এনার্জি সেক্টরে বর্তমান আন্দোলন এবং কিছু বাস্তবতা -২

(এটি কাঁপাকাঁপা হাতে লেখা। আমি এই সেক্টরে অভিজ্ঞ নই। তাই কোন তথ্যগত ভুল থাকলে ধরিয়ে দিন। আমি শুধরে নিব)

আগের পোস্ট এবং প্রয়োজনীয় লিংক

পিএসসি কি এবং কেন?

সোজা বাংলায় এবং সাদা চোখে এটা একধরনের অংশীদারিত্ব চুক্তি। যেখানে দুপক্ষই নিজেদের লাভের হিসাব করেন এবং হিসাব কাছাকাছি হলে (মানে দু পক্ষই মনে করলেন যে তিনি চুক্তিতে লাভবান হলেন) তারা চুক্তিবদ্ধ হন নিদির্ষ্ট একটা কাজের জন্য।

খনিজ সম্পদ অনুসন্ধান চুক্তিও অনেকটা তাই। অনেকটা বলছি একারনে, কারন এখানে কোম্পানী হিসাবে যিনি থাকবেন তাঁর ঝুঁকিটা বেশী থাকে। কারন মাটির নীচে কোন সম্পদ না পেলে, বা অল্প পরিমানে পেলে তার বিনিয়োগকৃত অর্থ ফেরৎ আসে না। যেহেতু ঝুঁকি বেশী, তাই তার লাভের পরিমানটাও বেশীই হয়। আর যিনি মালিক (এখানে রাস্ট্র বা রাস্ট্রের জনগন), সম্পদ পাওয়া না গেলে তাঁর ক্ষতি তেমন হয়না, এবং উল্লেখ্যযোগ্য পরিমান সম্পদ পাওয়া গেলে তাঁর লাভের বখরাও তেমন বেশী হয়না।

তবে একটু বাঁকা চোখে তাকালে আবার অন্য রকম অর্থ করা যায়। পিএসসিতে রাস্ট্রের পক্ষ থেকে একটা নিদির্ষ্ট প্রতিস্টানকে ঠিক করে দেয়া হয় (এখানে পেট্রোবাংলা)। অর্থাৎ যে সম্পত্তির মালিকানা ছিল রাস্ট্র বা জনগন, চুক্তির ফলে তাঁর বা তাঁদের পক্ষে কথা বলার জন্য পেট্রোবাংলাকে মনোনীত করা হয়। আর পিএসসিতে একথা সুস্পষ্ট ভাবে বলে দেয়া হয়, কোম্পানী খনিজ সম্পদ আরোহনের জন্য কি পরিমান বিনিয়োগ করেছে, কি পরিমান খনিজ সম্পদ মজুদ আছে এবং মজুদকৃত খনিজের দাম কি হবে তা যৌথভাবে নির্ধারন করবে ডেভেলপার এবং পেট্রোবাংলা। অর্থাৎ আমাদের সব লাভক্ষতির হিসাবে পেট্রোবাংলা যা বলবে, রাস্ট্র তা মেনে নেবে বা মেনে নিতে আইনগত বাধ্য থাকবে।

পুরাতন এবং নতুন পিএসসির পার্থক্য কই?

