কর্ণেল জামিল-আড়াল হয়ে যাওয়া এক নাম

১৯৭৫ এর আগস্টের রাত,ঘড়ির কাটা ১৫ তারিখের আগমণ জানিয়ে গেছে তাও বেশীক্ষণ হয়নি। এর মধ্যেই স্বাধীন বাংলাদেশের ইতিহাসে সবচেয়ে কলঙ্কময় অধ্যায়টির সূচণা করতে ক্যান্টনমেন্ট থেকে সাঁজোয়া বহর নিয়ে ধানমন্ডির ৩২ নম্বর বাড়ীর দিকে মুভ করে সেনাবাহিনীর জুনিয়র কিছু অফিসারের নেতৃত্বাধীন একটি সৈন্যদল। হত্যা করে শেখ মুজিব সহ পরিবারের অন্যদের। এই ইতিহাস আমরা মোটামুটি সবাই জানি।সেই রাতে অনেক রথী মহারথীদের রহস্যময় এবং ভীতু আচরণের বাইরে একজনকে দেখা যায় বীরত্ব এবং সাহসীকতা উপরন্তু কর্তব্যনিষ্ঠার এক জ্বলন্ত উদাহরণ স্থাপণ করতে। সেই সাহসী,কর্তব্যপরায়ন লোকটির নাম কর্ণেল জামিল। ইতিহাসের আড়ালে পড়ে থাকা এক সাহসী সেনা কর্মকর্তা।

কর্ণেল জামিল

আগড়তলা ষড়যন্ত্র মামলায় বঙ্গবন্ধুর বিরুদ্ধে যখন মামলা দেওয়া হয় তখন পূর্ব পাকিস্তান তথা বাংলাদেশের আইএসআই প্রধান ছিলেন কর্ণেল জামিল। সেখান থেকেই মূলত বঙ্গবন্ধুর সান্ন্যিধ্যে আসেন এবং বিশ্বাসযোগ্য হয়ে ওঠেন।যুদ্ধের পর ১৯৭৩ সালে দেশে ফিরে আসেন এবং বঙ্গবন্ধু সরকারের সচিবালয়ে যোগ দেন। বিশ্বাসের মানদন্ড উঁচু পর্যায়ের ছিল বিধায় পাকিস্তান ফেরত এই সেনা কর্মকর্তাকে স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ে নিজের সামরিক সচিব,তথা রাস্ট্রপতির সামরিক সচিব হিসেবে নিয়োগ দেন বঙ্গবন্ধু।

১৫ই আগস্ট একটা গুরুত্বপূর্ন দিন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তনে যোগ দিবেন রাস্ট্রপতি।একই দিনে ডিজিএফআই এর প্রধান হিসেবে দায়িত্ব নেবার কথা কর্ণেল জামিলের।আগের দিনের অধিকাংশ সময় কেটেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকার নিরপত্তা নিয়ে কাজ করে। যদিও ৩২ নম্বরের নিরাপত্তা নিয়ে কখনোই সন্তুষ্ট ছিলেন না কর্ণেল জামিল। এ বিষয়ে বঙ্গবন্ধুকে অনেকবার বললেও “কোন বাঙ্গালী তাঁকে হত্যা করতে পারবে না” বলে সহাস্যে উড়িয়ে দিতেন বঙ্গবন্ধু। বারবার গণভবনের নিরাপত্তা বেস্টনীতে আসতে অনুরোধ করলেও আবার নিজেই বলতেন, তাতে কি, বংগবন্ধুকে গুলি করতে হলে আগে আমাকে গুলি করতে হবে। তাঁর সেই কথাটিই সত্যি হয়ে গেছিল সেদিনের সেই আগস্টের রাতে।

