হতাশা-আ… হতাশা-হা… বাইনারি কোডে জড়িয়ে আছে!

(ব্লগটি যদি Warfaze-এর কোনো সদস্য পড়ে থাকেন তাহলে তার কাছে আগে থেকেই ক্ষমা চেয়ে নিচ্ছি)

কম্পিউটার ব্যবহারকারীদের কি সব বিড়ম্বনা পোহাতে হয় সেটা মনে হয় আমার নতুন করে বলার প্রয়োজন নেই। কোন একজন মনীষী বলেছেনঃ “দু’টি জিনিসের আচরণ কখনও আগে থেকে আঁচ করতে পারবে না — ১) তোমার গাড়ি, ২) তোমার বউ”। আমার মনে হয় উনার সময়ে যদি কম্পিউটারের ব্যবহার এরকম ব্যাপক আকারে থাকত তাহলে সেখানে একটা ৩)-ও আসতো।

যাই হোক, আমার এই ধরনের অভিজ্ঞতা এটা প্রথম নয়। এই জীবনে এমন ছ্যাকা বহুত খেয়েছি। হার্ডডিস্কে ফ্যামিলি এলবাম লোড করে রেখেছিলাম, ক্রাশ করে সব গেল। =(( ইশ! কত ঘুরাঘুরি, ব্যান্ডের শো, ফ্যামিলি ট্যুর… শেষ আছে? তারপর থেকে ফেসবুক ব্যবহার করা শুরু করেছি। এর আগে ফেসবুকের অনেক invitation পেয়েছি ই-মেইলে, পাত্তা দেইনি। কিন্তু লোকাল ড্রাইভের উপর বিশ্বাস নষ্ট হয়েছে ঐ ঘটনার পর থেকেই।

ফ্যামিলি ট্যুর-এর কথা মনে হওয়াতে একটা ঘটনা মনে পড়ে গেল। এই ব্লগের সাথে সেটা সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়, তবু বলতে ইচ্ছা করছে। কারণ সেখানে সিসিবি’র এ্যাডজুটেন্ট ‘স্যার’ উপস্থিত ছিলেন। Actually, ঘটনা উনাকে নিয়েই। আমার মেঝমামার তখন পোস্টিং হিলে। এমন একটা ইউনিটের CO উনি, সেখানে স্পিডবোটে করে যাওয়া লাগে। জায়গাটা অবশ্য জোস্‌ কোন সন্দেহ নাই। আমরা বেশ মজাই করেছি। আমার আবার এদিকে কোন একটা পরীক্ষা-টরীক্ষা জাতীয় কিছু ছিল, আমি একদিন আগে পগ্‌ মারছি, বাকিরা থেকে গিয়েছে। তো, ঘটনার চাক্ষুস Witness আমি না, আমার কাজিন জুহি। গল্পটা ও বললে খুব সুন্দর করে অভিনয় করে দেখাতে পারত। ইন ফ্যাক্ট, ও আমাদের ফ্যামিলি’র প্রায় সবার এ্যাটিটিউড-ই খুব দারুণ demo দিতে পারে। যাই হোক ব্যাপারটা এরকমঃ ফেরার দিন। ট্রেনে যাবার পরিকল্পনা। টিকেট-টুকেট সব রেডি। কিন্তু গ্যাং-এর মহিলা গোষ্ঠী রেডি না। বিশেষ করে আমার আম্মা। কিভাবে দেরি হল সেটা সঠিক মনে পড়ছে না, সম্ভবত কিছু একটা লাগেজ ভুলে ফেলে চলে আসা হয়েছিল এবং সেটা আনতে গিয়ে আরো দেরি। এ্যাডজুটেন্ট স্যার তো আমার আম্মারে বইকা … (ছোট ভাই হলে কি হবে, ক্যাচাল তো লাগাইসে আমার আম্মা-ই, বকা তো ধার্য)। ফাইনালি যেটা হল সেটা এরকম – মেজর ইউসুফের গাড়ি স্টেশনে ঢুকে ব্রেকটা মারল, আর সেই ব্রেকের দোলার সাথে synchronize করে ট্রেনটাও দুলে উঠল, ছেড়ে যাবার জন্য। মালামাল নামিয়ে সেগুলো নিয়ে দৌড়ে ট্রেন ধরতে গেলে সবার ‘Superman-Superwoman’ হতে হবে, যেটা হতে পারলে ইন ফ্যাক্ট ট্রেনে যাবার-ই দরকার নাই, উড়ে উড়ে যাওয়া যায়। এখন যেহেতু ট্রেন ছেড়েই দিয়েছে, আর কেউ-ই ওরকম সুপার পাওয়ারের অধিকারী না, আমাদের হতাশ হওয়া ছাড়া আর কিছু করার ছিলনা। তবে সবার হতাশ মুখভঙ্গি ছাপিয়ে ইউসুফ ভাই-এর চেহারা ছিল দেখার মত! এতক্ষণ অনেক চিৎকার-চ্যাচামেচির পর এই দশায় তার রাগে-দুঃখে-হতাশায় একেবারে speechless অবস্থা! তিনি আর কোনো কথা বললেন না; হাত দুইটা কুংফু-কারাটিদের মত ছুরির ফলার লাহান সোজা সোজা কইরা, দাঁত-মুখ খিচায়া-চিবায়া, একবার আমাদের দিকে একবার ট্রেনের দিকে ঝাকায়া, তারপর ট্রেন যে চলে যাচ্ছে সেটাও তার হাতের motion-এ আইন্যা – 😡 – তাঁর নির্বাক expression-এ বুঝা গেলঃ “টোমাডের জন্য ট্রেনটা মিস হইল! এট্টো লেট… এট্টো লেট!!”

