“প্রসঙ্গ: সিসিবি” এবং আমার অভিমত

ঈদের আগাম শুভেচ্ছা।

সম্প্রতি এই পোস্ট দেখে মনে হল আমারও কিছু ফিডব্যাক দেওয়া দরকার এ ব্যাপারে (যদিও আমি খুব একটা রেগুলার লগইন করি না, এবং বিশ্বাস করতে ভালবাসবো যে, মত প্রকাশের পর লগইন/মন্তব্য/পোস্ট করার অধিকার হরণ হবেনা)।

নিঃসন্দেহে এভাবে গালিগালাজ করে মেইল করা অসভ্যতার লক্ষণ এবং এতে নিজেদের আত্মমর্যাদা বৃদ্ধি পাবার কোনো আলামত দেখা যায়না, বরং আরো ক্ষতিগ্রস্ত হয়। অন্ততঃ আমি খুব ঘনিষ্ঠ বন্ধুমানুষ ছাড়া কারো সাথে এভাবে গালিগালাজ করতে পারব না, আর রেগে গিয়ে তো কোনোভাবেই না। কারণ আমি মানি: রেগে যাওয়া হলো [গ্লানি সহকারে] হেরে যাবার পূর্বশর্ত।

ইসলাম/ধর্মকে কটাক্ষ করে যাবতীয় লেখা/কার্টুন ইত্যাদির ব্যাপারে প্রতিবাদের দাবী নিয়ে আমার কাছে মাঝে মাঝে মেইল আসে। আমি ignore করি। কারণ আমি বিশ্বাস করি সৃষ্টিকর্তা তার দ্বীনের হেফাজত করার টেকনিক ভাল করেই জানেন। আমাদের সেটা নিয়ে বেশি টেনশন না করলেও চলবে। আমরা যারা বিশ্বাসী তারা ঐ বিশ্বাসটুকুন-ই করি, অসুবিধা কি? সৃষ্টিকর্তা তো বলেন নি যে, আমাকে যারা বিশ্বাস করবে না তাদের কল্লা নামাও….. ধর্ম প্রতিষ্ঠিত একটি ব্যাপার, সমস্যা যেটা হয় সেটা হল এর অপব্যাখ্যা সংক্রান্ত। আমি বরং যেটা ধারণা করি যে, এসব মেইল ইসলামকে শান্তির ধর্ম থেকে অশান্তির ধর্মে রূপদান করার চক্রান্ত মাত্র। বোকারা সেই চক্রে পড়ে যায় এবং সারাক্ষণ খাবি খেতে থাকে। অবিশ্বাসীদের কথায় বিচলিত/উত্তেজিত হওয়া মানে তার ঈমান সম্পর্কে সে নিজেই আনমনে সন্দিহান। কথা শুনে ক্রোধান্বিত হবার কি আছে? স্রষ্টাকে গালি দিবে? মানুষের গালিতে স্রষ্টার কোনো ক্ষতিই হয়না। সুতরাং তার স্রষ্টা তার জায়গাতে বহাল আছেন, সেটা নিয়ে বান্দার দুঃশ্চিন্তিত হবার দরকার নেই। যেটা দরকার সেটা হল – শিক্ষনীয় এবং কল্যাণকর কোনো বিষয় থাকলে সেটা শিখে নেওয়া।

আমার মতে সত্যিসত্যি ধর্মে সঠিকভাবে বিশ্বাসী যারা তারা ‘ইসলাম’ শব্দটার অর্থ যে শান্তি তা জানে ও মানে। এই জ্ঞান থেকে থাকলে শান্তির উদ্দেশ্যে অশান্তি করা নেহাত বোকামী। এখন আধুনিক যুগ, যুদ্ধ করে শান্তি প্রতিষ্ঠার প্রয়োজন নাই। বরঞ্চ সেটি আরো বেশি অশান্তি আনবে আর ঘৃণার পরিমান বাড়াবে (যেমনটি আমরা বুশ-এর শাসনামল পর্যবেক্ষণ করলে বুঝতে পারব। যাই হোক ওদিকে এখন না যাই)। … ধর্ম বারবার-ই বলে আগে নিজের “Mr.Hyde” এর সাথে যুদ্ধে জয়ী হয়ে নিতে (নারী সদস্যরা যারা পড়ছেন একটু কষ্ট করে Mr. এর জায়গায় Ms. ভেবে নিন)। আর সেটা করতে পারলে infact পৃথিবীতে আর কোনো যুদ্ধেরই প্রয়োজন হয়না। প্রকৃত শান্তিকামীরা এমন বাজেভাবে প্রতিক্রিয়াশীল হতে পারেনা। কারণ তারা proactive থেকে সমস্যা হতে মুক্তিলাভের পথ বের করে নিতে পারে। মেইলগুলিতে সত্যিকারের শান্তিকামী মনোভাবের প্রতিফলন ঘটেনি।

