গল্পটা আর যে রকম হতে পারতো…(১)

১.
ছেলেটা গাঁজা খায়,বাট ভালো কবিতা লিখে।তিয়াশা অবশ্য কবিতার অতশত বুঝে না,বন্ধুদের মুখে অনেক প্রসংশা শুনেছে।তবে কথা বলতে পারে দারুন।চার্ম একটা!গাঁজা-ফাজা খেয়ে কী আবোল তাবোল আওড়ায়,তাও ভালো লাগে তিয়াশার।অদ্ভুত একটা লোক!লোকই তো!মুখে রুক্ষ্ম দাড়ি গোঁফ।খোচা খোচা!ম্যানলি অবশ্যই!ডার্ক এন্ড ডিপ।কবিতা লিখলেও ল্যাদল্যাদে না,ন্যাকা না।স্মার্ট এবং চালু মাল।কথা শুনলেই বোঝা যায়।স্ট্রেইট ফরোয়ার্ড।কোন লুকোছাপা নেই।কেমন সরাসরি বুঝিয়ে দিলো!অবশ্য কোড করা কবিতায়।তিয়াশা কবিতা অত না বুঝলেও ঈঙ্গিতটা বুঝেছে!মেয়েদের আবার একটা এক্সট্রা ইন্সটিংক্ট থাকে কিনা!

তিয়াশা আহসান।সংক্ষেপে টি.এ.[T.A]/মিস টি[Miss T] অথবা মিষ্টি!এই বস্তু আবিষ্কার করেছে লাস্ট উইকে,রাদিয়া’র পার্টিতে!তার বান্ধবী পিয়ার কাজিন।কী টাইপ কাজিন?পিয়া অবশ্য বলে নি।বলেছে অমি নিজেই!খালার চাচাতো বোনের মেয়ে।অত হিসেব করতে যায় কে?কাজিন,জাস্ট কাজিন!পিয়ার নাকি ক্লাস টেনে থাকতে এই ছেলের উপরে ক্রাশ ছিল।হাইস্কুল ক্রাশ।তখন ভালো ছিলো,এখন তো নষ্ট হয়ে গেছে!অমির সামনেই এসব বলেছে পিয়া।অমি গায়ে মাখে নি।যে প্রকাশ্যে গাঁজা খায়-তার জন্য এসব কিছু না!

২.
অমি[OMI] মানে আমাদের কবি অভ্র মজুমদার,ব্র্যকেটে ইসলাম।ইসলাম ব্র্যকেটে কেন?
-আরে বোঝ না,নামের শেষে মজুমদার,শুইন্যা পাবলিক জিগায় হিন্দু না মুসল্মান?এই জন্য ব্র্যকেটে ইসলাম.Ovro Mojumdar(Islam)..সংক্ষেপে OMI…আমি অমি!
তিয়াশা হাসে।এসব গত সপ্তাহের কথা।তারপর অনেক কাহিনী হইসে।পরদিনই পিয়ার কাছ থেকে নাম্বার নিছে তিয়াশা।পিয়া হারামজাদী অবশ্য ফার্স্টে দিতে চায় নাই।ভাব দেখাইসে।কুত্তী!জিগায়,”ক্যান,কী করবি নাম্বার দিয়া?”/একটু পারমিশান নিয়ে নেই!…হা হা হা!কিসের পারমিশান?তিয়াশা মনে মনে গালি দেয়।মুখে অবশ্য বলে তাইলে তো সারপ্রাইজ নষ্ট হয়ে যাবে।Btw তোর ফার্স্ট ক্রাশের সাথে প্রেম করুম না।
-প্রেম না করলে নাম্বার দিয়া কি করবি?
-এম্নেই!
পিয়া হাসে।মজা পাইসে।পরক্ষণেই নাম্বারটা টেক্সট করে দেয় তিয়াশাকে!

