নেই অবশ্য আমার, জানিয়েছিল তারা, একটু বুঝে শুনে চললেই হবে, তবে অপারেশন করে ফেলা ভালো। “এস, এস, সির পড়ে অপারেশন করাবো”, বড়বু আমার অভিভাবক হিসেবে এই কথা দিলেন তাদের। ঢাকা সিএমএইচ আমাকে ছেড়ে দিল, কিন্তু ছাড়পত্রে অপারেশন করার সাজেশন/প্রয়োজন বা এধরনের কিছু কথা লিখে দিতে বেমালুম ভূলে গেল।

ভাগ্যিস ভূলে গিয়েছিল তারা। আমি স্বাভাবিক জীবনে ফিরে যেতে পেরেছিলাম ক্যাডেটে। যদিও নিজ থেকেই বাস্কেটবলটা আর খেলিনি, বরং রপ্ত করেছিলাম ভলিবল, আর বরাবরের মত ফুটবলটা ছিল, ক্যাডেট কলেজের পুরো জীবনের অর্ধেকটা ছিল এই ফুটবল। বাকী সব কিছু অন্য অর্ধেকে।

অপারেশনও করিনি। ভালই আছি আজ পর্যন্ত।

২,৭৫৯ বার দেখা হয়েছে

৫৮ টি মন্তব্য : “ধূলোমাখা শহর, ধূলোমাখা স্মৃতি – ০৬”

  1. রেজওয়ান (৯৯-০৫)

    ইশশশশ, ভাইয়া আপনার এই লেখা গুলো পড়লে অদ্ভুত একটা অনুভূতির তৈরি হয়, চমৎকার,অসাধারন........
    চাকরির সুবাদে এখন রংপুর থাকার সুবাদে আপনার লেখার সাথে আরও গভীর ভাবে মিশে গেলাম, যেন মনে হচ্ছিল আপনাদের দুই ভাইকেই দেখতে পাচ্ছিলাম জি এল রায় রোডে দৌড়াচ্ছেন...।
    সি এম এইচ তো রুমের দরজা খুললেই দেখা যায়......
    অসাধারন লেখা ভাই :boss: :boss:
    আর আরেকটা কথা, চেক আপ টা একবার করিয়ে নিলে হয় না ?
    হতেও পারে অনেক বছর হয়ে গেছে.......তারপরও....... 😕

    জবাব দিন
  2. সানাউল্লাহ (৭৪ - ৮০)

    সেটা নাহয় বুঝলাম। কিন্তু পরে মানে গত এক-দুই বছরে কোনো মেডিকেল চেকআপ করিয়েছ? এখন কি অবস্থা? স্বাভাবিক সবকিছু? এইসব তথ্য না দিয়ে এমন একটা পোস্ট দেয়ার জন্য তোমারে ভ্যান করার জন্য জোর লবিং শুরু করমু কিনা ভাবতাছি!! x-( x-( x-(

    তুমি ভালো থেকো ভাইয়া। সব শুভ তোমাকে সারাজীবন ঘিরে থাক। :hug:


    "মানুষে বিশ্বাস হারানো পাপ"

    জবাব দিন
  3. কামরুল হাসান (৯৪-০০)

    আহারে ! ক্রস কান্ট্রিতে সারাজীবন ১০০'র পরে আসতাম। :)) মাঝে মাঝে ফাঁকি মারার জন্য এডজুট্যান্ট পরের কয়েকদিন এক্সটা ড্রিল দিয়া রাখতো।

    খেলাধুলায় আপনার মতো ভালো ছিলাম না কোনকালেই। আর্ট-কালচারের দিকে উৎসাহ ছিলো বেশি 😉 ।

    ভলিবলে আপনি থাকতেও শেষ পর্যন্ত সিলেটের কাছে আইসিসি মিটে হাইরা গেলেন? 😉 ফরহাদ ভাই তাইলে ভালোই খেলছিলো ? 😀

    শরীরটা একবার আবার চেক করাইয়া নেন।

    আপনারে যে আমি কি পরিমাণ পছন্দ করি তা কি কোনদিন বলছি? 🙂


    ---------------------------------------------------------------------------
    বালক জানে না তো কতোটা হেঁটে এলে
    ফেরার পথ নেই, থাকে না কোনো কালে।।

    জবাব দিন
  4. মাহমুদ (১৯৯০-৯৬)
    ক্যাডেট কলেজের পুরো জীবনের অর্ধেকটা ছিল এই ফুটবল। বাকী সব কিছু অন্য অর্ধেকে।