আমার এত বকরবকর করার উদ্দেশ্য একটাই – সেটা হল, অভিযুক্তরা আরো ভালভাবে, ভদ্রভাবে নিজেদের self defense পেশ করতে পারত, যেটা হয়তো তাদের জন্য অন্যরকম সমাধান বয়ে নিয়ে আসতে পারত – এই কথাটা বলা। অশালীনতা তাদের সুন্দর পরিচয়টাকে হেয় করেছে; এ ব্যাপারে হয়তো আরো সতর্ক হতে পারার স্থিতিশীলতা তাদের ছিল (শ্রেষ্ঠ সৃষ্টি হিসেবে প্রত্যেকটা মানুষের আছে বলে আমার বিশ্বাস), কিন্তু দূর্ভাগ্যজনকভাবে সেটার proper application এর পথ তারা খুঁজে পায়নি।

ব্লগের সমালোচনা করার ব্যাপারে আমার কিছু কথা আছে: সিসিবি অবশ্যই চমৎকার একটি উদ্যোগ ছিল কোনো সন্দেহ নাই। তবে এর মেম্বারশিপ পাওয়ার ব্যাপারে মনে হয় এমন কোনো নিয়ম ছিল না যে, মেম্বার হবার পর এর সমালোচনা করা যাবে না বা এর প্রতি বিরূপ মনোভাব পোষণ করা ঘোরতর অন্যায়। আমার সিসিবি ভাল না-ই লাগতে পারে, আমি আমার এই ভাল-না-লাগা টা আরেকজনের সাথে শেয়ার করতেই পারি… … নিজের কথা বলি– ফেসবুক তো আমি পছন্দ করি না, হ্যা করতাম একসময়, এখন আর অত ভাল লাগেনা, তবে সামাজিক যোগাযোগের খাতিরে কিছুটা মেইন্টেইন করা লাগে কারণ আমার বেশিরভাগ contacts ঐখানে যোগাযোগ করাতে বেশি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করে, ইমেইল লেখার চেয়ে। আমার মত আরো অনেকে আছে যারা সরাসরি ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়ে রাখে যে তার ফেসবুক ভাল লাগে না, বা ফেসবুক পুরাই ফালতু ইত্যাদি। অন্য সোশাল নেটওয়ার্কিং সাইটে গিয়েও হয়তো দুর্নাম গায়, কিন্তু তাতে কি ফেসবুকের কি কিছু এলো-গেলো? জনপ্রিয়তা তো ঠিকই তুঙ্গে।

সিসিবি, আমি মনে করি, মোটামুটি জনপ্রিয় একটা বাংলা ব্লগসাইট। যদিও মূলতঃ ক্যাডেটদের কাছে বেশি জনপ্রিয়, তবে বাইরেও যে এর জনপ্রিয়তা নেই তা কিন্তু নয়। এটি প্রমাণিত। আমি যাদের যাদের সাথে সিসিবি’র কোনো একটা লেখা শেয়ার করেছি তারা প্রশংসাবাক্য উচ্চারণ না করে পারেনি। কারণ এখানকার মেম্বাররা বাছাই করা মানুষ। এর লেখার মান অনেক ব্লগ থেকে লক্ষ্যনীয়ভাবে ভাল। টুকরো কিছু মানুষের কিছু অপছন্দের কাছে এর বর্তমান জনপ্রিয়তা হার মানবে এটা মানতে আমি নারাজ। আমি যদি এখন সিসিবিকে পৃথিবীর সবচেয়ে worthless blogsite বলে আখ্যা দেই তাতেই কি সিসিবি worthless হয়ে যাবে? কেউ সিসিবি-কে ‘গোবর’ বললেই সিসিবি’র গা থেকে গোবরের গন্ধ আসা শুরু করবে? এ কেমন কথা? সিসিবি’র অস্তিত্ব এতই বায়বীয় বলে তো আমার মনে হয়না কখনো। আর সেই গন্ধ দূর করার জন্য air freshener এর বদলে কীটনাশক স্প্রে দেওয়াটা একটু কেমন হয়ে গেল না??

