কলেজের লিজেন্ডারি GIVSON বেস গিটার

Azad & Me performing on-stage

Azad & Me performing on-stage

আমরা তখন ক্লাস 12 -এ পড়ি। আমাদের class function সামনে। ওটার প্রস্তুতি চলছে। গেমস টাইম-এ আমরা পারফর্মার-রা সবাই অডিটোরিয়াম-এ প্র্যাকটিসরত। আমার বদৌলতে আমার ব্যাচে বেশ কিছু গিটারিস্ট পয়দা হয়েছিল; সবাইকেই আমরা যারা মিউজিক সেকশন-টা দেখছি, একটা ফিল্ড দিতে চাইছিলাম।

আমাদের সাখাওয়াত এরকম-ই আমার এক স্টুডেন্ট-ব্যাচমেট আর কি। তো, প্রোগ্রাম-এর একটা গান-এ ও বেস বাজাবে। By the way, আমাদের সময় ক্যাডেট কলেজে গিভসন গিটার-এর খুব প্রচলন ছিল। নাম-টা অনেকেই হয়তো শুনে থাকবেন যারা গিটার বাজান। যাই হোক, আমাদের কলেজের সেই গিভসন গিটার দিয়েই আমরা প্রাকটিস করতাম।

সেদিন প্রাকটিস-এ বেস গিটারটা বের করার পর স্টেজ-এর পেছনের দেয়ালে হেলান দিয়ে রাখা ছিল। প্রাকটিস সেশন যখন শুরু হল এবং খানিকটা এগোলো, আমি বললাম: “সাখা, তোর টার্ণ এখন, যা বেস-টা লাগা, আমি ব্যালান্স করতেসি”… আরেকজন-কে বললাম বাইরে গিয়ে আউটপুট কেমন যাচ্ছে দেখতে।
FYI, ক্যাডেট কলেজে আমাদের কোন MONITOR MIX বলে কিছু ছিলনা, মানে স্টেজ-এর উপর থেকে আমাদের বোঝার কোন উপায় ছিলনা, বাইরে সাউন্ড কেমন যাচ্ছে।

ঐ মোমেন্ট-এ সাখাওয়াত তো চরম excited,স্টেজ-এ প্রথম পার্ফম করবে, সেইরকম ফিলিংস্। সে দৌড়ে গিয়ে বেস গিটার টা নিবে এমন একটা ভাব; কিন্তু ওর সেই উত্তেজিত দৌড়-এর প্রকোপ-এ (ও একটু মোটার দিকে ছিল) স্টেজ-টা SHAKE করে গিটার-টা হেলান অবস্থা থেকে পড়ে গিয়ে ওটার NECK এর কাছে একটা সিরিয়াস BREAK হয়ে আমাদের প্রোগ্রাম AT STAKE হয়ে গেল!

আমাদের তো মাথা পুরা খারাপ… কলেজ authority জানতে পারলে খবর আছে। কি করা… কি করা… শেষে সিনেমার নায়ক সাখাওয়াত-ই বুদ্ধি বের করল; বলল: “দোস্ত, পেরেক মেরে দিই, কি বলিস?” আমাদের কারো তখন মাথা কাজ করছিলনা, চিৎকার করে বললাম: “যা ইচ্ছা তাই কর, পেরেক মার আর সুপার গ্লু মার doesn’t matter, এনিহাউ তুই এটা আমারে এখন ঠিক করে দিবি।”

সাখাওয়াতের যেই বলা সেই কাজ — ও ৩টা পেরেক নিয়ে আসল, গিটার-এর নেক-টা উচু করে সেট করল, পেরেক ঠুকলো ৩টা সমান সমান distance-এ, তারপর সেই পেরেক-ঠোকা জায়গার উপর একটা স্টিকার মেরে দিল। বুদ্ধি আছে বলতে হবে!! and finally we could perform with that instrument without creating any suspicion.
………………………………………………………………..

গল্প শেষ হয়নাই… ২০০৫ সাল, আমরা অলরেডি এক্স হয়ে গেছি। কলেজে স্পোর্টস্, দেখতে গেলাম আমরা ৬/৭ জন ফ্রেন্ডস্ মিলে। বাইরে থেকে আমাদের মেহরাজ এসেছে দেশে, ছুটি, সামার ভ্যাকেশন। যাই হোক, সেবার গিয়ে দেখি কলেজের এ্যাডজুট্যান্ট আমাদের-ই এক্স-ক্যাডেট নাসিম ভাই (১৭ ইনটেক)। উনার সাথে কথাবার্তার এক পর্যায় উনি বলতে লাগলেন:

” কলেজে এসে দেখি যে সবকিছুর অবস্থা এতই খারাপ … ইউ নো হোয়াট, মিউজিকাল ইন্সট্রুমেন্ট একটা দেখি ভাংগা, পেরেক মারা, O MY GOD! সেই পেরেক এর উপর আবার স্টিকার মারা, যাতে বোঝা না যায়।” …

আমরা তো মুখ চাওয়াচাওয়ি করতে লাগলাম; আর মনে মনে বলতে লাগলাম: “নাসিম ভাই, যদি জানতেন এটা আমাদের কাজ তাইলে তো মনে হয় আমাদের কলেজের গেট থেকেই বিদায় নিতে হত আজকে।”

তবুও, এটা করে আমরা পরোক্ষভাবে একটা উপকার করেছি। কলেজে নতুন ইন্সট্রুমেন্টস্ কেনা হয়েছে। মিউজিক-এর মানোন্নয়ন হয়েছে।

২,০১৪ বার দেখা হয়েছে

২৭ টি মন্তব্য : “কলেজের লিজেন্ডারি GIVSON বেস গিটার”

  1. আদনান, তোকে বারবার ইংরেজী বর্ণমালা ব্যাবহার করতে নিষেধ করা সত্বেও তা না মানার জন্য আমি তোর ছোটমামার ব্যান চাই।

    অফটপিক: আদনান আমার বড় বোনের একমাত্র ছেলে।

    জবাব দিন
  2. জুনায়েদ কবীর (৯৫-০১)
    পেরেক এর উপর আবার স্টিকার মারা, যাতে বোঝা না যায়।” …

    স্যার টের পান নাই...মাইন্ড করেন নাই???? ;;;


    ঐ দেখা যায় তালগাছ, তালগাছটি কিন্তু আমার...হুঁ

    জবাব দিন
  3. আন্দালিব (৯৬-০২)

    আদনান, সুস্বাগতম!! আমি তাহলে একজনকে বলে-কয়ে সিসিবি-তে আনতে সক্ষম হলাম! (সবাই একটু তালিয়া বাজাও) ;;;

    "ব্যান"- অর্থাৎ তুমি নীতিলঙ্ঘন করলে তোমাকে ব্যান করা হবে। শব্দটা এই এক সিসিবিতে মহা সমারোহে ব্যবহার করি আমরা। তাতে সিরিয়াসলি কারোই ব্যান হয় না, তবুও আমরা ব্যান চাই বা "ব্যাঞ্চাই"। তুমিও চাইতে পারো। আরো কিছুদিন থাকো, ঘুরাঘুরি করো (তবে আমার ব্যান চাইলে আমিও তোমার ব্যান চাইবো! 😉 )

    তোমার কাছ থেকে আরো লেখা আশা করছি! শুভ ব্লগিং!

    জবাব দিন

মন্তব্য করুন

দয়া করে বাংলায় মন্তব্য করুন। ইংরেজীতে প্রদানকৃত মন্তব্য প্রকাশ অথবা প্রদর্শনের নিশ্চয়তা আপনাকে দেয়া হচ্ছেনা।