গণভবন স্টাফ কোয়াটার,কর্ণেল জামিলের বাসায় একটা ফোন আসে আনুমানিক রাত ৪.৩০ এর দিকে। ফোন রিসিভ করেন আঞ্জুম আরা জামিল,অপরপ্রান্তে বঙ্গবন্ধুর জলদ গম্ভীর কন্ঠ,কর্ণেল জামিলকে চাইছেন। কর্ণেল জামিল ফোন নিলেন।ওপাশের কথাগুলো শুনতে পারলেন না মিসেস জামিল,ফোন রাখার আগে জামিলকে শুধু বলতে শুনলেন,আমি এক্ষুণই আসছি স্যার। ফোন রেখে স্ত্রীকে বললেন, কারা যেন বঙ্গবন্ধুর বাড়ি আক্রমণ করেছে, উনার জীবন বিপন্ন,আমাকে এখনই যেতে হবে। ড্রাইভার আইনুদ্দিনকে তৈরী হবার নির্দেশ দিয়ে নিজেও সিভিল পোশাকেই তৈরী হতে শুরু করলেন।এর মাঝে সেনাপ্রধান জেনারেল শফিউল্লাহকে ফোন দিয়ে ফোর্স পাঠাতে বললেন, সেই সাথে আরো কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ জায়গায়ও ফোন করেন। রেডি হতে হতে বিড়বিড় করে বলতে থাকেন,পিজিআর এর ২০০ সৈন্যকে সরিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দিল কে? বাবা, মা-র কথোপকথনে এর মাঝেই ঘুম ভেঙ্গে যায় বার বছরের মেয়ে কঙ্কার। লোডেড সার্ভিস রিভলবারটি নিয়ে বাবাকে বাসা থেকে বের হতে দেখে সে। বের হবার আগে আরেক বার বঙ্গবন্ধুর বাড়িতে ফোন দেন জামিল,কিন্তু ওপাশ থেকে তখন কেউ ফোন ধরছে না।

সেই রাতে কর্ণেল জামিল যে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ন জায়গায় ফোন দেন তার মধ্যে পিজিআর এবং রক্ষী বাহিনীর হেড কোয়ার্টারও ছিল।সেই সময়ে ডিজিএফআই এর প্রধান ছিলেন ব্রিগেডিয়ার রউফ,যিনি ক্যান্টনমেন্ট থেকে এই সাঁজোয়া সেনাদলের মুভ করার খবরটি পেয়েও কাউকে সতর্ক না করে নিরাপদ আশ্রয়ে লুকিয়ে থাকেন।এছাড়া মিলিটারি ইন্টেলিজেন্সের প্রধান ( ডিএমআই) কর্ণেল সালাহউদ্দিন অস্বাভাবিক সেনা তৎপরতার কথা বঙ্গবন্ধুর ফোনের আগেই সেনাপ্রধান শফিউল্লাহকে জানান।

কর্ণেল জামিল প্রেসিডেন্ট গার্ড রেজিমেন্ট (পিজিআর) সহ মুভ করতে চেয়েছিলেন, কিন্তু সৈন্যদের সেখানে বহণ করার মত জীপ ছিল না বলে তাদেরকে ৩২ নম্বরের দিকে মার্চ করার কমান্ড দিয়ে নিজের লাল রঙের নিশান প্রিন্স নিয়ে আগেই রওণা হবেন বলে সিদ্ধান্ত নেন। গাড়িতে উঠার আগে মিসেস জামিল প্রশ্ন করেন, তোমাকে সত্যিই যেতে হবে? অনেকটা বিষ্ময়ভরা কন্ঠে জবাব দেন জামিল, তুমি কি পাগল হয়েছ? বঙ্গবন্ধুর জীবন বিপন্ন আর আমি যাব না? সিগারেট ধরিয়ে এক গ্লাস পানি পান করে গাড়ির দিকে এগুতে থাকেন জামিল। যাবার আগে বলে গেলেন,আমার মেয়েদের দেখে রেখ। পিছন পিছন আসতে থা্কেন মিসেস জামিল এবং মেয়ে কঙ্কা। রাতের অন্ধকারে কিছুক্ষণের মধ্যেই মিলিয়ে যায় লাল রঙের নিশান প্রিন্স গাড়িটি। গণভবণের একজন গার্ড মিসেস জামিলকে বলেন, ম্যাডাম আপনি স্যারকে যেতে দিলেন! মিসেস জামিল বা মেয়ে কঙ্কা তখনো বুঝতে পারেন নি কিছুক্ষণ আগেই প্রিয় মানুষটির সাথে তাদের শেষ দেখা হয়ে গেছে!

