অতঃপর… সেই ঘুম

ঘুমের গল্প পড়ে আমারো একটা গল্প বলতে ইচ্ছা করছে —

আমরা তখন ক্লাস সেভেন-এ। নাইট প্রেপ। প্রেপ গার্ড ২৯-এর সাব্বির ভাই। ওহ্‌ বলে রাখি, তখনও আমাদের নভিসেস ড্রিল এর প্রাক্টিস চলছে। যাই হোক যেটা বলছিলাম – আমাদের নাইট প্রেপ, চরম ঘুম পাচ্ছে। আমাদের ফয়সাল অসম্ভব ট্যালেন্টেড একটা পোলা, ওর ঘুমের স্টাইল এতই জোস যে ধরার কোন কায়দা নাই। চেয়ারে স্ট্রেইট হয়ে বসে ঘুমায়। সে-ও ঘুমাচ্ছিল কিন্তু ধরা খায়নাই।

এদিকে আমি ঘুমে পুরা ডেস্ক-এর উপরে শুয়ে একেবারে কাদা আর কি! প্রেপ সম্ভবত তখন শেষের পথে। পাশ দিয়ে সাব্বির ভাইদের কোন এক ব্যাচমেট সিনিয়ার ভাই যাচ্ছিলেন। দেখলেন আমি ঘুম। আমাকে উনি ডাকা শুরু করলেনঃ “আদনান, আদনান, ইউ ব্লাডি চ্যাপ, গেট আপ।”… ইত্যাদি। আমার কোন সাড়া শব্দ নাই। উনি আরো জোরে শাউট করে আমাকে ডাকতে লাগলেন। তা-ও আমার কোন কাহিনী নাই।

আস্তে আস্তে পুরা ফর্মের সবাই আমাকে একসাথে ডাকা শুরু করল। এই চিৎকার-চ্যাচামেচিতে ফয়সাল-ও খুব সাবধানে ঘুম কাটিয়ে উঠে পড়েছে। সমস্ত ফর্মে একটা রই-রই অবস্থা আমাকে ডাকা নিয়ে। সবার ভোকাল কর্ড-এর রেসোনেন্স যখন তুঙ্গে, তখন আমার সেই কুম্ভকর্ণ ঘুম ভাঙল। আমি উঠলাম। বামে তাকিয়ে দেখলাম আমাদের মেহ্‌রাজ আমার দিকে তাকিয়ে মিটি মিটি হাসছে। ডানে তাকিয়ে দেখলাম এক সিনিয়ার ভাই আমার দিকে কটমট করে তাকিয়ে আছেন।

আমার তখনো হুশ হয়নি, তাকে দেখে যে আমার ভয় পাবার কথা সেসব কিছুই আমার মাথায় খেলছেনা। উনার দিকে এক নজর দিয়ে আমি আবার ঘুমানোর জন্য ডেস্কের উপর মাথা রাখতে যাচ্ছি, এমন সময় পেছন থেকে সাব্বির ভাই খুব জোরে ‘আদনান’ বলে একটা হাঁক দিলেন। আমি গেলাম। উনার চেহারায় একটা ইব্লিশ-মার্কা হাসি। উনি বল্লেনঃ “হ্যাড আ সাউন্ড স্লীপ, হা?” আমি বল্লামঃ “ইয়েস প্লীজ।” আমার জবাব শুনে উনি তো আরো খাপ্পা… আমাকে অর্ডার করলেনঃ “ওকে, ভেরি ফাইন। নাউ হ্যান্ডস ডাউন।” তার পর থেকে প্রেপ শেষের বেল পড়ার ৫ মিনিট পর পর্যন্ত আমাকে পুশ-আপ কন্টিনিউ করা লেগেছিল। ওটা আমার কলেজ জীবনের সবচেয়ে এক্সট্রিম ঘুম ছিল; ভোলার নয়!

১,২১৯ বার দেখা হয়েছে

১৯ টি মন্তব্য : “অতঃপর… সেই ঘুম”

  1. ফয়েজ (৮৭-৯৩)

    আহারে ঘুম.........।।

    তবে আমার ঘুম ক্লাসিক ছিল, পুরা ছয় বছরে কি ক্লাস কি প্রেপ, ধরা খাইছি মাত্র একবার, ক্লাস টেনে, তাও আবার প্রিন্সিপাল কর্নেল এমদাদউদ্দিন স্যারের কাছে। 🙁


    পালটে দেবার স্বপ্ন আমার এখনও গেল না

    জবাব দিন
  2. তাইফুর (৯২-৯৮)

    জগদীশ বাবু প্রমান করেছিলেন গাছেরও প্রাণ আছে ...
    আদনান বাবু প্রমাণ করিলেন তারা ঘুমায়ও ...


    পথ ভাবে 'আমি দেব', রথ ভাবে 'আমি',
    মূর্তি ভাবে 'আমি দেব', হাসে অন্তর্যামী॥

    জবাব দিন

মন্তব্য করুন

দয়া করে বাংলায় মন্তব্য করুন। ইংরেজীতে প্রদানকৃত মন্তব্য প্রকাশ অথবা প্রদর্শনের নিশ্চয়তা আপনাকে দেয়া হচ্ছেনা।