খেরোখাতাঃ এলোমেলো বা ব্যস্ততামাখা লিপি

অনেক দিন কিছু লিখছি না। কোন কারন ছাড়াই, কিংবা কারন নিশ্চয় কিছু আছে, গুছিয়ে বলতে পারছিনা, তাই সংক্ষেপে বলছি “কোন কারন নেই”

অবশ্য আমার আবার যে লেখা, আগডুম-বাগডুম।

চট্টগ্রাম ছেড়েছি প্রায় বছর গড়িয়ে যাচ্ছে, আমি এসেছি ১১ এর শুরু দিকে, বউ-বাচ্চা আগস্ট মাসে, এটা হচ্ছে মার্চ। অনেকদিন হল কি!? অথচ ঈদানীং মনে হয়, আমি আগের জনমে চট্টগ্রামে ছিলাম। সেইই—ই কবেএ—-এ।

ঢাকা আর চট্টগ্রামের তুলনাটা আসলে হয় না। দুটো ভিন্ন জগত, চট্টগ্রামের মোড়ে মোড়ে আলস্য মেখে থাকে, তুমুল আড্ডাবাজি, দল বেধে ঘুরা-ঘুরি, একটু কিছু হলেই কর্ণফুলীর পাড়ে, পতেঙ্গা, বাড়বকুন্ডের ঝরনা, বা নিদেনপক্ষে পাহাড়তলী। কি দারুন দারুন সব জায়গা। পাহাড় কেটে রাস্তা টাইগার পাসে। আর কি যেন পাহাড়টার নাম, এক্স মেয়র মহিউদ্দিনের বাত্তি লাগানো যেখানে? আমার অফিসের বসার টেবিল থেকে সরাসরি দেখা যেত পাহাড়টা প্রথম প্রথম। পরে বাদামতলীর মোড়ের বিশাল বড় আখতারুজ্জামান সেন্টার দৃষ্টির আড়ালে ফেলে দেয় তাকে। চোখের সামনে গড়ে উঠল কর্ণফুলীর ২য় সেতু, জিয়া উদ্যান। কর্নেলহাটের প্রায় সবগুলো ছয়তলা বাসার ছাদ থেকে সরাসরি চোখে পড়ে সমুদ্র। হালিশহর জি-ব্লক থেকেও। কত্ত কাছে সমুদ্র, ছাদে সারাক্ষন কি দারুন বাতাস। আর জামালখানের সুইচ রুমের ছাদে দাড়ালে পরিস্কার দেখা যেত আঁকাবাঁকা কর্ণফুলী।

আহা, কি দারুন জায়গা ছিল চট্টগ্রামটা।

লাল পাহাড়ির দেশে যা, রাঙ্গামাটির দেশে যা,
ইত্থাক তুকে মানাইছেনারে, ইক্কেবারে মানাইছে না রে


২।
তবে আমাদের এসব পছন্দ থাকতে নেই। আমরা ছুটে বেড়াই একটু ভালো থাকার আশায়। আমিতো তবু ছুটাছুটি করে আমার ছোট্ট দেশটার ভিতরেই। আর বড় বড় অভাগারাতো ছুটে বেড়ায় সারা পৃথিবীতেই। তাদের যেন নিজের দেশ থাকতে নেই, নিজের সংস্কৃতি নেই, এমনকি প্রিয়জনরা যখন মারা যায়, তাদের পাশে থাকতে নেই, তাদের শেষবার দেখতে নেই।

সেই তুলনায় ভালোই আছি বলতে হবে।

৩।

ঢাকা বদলে যাচ্ছে। দ্রুত। সবাই বলে। আমিও বলি। আমরা অনেক কিছু ভাবি, চিন্তা করি ঢাকাকে নিয়ে। প্রায় এককোটি মানুষের আশা-আকাংখা ভালোলাগা ভালোবাসা বয়ে নিয়ে চলে এই ঢাকা।

ঢাকার প্রতিটি ইটে, প্রতিটি বালুকনায় কত যে অজস্র গল্প মিশে আছে!

আমি অফিসে আসি, মাঝে মাঝে মনে উকি দেয়, বাদামতলী থেকে বাংলামোটর কি অনেক দূর !?