সোবহানবাগের কাছের রাস্তার উপর ট্যাঙ্ক সহ ব্যারিকেড বসানো।গাড়ী থেকে নেমে সামনে এগিয়ে গেলেন জামিল, সেখানে দায়িত্বে আছেন একজন সুবেদার মেজর। নিজের পরিচয় দিয়ে তার সাথে বাহিনী নিয়ে এগুতে বললেন কর্ণেল জামিল। এবারে দ্বিধান্বিত দেখা যায় সুবেদার মেজরকে। এটা বলে জামিল গাড়িতে এসে বসেন এবং ড্রাইভার আইনুদ্দিনকে গাড়ী স্টার্ট করতে বলেন। আইনুদ্দিন জামিলকে ভিতরে না যেতে অনুরোধ করেন। তোমার ভয় লাগলে নেমে যাও, আমি ড্রাইভ করছি,উত্তরে বললেন জামিল।

এর মধ্যেই ঘটনাস্থলে আবির্ভাব ঘটে ঘাতক দলের অন্যতম বজলুল হুদার। গতকাল পর্যন্তও সে ক্যাপ্টেন ছিল। কিন্তু আজ গভীর রাতে ৩২ নম্বরে বিশেষ পারদর্শিতা দেখানোয় তাকে তৎক্ষণাৎ মেজর পদে প্রমোশন দেয় ফারুক। একজন জেসিও প্রমোশন পেয়ে অনারারি লেফটেন্যান্ট হয় শুধুমাত্র ফারুকের মুখের কথাতেই । কাঁধে শাপলা চকচক করছিল হুদার,চালচলনে ছিল ঔদ্ধত্ব।

কে ওখানে? হুদার প্রশ্ন। ওপাশ থেকে উত্তর আসতেই কালবিলম্ব না করে সুবেদার মেজরকে গুলি চালানোর আদেশ দেয় হুদা। এই আদেশ পালনে অস্বীকৃতি জানায় সুবেদার মেজর,না স্যার আমি পারব না। স্টেনগানটি নিজের হাতে নিয়ে গাড়ির দিকে এগুতে থাকে হুদা, বিনা বাক্য ব্যায়ে এক স্টেনগান ফায়ার করে কর্ণেল জামিলকে লক্ষ্য করে। ড্রাইভিং সিটে থাকা আইনুদ্দিন শুধু তিনবার “লা ইলাহা” শুনতে পান। মাত্র কয়েক সেকেন্ডের ফায়ারিং এই শেষ হয়ে যায় বাংলার ইতিহাসের এক বিশ্বস্ততা এবং কর্তব্যনিষ্ঠার অধ্যায়।সেখান থেকে পালিয়ে যান আইনুদ্দিন। এরপর পুরো ঘটনার একমাত্র সিভিলিয়ান সাক্ষী হিসেবে থাকেন সোবহানবাগ মসজীদের ইমাম সাহেব।কোন কোন সূত্রমতে বলা হয়ে থাকে জামিলকে ভয় দেখানো হয়েছিল গুলি করা হবে বলে, সে সবের তোয়াক্কা না করে দৃপ্ত কন্ঠে বলেছিলেন, চালাও গুলি। এরপর সৈন্যরা জামিলের লাশ সহ গাড়ী ঠেলে বাড়ির ভিতরে নিয়ে যায় এবং বাড়ির পিছনে উঠানে ফেলে রাখে।

