বসন্ত ছুঁয়েছে আমাকে…!!!

(শিরোনাম দেখে কেউ বিভ্রান্ত হবেন না। পিচ্চির (আমার ভাতিজা) বসন্ত হয়েছে…আজ দুপুরে ওর সাথে মারপিট করার সময় ওর গায়ের বসন্ত আমার গায়ে লেগেছে…ব্যাস এই হল নামকরণের ইতিহাস…)

পরশুদিনের আগ পর্যন্ত ভাতিজাকে নিয়ে আমরা সবাই চিন্তায় ছিলাম। বাসার হেল্পিং হ্যান্ড মেয়েটার বসন্ত হয়েছে…ওর থেকে পিচ্চির হবার আশঙ্কা অমূলক নয়। গতকাল আমাদের সবাইকে নিশ্চিন্ত করে (হবে কি না-এই চিন্তা থেকে মুক্তি!!!) দুই তিনটা বসন্ত দেখা গেল ওর গায়ে…আর এক দিনের মাথায় মোটামুটি সারা শরীরে ছড়িয়ে পড়েছে…ভাতিজা অবশ্য স্বাভাবিকই আছে…দেখে মনে হল না সে বসন্তের ভারে কাতর…তবে, একটা ব্যাপার নিয়ে সে বেশ চিন্তিত- মুখে দাগ না থেকে যায়…তাহলে তো দেখতে খারাপ লাগবে…শালার পোলাপাইন এখন কত এডভান্স…এই বয়সেই সৌন্দর্য্য সচেতন হয়ে গেছে…

ভাতিজার বসন্ত দেখে বসন্ত অনেক আজাইরা কথা-বার্তা পেটের মধ্যে গুড়্গুড় করছে…

কলেজে যাবার আগে কিছুদিন হাই স্কুল (ওরফে জিলা স্কুল) এ পড়েছিলাম। একজন স্যার ছিলেন, আসল নাম ভুলে গেছি…তবে উনি ‘বসন্ত স্যার’ নামে পরিচিত ছিলেন। কারণ তাঁর মুখে ছিল গুটি বসন্তের দাগ। আমার ধারণা দেশের প্রায় প্রতিটি জিলা স্কুলেই কমপক্ষে একজন করে শিক্ষক আছেন যার মুখে গুটি বসন্তের দাগ রয়েছে। এঁদের সবার বৈশিষ্ট্য মোটামুটি কাছাকাছি- পোলাপাইন খুব ভয় পায়, খুব কড়া মেজাজের, বেত হাতে ভয়ঙ্কর, সবাই বসন্ত স্যার নামে ডাকে…ইত্যাদি ইত্যাদি…। তবে গুটি বসন্ত হারিয়ে যাবার পর দাগওয়ালা মানুষের সংখ্যাও দিন দিন কমে যাচ্ছে। এদিক থেকে জলবসন্ত একেবারে জলবৎ তরলং…কেউ আর পাত্তা দেয় না…আমার তো মনে হয় ক্যাডেট কলেজ ছাড়া বাইরের খুব মানুষেরই এখন জলবসন্ত হয়…

এস এস সি পরিক্ষার্থীদের সাথে জলবসন্তের আশ্চর্য্য এক সখ্যতা রয়েছে…কেমন করে জানি প্রতিবছর এরাই বেশি আক্রান্ত হয়। আর বসন্ত হলেই আইসোলেশন ওয়ার্ড, মশারি টাঙ্গিয়ে পরীক্ষা…সবার থেকে আলাদা…এক কথায় জীবনের প্রথম বোর্ড এক্সামের এক্কেবারে যাচ্ছেতাই সূচনা। আমাদের কিছু ইন্টেলেকচুয়াল পাব্লিক ছিল যারা ক্লাস টেনে থাকতে ইচ্ছে করে হাসপাতালে ঘুরঘুর করে বসন্ত বাধিয়েছিল। পরের বছর পরীক্ষার সময় যাতে না হয়…!!! মাস্টার স্ট্রোক!!!