টিকে থাকার জন্য অবিরাম সংগ্রাম চলতেই থাকে, চলতেই থাকে।

৪।

ঢাকায় এসে একটা লাভ হয়েছে অবশ্য। পরিচিত মানুষের সংগে দেখা হবার ফ্রিকোয়েন্সি অনেক অনেক গুনে বেড়ে গিয়েছে। প্রয়োজনে কিংবা অপ্রয়োজনে।

এটা কিন্তু অনেক বড় একটা পাওয়া।

১,২৯০ বার দেখা হয়েছে

৫২ টি মন্তব্য : “খেরোখাতাঃ এলোমেলো বা ব্যস্ততামাখা লিপি”

  1. মইনুল (১৯৯২-১৯৯৮)

    অনেকদিন পরে লিখলেও থীম আর ডেলিভারী টাইম ভোলেন নাই দেখা যায়। ঠিক সন্ধ্যার সময় মন খারাপ করে দেয়া লেখা, মন উদাস করে দেয়া গান।
    ফয়েজ ভাই, কি খবর বলেন।
    কত দিন দেখা হয়নি ......

    জবাব দিন
  2. তাইফুর (৯২-৯৮)

    এতদিনে একটুকুও বদলান নাই বলে ভাল লাগল বস ...
    বিশ্বকাপের পর থিকা সেই আগের মতই আছেন ...
    আবুল টাইপ হেয়ার স্টাইল, বড় সানগ্লাস, ময়লা মাফলার আর তেইল্লাচুরা মোচ
    ব্যাকগ্রাউন্ড আর চুল মিলেমিশে একাকার ...
    ওয়াহ ওয়াহ চমৎকার
    :khekz: :khekz: :khekz: :khekz:


    পথ ভাবে 'আমি দেব', রথ ভাবে 'আমি',
    মূর্তি ভাবে 'আমি দেব', হাসে অন্তর্যামী॥

    জবাব দিন
  3. কামরুল হাসান (৯৪-০০)

    ক্লিন সেভ গাল, আতাউল গনি ওসমানীর মত গোঁফ !! ম্যাট্রিক্সের মরফিয়াসের মত ডান্ডি ছাড়া চশমা !!
    ফয়েজ ভাই আগের মতোই আছে 😀


    ---------------------------------------------------------------------------
    বালক জানে না তো কতোটা হেঁটে এলে
    ফেরার পথ নেই, থাকে না কোনো কালে।।

    জবাব দিন
  4. রেজা শাওন (০১-০৭)
    তবে আমাদের এসব পছন্দ থাকতে নেই। আমরা ছুটে বেড়াই একটু ভালো থাকার আশায়। আমিতো তবু ছুটাছুটি করে আমার ছোট্ট দেশটার ভিতরেই। আর বড় বড় অভাগারাতো ছুটে বেড়ায় সারা পৃথিবীতেই। তাদের যেন নিজের দেশ থাকতে নেই, নিজের সংস্কৃতি নেই, এমনকি প্রিয়জনরা যখন মারা যায়, তাদের পাশে থাকতে নেই, তাদের শেষবার দেখতে নেই।

    বাহ...!! ভাই সেই রকম বলছেন তো ভাই... :clap: :clap:

    সেই তুলনায় ভালোই আছি বলতে হবে।

    জবাব দিন
  5. জিহাদ (৯৯-০৫)

    কখনই কেন যেন মনে হয়না আপনে ঢাকা থাকেন :ডি

    মার্চ মাস তো আইসা পড়লো। সিসিবি পিকনিকের জন্যে প্রিন্সিপাল স্যার রে ধরেন ফয়েজ ভাই


    সাতেও নাই, পাঁচেও নাই

    জবাব দিন
    • ফয়েজ (৮৭-৯৩)
      কখনই কেন যেন মনে হয়না আপনে ঢাকা থাকেন :ডি

      কামরুল, হয়রান, সামিয়া, এহসান এদের জিগাও, সঠিক উত্তর জানতে পারবা।

      "ডি" দেখলেই মনে হয় একদল পোলা লুঙ্গি পইড়া কোলাভরি কোলাভরি কইতেছে আর ঘুরতেছে হাত উপ্রে তুইলা


      পালটে দেবার স্বপ্ন আমার এখনও গেল না

      জবাব দিন
  6. আন্দালিব (৯৬-০২)

    আসলেই তিন বছর পিকনিক হয় না। পিকনিক হইলে বিদেশি বান্দারা একটু কষ্ট পাইত। ফয়েজ ভাই আপনিই পারবেন, একটু ব্যবস্থা করেন না প্রিন্সিপ্যাল স্যারকে বলে!

