দীর্ঘ বিরতি’র জন্য “সরি সিসিবি”।

বিশাল, I mean, বি-শা-ল একটা গ্যাপ দিয়ে ক্যাডেট কলেজ ব্লগে আসলাম। সবাইকে একটু ‘হেল্লো’ বলা এই আর কি!

আসল বিষয়টাই বলিঃ আমি বেশ কিছুদিন হল লিনাক্স ব্যবহার করছি। উইন্ডোজের হাজারো যন্ত্রনায় বিতশ্রদ্ধ হয়ে ভাবলাম দেখি না লিনাক্স টা কেমন। সিসিবি-মামা (এডজুটেন্ট ‘স্যার’) কে ধন্যবাদ আমাকে ‘উবুন্টু’র সাথে পরিচয় করিয়ে দেবার জন্য। যদিও অনেক আগেই দিয়েছিলেন, কিন্তু তখন তেমন একটা পাত্তা দেইনি। পরে একদিন কোন একটা কারণে সিস্টেম আনস্ট্যাবল হবার দরুন আবার রি-ইনস্টল করতে গিয়ে মনে হল দেখি না কি হয়… কেমন এই ‘উবুন্টু লিনাক্স’। চেষ্টা করার পর অবশ্য আশাহত হতে হয়েছিল, কোনো একটা ঝামেলার জন্য (হার্ডওয়্যার অথবা সফটওয়্যার) সম্পূর্ণভাবে ইনস্টলেশন কমপ্লিট করতে পারিনি।

অনেকদিন পর গত বছরের শেষের দিকে ইউসুফ ভাই-এর ( 😛 ) ফেসবুক আপডেট দেখি – Loving the Jaunty Jackalope… এখন তো উনি যশোরে পোষ্টেড। ঢাকা যাবার উদ্দেশ্যে বেরিয়েছিলাম, উনি বললেনঃ “আমার বাসা হয়ে যা। একসাথে ইফতার করব।” সেখানে গিয়ে এই জন্টি জ্যাকালপ কি জিনিস সেটা বুঝলাম। উবুন্টু’র (তৎকালীন) লেটেস্ট ভার্সন। দেখে বেশ লাগল। আরেকটু চমৎকৃত হলাম এটা দেখে যে যত প্রয়োজনীয় এ্যাপ্লিকেশন সব অপারেটিং সিস্টেম এর সাথে বান্ডেল করা। জিনিসটা তৈরী-ই ঐভাবে। এইভাবে শুরু হল ‘প্রথম দর্শনে ভাল লাগা, তারপর কন্ট্যাক্ট ম্যানেজ করা (web address নেওয়া), তারপর কথা বলা (সিডি অর্ডার), অতঃপর অপেক্ষার পালা শেষে (২-৩ সপ্তাহ, বেশি নাহ!) তাকে কাছে পাওয়া।’

ইফতারের গল্পটা আগে বলেছি কি না মনে নেই। আমি আজকাল খুব ভুলে যাই। ঐ সেই ‘গাজিনি’ কাট ট্রাই করার পর থেকে এই সমস্যা প্রকটাকারে দেখা দিয়েছে। যাই হোক, বছরের শেষ ইফতার টা আমার মামা’র সাথে করা হয়নি, কারণ ঐদিন মামা অফিশিয়াল ইফতার করেছেন, মামিকে শুদ্দু গিয়েছিলেন। বাসার ইফতারের আইটেম গুলো আমি একাই গিলেছি (একদিক দিয়ে ভালই হইসিলো, ভাগা বেশি পাইসিলাম হিহিহি)

আচ্ছা কই জানি ছিলাম? উবুন্টু… ওকে… এইটা লাগানোর আগে আমি লিনাক্স কি আর কেনই বা এটা ফ্রি দেওয়া হয় এসব সম্পর্কে মোটামুটি জ্ঞানী হয়ে মাঠে নেমেছি। মাঝে একবার ময়মনসিংহ ঘুরে এসেছি, সেখানে ‘লিনাক্স মিন্ট’ এর সাথে পরিচিত হয়ে আরো বেশি উৎফুল্ল। ওটা প্রায় উইন্ডোজের কাছাকাছি GUI পরিবেশ-সম্পন্ন। যদিও উবুন্টু-বেজ্‌ড, তবু যেন আরো বেশি আরামদায়ক। ওটার আবার সিডি অর্ডারের প্রভিশন নাই, তাই ডাউনলোড করে নিতে হল।