তিয়াশা ফোন করে নাই।ফোন অমিই করছেইচ্ছা করেই খেলাটা খেলে নিয়েছে।দেখে নিলো অমি ইন্টারেস্টেড কিনা,সিরিয়াস কিনা!অমি অপেক্ষা করতে করতে পিয়ার কাছ থেকে নাম্বারটা নিজেই কালেক্ট করে।

৩.
তিয়াশার ২ টা ক্লিপ আছে ইউটিউবে!তিয়াশা জানে,একটা ৩৯ সেকেন্ডের,ihasan নামে একটা একাউন্ট থেকে আপলোড করা।আরেকটা ৬মিনিট ১৩ সেকেন্ড।কোনটারই অবশ্য চেহারা বোঝা যায় না,বাট পরেরটাতে ভলিওম বাড়িয়ে শুনলে বোঝা যায় এইটা তিয়াশারই।অমিকে ক্লিপ দুইটার খোঁজ দিয়েছে পিয়া।আরেকটা ক্লিপের কথা বলছে।পিয়ার সেলে আছে কয়েকটা।কয়েকটা মানে কয়টা?তিয়াশা তো জটিল।কায়দা করে নিতে হবে!

ihasan কে কেউ জানে না,সে কোত্থেকে এইটা পাইসে সেটাও ক্লিয়ার না।একাউন্টে আরো দুইটা ক্লিপ আছে।একটা তামিল…Desi Clg Mami..আরেকটা গান ASHLEE SIMPSON এর Boyfriend…
তিয়াশা ফার্স্টে ভেবেছিলো আরাফের কাজ।আরাফ ওর এক্স।ওর সেল দিয়েই ভিডিওগুলা করসিলো।তিয়াশার আপত্তি ছিলো।প্রভা’র থেকে অন্তত আমাদের ইয়াং জেনারেশান এই শিক্ষাটা নিয়েছে।তারপরও বিশ্বাস ছিল আরাফের উপর।এট লিস্ট ব্রেকআপ হওয়ার মতো অবস্থা ছিল না।তাই ভিডিওগুলো এভাবে নেটে আসবে সে চিন্তাও করে নাই।প্রথমটা এসেছিলো গতবছর নভেম্বরে।তিয়াশা অবশ্য দেখসে অনেক পরে।সাথে সাথেই আরাফকে ফোন দিয়েছে।এসব কি?আরাফ আকাশ থেকে পড়ছে।সে নিজেও জানে না।কেউ কি ওর কার্ড থেকে মেরে দিসে-অগোচরে?তিয়াশা পরে আর তেমন গা করেনি,আগে থেকে কেউ না জানলে চিনবে না।বাট সাবধান হয়ে গেসিল।আরাফের সেল থেক সবগুলো ভিডিও সে নিজের হাতে ডিলিত করেছে।
কিন্তু দ্বিতীয়টা আরাফই দিসে,নিশ্চিত তিয়াশা।আরাফের সাথে ব্রেক আপের পর পরই!রাতে আপলোড হইসে।নতুন একাউন্ট থেকে।Gooniboy.এই গুণিবয়টা আরা,জানে তিয়াশা।একটা ওয়ার্নিং দিতে চাইসিলো তিয়াশাকে।লাভ হয় নাই।গত ৪ মাসে টোটাল হিট ৭৪৮ টা!