মূল পার্থক্য রপ্তানীতে। তবে তার আগে দূটো কথা বলে নেই।

প্রাপ্ত খনিজ সম্পদকে প্রধানত দুটো ভাবে ভাগ করা হয়। প্রথমটা কস্ট রিকভারী, দ্বিতীয়টা প্রফিট শেয়ারিং। কস্ট রিকভারী পর্যায়ে কোম্পানী তার খরচ উঠিয়ে নেবে, এখানে রাস্ট্রের কোন মালিকানা নেই। এখন “খরচ” বা “কস্ট” কত হয়েছে, (সোজা বাংলায় ইনভেস্টমেন্ট কত হয়েছে) তা নির্ধারন করবে কোম্পানী এবং পেট্রোবাংলা। অর্থাৎ কোম্পানী যদি ২০০ মিনিয়ন ডলার খরচ করে পেট্রোবাংলাকে দিয়ে ৪০০ মিলিয়ন ডলার খরচ “এপ্রুভ” করে নিতে পারে, তবে রাস্ট্রের কিছু বলার নেই, আমরা কোম্পানীর কস্ট রিকভারী হিসেবে ৪০০ মিলিয়ন ডলার দিতে বাধ্য থাকবো। এই “কস্ট রিকভারী” অবশ্য কোম্পানী একেবারে নিতে পারবে না। প্রতি বছর নিদির্স্ট হারে নিবে। যেমন পিএসসি-২০০৮ এ এর পরিমান বলা আছে ৫৫%। অর্থাৎ যে পরিমান খনিজ সম্পদ প্রথম বছরে উত্তোলন করা হবে তার ৫৫ ভাগ কোম্পানী নিয়ে নিবে। বাকী ৪৫% আবার ভাগ হবে। কি পরিমানে ভাগ হবে তা উল্লেখ্য নেই। তবে এটা ৫০-৫০ হবে এই ধারনা করছেন মোটামুটি সবাই। এভাবে ভাগ হতে থাকবে যতদিন পর্যন্ত না কোম্পানীটির কস্ট রিকভারী (৪০০ মিলিয়ন) হয়। এর পরে বাকী সম্পদ “প্রফিট শেয়ারিং” নীতিমালা হিসেবে ভাগ হবে।

এইসব হিসাব অবশ্য একেক পিএসসির ক্ষেত্রে একেক রকম।

কোম্পানী সব সময় চায় তার বিনিয়োগকৃত অর্থ খুব তাড়াতাড়ি ফেরৎ আসুক। পূর্বের সমস্ত পিএসসিই হয়েছিল স্থলভাগের বিভিন্ন ব্লকের জন্য। সেখানে কোম্পানীর ভাগের গ্যাস (কস্ট রিকভারী + প্রফিট শেয়ারিং এর অংশ) আবার পেট্রোবাংলাই কিনে নেয়। এক্ষেত্রে পেট্রোবাংলা এবং কোম্পানী মূল্য নির্ধারন চুক্তি করে। এর ফলে মূল্য কমবেশী হয়, তবে মূল ব্যাপারটা হলো কোম্পানীগুলি চুক্তি অনুসারে বাধ্য থাকে পেট্রোবাংলার কাছেই গ্যাস বিক্রী করতে। পেট্রোবাংলা সেই গ্যাস বাংলার ঘরে ঘরে পৌঁছে দেয়, ৪০০ টাকায় আমরা সারা মাস বাসায় গ্যাস পাই। মাঝখানে পেট্রোবাংলা ভর্তুকি দেয়, আমরা এটা বুঝতে পারি না। কিংবা আমাদের গায়ে লাগে না।

পিএসসি-২০০৮ তৈরী করা হয়েছে মূলত সমুদ্র বক্ষের খনিজ অনুসন্ধান এর জন্য। তাই এখানে নতুন কিছু ধারা সংযুক্তি যুক্তিযুক্ত। যেমন মেজারমেন্ট পয়েন্টটা কোথায় হবে? খনিজ দেশে আনার জন্য পাইপ লাইন কিভাবে বসানো হবে? পাইপ লাইন কে বসাবে?

নতুন পিএসসিতে মেজারমেন্ট পয়েন্টা কোথায় হবে এ সংক্রান্ত কোন কিছু আমি খুঁজে পাইনি। (আমি ইংরেজীতে দূর্বল, আইনেও কাঁচা। তবে কারও চোখে পড়লে আমি সংযুক্ত করে দেব।) পেট্রোবাংলা তার ভাগের গ্যাস আনতে চাইলে আনতে পারবে (আবার সেই প্রশ্ন, পাইপ লাইন)। তবে কোম্পানী তাঁর নিজস্ব প্রয়োজনে এক বা একাধিক পাইপ লাইন বসাতে পারবে, এই অধিকার তাদের দেয়া আছে। (ধারা ১৬)

নতুন পিএসসি অনুসারে কোম্পানী উত্তোলিত গ্যাসের তাঁর অংশ প্রথমে পেট্রোবাংলাকে কিনার জন্য “অফার” করবে। পেট্রোবাংলা কিনতে অপারগ হলে সে তৃতীয় পক্ষের কাছে বিক্রী করতে পারবে।