ধরা যাক, আমার সাথে মাশরুফের (মাস্ফ্যু) বিশাল কথাকাটাকাটি লাগলো, তা-ও আবার সিসিবি তে প্রকাশিত একটি পোস্টের সাথে গ্যাঞ্জামের বিষয় সরাসরি সম্পৃক্ত। আমরা দুইজন-ই সিসিবি’র মেম্বার। কিন্তু সিসিবি’র পরিবেশ নষ্ট না করে আমরা ফেসবুকে আমাদের মত ঝগড়া জারি রাখলাম, অবশ্যই গালিগালাজের অংশগুলি অনুপস্থিত রেখে (শালীনতা বজায় রেখে)। এরকম সিচুয়েশনে কি আমাদের সিসিবি মেম্বারশিপ বাতিল হবে? বাতিল হলে তার পেছনে শক্ত যুক্তি কি হতে পারে? [মাশরুফ, তোরে রেফারাইলাম বইলা মাইন্ড খাইস না ডার্লিং, তুই না আমার দোসতো????]

দেখলাম, রেডবুকে এই জাতীয় কিছু লেখা আছে সিসিবি সম্পর্কে কটু কথা সিসিবি পরিমন্ডলের বাইরে ছড়ানো হলে কঠোর ব্যাবস্থা নেয়া হবে — কিন্তু পছন্দ করতে পারলাম না নিয়মটা। …… সিসিবি কেমন সেটা সবাই এসে দেখে যাক; আরেকজনের কটু কথায় সায় দিয়ে এর বিচার করার সুযোগ যে নিচ্ছে তার বিচারিক নৈপুন্য কেমন সেটা তো বোঝাই যায়। ঐ সামান্য বিষয় নিয়ে সিসিবির এত পেরেশানি না থাকলেও চলে। এর লেখার মানের ব্যাপারে সদস্যদের মনে উৎসাহ প্রদান করাটা মনে হয় আরো বেশি যুক্তিযুক্ত সিসিবি’র জন্য। মান ভাল হলে মানুষ এমনিই ভাল বলবে– জোর করে ভাল বলানোর কোনো দরকার-ই নেই। আর মান খারাপ হলে এর পতন-ও হবে সেভাবেই। সুতরাং কে এর সম্পর্কে কোথায় কি বলছে বা তাতে কে কিভাবে সম্মতি/অসম্মতি জানাচ্ছে সেটা নিয়ে মাথা না ঘামানো-ই উত্তম। সিসিবি’র অাভ্যন্তরীণ পরিবেশ সুস্থ রাখতে যতটুকু করার প্রয়োজন ততটুকুর প্রতিই মনোযোগ আনি আমরা সবাই। নাহলে কিন্তু সিসিবি’র Characteristics আমার এই লেখার প্রথম দিকে আলোচিত ঐ ধর্মীয় অসহিষ্ণুতার মতই মনে হতে থাকবে।