এরই মাঝে আমি আমার সদ্য কেনা আসুস ইইই পিসি’র উপর সমানে লিনাক্স ডিস্ট্রো-গুলো টেস্ট করতে লাগলাম। নেট ঘেটে নানা পদের লিনাক্স পাই, নামাই আর লাগাই। কোনটা চলে কোনটা চলেনা। প্রথমদিকে ইনস্টলেশন প্রসেস-টা একটু কনফিউশনের সৃষ্টি করলেও আমার কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ার ফুফাতো ভাই-টার কাছ থেকে হেল্প নিয়ে সেরে দিয়েছি। উবুন্টু ৯.০৪ জাউন্টি জ্যাকালপ বাসায় ‘নেদারল্যান্ডীয়’ ছাপ্পরওয়ালা প্যাকেটে চলে আসার পর তো আমি তাদের এই সার্ভিসে চরম আকারে Impressed যাকে বলে আর কি! আমি বাসার কম্পিউটারে লাগিয়ে নিলাম ওটা।

উবুন্টু’র ভার্সনগুলি’র নামকরণের ব্যাপারে একটা জিনিস টের পেলাম – তারা “বছর.মাস” ফরম্যাট ব্যবহার করে ভার্সনের নাম দেবার ক্ষেত্রে। যেমন জন্টি জ্যাকালপ এর ভার্সন ৯.০৪, অর্থাৎ ২০০৯-এর এপ্রিলে এই ভার্সন বেরিয়েছে। তেমনি এখন যেটা ব্যবহার করছি সেটা উবুন্টু কার্মিক কোয়ালা ৯.১০। লেটেস্ট-ই বলা চলে, এই গেল অক্টোবরে বেরুলো। প্রথমে যখন জানতাম না তখন আমারও মনে হয়েছে “আরে! ০৪ এর পর ৫,৬,৭,৮,৯ কই গেল?” পরে বুঝলাম বিষয়টা; এরা নাকি প্রতি ছয় মাস পর পর একটা করে নতুন ভার্সন রিলিজ করে। একটা ভার্সন থেকে ঠিক তার পরবর্তী ভার্সনে যাওয়ার প্রসেস খুব সহজ (Jump-over হবে না অবশ্য)। শেষ যেবার মামা’র সাথে দেখা হল তখন তার সাথে উবুন্টু ভাল নাকি মিন্ট ভাল এই নিয়ে এক চোট তর্ক হয়ে গিয়েছিল। তবে এখন বুঝতে পারছি, মিন্ট-এর ইন্টারফেস ভাল করলেও আপডেট-এর ক্ষেত্রে এখনো পিছিয়ে। কারণ ওটায় এই একটা ভার্সন থেকে আরেকটায় সহজ আপগ্রেডের সিস্টেম নাই। পুরা রি-ইনস্টল মারা লাগবে।

যত দিন যায় আমার লিনাক্স প্রেম ততই বাড়তে থাকে। মনে হতে থাকে উইন্ডোজ-টা একেবারে ফেলেই দিব কি না। এখন তো সব কিছু লিনাক্সে করি। শুধু স্টুডিও’র জিনিসগুলো পাইনা বলে করতে পারিনা, তখন রিস্টার্ট দিয়ে আবার এক্সপি তে ঢোকা লাগে। তবে সারাক্ষণ তো আর স্টুডিও নিয়ে থাকিনা, তাই উইন্ডোজ হয়ে গেছে আমার secondary OS। লিনাক্সের আরেকটা মজা টের পেলাম – ভাল ব্র্যান্ডের ফোন/মোডেম এতে ‘ইনস্টল’ করার কোনোই প্রয়োজন নেই, শুধু লাগালেই হয়। কোনো সফটওয়্যার লোড দেবার পেইন নাই। বিরাট সুবিধা। তবে চাইনিজ মডেমগুলোর ব্যাপারে এখনও শিওর কোনো তথ্য পাইনি। তবে ওপেন সোর্স তো, এর ব্যাপার-স্যাপার অনেক ব্যাপক-ই বলতে হবে। এই যেমন আজ বের করলাম অভ্র কিভাবে লিনাক্সে ইনস্টল করতে হয়। এখন ঐ দিয়েই লিখছি।