    জবাব দিন
  7. আমিন (১৯৯৬-২০০২)

    পোস্ট না পড়েই লিখছিলাম ফয়েজ ভাইয়ের খেরোখাতা রক করে।

    পইড়া মন খ্রাপ হয়া গেল !! ভাবছিলাম দেশে আইসা চট্টগ্রামে ট্যুর মারবো। ফয়েজ ভাই নাই শুনে তো সেই আগ্রহও গেলো গা। যাউকগা ফয়েজ ভাই, বদ পোলাপান পিকনিক টিকনিক নিয়ে আকথা কুকথা কইতেসে। কানে তুইলেন না। পিকনিক হবে ডিসেম্বরের বারো তারিখ। ১২-১২-১২ কেমন হয় ??

    জবাব দিন
  8. আজিজুল (১৯৭২-১৯৭৮)

    ভাই ফয়েজ,

    ধন্যবাদ তোমাকে।লিখাটা আত্যন্ত মন ছুঁয়ে গেল। শুধু এসবের জন্যেই চাটগাঁ ছেড়ে নিজ বাসভূমি ঢাকায় আর যাওয়া হয়ে উঠেনি।তাই পৃথিবীর যেখানেই যাই, ঘুরে ফিরে 'ঘরের ছেলে ঘরেই' ফিরে আসি -এই চাটগাঁয় !

    পুনশ্চঃ বাবা কবরের জায়গা করে গেছেন, ছেলেদের দেখিয়ে রেখেছি এই আশায়, এখানেই শুইয়ে দেবে, এই চাটগাঁয়েই।


    Smile n live, help let others do!

    জবাব দিন
  9. আহসান আকাশ (৯৬-০২)

    খেরো খাতা পাথরায় :thumbup:

    চট্টগ্রাম আসলেই অন্য রকম, ঢাকার সাথে কোন তুলনা হয় না। গত একবছর দারুন কেটেছিল চট্টগ্রামে।

    আর এই চৈত্র মাসের গরমে পিকনিকের কথা মাথাতেও আনার দরকার নাই, পিকনিক হবে আগামী অক্টোবরে...


    আমি বাংলায় মাতি উল্লাসে, করি বাংলায় হাহাকার
    আমি সব দেখে শুনে, ক্ষেপে গিয়ে করি বাংলায় চিৎকার ৷

    জবাব দিন
  10. সামি হক (৯০-৯৬)

    যাক এইবার ঢাকা আসলে আপনার সাথে দেখা হবে।

    বাদামতলীতে আপনার অফিসে গেলে পুরান ঢাকার বিরিয়ানী খাওয়েন, আর যদি একটা চাকুরী দিয়ে দেন আপনার ব্যবসায় তাইলে এইবার ঢাকা থেকে আর নড়ব না। 😀

    জবাব দিন
  11. জুনায়েদ কবীর (৯৫-০১)

    লায়ন সাহেব, ঢিল মারা দূরত্বে থাকি তবুও কোন দিন বাড়িতে ডাকলেন না... 🙁
    যাই হোক, আশা করি আপনার ঢাকা জীবন মোটামুটি একটা সাইজে আসছে... :dreamy:

    লেখা হইছে মোটামুটি... :-B 😛


    ঐ দেখা যায় তালগাছ, তালগাছটি কিন্তু আমার...হুঁ

    জবাব দিন
    • ফয়েজ (৮৭-৯৩)

      জু-----------------না----------------------------হে এ এ এ এ এ এ এ এ এ এ চ----লি আ--সওওওওওওওওওওওওওওওওওওও।