আমার আরো একটি জিনিস মনে হচ্ছে: পোস্টের শেষে যে স্বচ্ছতার কথা বলা হল – আমার মনে হয় সেটা বেবিট্যাক্সির প্লাস্টিকের উইন্ডশিল্ড থেকে বৈদেশের চাকচিক্যভরা উইন্ডো শপিং মল গুলির গ্লাসের মত আরো অনেক বেশি পরিষ্কার হত যদি ‘কিছু মেইল’ তুলে না দিয়ে এই প্রসঙ্গে তাদের সাথে আরো যত মেইল আদান-প্রদান হয়েছে সেগুলিও উপস্থাপন করা হত। অপমানকর নোংরা উক্তির কথা না বললাম, সেটা অবশ্যই দুঃখ পাবার মত, তবে তাতে কে কোন বিষয়ে specifically কিভাবে ‘সম্মতি প্রদান’ করেছে (ভাষার ব্যবহার ও টোন) যার জন্য সদস্যপদ বাতিল হবার মত অপরাধ বলে সেটি পরিগণিত হয় সেটা মনে হয় প্রমাণসহ বিশদভাবে আলোচনার প্রয়োজন ছিল। আমি যা জেনেছি (এবং পরে দেখেছি ও বুঝেছি) সে অনুসারে এই বিশদালোচনার কাজটি সম্পূর্ণরূপে হয়নি; এবং তথ্যের উপস্থাপনেও কিছু বিষয় গোপন রেখে দেবার মত ব্যাপার ঘটেছে। এমন সন্দেহের উদ্রেগ হয় ঐ ‘কিছু’ শব্দটির ব্যবহারেও। এতকিছু যদি express করা যায় (ঐ ধরণের অশ্রাব্য ভাষা-সম্বলিত মেইল সহ) তাহলে আরেকটু expressive হই… আরেকটু স্বচ্ছ হই… Autocratic Masquerade এর আড়াল থেকে বেরিয়ে আরো একটু গণতান্ত্রিক হই!

১,২৮৬ বার দেখা হয়েছে

২১ টি মন্তব্য : ““প্রসঙ্গ: সিসিবি” এবং আমার অভিমত”

  1. মেহবুবা (৯৯-০৫)

    আপনাকে অনেক ধন্যবাদ ভাইয়া......এত সুন্দর করে সবকয়েকটা বিষয়ে আলোকপাত করার জন্য।আমি আপনার কথাগুলার পুর্ণ সম্মতি জানাচ্ছি এবং এত ঘটনার পর আবারো সিসিবিতে এসে কমেন্ট করছি।

  2. সামিয়া (৯৯-০৫)

    সিসিবি মডারেটররা সম্ভবত এইবার অত্যন্ত উঁচু ধৈর্য্যশীলতার পরিচয় দিয়েছেন, আমি দুঃখের সাথে বলতে বাধ্য হচ্ছি।
    যেই স্ট্যাটাস থেকে এতকিছুর শুরু, সেটাই তাঁরা সবাইকে জানাতে চাননি, যদিও আমার ব্যক্তিগত মত, জানালে ভাল ছিল। সদস্যদের নাম পরিচয় গোপন রাখার জন্য তাঁরা এই ভদ্রতাটুকু করেছেন, সম্ভবত ঐ কথাগুলো দেখলে আপনি নিচের কথাগুলা বলতে পারতেন না।

    আমার মনে হয় সেটা বেবিট্যাক্সির প্লাস্টিকের উইন্ডশিল্ড থেকে বৈদেশের চাকচিক্যভরা উইন্ডো শপিং মল গুলির গ্লাসের মত আরো অনেক বেশি পরিষ্কার হত যদি ‘কিছু মেইল’ তুলে না দিয়ে এই প্রসঙ্গে তাদের সাথে আরো যত মেইল আদান-প্রদান হয়েছে সেগুলিও উপস্থাপন করা হত।
    সিসিবি সম্পর্কে কটু কথা সিসিবি পরিমন্ডলের বাইরে ছড়ানো হলে কঠোর ব্যাবস্থা নেয়া হবে — কিন্তু পছন্দ করতে পারলাম না নিয়মটা
    আমরা দুইজন-ই সিসিবি’র মেম্বার। কিন্তু সিসিবি’র পরিবেশ নষ্ট না করে আমরা ফেসবুকে আমাদের মত ঝগড়া জারি রাখলাম, অবশ্যই গালিগালাজের অংশগুলি অনুপস্থিত রেখে (শালীনতা বজায় রেখে)।
    কেউ সিসিবি-কে ‘গোবর’ বললেই সিসিবি’র গা থেকে গোবরের গন্ধ আসা শুরু করবে?