আমার মনে হয়েছে মূল সমস্যাটা এখানেই। পেট্রোবাংলা গ্যাস কিনলে গভীর সমুদ্র থেকে দেশে আনবে কিভাবে? পাইপ লাইন তো চুক্তিতে নেই। প্রথম বছর মোটামুটি হিসেবে পেট্রোবাংলা ২২ ভাগ এবং বাকীটুকু কোম্পানী পাবে। কোম্পানী কি তাদের নিজস্ব পাইপ লাইন বসাবে, ভাড়ায় আমাদের গ্যাস আনতে দিবে? চুক্তিতে সেরকম কিছু নেই। আমরা কি নিজেরা পাইপ বসিয়ে আনবো? আমাদের কি সেই রকম প্ল্যান আছে? গ্যাস পাবার প্রথম বছরেই আমরা লাইন বসিয়ে ফেলতে পারবো? নাকি কোম্পানী নিজস্ব LNG প্ল্যাট বসাবে খনির আশেপাশে কোথাও?

এবং সেক্ষেত্রে সহজ সমাধান হচ্ছে পেট্রোবাংলার ভাগের যে গ্যাসটুকু থাকবে (২০ ভাগ থেকে ৩০ পর্যন্ত) তা আবার কোম্পানীর কাছেই সে বিক্রী করে দিতে বাধ্য হবে।

তাহলে এই চুক্তিতে আমরা প্রকৃতপক্ষে কিছু ডলার পাচ্ছি, খনিজ পাচ্ছি না।

চুক্তির পক্ষের লোকের কথা

অধ্যাপক ডঃ তামিমের লেখার মূল টোনটা আমার পছন্দ হয়নি। তিনি ধরেই নিয়েছেন বাংলাদেশ একটি ব্যর্থ রাস্ট্র এবং সে কখনই খনিজ উত্তোলনের জন্য সামর্থ্য অর্জন করবে না। তাই এগুলো ফেলে না রেখে ইজারা দিয়ে দেয়াই ভালো। মাটির নীচে রেখে লাভ কি। তাঁর লেখাটাকে স্কিমিং করলে তাই দাঁড়ায়। অন্ততঃ আমার তাই মনে হয়েছে। তার মানসিকতা এবং দেশকে নিয়ে তাঁর ধারনা আরও পরিস্কার হয়ে যায় লেখার শেষ দিকের এই মন্তব্যে

আইপিপিরা বিদ্যুৎ বিক্রি করে প্রায় ১৫ বছর ধরে বিপুল পরিমাণ অর্থ ডলার করে বাইরে নিয়ে যাচ্ছে, মোবাইল ফোন কোম্পানিগুলো আরও অধিক মুনাফা দেশের বাইরে নিয়ে যাচ্ছে। তাতে দেশের স্বার্থ বিকোচ্ছে না, অথচ ১৩ বছর ধরে চলা বিদ্যমান গ্যাস উৎপাদন অংশীদারি চুক্তির চেয়েও উন্নততর ২০০৮ সালের সমুদ্রে গ্যাস অনুসন্ধান চুক্তির বিরোধিতা মোটেই বোধগম্য নয়।

(সূত্র)

জাতীয় রক্ষা কমিটির বক্তব্য

অধ্যপক আনু মুহাম্মদ তার সাক্ষৎকারে পুরো বিশ্বকে মোটা দাগে মোটামুটি চারটি ভাগে ভাগ করেছেন। প্রথম ভাগে আমেরিকার মত দেশ, যারা নিজের দেশের খনিজ সম্পদকে রিজার্ভ হিসেবে রেখে সারা পৃথিবী চষে বেড়াচ্ছে, কোথায় এই জিনিস পাওয়া যায় এবং তা অধিকার করা যায়, দ্বিতীয় ভাগে আফ্রিকার দেশ, যারা প্রচুর খনিজ সম্পদ থাকার পরও দূর্নিতীর কাছে জিম্মি হওয়ার কারনে সুফল পাচ্ছে না, তৃতীয় ভাগে চীন আর মালয়েশিয়ার মত দেশ, যারা নিজেদের সম্পদ নিজেরাই নিজেদের জন্য সর্বোচ্চ ভাবে ব্যবহারে অগ্রাধিকার দিচ্ছে, আর শেষ ভাগে বলিভিয়া-ভেনিজুয়েলার মত দেশ, যেখানে একসময় দূর্নীতি ছিল, কিন্তু তাঁরা ঘুরে দাঁড়িয়ে নিজেদের পছন্দ মত পিএসসি করছে এবং যারা এগুলো মানছে না তাদের সংগে চুক্তি করছে না।