তৎকালীন ঢাকা ক্যান্টনমেন্টের স্টেশন কমান্ডা লেঃ কঃ হামিদের বর্ণনার সাথে উপরের বর্ণনার সামান্য অমিল পাওয়া যায়। উনার বর্ণনামতে জামিলের কপালেই কেবল একটি গুলি লেগেছিল, স্টেনগানের ফায়ারে যেটা প্রায় অসম্ভব।এবং গুলি মেজর নূর চালিয়েছিল বলে উনি শুনেছিলেন।উনার কাছে ১৫ই আগস্টের পুরা বর্ণনা দিয়েছিল বজলুল হুদা, তার ভাষ্যমতে কর্ণেল জামিলের হত্যাকারী নূর,হুদা বা কোন অফিসার নয়,সাধারণ সৈনিকেরা।৩২ নম্বরের দিকে যেতে নিষেধ করা সত্ত্বেও তিনি এগুতে চাইছিলেন এবং সৈন্যদের গালিগালাজ করছিলেন।

এদিকে বাসায় চিন্তিত সময় পাড় করছিলেন কর্ণেল জামিলের পরিবার। বাসা থেকে বের হবার পর থেকে আর কোন সংবাদ পান নি। রেডিওতে ডালিম দম্ভ ভরে বঙ্গবন্ধু হত্যার কথা প্রচার করছিল। চিন্তাটা তাতে আরো বেড়েছে।নানাঙ জায়গায় যোগাযোগ করার চেষ্টা করেও কিছু জানতে পারেন নি মিসেস জামিল। বেলা এগারটার দিকে উদভ্রান্তের মত বাসায় আসেন ড্রাইভার আইউনুদ্দিন। উনি স্বাভাবিক অবস্থায় ছিলেন না। ওই অবস্থাতেই বলছিলেন, আমি স্যারকে যেতে মানা করছিলাম,উনি শোনেন নাই আমার কথা। এটুকু বলেই বের হয়ে যান আইনুদ্দিন।

গণভবন অফিসের সাথে যোগাযোগ করা হলে উনারা বলে আসছিলেন,জামিল ভাই আশে পাশেই আছেন,চিন্তা করবেন না।দুপুর দুইটার দিকে সেনাপ্রধান জেনারেল শফিউল্লাহ’র ফোন আসে,রিসিভ করেন মিসেস জামিল। ভাবি,জামিল ভাই…জামিল ভাই, আমতা আমতা করতে থাকেন শফিউল্লাহ। এতেই বুঝে যান মিসেস জামিল।উনার হাত থেকে ফোনের রিসিভার পড়ে যায় এবং উনি অজ্ঞান হয়ে যান। র‍্যাঙ্কে শফিউল্লাহ সিনিয়র হলেও জামিল চাকুরীতে শফিউল্লাহর সিনিয়র ছিলেন। পাকিস্তান ফেরৎ অফিসার ছিলেন বলে উনার প্রমোশন দেরীতে হচ্ছিল।এর কিছুক্ষণ পর সেনাবাহিনীর একজন অফিসার এসে তাদের সেখানে থাকা আর নিরাপদ নয় বলে লালমাটিয়াতে জামিলের ভাইএর বাসায় সরিয়ে নিয়ে যান। তিন অবুঝ কন্যা সন্তান তখনো বুঝে উঠতে পারেনি তাদের বাবার সাথে তাদের আর দেখা হবে না।

পরবর্তীতে ব্রিগেডিয়ার খালেদ মোশাররফ কর্ণেল জামিলের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেন।খালেদ মোশাররফ তখন চিফ অগ জেনারেল স্টাফ ছিলেন। এরপর মৃতদেহ হস্তান্তর নিয়ে খুনীপক্ষ শুরু করে কুৎসিত নাটক। খালেদ মোশাররফের মধ্যস্থতায় জামিলের ভাই এর কাছে লাশ হস্তান্তর করতে রাজী হয় খুনীদল। তাদেরই কড়া পাহারায় রাত এগারটার দিকে খালেদ মোশাররফের বাসায় লাশ নিয়ে আসা হয়। রাখা হয় বাসার গ্যারেজে।