      বাচ্চা স্কুলে ভর্তি হয়ে গিয়েছে, আমিও অভ্যস্ত হয়ে গিয়েছি জ্যামে। নিজেদের ব্যবসা, তাই গাড়ির ফুটানিটা নাই আর। কিছুট হেটে আর কিছুটা ঝুলে অফিসে যাই, শাপশাপান্ত করি। জীবন তো পুরাই সাইজে, 🙂


      পালটে দেবার স্বপ্ন আমার এখনও গেল না

      জবাব দিন
  12. তানভীর (২০০১-২০০৭)
    তবে আমাদের এসব পছন্দ থাকতে নেই। আমরা ছুটে বেড়াই একটু ভালো থাকার আশায়। আমিতো তবু ছুটাছুটি করে আমার ছোট্ট দেশটার ভিতরেই। আর বড় বড় অভাগারাতো ছুটে বেড়ায় সারা পৃথিবীতেই। তাদের যেন নিজের দেশ থাকতে নেই, নিজের সংস্কৃতি নেই, এমনকি প্রিয়জনরা যখন মারা যায়, তাদের পাশে থাকতে নেই, তাদের শেষবার দেখতে নেই।

    সেই তুলনায় ভালোই আছি বলতে হবে।

    ফয়েজ ভাই, এই কথা টুকুন বলে আমার মনটা খারাপ করে দিয়ে আপনি শুধু নিজের ভালটা নিয়ে কাইটা পড়লেন না........!!!!!
    ভাল লাগল পড়ে। আর ভাল লাগল যে কেউ কেউ আমাদের মত হতভাগাদের (যাদের ইচ্ছা থাকলেও সব সময় দেশে থাকা হয় না) জন্যও দুঃখী হয় ..................।।


    তানভীর আহমেদ

    জবাব দিন
    • ফয়েজ (৮৭-৯৩)

      তোমার মন খারাপের কারন হয়েছি বলে আমি দুঃখিত।

      যাদের ট্যালেন্ট আছে খুব ভালো, দেশে স্কোপ নেই তাদের তো কাজের জন্য বাইরে যাওয়াই উচিৎ, প্রতিভার অপচয় করা ঠিক নয়। আর বিশাল শ্রমিক, তাদের রেমিট্যান্সের কারনে আবুল মাল দাঁত বের করে বলতে পারে "এভরিথিং ইজ আন্ডার কন্ট্রোল" ।

      এগুলো ক্ষনিকের অনুভুতি মাত্র, ভুলে যাও এবং মন দিয়ে কাজ কর। তোমার সর্বাংগীন সাফল্য কামনা করছি।


      পালটে দেবার স্বপ্ন আমার এখনও গেল না

      জবাব দিন
  13. সামিয়া (৯৯-০৫)

    আপনার পোস্টে মন্তব্য ডর লাগে। আবার তো বলবেন এই সময়টায় একটা দেয়ালের লেআউট বানায় ফেলতে পারতা...আপসুস আপনারা গৃহকর্মীদের টেলিভিশন দেখার অধিকার রক্ষায় লড়েন, কিন্তু আমাদের মত অভাগাদের সারাদিনে একবার সিসিবিতে ঢুকতে দেখলেই... :bash:

    জবাব দিন
  14. ইসলাম (৯৩-৯৯)

    অনেক আগে সিসিবিতে রেজিস্ট্রেশন করেছিলাম, ফেসবুকে আপনার সাথে দেখা হয়ে যাওয়াতে আবার ঢুকে এই লেখাটা পেলাম। আহা! চট্টগ্রাম! প্রায় ১০ বছর ঢাকাতে কাটিয়েও কখনো আপন মনে হলোনা। চট্টগ্রাম আলাদা। এখন বিদেশে এসে আফসোসটা অনেক বেশী।


    মন তুমি কৃষিকাজ জানোনা, এমন মানবজমিন রইলো পতিত, ফলালে ফলতো সোনা

    জবাব দিন

মন্তব্য করুন

দয়া করে বাংলায় মন্তব্য করুন। ইংরেজীতে প্রদানকৃত মন্তব্য প্রকাশ অথবা প্রদর্শনের নিশ্চয়তা আপনাকে দেয়া হচ্ছেনা।