তিনি বারবার বলছেন এটা অ-নবায়ন যোগ্য সম্পদ তাই এর সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে। পিএসসির টার্মস এবং কন্ডিশনে এমন অনেক ফাঁক-ফোকর আছে যা দিয়ে আমাদের এই সম্পদ দেশের বাইরে চলে যাবে। তাই এটা বাস্তবায়ন করতে দেয়া যাবে না।

তিনি এবং আরও অনেকে হিসাব কষে দেখিয়েছেন আমরা এই চুক্তি থেকে ২০ ভাগের বেশী পাচ্ছি না। এবং পেট্রোবাংলা বাধ্য হবে এটা কোম্পনীর কাছে বিক্রী করতে।

পেট্রোবাংলা বা মন্ত্রনালয় কি আমাদের আস্থার জায়গা

কি করে বলি । অধ্যপক ডঃ নুরুল ইসলাম তার এক প্রবন্ধে এর নজির তুলে ধরেছেন

(ক) কাফকোর কাছে কম দামে গ্যাস বিক্রি করে আন্তর্জাতিক বাজার দরে সার ক্রয়ের চুক্তি;
(খ) কোন দরপত্র ছাড়া আবিস্কৃত জালালাবাদ গ্যাস ক্ষেত্র অক্সিডেন্টাল কোম্পানির কাছে লীজ প্রদান;
(গ) সমুদ্র অঞ্চলে অবস্থিত সাঙ্গু গ্যাস ক্ষেত্র থেকে উৎপাদিত গ্যাসের সর্বোচ্চ মূল্যের (প্রতি এমসিএফ ২.৭৭ ডলার) চেয়ে স্থলভাগে অবস্থিত জালালাবাদ গ্যাস ক্ষেত্র থেকে বেশী সর্বোচ্চ মূল্যে (প্রতি এমসিএফ ৩.২৩ ডলার) গ্যাস ক্রয়ের চুক্তি;
(ঘ) সেভ্রনের কাছ থেকে বেশী দামে (প্রতি এমসিএফ ৩.২৩ ডলার) গ্যাস ক্রয় করে লাফার্জ সিমেন্ট কারখানার কাছে কমদামে (প্রতি এমসিএফ গ্যাস ২.৮ ডলার) বিক্রয়ের চুক্তি;
(ঙ) ফুলবাড়ী কয়লা উন্নয়ন চুক্তি;
(চ) বাপেক্স-নাইকো জয়েন্টভেঞ্চার চুক্তি;
(ছ) মাগুরছড়া গ্যাস ক্ষেত্রের বিষ্ফোরনের ক্ষতি-পূরন না নেয়ার বদলে ৫% এর চুক্তি;
(জ) সেভ্ররনকে জালালাবাদ গ্যাস ক্ষেত্রের বাহিরের এলাকায় গ্যাস অন্বেষণ ও উন্নয়নের অনুমতি প্রদান;
(ঝ) জিটিসিএল এর কম্প্রেসার ক্রয়ের আন্তর্জাতিক দরপত্র বাতিল করে সেভ্ররনের মাধ্যমে কোন দরপত্র ছাড়া একটি কম্প্রেসার স্থাপনের সুযোগ প্রদান (ডেইলী স্টার: ৩০ আগষ্ট, ২০০৯);
(ঞ) পিএসসিতে শতকরা ৮০ ভাগ রপ্তানির সুযোগ রেখে সমুদ্রাঞ্চলের তিনটি ব্লকে ইজারা প্রদান;
(ট) এশিয়া এনার্জির বেআইনী ফুলবাড়ী কয়লা প্রকল্পকে বৈধতা দেয়ার উদ্দেশ্যে কয়লানীতি প্রণয়ন।