সারাদিনের দেন দরবারের পর খুনী মেজরেরা মুখ দেখানো হবে না শর্তে লাশ হস্তান্তরে রাজি হয়।গাড়ির পিছনের সিটে জায়গা হচ্ছিল না বলে জামিলের পা দুটো ল্যান্ড রোভারের জানালা দিয়ে বের হয়েছিল,অত্যন্ত ফর্সা পা দুটো দেখেই মিসেস জামিল স্বামীকে চিনতে পেরেছিলেন।

অনেক কাকুতি মিনতির পর,কান্নাকাটি করা যাবে না শর্তে জামিলের মুখ শেষবারের মত দেখতে দিয়েছিল খুনীরা ।মৃত বাবার মুখ দেখে বার বছরের কঙ্কা কান্না শুরু করলে বন্দুক উঁচিয়ে ধমক দিয়ে তাকে বাড়ির ভেতর পাঠিয়ে দেওয়া হয়।ধর্মীয় মতে শেষকৃত্যও হয়নি এই সাহসী বীরের। আমেরিকার থেকে শ্যালিকার পাঠানো বিছানার চাদর জুটেছিল কাফনের কাপড়ের বদলে।তখনো জামিলের দেহ থেকে রক্ত ঝড়ছিল বলে জানায় মেয়ে কঙ্কা।এভাবেই ১৬ই আগস্ট রাতের প্রথম প্রহরে সবার অলক্ষ্যে ক্যান্টনমেন্ট গোরস্থানে তাড়াহুড়া করে সমাহিত করা হয় সাহসীকতা এবং বিশ্বস্ততার এক উজ্জ্বল নক্ষত্রকে। পরিবারের সদস্য ছাড়া আরেকজন সাক্ষী রইলেন এই ঘটনার তিনি ব্রিগেডিয়ার খালেদ মোশাররফ। তিনি হয়তো তখনও আন্দাজ করতে পারেন নি কিছুদিনের মধ্যেই তিনিও একইভাবে ইতিহাস হয়ে যাবেন, আড়ালে পড়ে যাওয়া ইতিহাস।

এরপর তিন সন্তানকে নিয়ে শুরু হয় মিসেস জামিলের বেঁচে থাকার আরেক লড়াই। জামিলের মৃত্যুর কয়েক দিন পর চতুর্থ সন্তানসম্ভাবনা ধরা পড়ে। বেঁচে থাকার কঠিন লড়াইয়ে কারো কাছে মাথা নত করেন নি মিসেস জামিল। জিয়া সেনাপ্রধাণ হবার পর একটি চিঠি পাঠিয়ে জামিলকে শহীদ হিসেবে মর্যাদা দিলেও হত্যাকান্ডের তদন্ত বা বিচার কিছুই করেন নি জিয়া। এই দুই পরিবারের আগের থেকে সুসম্পর্ক থাকলেও জামিল মৃত্যুর পর সেনা প্রধান জিয়ার কাছে কোন ধরনের সাহায্যের জন্য যান নি মিসেস জামিল, একবার ছাড়া। যখন তিনি অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন মায়ের জোড়াজুড়িতে গিয়েছিলেন জিয়ার বাসায়। মিসেস জিয়া সমাদর করলেও জিয়ার ব্যবহার ছিল রুঢ়।

জামিলের মৃত্যুর পর সুইডেন সরকার আসহায় পরিবারটিকে তাদের দেশে রাজনৈতিক আশ্রয় দিয়ে চেয়েছিল। কিন্তু স্বামীর স্মৃতিবিজড়িত প্রিয় বাংলাদেশ ছেড়ে নিশ্চিন্ত নিরাপদ আশ্রয় বেছে নেন নি।বেছে নিয়েছিলেন এক অনিশ্চিত ভবিষ্যত। সংগ্রাম করে বেঁচেছেন, বড় করে তুলেছেন চার মেয়েকে। সকল ধরনের অত্যাচার এবং কষ্ট সহ্য করে স্বামীর প্রিয় বাংলাদেশ ছেড়ে যেতে পারেন নি তিনই।