    সিসিবিকে কেউ ভাল খারাপ বলল কি না বলল তা দিয়ে আমাদের কিংবা সিসিবির কিছুই আসে যায় না। কিন্তু কেউ যদি আমাদের মধ্যে অযৌক্তিক ভাবে ক্যাচাল লাগায়, সিসিবির কোন পশুকে দ্বারা যৌন কামনা মিটানোর ইচ্ছা প্রকাশ করে, তবে আমি বলতে বাধ্য হচ্ছি, আমি নিজে তাকে লাত্থি মারতে প্রস্তুত আছি।

    আমি নিজে ইসলামের যতটুকু সম্ভব দর্শন মেনে চলার চেষ্টা করি। আপনারা জানেন, এই ক্ষেত্রে আমাকে বেশ কিছু প্রশ্নের স্বীকার হতে হয় প্রতিদিনই। আমি কি তাকে এধরণের গালিগালাজ করি? কিংবা তাকে দেখে নেব বলে হুমকি দেই? সিক্রেট অফ লাইফ লাইস অন পেশেন্স। আমরা যদি আমাদের ধর্মকে এত শান্তির ধর্ম বলে থাকি, তাহলে আমাদের মুখে আর কাজে এত পার্থক্য কেন?

    আদনান ভাই, আপনার প্রথম পাঁচ প্যারার সাথে সর্বত ভাবে সহমত। কিন্তু তার পরে আমার দ্বিমতটা হলো এই যে, মত প্রকাশের স্বাধীনতা আর গালাগালি দুটো এক জিনিস নয়। আমরা (আস্তিকরা) যদি ওদের (নাস্তিকদের) কথা এতই অবিশ্বাস করি, তাহলে আমরা ওদের রিবাটাল লিখি না কেন? নাকি আমরা শুধু ঝগড়া করতেই প্রস্তুত?
    সেক্ষেত্রে আমি কোনভাবেই বলছিনা, যে তারা ঝগড়া কিংবা ক্যাচাল করে না, বরঞ্চ বেশ ভালই করে থাকে। কিন্তু এক্ষেত্রে আপনার মিঃ হাইড নীতি প্রথমে নিজের জন্য মেনে চলার প্রেসক্রাইব করছি।

    • আদনান (১৯৯৭-২০০৩)

      আমি কোথায় 'স্বাধীন মত প্রকাশ' আর 'গালাগালি'কে এক করলাম সেটা খুঁজে পেলাম না। সবখানেই তো বললাম: গালি না দিয়ে আরো ভদ্রভাবে সেলফ ডিফেন্স বা নিজের স্বপক্ষে মত প্রকাশ করা যেত। সেটাই তো ইসলামিক পন্থা, তাই না? যাই হোক, এটা অবশ্যই মানি যে যারা নোংরা ঈঙ্গিত দিয়েছে তারা দোষী।

      আবার গালি প্রসঙ্গ: স্ট্যাটাস আমি দেখিনি। নিশ্চয়ই সেইরকম আপত্তিকর ভাষার প্রয়োগ ছিল। খোদ authority'র কাছে যদি এভাবে লেখা হয়ে থাকে তবে স্ট্যাটাসে ধারণা করি আরো বাজে ভাবে প্রকাশিত ছিল। হুমম.. ব্যাপারটা সংবেদনশীল।
      এখানে বলতে চাই: সমালোচনার ঊর্ধ্বে নয় সিসিবি। কিন্তু তাই বলে সেটা কন্সট্রাক্টিভ না হয়ে নোংরামি হলে সত্যিই দুঃখজনক। কোনো বিষয় পছন্দ না হলে সেটা express করার অধিকার থাকা উচিৎ, তবে আঘাত করে নয়।

      মিঃ হাইড নীতি তো নিজের জন্যই প্রযোজ্য হবে সবার আগে!! 😕 ঊপমা-টা কি ভুল দিলাম??

  3. শাওন (৯৫-০১)

    মাঝখানে যে সময়টুকু সিসিবে তে ঢুকতে পারিনি, আর তখন ই এতো সব কান্ড ঘটে গেছে। ঠিক বুঝে উঠতে পারছিনা।

    তবে বিশ্বাস করছি যে পরিস্থিতি হয়তো বাধ্য করেছে সিসিবি কে এমন পদক্ষেপ নিতে। অবশ্য আমি জানিনা আমি ভুল কিনা।

    আরেকটা কথা..."প্রসংগঃ সিসিবি" তে যে কয়টা রিপ্লাই দেখলাম, তাতে দেখলাম কেউ একজন (সেনাবাহিনীর) হয়ত তার পরিচয় প্রকাশ করেছেন অনেকটা দম্ভ ভরে। হয়ত উনি কোন কারনে রাগের চুড়ান্ত সীমায় ছিলেন। তাই ওরকম করেছেন। আমি কোন ভাবেই মনে করিনা আমরা যারা এক্স ক্যাডেট কিংবা আমাদের মধ্যে যারা সেনা বাহিনী বা অন্য পেশায় আছেন বা আছি তারা পরিচয় নিয়ে গর্ব করি, কিন্তু দম্ভ নয়।