৪.
মাঝরাতে ফোন বাজে তিয়াশার।নেটে ছিলো,ফোনের শব্দের চমকে উঠে।রিংটোনে Police দেওয়া।কান ঝালাপালা পুলিসি সাইরেন উইথ বিট।জোস।বাট মাঝরাতে না।রাতে সাধারণত ফোন সাইলেন্টই থাকে।আজ ভুলে গিয়েছিলো!
চেয়ার ছেড়ে উঠে ফোনটা নেয়।OMI Calling….
-কী করো নীলপরী?
নীলপরী!নীলপরী কেন?
অমি বলে না নীলপরী কেন।পিয়া ওকে ৪টা ক্লিপ দিয়েছে।তিয়াশার।এক্সক্লুসিভ।নেটে গেলে তিয়াশার ক্যারিয়ার যাবে।তিয়াশা এগুলোর খবর জানে না।এগুলো আরাফের কাজ।রাহাতের ফ্ল্যাটে হিডেন ক্যামেরা ছিলো।রাহাত শালা পারেও।পুরাই আর্টিস্ট,লাইট ক্যামেরার কাজ।অসাম।কেউ কোনভাবেই টের পাবে না।তিয়াশাও পায় নি।অমি খুশি হয়।খারাপও লাগে।
নীল নীল।ভয়াবহ নীল।আলো নীল,ছায়া নীল,নীল তোর গাল/ঠোঁটে ফেনা রক্ত বিষ বিষ লাল/ছায়া কাঁপে তির তির,ফণা তোলা সাপ/সেই নীলে বিষ ঢালে নীল উত্তাপ…তীব্র নীল!বন্য নীল।Wild এর বাংলা তো বন্যই।ক্লিপ গুলার নাম Blue Princess Hot…..অমি অনুবাদ করেছে নীল পরী।Princess এর বাংলা এখন থেকে পরী।

তিয়াশা হাসে।বলে ঘুমাই!
-স্যরি,তোমারে ডিস্টার্ব করলাম।
-আরে না না।ডিস্টার্ব না।আমি এমনিতেই জাগতাম এখন।
-এখন জাগতা?কেন?
-তোমার ফোন রিসিভ করার জন্য।নইলে আমিই করতাম
-হা হা হা!
-এত রাতে এই তলব!কাহিনী কি?
-দুরত্ব অসহ্য হলে ইচ্ছে তীব্র হয়…ইচ্ছে তীব্র হইসে
তিয়াশা হাসে।কিসের দুরত্ব,কী ইচ্ছা?
-বুঝবা না।
-বোঝায়া বললেই বুঝবো!
-তাই?
-জ্বী।কী করো?
-কী আর করবো?ছটফট করি।
-এজন্য ফোন দিলা?ছটফটানী কিসের জন্য!
-তুমি বোঝনা,কিচ্ছু বোঝ না।অমির গলায় অধৈর্য!
তিয়াশা হাসে!
[চলবে]

১,২৭১ বার দেখা হয়েছে

৬ টি মন্তব্য : “গল্পটা আর যে রকম হতে পারতো…(১)”

    • লুবজানা (২০০৫-২০১১)

      সিনিয়ার দের ব্লগে মন্তব্য করার ব্যাপারে তোমাকে সংযত ও সাবধানী হবার জন্যে
      একজন সিনিয়ার হিসেবে তোমাকে অনুরোধ করছি। নামের পাশে সাল দেখবা, এইটুকু Favor কর।


      নিজে যেমন, নিজেকে তেমনি ভালবাসি!!!

      জবাব দিন
      • শেখ সাদী (০৬-১২)

        আপু আমি এই কমেন্টে বুঝাইতে চাইসি যে ক্যারেকটার গুলি ( বা প্রেজেন্ট সোসাইটি যাই বলেন) অসুস্থ! একটু হাল্কা মেজাজে কমেন্ট করি আমি। কিন্তু সেটা কখনই কাউকে হার্ট করার জন্য না!
        এবং আমার মনে হয় না যে এই কমেন্টে কেউ আহত হচ্ছে! তবু সিনিয়রদের কারও মনে আঘাত লাগলে আমি সরি!


        \"why does the weasel go pop? does it matter?
        if life is enjoyable, does it have to make sense?\"

        জবাব দিন

মন্তব্য করুন

দয়া করে বাংলায় মন্তব্য করুন। ইংরেজীতে প্রদানকৃত মন্তব্য প্রকাশ অথবা প্রদর্শনের নিশ্চয়তা আপনাকে দেয়া হচ্ছেনা।