বাংলাদেশ সেনাবাহিনী তথা বাংলাদেশের ইতিহাসে বিশ্বস্ততা,কর্মনিষ্ঠা এবং ন্যায়পরায়নতার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত কর্নেল জামিল। অথচ উনার সম্পর্কে আমরা কতজনই বা জানি? আমাদের বাচ্চাদের বীরত্বগাঁথা শেখাতে পাঠ্যবইয়ে ধারণ করাই আরব্য রজনীর কোন যুদ্ধের বীরদের কাহিনী। অথচ আমাদের বীরেরা থেকে যায় সবার অগোচরে,ইতিহাসের স্টোররুমে!

একটি বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখি,যেখানে বাচ্চারা ছোটবেলা থেকে আমাদের ইতিহাসের নায়কদের বীরত্বগাঁথা বুকে নিয়ে বড় হবে, স্বপ্ন দেখবে তার নায়কের মত সাহসী, সৎ এবং নিষ্ঠাবান হতে। বুকে ধারণ করবে বাংলাদেশ,চিন্তায় থাকবে লাল-সবুজ ঠিক যেভাবে ধারণ করে রাখতেন কর্ণেল জামিল’রা।

তথ্যসূত্র
A hero’s death
The brave heart
দেশের কলঙ্ক মোচন হলো
ইন্টারনেট

৩,৬০৩ বার দেখা হয়েছে

২৪ টি মন্তব্য : “কর্ণেল জামিল-আড়াল হয়ে যাওয়া এক নাম”

  1. শাওন (৯৫-০১)

    দিবস,
    প্রথমত ধন্যবাদ দিয়ে ছোট করতে চাইনা ঐতিহাসিক এই বিষয়টা নিয়ে সাহসী লেখার জন্য।
    মাঝে মাঝে গর্ব হয় এই ভেবে যে বিষয়গুলো নিয়ে ছোট ভাইরা জানার চেষ্টা করে আর আমাদেরও জানতে সাহায্য করে।


    ধন্যবাদান্তে,
    মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান শাওন
    প্রাক্তন ক্যাডেট , সিলেট ক্যাডেট কলেজ, ১৯৯৫-২০০১

    ["যে আমারে দেখিবারে পায় অসীম ক্ষমায় ভালো মন্দ মিলায়ে সকলি"]

    জবাব দিন
    • দিবস (২০০২-২০০৮)

      আপু, মেজর হায়দার, খালেদ মোশাররফদের আমার মুক্তিযুদ্ধের নায়ক মনে হয় এবং ৭ নভেম্বর আমার এই দুই নায়ককে হত্যা করা হয়। তবে হায়দার, খালেদ মোশাররফের সাথে এক কাতারে মেজর জলিলের নামটা দেখে ভাল লাগল না। যুদ্ধের সময় তার অবদান থাকলেও স্বাধীনতা পরবর্তীতে তার আচরণে তাকে বীর বলা যায় না। হতে পারে সেই আচরণ হতাশা থেকে!তবে যুদ্ধের পরপরই জলিলকে প্রেপ্তার করা হয় সেটা নিয়েও অনেক মুখরোচক কাহিনী আছে,সময় করে এই বিষয়ে কিছু লেখার চেষ্টা করব।

      ধৈর্য নিয়ে পড়ার জন্য ধন্যবাদ,আপু। (সম্পাদিত)


      হেরে যাব বলে তো স্বপ্ন দেখি নি

      জবাব দিন
  2. নূপুর কান্তি দাশ (৮৪-৯০)

    দিবস,
    তোমাকে অনেক ধন্যবাদ এই লেখাটার জন্য।আমি ভাবতাম নতুন প্রজন্মের মধ্যে এঁদের নিয়ে বলবার মতো কেউ আর নেই।

    কর্ণেল জামিলের পরিবার এখন কোথায় আছেন, কেমন আছেন জানো কি?