কেমন কাজ করছে লিনাক্স এনভাইরনমেন্টে সেটা টেস্ট করার জন্য লেখা শুরু করেছিলাম। লিখতে লিখতে কত কিছু হাবিজাবি লিখে ফেললাম। এতক্ষণ আজাইরা প্যাচাল পারার জন্য রিডারদেরকে ‘সরি’, আর এদ্দিন এখানে মুখ না দেখানোর জন্য সিসিবি’র কাছে “সিরি”!!
আশা করি পরের গ্যাপটা এমন যেন না হয়।

সবাইকে ধন্যবাদ, বোর হয়েও গালি না দেবার জন্য। :guitar:

১,৬৪৯ বার দেখা হয়েছে

৩০ টি মন্তব্য : “দীর্ঘ বিরতি’র জন্য “সরি সিসিবি”।”

  1. ইউসুফ (১৯৮৩-৮৯)

    যাক শেষমেষ তোরে উবুন্টু খাওয়াইতে পারলাম. তয় "ইউসুফ ভাই" জিনিসটা বুঝলাম না, খুলনা থেকে দৌড়াইয়া (খবরদার বাস এ চড়বি না) আমার বাসায় আইসা বুঝাইয়া দিয়া যা.

    জবাব দিন
  2. জাবীর রিজভী (৯৯-০৫)

    "উবুন্টু কার্মিক কোয়ালা ৯.১০" লিংক দেন....টেস্ট করতে মন্চায়.. 🙂

    অনেকদিন ধরে লিনাক্স ব্যবহার করব ভাবছি, কিন্তু প্রয়োজনীয় সাপোর্টেড সফটওয়ার না পাওয়ায় কোন কাজই করতে পারছি না....খঅলি ইন্সটল করি...চেহারা দেখি..আবার ডিলিট কইরা দেই... 🙁

    ওল্কাম্ব্যাক...অই রকিব্যা....চায়ের পানি গরম দে....

    জবাব দিন
  3. জিহাদ (৯৯-০৫)

    চাইনিজ মোডেম অধিকাংশই নেটওয়ার্ক ম্যানেজার দিয়ে অটো পায়না অন্যগুলার মত। আমি আমার চাইনিজ মোডেম অনেকদিন ব্যবহার করসি টার্মিনাল থেকে wvdial দিয়ে কানেক্ট করে।

    আর অভ্রটা খুব বেশি আগে কম্প্যাটিবল করা হয়নি। আমার উবুন্টু কনভার্সনের সময় তো নয়ই। এইটা অবশ্য একদিক দিয়ে ভালোই হইসে। ঠেলায় পড়ে প্রভাত লেআউটটা শেখা হইসে। আর মন্দ দিক হচ্ছে আমি অভ্র ফোনেটিকে ঠিকঠাক লিখতে ভুলে গেছি। 😀


    সাতেও নাই, পাঁচেও নাই

    জবাব দিন
  4. ওয়েলকাম ব্যাক ভাইজান। 😀 😀
    লেখা খুব এ সুন্দর হয়ছে।আমি যে ইফতারের ব্যাপার টা ছাড়া আর কিছু বুঝি নাই,এইটার জন্য আপ্নি মনে দুঃখ নিয়েন না 😀

    জবাব দিন
  5. রাফি (২০০২-২০০৮)

    আয় হায় মিন্ট এ ডাইরেক্ট আপগ্রেড করা যায় না????????
    :(( :((
    মন খারাপ কইরা দিলেন ত ভাই
    :(( :((
    যাক তাহলে এরপর আবার উবুন্তু ইন্সটল করব
    :thumbup: :thumbup:
    তবে 9.10 মনে হয় 9.04 থেকে স্লো........................


    R@fee

    জবাব দিন

মন্তব্য করুন

দয়া করে বাংলায় মন্তব্য করুন। ইংরেজীতে প্রদানকৃত মন্তব্য প্রকাশ অথবা প্রদর্শনের নিশ্চয়তা আপনাকে দেয়া হচ্ছেনা।