তুমি ভাসবে হৃদয়-মাঝে – ১

বর্ষাকাল কিংবা বসন্তকাল কবিদের কাছে খুব রোমান্টিক মনে হলেও আমার কাছে চরম বিরক্তিকর।

প্রথমত, বর্ষা একটা নোংরা ঋতু। বৃষ্টি হয়ে রাস্তাঘাটে পানি জমে যায়, বাইরে বের হওয়াই দুস্কর। আর যদি সেটা এমন হয় যে রাস্তায় জমা পানি আর ড্রেনের পানি একাকার, তাহলে তো নোংরামির চুড়ান্ত। আর এখন তো মোবাইল ফোনের যুগ। বৃষ্টি থেকে দামি মোবাইল সেটটা বাঁচানোর জন্যেও কত রকম কাহিনী করা লাগে। পানি ঢুকে গেলে তো গেল জিনিসটা, আবার অতগুলি টাকা দিয়ে কিনতে গেলে জীবন বেরিয়ে যাবে। না কিনেও থাকার উপায় নাই, কেন নাই সেটা বলা বাহুল্য।
আর দ্বিতীয়ত, বসন্তকাল এমন একটা ঋতু যেটা পৃথিবীর সবচেয়ে বাজে ঋতুটাকে নিয়ে আসে – গ্রীষ্মকাল। এই গ্লোবাল ওয়ার্মিং-এর সময়ে গ্রীষ্মকাল কতটা ভয়াবহ হতে পারে সেটা তো আর আম জনতাকে বলে দিতে হবে না। আর বসন্তও কি কম যায়? চৈত্র মাসের তাপ তো অনেক আরামের (!) … আরেকটা যে কারণে আমি বসন্তকে দু’চোক্ষে দেখতে পারিনা সেটা হলঃ এই বেয়াদব ঋতুটা আমার সবচেয়ে পছন্দের শীতকালকে ভাগিয়ে দেয়। শীতকালের মত শান্তির সময় আর আছে নাকি পৃথিবীতে??

তাই শীতের শেষভাগে আমার মন-টন একটু মুষড়ে আছে। আগে ক্লাস শেষ করে বন্ধুরা মিলে ফাটিয়ে আড্ডা দিতাম কনফারেন্স রুমে বসে বসে (চামে দিয়া), অথবা হয়তো ল্যাবে বসে বসে ইন্টারনেটে প্রয়োজনীয়/অপ্রয়োজনীয় জিনিস গুতাগুতি করতাম, নাহলে সামনে মামার দোকানে চা-সিঙ্গাড়া, বিড়ি-সিগারেট তো চলতোই। আর শীতকালে সিগারেট টানার আলাদা ফিলিংস। জেমস মনে হয় তার ব্যান্ডটা এই সময়টাতেই ফর্ম করেছিল। মাঝে মাঝে আবার শরীরে বেশি তেজ অনুভব করলে টিটি খেলতাম রিক্রিয়েশন রুমে, কয়েকজন মিলে আবার পটশটে-ও চলে যেতাম আর পুল খেলায় মেতে উঠতাম।

যাই হোক, মনটা খারাপ, তাই কোন আড্ডাও নেই, মাস্তিও নেই। গরম পড়া শুরু হয়েছে, এখন বেশির ভাগ বন্ধুরা সবাই কত তাড়াতাড়ি বাড়ি যেতে পারে সেই তালে থাকে। আমি আর আমার এক বন্ধু সামনের গেটের পাশে গাছের নীচে বাধাই করা অংশটাতে বসে আছি। আমার ঐ বন্ধুটার আবার একটা রোগ আছে, নতুন ব্যাচ ভর্তি হলেই তার কি যেন চুলকানি উঠে, কয়টা সুন্দরী এসেছে সেই হিসাব করতে বসে যায় ক্যালকুলেটর নিয়ে, আর কয়টাকে পটানো যায় সেই ফন্দি করতে থাকে। আর ঠিক এই কারনেই আড্ডার সময় সে থাকে আমাদের পঁচানি খাওয়ার কেন্দ্রবিন্দু।

সেদিনও তার সেই একই পায়তারা। আমরা দু’জনই চুপচাপ বসে আছি। আমার মাথাটা ফাঁকা থাকলেও তার মাথায় এখন চাচা চৌধুরি দৌড়ে বেড়াচ্ছে। কারণ ক’দিন আগে ভার্সিটিতে নতুন ব্যাচের ছেলেমেয়েদের ইনাগোরেশন হয়েছে। সে বসে বসে মনযোগ সহকারে নতুন মুখের আনাগোনা দেখার চেষ্টা করছে, হয়তো বোঝারও চেষ্টা করছে – কোন মেয়ে তার দিকে একটু উৎসুক হয়ে তাকালো কি না। আমি তো লাইফের সমস্ত মাস্তি লম্বা সময়ের জন্য স্থগিত হয়ে যাবার দুঃখে যার-পর-নাই আহত। এলেবেলে চিন্তা করারও এনার্জি পাচ্ছিনা। অনেকক্ষণ বোর হয়ে বসে থাকার পর ভাবলাম এখন যাই বাড়ি যাই। এই ভেবে যেই উঠতে যাব, এমন সময় একটা ধাক্কা খেলাম, সেটার জোর এতই বেশি ছিল যে আমাকে আবার বসে পড়তে বাধ্য করল। আমি অবাক হয়ে সেই ধাক্কা দেওয়া মানুষটির দিকে তাকিয়ে থাকলাম।

to be continued…

১,৯৬৪ বার দেখা হয়েছে

২২ টি মন্তব্য : “তুমি ভাসবে হৃদয়-মাঝে – ১”

  1. লেখাটা ভালো হয়েছে।

    বর্ষার ব্যাপারে একমত- দিনের বেলায় বৃষ্টি হইলে মুড অফ হয়ে যায়, বাইরে চলাচল করা ঝামেলার হয়ে যায়। তবে রাতের বেলা বৃষ্টি হইলে কোন আপত্তি নাই 🙂
    আর শীতকাল একসময় আমারও প্রিয় ঋতু ছিল। আমেরিকায় আইসা আমার সে সাধ মিটা গেছে- শীতের ঠেলায় আমার হাইট দুই ফুট কমে গেছে 🙁

    জবাব দিন
  2. আমিন (১৯৯৬-২০০২)

    বর্ষাকালরে নিয়া ফান করার জন্য তোমার ব্যান চামু ভাবসিলাম।
    লেখাটা পইরা চমকিত হইলাম। কিন্তু পরে আবার মূলা ঝুলাইলা।
    এইবার তো চাইতেই হয় তাইলে ...............

    জবাব দিন
  3. আহসান আকাশ (৯৬-০২)

    শীতকাল :thumbup: :thumbup: (খালি সকালে উইঠা পিটিতে যাইতে জান টা বাইর হয়ে যায় ~x( )


    আমি বাংলায় মাতি উল্লাসে, করি বাংলায় হাহাকার
    আমি সব দেখে শুনে, ক্ষেপে গিয়ে করি বাংলায় চিৎকার ৷

    জবাব দিন

মন্তব্য করুন

দয়া করে বাংলায় মন্তব্য করুন। ইংরেজীতে প্রদানকৃত মন্তব্য প্রকাশ অথবা প্রদর্শনের নিশ্চয়তা আপনাকে দেয়া হচ্ছেনা।