আমরা কি করবো

এমন কিছুতে সমর্থন করা যেখানে দূর্নীতির জায়গা কম থাকে। আর দেশীয় প্রতিস্টানকে শক্তিশালী করে নিজের জমি চাষের ব্যবস্থা নিজেদেরই করা।

আমার ধারনা আনু মুহাম্মদরা তাই করতে চাইছেন।

১,০৭৯ বার দেখা হয়েছে

৬ টি মন্তব্য : “এনার্জি সেক্টরে বর্তমান আন্দোলন এবং কিছু বাস্তবতা -২”

    • ফয়েজ (৮৭-৯৩)

      তুমি সম্ভবত দেশের ভাগ গুলোর কথা বলছো। যতটুকু বুঝতে পারছি।

      তৃতীয় দলে না যাবার কোন কারন দেখছি না। আর একটা জিনিস মনে হচ্ছে, টুপাইস কামানোর জন্য পেট্রোবাংলা একটা সাংঘাতিক জায়গা, আগে ভাবতাম কাস্টমস মনে হয় টপে। এখন দেখছি তাঁরও দাদাভাই আছেন।


      পালটে দেবার স্বপ্ন আমার এখনও গেল না

      জবাব দিন
  1. আমিন (১৯৯৬-২০০২)

    খুবই চমৎকার ফয়েজ ভাই।
    লেখাটা পড়েছি। লিঙ্কগুলো সব ঘাটানো হয়নি। আপনি খুবই চমৎকার সাবলীলভাবে সমস্যা ফুটিয়ে তুলেছেন। তামিম সাহেবের কথাটাতে একটু অবাক হলাম ভাবখানা এমন ঐখানে তো ও তো চুরি করছে। তাহলে এইখানে চুরটি হলে সমস্যা কোথায়। তবে আপনার লেখা ফুটিয়ে তুলেছে আনু মুহাম্মদদের অবস্থান। আমি সবগুলো পড়ে আরো বিস্তারিত বলতে পারবো। তবে আমি আঘে যে কথাটা বলেছি সে জায়গা থেকে সরছি না। জাতীয় সম্পদ রক্ষা কমিটির কাজ হবে সরকারের উচ্চমহলকে এই ব্যাপারগুলো বুঝানো এবং শুধু বুঝানো নয়, মানে চুক্তি বাতিল নয়, চুক্তি বাতিল করে আমরা ঠিক কী করতে পারি তার একটি রূপরেখা প্রদান।

    জবাব দিন
    • ফয়েজ (৮৭-৯৩)

      আনু মুহাম্মদের সাক্ষাৎকারে একটা জিনিস উঠে এসেছে, তা হল এই ব্যাপারটা নিয়ে সরকারের উচ্চ পর্যায়ে এবং বিরোধী দল সবাই ব্যাপারটা জানে। সাক্ষাৎকারের এক জায়গায় তিনি বলতে চেয়েছেন বিরোধী দলীয় নেত্রী হাসপাতালে তাঁকে দেখতে গিয়েছিলেন, এবং তাঁর পরদিনই মরিয়ার্টি তাঁর সংগে সাক্ষাৎকরে। যারফলে বিএনপি হয়ত তাঁর অবস্থান থেকে সরে এসেছেন। তিনি এটা সরাসরি বলেননি।

      মতিয়া চৌধুরী কথা দিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী দেশে আসলে তাঁরা এই ব্যাপারটা নিয়ে কথা বলবেন। কিন্তু তিনি দেশে আসার পরপরই পিএসসি অনুমোদন করে দেন।

      আনু মুহাম্মদের সাক্ষাৎকারের চতুর্থ বা পঞ্চম এপিসোডে এটা বিস্তারিত এসেছে। তাই সরকারের উচ্চ মহল এবং বিরোধী দল অন্ধকারে নেই, তাঁরা জানে কি হচ্ছে।


      পালটে দেবার স্বপ্ন আমার এখনও গেল না

      জবাব দিন

মন্তব্য করুন

দয়া করে বাংলায় মন্তব্য করুন। ইংরেজীতে প্রদানকৃত মন্তব্য প্রকাশ অথবা প্রদর্শনের নিশ্চয়তা আপনাকে দেয়া হচ্ছেনা।