তুমি ভাসবে হৃদয়-মাঝে – ৩

তুমি ভাসবে হৃদয়-মাঝে – ২
তুমি ভাসবে হৃদয়-মাঝে – ১

“কেন?”

তার কাছ থেকে এই ধরনের প্রশ্ন আসতে পারে, এমনটি ভেবে আমি প্রস্তুত থাকা স্বত্ত্বেও তার প্রশ্ন করার ভঙ্গিমাতে আমি অপ্রস্তুত। একটা জুতসই উত্তর খুঁজে বের করা দরকার। কোন মেয়ের সামনে এমন উদ্ভট সিচুয়েশনে আগে পড়িনি। আজ আমার এ কি হল? আমার মাথা কাজ করছে না কেন?? দ্রুত চিন্তা করার চেষ্টা করতে লাগলাম। এই ‘কেন’র কি উত্তর দেওয়া যায়…
“না, এই জাস্ট… ভার্সিটিতে পড়; জাস্ট কৌতুহল আর কিছু না।”
চিন্তাপ্রসূত কোন কিছু মাথা থেকে বের হবার আগেই কথাগুলি মুখ ফস্কে বেরিয়ে গেল। এগুলো বলে আমি আরো অস্বস্তি ফিল করতে শুরু করেছি। এটা কি ধরনের কথা? জাস্ট কৌতুল !! এসব বেখাপ্পা চিন্তা করা শুরু করলাম কবে থেকে?? চরম একটা বিদ্ঘুটে অবস্থা!

আবারো আরেকটি ধাক্কা। এবার বেশ জোরে, ব্যথা ব্যথা করে উঠলো একেবারেঃ
“আমার নাম জানার আপনার কোন প্রয়োজন আমি দেখছি না।”
… ইস্‌, এভাবে বোল্ড হতে হল? দুঃখে আমার মরে যেতে ইচ্ছা করছে। বসন্তকালের আগমনকে আরো জোরে জোরে বেশ কিছু বাংলা গালি দেবার ইচ্ছা একরকম দমিয়ে রাখলাম। এই সময়টা কি পরিমানের খারাপ!! এমনিতেই মনটা বিগড়ে আছে, তার উপর যদি এই ধরনের খোঁচা… নাহ, হল না… আবার একটু চেষ্টা করলাম –
“প্রয়োজন কি থাকতে পারে না? একই ভার্সিটিতে পড়ি, কত রকম এ্যাকটিভিটিজ আছে, কখন কি প্রোগ্রাম হয়… আর চেনা পরিচয় থাকাটা তো ভাল, তাই না?… কি, বলবেনা?”
লাভ হল না। চোখেমুখে সেই উজ্জ্বল আভাটুকু লাগিয়ে রেখেই তার নির্লিপ্ত উত্তরঃ “না, কোন দরকার নেই।”
এই বলে সে পা বাড়ালো সামনের দিকে। এখানে রিক্সা পাওয়া যাচ্ছে না, নাকি আমার ব্যবহারে অসন্তুষ্ট, কোনটা সঠিক ঠাওর করতে পারলাম না। কি এক অজানা অনুভুতি মনের ভেতর ক্ষণে ক্ষণে বাড়ি দিতে লাগল।

খুব দুঃখ লাগছিল ঠিক-ই, কিন্তু আরেকটা ব্যাপার আমি খুবই অন্যভাবে, পজিটিভলী চিন্তা করছি — মেয়ে টা তো সঠিক আচরণটাই করেছে। একটা অচেনা ছেলের সাথে বিগলিত কথাবার্তাকে তো আমরা কত ভাবে গালাগালি করি, যেসব মেয়ে এরকম এটিচুড-এর তাদের সমালোচনা করে আর কিছু রাখি না… সেদিক থেকে এই মেয়ের আচরণ তো যথেষ্ট সতর্ক আর বুদ্ধিদীপ্ত। বুকের ভিতর কষ্টের ক্রিস্টালাইজেশন হলেও মনে মনে আমি তার প্রতি, মূলত তার এই আচরণের প্রতি এক ধরণের শ্রদ্ধাবোধের উদয় হতে দেখলাম। বেশ বুঝতে পারছি, আমার তাকে ভাল লেগেছে, যে ভাললাগা কোন সাধারণ ভাললাগার মাপকাঠিতে পরিমাপযোগ্য নয়। … আরে, কবি-সাহিত্যিক’রা এই ধরণের ভাষা ব্যবহার করে না? কি জানি… আমি কি কবি হয়ে যাচ্ছি? নাহলে কি কারণে একটু আগে বসন্তের গুষ্টি উদ্ধার করা মন ঐ হেঁটে যাওয়া সুন্দরী’র ভাবনায় উদাস হবার আকাঙ্খায় আবার সেই ফাগুনেরই আগুনে ঝলসে শুদ্ধ হতে চাইবে? এখনো আমার দৃষ্টি তার চলে যাওয়া পথের অনুসারি কেন হবে? কেন আমার হৃদস্পন্দন তার প্রতিটি পদক্ষেপের সাথে তালে তালে বেজে যাওয়া মৃদু নিক্কণ-সুর-সঙ্গীতে মোহিত হয়ে ‘ধাক্কা’ খেতে থাকবে? এভাবে কষ্ট পাবার পরও কেন তার প্রস্থান আমার বুকের মাঝে হাহাকারের সৃষ্টি করবে?

পাশে বসা বন্ধুটি এতক্ষণ বসে বসে পুরো ব্যাপারটা এনজয় করছিল। এবার তার মুখ খুলল – আস্তে করে, বিশেষ একটা ফ্যাশফ্যাশে টোনে বললোঃ “বাপরে বাপ, মাইয়া’র তো দেখি বিরাট দেমাগ!” …তার কথা শুনে মেজাজ আবার তুঙ্গে উঠল। “রাসেল, চুপ থাক্‌ শালার ****, যা ফুট্‌! ” বলে ঝাঁঝালো একটা ধমক দিয়ে আমি উঠে চলে এলাম। কেমন জানি লাগছে, একটা বিড়ি জ্বালিয়ে কোনমতে বাড়ি যাই গে!

তবে এটা মোটামুটি শিওর আমি, এরপর আর ক্লাস এ্যাটেন্ডেন্স-এর পার্সেন্টেজ-এ কখনো কোন ঝামেলা সৃষ্টি হবেনা আমার!! নেক্সট কবে আবার দেখা হবে, কি হবে না, সিগারেটে টান দিয়ে এই দোটানায় দোদুল্যমান আমি রিক্সায় দুলতে দুলতে তার সেই দোল খাওয়া কানের দুলে বিকেলের সূর্যের প্রতিবিম্ব কল্পনায় আঁকতে আঁকতে রওনা দিলাম বাসার দিকে।

to be continued…

১,৪০২ বার দেখা হয়েছে

১৪ টি মন্তব্য : “তুমি ভাসবে হৃদয়-মাঝে – ৩”

  1. রকিব (০১-০৭)
    “না, এই জাস্ট… ভার্সিটিতে পড়; জাস্ট কৌতুহল আর কিছু না।”

    গল্পের নায়ককে :just: কেমন যেন মাসরুফ ভাইয়ের মতো মনে হছে।


    আমি তবু বলি:
    এখনো যে কটা দিন বেঁচে আছি সূর্যে সূর্যে চলি ..

    জবাব দিন

মন্তব্য করুন

দয়া করে বাংলায় মন্তব্য করুন। ইংরেজীতে প্রদানকৃত মন্তব্য প্রকাশ অথবা প্রদর্শনের নিশ্চয়তা আপনাকে দেয়া হচ্ছেনা।