    আদনান এবং সামিয়ার যুক্তি ও পারস্পরিক যুক্তি খন্ডন (নাকি ঝগড়া 😀 ) ভালো লেগেছে।


    ধন্যবাদান্তে,
    মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান শাওন
    প্রাক্তন ক্যাডেট , সিলেট ক্যাডেট কলেজ, ১৯৯৫-২০০১

    ["যে আমারে দেখিবারে পায় অসীম ক্ষমায় ভালো মন্দ মিলায়ে সকলি"]

  4. ইমরান (১৯৯৯-২০০৫)

    সিসিবিতে একসময় বলতে শুনতাম একটা কথা..." আমরা আমরাই তো"... ব্যাক্তিগতভাবে আমার কথাটা খুবই ভাল লাগত।কেননা সর্বোপরি আমাদের একটা পরিচয়, আমরা ক্যাডেট। সিসিবি আমাদের ক্যাডেটদের সবার পছন্দের একটা জায়গা। আমরা কি একে বিতর্কের বাইরে রাখতে পারি না। আর আমি যতদূর জানি,যাদের মাঝে এই ঝগড়া, তারা ভিন্ন ভিন্ন কলেজের হলেও ক্লাসমেট। অনেক আইসিসিতে একসাথে বসে সিগারেটও খাইছে। সিসিবিকে মাধ্যম হিসবে না নিয়ে ব্যাপারটা তারা বাইরে নিজেরা মিটমাট করলেই বোধ হয় আমাদের সবার জন্য স্বস্তিকর হত।


    রঞ্জনা আমি আর আসবো না...

    • মাসরুফ (১৯৯৭-২০০৩)

      আমার কনসার্নও এই কারণেই।দুজন এক্স ক্যাডেট তাদের নিজেদের মতমার্থক্যের কারণে সিসিবির বাইরে বসে কি বলল সেটার কারণে সিসিবি থেকে কঠোর ব্যবস্থা নেয়াটা একজন সাধারণ সদস্য হিসেবে আমার কাছে একটু অস্বাভাবিক লেগেছে।ব্যাপারটি উপেক্ষা করলে হয়তো দুঃখজনক এই ঘটনাটি( অশালীন ভাষায় মেইল এবং সিসিবির মডারেটরদের নিয়ে কটুকথা) এড়ানো যেত,এরকম ঝড়ও উঠতোনা।

  5. মাসরুফ (১৯৯৭-২০০৩)

    (নিম্নোক্ত কথাগুলো সম্পূর্ণ আমার ব্যক্তিগত মতামত,কারো প্রতি অশ্রদ্ধা প্রকাশের বিন্দুমাত্র লক্ষ্য এখানে অনুপস্থিত।মডারেশন হচ্ছে একটি থ্যাঙ্কলেস জব এবং যাঁরা ঘরের খেয়ে বনের মোষ তাড়ানোর মত এর দায়িত্ব নিয়েছেন তাঁদের প্রতি শুরুতেই শ্রদ্ধাজ্ঞাপন করে নিচ্ছি।আমি এটা জানি যে হাজার হাজার ঝামেলার পাশাপাশি মডারেটরেরা সম্পূর্ণ নিজ উদ্যেগে এবং ভালোবাসা থেকে এই কাজটি করেন কাজেই তাঁরা যেসব ঝামেলা পোহান সেগুলো আমার পক্ষে অনুধাবন করা সম্ভব নয়।এ কারণেই আমার ব্যক্তিগত অনুভূতি ব্যক্ত করছি মাত্র-এটি বিবেচনা করবেন কি করবেননা সে ভার সম্পূর্ণরূপে কর্তৃপক্ষের উপর)

