মসজিদ সমাচার

মসজিদ পবিত্র জায়গা, কিন্তু আমি নিশ্চিত ১০০% ক্যাডেটের মসজিদকে ঘিরে কিছু না কিছু মজার স্মৃতি রয়েছে। আমি ২/১ টা শেয়ার করছি।

০১।
তখন মাত্র ক্লাস সেভেন। সবেমাত্র কলেজে ঢুকেছি। লিস্ট অনুযায়ী সব কিছুই বাসা থেকে আনা হয়েছে। তার মাঝে সব চাইতে হাস্যকর রকম এর পোষাক হলো লং ক্লথের পাঞ্জাবী আর কিস্তি টুপি। পাতলা ফিনফিনে কাপড়। যা হোক, ২য় দিন ডাইনিং হলে টি ব্রেকের সময় দেখলাম দলে দলে ৭ এর ছেলেরা ডাইনিং হল প্রিফেক্ট ‘ক্যারী অন’ বলার আগেই উঠে দৌড়ে বের হচ্ছে। ঠিক বুঝলাম না। পরে নাইট প্রেপে গিয়ে জানতে পারি যে ওদের পাঞ্জাবীতে চা পড়ে গিয়েছিল। আর এমন জায়গায় দাগ হয়েছে ,দেখে মনে হচ্ছে যে……

০২।
তার কয়েকদিন পর মসজিদে কেরী অন করানোর সময় যখনই প্রিফেক্ট ভাই বললেন ক্লাস ৭ কেরী অন । সাথে সাথেই শোনা গেলো কিছু শব্দ। প্রড়ড়ড়ড়ড়……প্রড়ড়ড়ত……প্রড়ড়ড়ত ……… সবাই তখন পিছন ফিরে তাকালো আর সবার মুখে এক দুষ্টু হাসি। ব্যাপারটা হলো ওরা যখন নামায পড়ছিলো তখন কতিপয় ধর্মপ্রাণ ১২ এর ক্যাডেট (যাদের মসজিদে হাজিরা দেওয়া পর্যন্তই ছিলো ইবাদত করা) :goragori: :awesome: ৭ এর ক্যাডেটদের একজনের পাঞ্জাবির সাথে আর একজনেরটার কোনা বেধে দিয়েছিলেন। অর্থাৎ তাহাদের পাঞ্জাবী খানা ছিড়ে দুই খন্ড কাপড়ে পরিণত হলো। এদের মধ্যে কারো আবার চায়ের অনাকাঙকখিত দাগের কারণে সেই শেষ পাঞ্জাবীটাও খতম। তাই হঠাৎ দেখা গেলো একজন সেখানেই কান্নাকাটি শুরু করে দিলো। কারণ জানতে চাইলে সে বললো আমি আগামীকাল কি পড়বো? গাইড ভাই তো মারবে। অবশ্য এটা নিতান্তই মজা করার জন্য করা হয়েছিল বিধায় সেই ধর্মপ্রাণ ক্যাডটদেরি একজন তাকে একটি পাঞ্জাবী দিয়েছিলেন।

০৩।
সেই ধর্মপ্রাণ ভাইয়েরা আসলে মসজিদকে জাগিয়ে রাখতেন তাদের নানা রকম সন্ত্রাসী কর্ম কান্ড দিয়ে। আমরা তখন ৮এ পড়ি। হঠাৎ একদিন একটু দেরী করে মসজিদে যাবার কারণে শেষ কাতারে দাড়িয়েছি। নামায ২ রাকাত শেষ ৩য় রাকাতের সিজদার সময় আমার থেকে একটু দূরে একটা ধুমধাম শব্দ শুনলাম। মনের অগোচরেই আড় চোখে তাকিয়ে দেখি একজন সিজদায় গেছে আর পিছন থেকে তাকে পা ধরে টান দেয়ার কারনে সে বায়োলোজী ল্যাব এর ক্লোরোফরম দেয়া ব্যাং এর মত পরে আছে। দেখে এমন হাসি পেলো। সে দৃশ্য না দেখলে কেউ বুঝবে না।

০৪।
আর আমাদের রইস স্যার এর কথা কি বলবো। উনি মসজিদে ঢুকতেন ঠিকই তবে নামাজ পড়ার জন্য নয়। ক্যাডেটদের নামাজে দাড় করিয়ে দিয়ে তিনি হাউস গার্ডেনের সামনের রাস্তায় রবীন্দ্র সঙ্গীত গাইতেন আর পাহাড়া দিতেন কেউ নামাজের সময় পালিয়ে হাউসে যাচ্ছে কি না। :gulli2:

০৫।
এক স্টাফ ছিল আমাদের । নাম কর্পোরাল শাহীন। সে শুধু খেচ খেচ করতো। তো কি ভাবে যেনো তাকে সাইজ করার দায়িত্বটা সেই মসজিদ সন্ত্রাসীদের উপর পড়ল? নামায শেষ হবার পর যখন উনি বাসায় যাবেন উনি র উনার সাইকেল খুজে পান না। পরে উনি পরের দিন সকাল বেলা পি টি টাইমে উনার সাইকেল আবিষ্কার করলেন কড়ই গাছের মগডালে। এর পর আর স্টাফকে খেচ খেচ করতে দেখি নি অকারণে। ধন্যবাদ সেই সন্ত্রাসী ভাইদের।

এরকম আরো হাজারো কাহিনী আছে। আজ এ পর্যন্তই।

২,১০০ বার দেখা হয়েছে

৩০ টি মন্তব্য : “মসজিদ সমাচার”

  1. শোভন (২০০২-২০০৮)

    সেভেনে থাকতে আমার এক রুমমেটের ইচ্ছা ছিল সে মস্ক প্রীফেক্ট হবে । মস্কে সিসিপির শাউট দেখে
    সে প্রীফেক্টশীপ লিষ্টে এইটা ঢুকিয়ে দিয়েছিল । পরে অবশ্য সে সিসিপিই হয়েছিল । :)) 😀 😛

    জবাব দিন
  2. রশিদ (৯৪-০০)

    মসজিদের কাহিনীগুলা এত্ত ফানি...... :)) :))

    আমরা যেটা করতাম সিজদায় গিয়ে পিঠে কিল পাসিং.......এক সিজদায় টানা একটা row-তে দুম-দুম আওয়াজ ছড়িয়ে যেত......হায়রে সেই দিনগুলা.....

    জবাব দিন
  3. রুম্মান (১৯৯৩-৯৯)

    ভাল হইছে।তয় রুকুতে যাওয়ার পরে পাছায় লাথি খাওয়ার ঘটনাটা বাদ পরছে।আর আমার ২ কলাশমেট এতোই ধর্মপ্রান ছিল যে মসজিদে যাওয়ার পরে সবসময় আরবীতে কথা বলতো॥ =))


    আমার কি সমস্ত কিছুই হলো ভুল
    ভুল কথা, ভুল সম্মোধন
    ভুল পথ, ভুল বাড়ি, ভুল ঘোরাফেরা
    সারাটা জীবন ভুল চিঠি লেখা হলো শুধু,
    ভুল দরজায় হলো ব্যর্থ করাঘাত
    আমার কেবল হলো সমস্ত জীবন শুধু ভুল বই পড়া ।

    জবাব দিন

মন্তব্য করুন

দয়া করে বাংলায় মন্তব্য করুন। ইংরেজীতে প্রদানকৃত মন্তব্য প্রকাশ অথবা প্রদর্শনের নিশ্চয়তা আপনাকে দেয়া হচ্ছেনা।