এ তো গেল রিয়েল লাইফ হতাশার বর্ণনা। অপ্রাসঙ্গিক ঘটনা টেনে আনায় পাঠকগণ বিভ্রান্ত হবেন না। ওকে, কি যেন বলছিলাম? Cyber হতাশা… হুম্‌ম্‌। পেন ড্রাইভের unreliability-এর কথা বাদ-ই দিলাম; ওটা তো যখন তখন যায়। ওটার এই ভয়াবহ দিক চিন্তা করে আমি গেল বার ঢাকা গিয়ে ফুট্‌ করে একটা USB হার্ডডিস্ক কিনে ফেললাম ১৬০জিবি-এর। চিন্তা করলাম, এইবার ব্যাক আপ নিয়ে আর টেনশন করা লাগবে না। প্রয়োজনীয় সব এর মধ্যে ‘থুয়ে’ দিব। ভাল, অতি উল্লাসে বাড়ি এনে ওটা লাগিয়ে ব্যাক আপ মারা শুরু করলাম। কিসের প্রয়োজনীয় জিনিস? যা-তা জিনিস-ও ঢুকানো শুরু করলাম। এর কাছ থেকে ওর কাছ থেকে যা পারি লোড দিতে লাগলাম। কিন্তু শালার এমন-ই পোড়া কপাল আমার… one fine morning দেখি ওটায় যত ফোল্ডার ছিল কিচ্ছু ওপেন হয়না। মাউস হোভার করলে ফোল্ডার এম্পটি বলে, আর ডিলিট করতে চাইলে ডিলিট-ও হয়না। আরে জ্বালা রে! মরণ!! ~x( জিনিস গেল ত গেল, ডিলিট কমান্ড লক হয়ে বসে থাকলে তো মহা পেইন।

এবার চিন্তা করলাম – নাহ! এই My Documents এর জিনিস আর কোনো ড্রাইভে-ট্রাইভে রাখব না। এমনেই যা লস হইসে বিরাট লস। আমার মোবাইলের ফোনবুক এক্সেল শিটে সেভ করা ছিল, যদি কখনো ফোন হারায় বা কোন প্রব্লেম হয় তাহলে কারো নাম্বার যাতে না হারায়। ফোন হারানোর আগেই সেইটা ধরে গায়েব। কোনো কিছুর উপরেই আর rely করা যাবে না। সিদ্ধান্ত নিলামঃ কাজ-কাম যা করব সব কোন একটা ওয়েব-স্পেসে উঠিয়ে রাখব। MS Office-এর যত কাজ সব Google Doc-এ আপলোড করে দিলাম। গত তিন মাস ধরে একটা রিসার্চ প্রজেক্টের কাজ করছি। সেটার ড্রাফটিং শেষ করে সেটাও উঠালাম। কিন্তু হায়! পরে ওপেন করে দেখি, ফরম্যাটিং গ্যাড়ায়ে গেসে। কত কসরত করে পেজ সেটাপ করেছিলাম, সব কেমন straightline মার্কা হয়ে গেছে। 😐 যাই হোক, আর বেশি দুশ্চিন্তা করতে গেলাম না; পরে দরকার হলে ফরম্যাটিং আবার ঠিক করে নেওয়া যাবে, ডাটা তো safe আছে। এটাই মনের শান্তি।

ব্লগে অনেকদিন পর ঢুকেছিলাম। একটা সিরিজ লেখার কাজ চলছিল, প্রায় শেষের পথে চলে এসেছিল, ভাবছিলাম এইবার লিখেই শেষ করে দিব। কিন্তু যাহ! ‘আপনার ব্লগ দেখুন’ -এ ক্লিক করে দেখি আমার যত লেখা সব হাওয়া! খুব সুন্দর করে লেখাঃ “৪০৪ বিভ্রাট”। আমি যা খুঁজছি সেটার নাকি কোন অস্তিত্ব-ই নেই। দুঃখে আমি… আর কি বলব! :bash:

১,৮৬৬ বার দেখা হয়েছে

২৬ টি মন্তব্য : “হতাশা-আ… হতাশা-হা… বাইনারি কোডে জড়িয়ে আছে!”