    ফয়েজ ভাই, আমারো 😀 ।

    আমরা ক্লাস টেনে থাকতেই সিনিয়র গ্রুপে জুড়ে দিছিল :grr: x-( । আর দৌড়েছি আপনার ছেলেবেলার ঐ তাজহাট রাজবাড়ীর মোড় পর্যন্ত B-)


    There is no royal road to science, and only those who do not dread the fatiguing climb of its steep paths have a chance of gaining its luminous summits.- Karl Marx

    জবাব দিন
    • ফয়েজ (৮৭-৯৩)

      কি মজা, ক্লাস টেনে আবার সিনিয়র গ্রুপে নিছিল। :tuski: :tuski:

      চ্যাম্পিয়ন হইছিলাম :awesome: :awesome:

      ক্যাডেট কলেজের দৌড়ের ঐ রাস্তা দিয়ে তাজহাট হয়ে সোজা সাতমাথা চলে গেছে। সেই সাত মাথা থেকে এক মাথা গিয়েছে জাহাজ-কোম্পানী মোড় পর্যন্ত, এইটা জি, এল রায় রোড। আমার বাসা কামাল কাছনা, জাহাজ-কোম্পানী আর সাত মাথার মাঝামাঝি।

      কর্নেল ওবায়েদের পরে প্রিন্সিপাল কে ছিলেন? এডজুট্যান্ট কে এসেছিলেন? কেমন ছিলেন ওনারা?


      পালটে দেবার স্বপ্ন আমার এখনও গেল না

      জবাব দিন
  5. আদনান (১৯৯৭-২০০৩)

    দম নিতে নিতে ভাবুন,
    প্রকৃতির সমস্ত প্রাণশক্তি আপনার শরীরে প্রবেশ করছে।

    দম ছাড়তে ছাড়তে ভাবুন,
    শরীরের সকল দূষিত পদার্থ বাতাসের সাথে বেরিয়ে যাচ্ছে।

    ভাল থাকবেন আশা করি; আল্লাহ'র এই অপূর্ব নেয়ামতটি (অক্সিজেন) ঠিকমত নিতে ভুলবেন না যেন!

    জবাব দিন
  6. শার্লী (১৯৯৯-২০০৫)

    আমি আবার খুবই দুর্দান্ত( ;;; ) খেলোয়ার। ক্লাস ৯ আর ক্লাস ১২ ছাড়া অন্য কোন বছর হাউস টিমে চান্স পাই নি। আর দৌড়? গ্রামান্তর দৌড়ে যথাক্রমে-৫৩, ৪৮, ৯৪(জুনিয়র গ্রুপ) এবং ৪৪, ৪৪( 😀 সিনিয়র গ্রুপ)।

    যাই হোক, সুস্থ আছেন এটাই বড় কথা। আনন্দে থাকেন, সব ভালো থাকবে।

    জবাব দিন
  7. রায়হান আবীর (৯৯-০৫)

    এই পোস্টের উদ্দেশ্য কি? আপনার লেখা পড়ে একাত্মতা ঘোষণা করা নাকি নিজেরটাও চামে চিকনে কইয়া দেওয়া?

    *

    আমাদের ব্যাচে সবচেয়ে বেশী হাসপাতালে ভর্তি হবার রেকর্ড আমার। ক্লাস এইটে মাথাব্যাথার প্রবলেম ছিল। সাইনাস, মাইগ্রেন। ছুটিতে সিএমএইচ এ গিয়ে এক্সরে করে নিয়ে আসলাম। তারপর থেকে কলেজে কোন অকেশন হলেই আমি এক্সরে নিয়ে ডাক্তার স্যারের কাছে হাজির। সাথে সাথে এডমিট। জীবনে ড্রিল কম্পিটিশন করি নাই, অবস্ট্যাকল করছি একটা, ক্রস ক্রান্টি দুইবার। এরমধ্যে প্রায় লাস্টে আসছি >:)

    *

    এসএসসির ছুটিতে আমাদের মেহেদি সিএমএইচ এ ভর্তি ছিল। বাসার কাছেই সিএমএইচ, প্রায়ই চলে যেতাম। কত রাত ওইখানে কাটাইছি। সেইরকম স্মৃতি।

    *

    খেলাধূলার ব্যাপারে আর কিছু না কই। খেলাধূলা পার্তাম না।

    উপসংহারঃ

    মেয়ে ঘটিত কিছু নাই বিধায় এই পোস্ট মোটামুটি হইছে। 😛

    জবাব দিন
  8. টিটো রহমান (৯৪-০০)