    জবাব দিন
    • দিবস (২০০২-২০০৮)

      দাদা,অনেক ধন্যবাদ কষ্ট করে পড়ার জন্য। উনারা বর্তমানে কি অবস্থায় আছেন জানি না। তবে মিসেস জামিল ১৯৯৬ সালে সংরক্ষিত মহিলা আসলে আওয়ামীলিগের এমপি ছিলেন। আর মেয়েদের কথা জানি না।


      হেরে যাব বলে তো স্বপ্ন দেখি নি

      জবাব দিন
  3. মঞ্জুর (২০০২-২০০৮)

    আমরা অনেক বড় দুর্ভাগা জাতি এই কারণে যে আমাদের দেশের বীর সন্তানদের আমরা প্রাপ্য সম্মান দিতে তো পারিই নি উল্টো তাদেরকে আমরা স্বাধীনদেশে স্বাধীনভাবে হত্যা করতে দিয়েছি।শুধু তাই নয় ইতিহাস থেকে তাদের বীরত্বগাঁথাও আজ বিলুপ্তপ্রায়।
    অনেক ভালো একটা উদ্যোগ নিয়েছিস।পারলে খালেদ মোশাররফকে নিয়েও কিছু লিখিস।

    জবাব দিন
    • দিবস (২০০২-২০০৮)
      আমরা অনেক বড় দুর্ভাগা জাতি এই কারণে যে আমাদের দেশের বীর সন্তানদের আমরা প্রাপ্য সম্মান দিতে তো পারিই নি উল্টো তাদেরকে আমরা স্বাধীনদেশে স্বাধীনভাবে হত্যা করতে দিয়েছি।শুধু তাই নয় ইতিহাস থেকে তাদের বীরত্বগাঁথাও আজ বিলুপ্তপ্রায়।

      :thumbup: মনের কথাটা বলে দিছস।

      খালেদ মোশাররফ কে নিয়ে জানার চেষ্টায় আছি, বেশী বেশী। প্রিন্সু স্যারের একটা লেখার কথা ছিল এই নিয়ে। কেউ কথা রাখে না... 🙁 🙁 🙁


      হেরে যাব বলে তো স্বপ্ন দেখি নি

      জবাব দিন
  4. জিহাদ (৯৯-০৫)

    দিবস, দারুণ একটা লেখা হয়েছে। আগেই পড়েছি, কিন্তু মন্তব্য করা হয়নি।
    সিসিবিতে এমনিতেই কমেন্ট এখন কম পড়ে। ভালো লেখায়ও মন্তব্য না পেলে খারাপ লাগে।কাজেই মনে হলো ভালো লাগাটা জানিয়ে যাই। কর্ণেল জামিলের মত আরো অনেকেই আছেন আমাদের ইতিহাসে। আশা করি তোমার কাছ থেকে আরো লেখা পাবো, আর জানতে পারবো। সিসিবিতে লেখালেখি জারি থাকুক।


    সাতেও নাই, পাঁচেও নাই

    জবাব দিন
    • দিবস (২০০২-২০০৮)

      জিহাদ ভাই অনেক ধন্যবাদ 😀
      বিদেশ জীবনের শুরুতে সিসিবিতেই আমার সময় কাটছে। আপনাদের কমেন্ট দেখে চেয়ার উল্টায় পড়ার মত অবস্থা হইছে হাসতে হাসতে। গর্ব করতাম ক্যাডেট কলেজ ব্লগ তখনকার সেরা ব্লগগুলোর একটি ছিল। এখনো লেখার মান যথেষ্ট পরিমান ভাল বলে আমি বিশ্বাস করি। কিন্তু সেই সাথে এটাও বিশ্বাস করি একটা ব্লগের প্রাণ হচ্ছে কমেন্টে। বলতে দ্বিধা নেই যে সিসিবি এখন প্রাণ হারায় ফেলছে। কষ্ট পাই। আগের সিসিবি ফিরে পেতে চাই। 🙁 (সম্পাদিত) (সম্পাদিত)