  1. তৌফিক (৯৬-০২)

    আমার নিজের প্রচুর অভিজ্ঞতা আছে ডেটা লসের ব্যাপারে। কানাডা আসার পর সব সফটওয়্যার পাইরেটেড ব্যবহার করলেও অপারেটিং সিস্টেম আর ভাইরাস গার্ড সবসময় রীতিমত টাকা দিয়ে কিনে নাহলে ইউনি থেকে নিয়ে লেজিট কপি ব্যবহার করেছি। সমস্যা একটু কম হয়েছে, কিন্তু ডেটা লস এরপরও যা হয়েছে সেগুলো নিজের দায়িত্বজ্ঞানহীনতার জন্য।

    আপাতত ল্যাপির ব্যাকআপ থাকে পোর্টেবল হার্ডড্রাইভে আর ডেস্কটপে মিরর রেইড করা। এরপরও ডেটা গেলে কেউ বলতে পারবে না আমার দিক থেকে কোন ঘাটতি ছিল।

    অনেকদিন পর আসলা আদনান, ভালো লাগল। 🙂

    জবাব দিন
  2. আমার দুইটা হার্ডডিস্ক ৪০+৮০ গিগা একসাথে মারা গেল গত সেমিস্টারে।
    পিসি কেনার সময় সেই যে ২০ গিগা হার্ডডিস্ক দিছিল, সেটাই চলছে এখনো। কোন ব্যাড সেক্টরও পড়েনাই এখনো।
    কোয়ান্টাম ফায়ারবল পাথরায়।

    জবাব দিন
  3. আমার একটা সাজেশন আছে,
    পিসির হার্ডড্রাইভরে বিশ্বাস করবেন না। ডিভিডি তো আরো ক্ষণস্থায়ী।

    গুগল ডক্স ব্যবহার করুন।
    http://documents.google.com এ যান। সব আছে।

    ফ্যামিলির ছবি গুগলে রাখুন, picasa ব্যবহার করুন। পিকাসা দিয়ে সরাসরি http://picasaweb.google.com এ আপলোড করে রাখতে পারেন। এক গিগা লিমিট, শেষ হয়ে গেলে আরেকটা গুগল অ্যাকাউন্ট খুলে নিন।

    এছাড়া ছোটখাট ফাইল হোস্টিং এর জন্য
    http://sites.google.com/site এ একটা সাইট খুলে নিন, সেখানে ইচ্ছামতো আপলোড করুন, pdf, rar, zip ফাইল। তবে exe আপলোড হবে না, exe আপলোড করার জন্য সেটাকে zip / rar কমপ্রেস করে নিন। এখানে বড় ফাইল আপলোড হবে না। এইটা মাইক্রসফটের স্কাইড্রাইভের চেয়ে ভাল লাগছে আমার কাছে, যদিও স্কাইড্রাইভ ২৫ গিগা স্পেস দেয়।

    calendar এর জন্য গুগল ক্যালেন্ডারে রিমাইন্ডার দিয়ে রাখতে পারেন। এইটাতে নাকি রিমাইন্ডার দিয়ে ফোন নাম্বার দিলে sms alert আসে, আমি এখনো টেস্ট করে দেখি নাই।

    ব্লগের পোস্ট আর কমেন্ট ট্র্যাক করার জন্য যারা rss feed/atom feed ব্যবহার করেন, google reader তাদের জন্য একটি ভাল ফিড রিডার।

    calculator/converter/translator আরো হাজারটা সার্ভিস আছে গুগলে। একটি বার ট্রাই মাইরা দেখেন।
    হয়তো একটা দিন আসবে যেদিন google থাকলে পিসিতে হার্ডডিস্ক থাকার দরকার থাকবে না। (একটু বেশি বইলা ফেললাম)

    জবাব দিন
  4. ইউসুফ (১৯৮৩-৮৯)

    আদনাইন্না, আমারে নিয়া মসকরা! ঈদের ছুটিতে যশোরের উপর দিয়া যাবিনা। ঠ্যাং ভাইংগা হাতে ধরাইয়া, হাত বাইন্ধা পানিতে চুবাইয়া রাখুম! x-( 😡 :chup: x-( 😡 😡 :duel:

    জবাব দিন

মন্তব্য করুন

দয়া করে বাংলায় মন্তব্য করুন। ইংরেজীতে প্রদানকৃত মন্তব্য প্রকাশ অথবা প্রদর্শনের নিশ্চয়তা আপনাকে দেয়া হচ্ছেনা।