    কলেজ থেকে মেট্রিকের ভ্যাকেশন গ্রামের বাড়ি গিয়েছি। আর আমার কাছের বন্ধুরা সব তখন বেড়াতে কক্সবাজার। চাচার অসুস্থতার দোহাই দিয়ে যেতে দেয়া হয়নি। তাই নিয়ে কি রাগারাগি মায়ের সাথে!
    মেজাজ খারাপ করে আম গাছে উঠেছিলাম। উচু মগডালে।
    হঠাৎ মচাৎ করে ভেঙে পড়ল ডাল। আমি পড়লাম গাছের গোড়া আর চাচাদের বিল্ডিংয়ের মাঝখানে। প্রথমে কিছুই বুঝতে পাড়িনি। একটু পড়েই খেয়ল করলাম হাজার চেষ্টা করেও আমি বাতাস পাচ্ছি না। ফুসফুস ঠা ঠা মরুভূমি। আমি হাত দিয়ে বাতাস টানছি। কিন্তু কোথায় বাতাস?
    কতক্ষণ এই অবস্থার মধ্যে ছিলাম জানি না। দেখি মা এসেছেন। তিনি কি বুঝলেন আমাকে জোড়ে দু'তিনটা ঝাঁকি দিলেন। হঠাৎ হুড়মুড় করে একগাদা বাতাস। আহ!
    কে যেন মাকে খবর দিয়েছিল। ডাল ভাঙার শব্দ পেয়েছিল সে। ভাগ্যিস ডাল নি্শব্দে ভাঙে না।

    যাই হোক ...বরগুনা থেকে সাভার সিএমএইচ..সেখান থেকে ঢাকা সিএমএইচ। রুপেটর্ পাওয়া গেল আমার মেরুদন্ড ভেঙে গ্যাছে। লাম্বার ওয়ােনর ভিতর লাম্বার টু ঢুকে পড়েছে। ৫ ফিট ৩ ইন্চি মানুষটা ১ ইন্চি কমে গেলাম। সেই থেকে বহন করছি এই দেহ।

    তারপর ক্যাডেট কলেজ..প্যারেড পিটি মাফ...সে গলাপ ফয়েজ ভাই রআমার চেয়েও অনেক সুন্দরভাবে বলেছেন।
    জানি না ফয়েজ ভাই , আপনার লেখা পড়ে সেই ঘটনা আজ কেন মনে পড়ল!


    আপনারে আমি খুঁজিয়া বেড়াই

    জবাব দিন
  9. নূপুর কান্তি দাশ (৮৪-৯০)

    ফয়েজ,
    তাড়াতাড়ি ডাক্তারের কাছে যা :frontroll: দিতে দিতে।
    আমি চিটাগাঙ থাকলে ধইরা নিয়া যাইতাম।
    ফৌজিয়ান ধীমান বণিক দা আছেন কার্ডিওলজিস্ট ওইখানে।
    (চেম্বার এখন কই জানিনা)
    খুব ভালো মানুষ, খুব ভালো ডাক্তার।
    চেক-আপ টেক-আপ এইগুলা রুটিন ব্যাপার,
    ভালো আছি বইলা মটকা মাইরা পইরা থাকবিনা।
    :gulli2: মারার আগেই :frontroll: শুরু কইরা দে।

    জবাব দিন
  10. রবিন (৯৪-০০/ককক)

    ইস কলেজে খেলাধুলাটা বড়ই ভালা পাইতাম। সব খেলাই খেলছি। এমনকি আমরা যেইবার ১২ এ, সেইবার সব গুলাতেই ১ম হইছিলাম আমরা। খেলার জন্য গেসিলাম ৯৯ এ আইসিসি ফুটবল এ CCR এ, আর ২০০০ এ এথলেটিক্স এ JCC এ।
    আর ক্রস কান্ট্রি তে একবার কেম্নে কেম্নে জানি ক্রেস্ট পাইয়া গেসিলাম। আর কোনোবার পাই নাই। :))

    জবাব দিন
  11. সাকেব (মকক) (৯৩-৯৯)

    বস,
    আপনার লেখা আমি কত ভালো পাই- সেইটা আর নতুন কইরা বলার কিছু নাই...
    তবে আমার এতো প্রিয় এই সিরিজটা ক্যাডেট কলেজে ঢুইকা গেলো দেইখা খুব কষ্ট পাইলাম...
    এখন থিকা তো আর রাজকন্যারা এই সিরিজে আসবেনা :((


    "আমার মাঝে এক মানবীর ধবল বসবাস
    আমার সাথেই সেই মানবীর তুমুল সহবাস"

    জবাব দিন

মন্তব্য করুন

দয়া করে বাংলায় মন্তব্য করুন। ইংরেজীতে প্রদানকৃত মন্তব্য প্রকাশ অথবা প্রদর্শনের নিশ্চয়তা আপনাকে দেয়া হচ্ছেনা।