      হেরে যাব বলে তো স্বপ্ন দেখি নি

      জবাব দিন
  5. সানাউল্লাহ (৭৪ - ৮০)

    মিসেস জামিল মাস দেড়েক আগে মারা গেছেন। উনি আমার স্ত্রীর দিকে আত্মীয়।

    ধন্যবাদ দিবস, লেখাটি অসাধারণ। ইতিহাস অনুসন্ধান আমারও খুবই প্রিয় বিষয়। বিশেষ করে বাংলাদেশের লুকোনো ইতিহাস।


    "মানুষে বিশ্বাস হারানো পাপ"

    জবাব দিন
    • দিবস (২০০২-২০০৮)

      ভাইয়া আপনার কমেন্ট পেয়ে অনেক খুশী হলাম। খালেদ মোশাররফকে নিয়ে আপনার একটা লেখা দেবার কথা ছিল অনেক আগের থেকেই, এখনো পাই নাই। 🙁

      আমারও বাংলাদেশের লুকানো ইতিহাস নিয়ে অনেক বেশী কৌতুহল।উনার মেয়েরা কে কি অবস্থায় আছে সেটা কি জানেন ভাইয়া?


      হেরে যাব বলে তো স্বপ্ন দেখি নি

      জবাব দিন
  6. হুমায়ুন (২০০২-০৮)
    একটি বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখি,যেখানে বাচ্চারা ছোটবেলা থেকে আমাদের ইতিহাসের নায়কদের বীরত্বগাঁথা বুকে নিয়ে বড় হবে, স্বপ্ন দেখবে তার নায়কের মত সাহসী, সৎ এবং নিষ্ঠাবান হতে। বুকে ধারণ করবে বাংলাদেশ,চিন্তায় থাকবে লাল-সবুজ ঠিক যেভাবে ধারণ করে রাখতেন কর্ণেল জামিল’রা।
    :boss: :boss: :boss:


    তুমি গেছো
    স্পর্ধা গেছে
    বিনয় এসেছে।

    জবাব দিন
  7. একটি বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখি,যেখানে বাচ্চারা ছোটবেলা থেকে আমাদের ইতিহাসের নায়কদের বীরত্বগাঁথা বুকে নিয়ে বড় হবে, স্বপ্ন দেখবে তার নায়কের মত সাহসী, সৎ এবং নিষ্ঠাবান হতে। বুকে ধারণ করবে বাংলাদেশ,চিন্তায় থাকবে লাল-সবুজ ঠিক যেভাবে ধারণ করে রাখতেন কর্ণেল জামিল’রা।

    খুব খারাপ লাগে যখন এগুলি পড়ি। সত্যি কথা বলতে মুক্তিযুদ্ধের সপক্ষের শক্তিগুলিও রাজনীতির বেড়াজালে পরে আদর্শ থেকে দুরে সরে গেছে। আমাদের পরবর্তী প্রজন্ম তাদের পূর্বপুরুষের বীরত্ব না জানলে হয়ত ভুলেই যাবে কত রক্ত দিতে হয়েছিল এই লাল সবুজটাকে ধরে রাখতে।

    জবাব দিন
  8. কর্নেল জামিল এবং বঙ্গবন্ধু হত্যাকান্ড

    - বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী বীর উত্তম / দৈনিক আমার দেশ - ২৭/৯/২০১১ এবং ১১/১০/২০১১
    //www.facebook.com/kay.kavus/posts/418198855028671

    জবাব দিন

মন্তব্য করুন

দয়া করে বাংলায় মন্তব্য করুন। ইংরেজীতে প্রদানকৃত মন্তব্য প্রকাশ অথবা প্রদর্শনের নিশ্চয়তা আপনাকে দেয়া হচ্ছেনা।