আমি আর জাফর কলেজ জীবনের অর্ধেকেরও (তাও শেষ অর্ধেক!) বেশি সময় ধরে ডাইনিং হলে এক টেবিলে কাটিয়েছি…এস এস সি পরীক্ষার কিছুদিন আগে ওর মা ওর জন্য এক তাবিজ পাঠান…যাতে বসন্ত না হয় আর কি…আমার আবার কিছু কিছু ব্যাপারে শুচিবায়ু আছে…এদের মধ্যে তাবিজ অন্যতম…কেন জানি এই জিনিসটা আমি মোটেই সহ্য করতে পারি না…যাই হোক, জাফরকে হুমকি দিলাম…ও যদি তাবিজ পড়ে তাহলে আমি অন্য টেবিলে চলে যাব…শেষ পর্যন্ত ও আর পড়ে নি…আর ভাগ্যের কি নির্মম পরিহাস পরীক্ষার দুই একদিন আগে ওর বসন্ত হয়…এই ব্যাপারটা নিয়ে আমি বেশ কিছুদিন মনঃকষ্টে ভুগেছি…খালি মনে হয়েছিল- আমার জন্যই বোধহয়…তবে হ্যাঁ, পুরোপুরি পোয়েটিক জাস্টিস না হলেও পরে অন্ততঃ এটম পোয়েটিক (‘অণু কাব্য’ থেকে অণুপ্রাণিত!!!) জাস্টিস হয়েছিল…পরীক্ষার শেষের দিকে আমারো বসন্ত হয়…!!!

ইমোশনাল কথা দিয়ে শেষ করি-
দোস্ত জাফর, কখনো তোকে ‘ঐ’ কারণে স্যরি বলিনি…
তাহলে এতদিন পরে বলে কি আর লাভ???
হি হি হি হি…
ভাল থাকিস, সবসময়…সারাজীবন!!

২,১২১ বার দেখা হয়েছে

৩৪ টি মন্তব্য : “বসন্ত ছুঁয়েছে আমাকে…!!!”

  1. কাইয়ূম (১৯৯২-১৯৯৮)

    ব্লাডি জুনা, বন্ধুর বসন্ত আটকানির তাবিজ পর্তে না দিয়া এতদিন পর আবার হিহি কইরা ক্যালাইতাছোস x-( স্টার্ট :frontroll: :grr: আশা করি এখনো ফ্রন্ট্রোল ঠেকানির তাবিজ পেটে বান্ধা নাই :grr: :grr: ;;;


    সংসারে প্রবল বৈরাগ্য!

    জবাব দিন
  2. এস এস সি পরিক্ষার্থীদের সাথে জলবসন্তের আশ্চর্য্য এক সখ্যতা রয়েছে…কেমন করে জানি প্রতিবছর এরাই বেশি আক্রান্ত হয়। আর বসন্ত হলেই আইসোলেশন ওয়ার্ড, মশারি টাঙ্গিয়ে পরীক্ষা…সবার থেকে আলাদা…এক কথায় জীবনের প্রথম বোর্ড এক্সামের এক্কেবারে যাচ্ছেতাই সূচনা।

    :thumbup: :thumbup: :thumbup:

    জবাব দিন
  3. কামরুল হাসান (৯৪-০০)

    বেলাডি এতোদিন কই আছিলি? আবার আইসাই ব্লগে বসন্ত ছড়াইতেছিস?
    আমার অবশ্য ছোটবালায় একবার হইছিলো, আর চিন্তা নাই।

    সুতরাং বসন্ত আমারে ছুঁয়ে যাক, এই চাই 😛


    ---------------------------------------------------------------------------
    বালক জানে না তো কতোটা হেঁটে এলে
    ফেরার পথ নেই, থাকে না কোনো কালে।।

    জবাব দিন
  4. রকিব (০১-০৭)

    কলেজে থাকা অবস্থায় ক্লাস নাইনের শুরুতে বসন্ত হইছিল, ফলাফলঃ রি-ইউনিয়নের প্যারেড করা লাগে নাই, আর উপরি পাওনা স্বরূপ রি-ইউনিয়নের মাস্তিও মাটি :bash: :bash: :bash:


    আমি তবু বলি:
    এখনো যে কটা দিন বেঁচে আছি সূর্যে সূর্যে চলি ..

    জবাব দিন
  5. জাফর (৯৫-০১)

    কিরে, তুই আমারে নিয়া লিখছস। আমারে ইমোশনাল ব্ল্যাকমেইল (ইবি) করছিস না তো।

    তোর সরি ফিল করার কোন কারণ নাই...

    আমি জানি...

    তুইও জানিস...

    তোর মতো বন্ধু থাকলে শত্রুর দরকার নাই। 😉 :-))

    অনটপিকঃ উপরের কথাটা অফটপিক ছিল। এখন সত্যিই তোর ফান (বোরিং ফান ! ! !) মিস করি।

    জবাব দিন

মন্তব্য করুন

দয়া করে বাংলায় মন্তব্য করুন। ইংরেজীতে প্রদানকৃত মন্তব্য প্রকাশ অথবা প্রদর্শনের নিশ্চয়তা আপনাকে দেয়া হচ্ছেনা।