    সিসিবি সম্পর্কে কটুকথা সিসিবির বাইরে ছড়ানো হলে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে-বিজ্ঞ মডারেটররা নিশ্চয়ই জেনে বুঝেই সঙ্গত কারণে এ ধরণের নিয়ম করেছেন,তবে একজন সাধারণ সদস্য হিসেবে আদনানের মত এ জিনিসটা আমারো ভালো লাগেনি।আমাদের সিসিবি কি এতই ঠুনকো যে সিসিবি সম্পর্কে বাইরে কেউ কোথাও কিছু বললে তার প্রতিক্রিয়া হিসেবে রেগে মেগে একেবারে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে? একটি উদাহরণ দিয়ে ব্যাপারটি পরিষ্কার করার চেষ্টা করি,ভুল হলে ধরিয়ে দেবেন প্লিজ।

    ধার্মিকরা ধর্মকে যেমন ভালোবাসেন,আমরা যারা প্রাক্তন ক্যাডেট তাদের অনেকের কাছেই সিসিবির প্রতি আবেগটা প্রায় কাছাকাছি রকমের তীব্র।ধার্মিক মানুষ ধর্মকে ভালোবাসেন,আমরা সিসিবির সদস্যরা সিসিবিকে ভালোবাসি।এখন,সিসিবি নিয়ে বাইরে কারো কোন ব্যক্তিগত ব্লগে/সোশাল নেটওয়ার্কিং সাইটে কেউ যদি সমালোচনা করে থাকে তার প্রতিক্রিয়া হিসেবে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া কি অনেকটা ওরকম উগ্র প্রতিক্রিয়ার মত হয়ে গেল না? যদি না কেউ সিসিবি ওয়েবসাইটের সরাসরি ক্ষতি করে( হ্যাকিং বা এজাতীয় কিছুর মাধ্যমে) ,তাহলে সে কার সাথে কি বলল না বলল সেগুলো খুঁজে বের করে তারপর কঠোর ব্যবস্থা নেয়া- ব্যাপারটা কি তাদের ওই বলাবলিগুলোকেই অতিরিক্ত গুরুত্ব দেয়া বোঝায় না? সিসিবির গণতান্ত্রিক পরিবেশ নিয়ে আমরা যে এত গর্ব করি সেটার সাথেও তো মনে হয় ব্যাপারটা ঠিক যায়না।ভার্চুয়ালি কল্লা নেবার ব্যবস্থা নেই-আছে ব্যান করা বা এই জাতীয় "কঠোর" ব্যবস্থা।কেউ অন্য কোথাও সমালোচনা/গালাগালি করলে যদি সাথে সাথে আমরা ওরকম ব্যবস্থা নিই তাহলে আমার আচরণের সাথে ওই উগ্র ধার্মিকের আচরণ কিছুটা হলেও কি মিলে গেলনা?( প্লিজ কেউ ভাববেননা আমি এখানে ধর্মের সমালোচনা করছি।উগ্র ধার্মিকদের এহেন “কল্লানেবো” আচরণ যে অনেক ধার্মিকই সমর্থন করেননা-আদনানের মেইলেই সেটি ফুটে উঠেছে,আমি সেটাই রেফার করেছিমাত্র)।

    একটা কথা আমি পরিষ্কার করে বলতে চাই-অথরিটির কাছে মেইলের ভাষা এবং গালাগালিগুলো এতটাই খারাপ যে যত যা-ই হোকনা কেন কোনভাবেই সহ্য করার মত না।এই ভাষা ব্যবহার করার পর আজীবন ব্যান করাটা অনেকটা "ফরজ" হয়ে যায়।এধরণের ভাষা ক্যাডেট কলেজের কোন সিনিয়রের প্রতি কিভাবে একজন ক্যাডেট ব্যবহার করে তা আমার বোধগম্য নয়।এটি নিঃসন্দেহে প্রকাশ করে যে অন্ততঃ এই ক্ষেত্রে ক্যাডেট কলেজের শিক্ষা/মূল্যবোধ ওই মেইল প্রেরণকারীর ক্ষেত্রে পুরোপুরি এবং শোচনীয়ভাবে বিফল হয়েছে(আমার সারা জীবনের সেরা অর্জন ক্যাডেট কলেজের বিফলতা স্বীকার করতে আমার যে কি্রকম অনুভূতি হচ্ছে সেটি বলে বোঝাতে পারবোনা।)

    তবে আমার সাধারণ বিচার-বুদ্ধি বলে-এরকম মেইল হঠাৎ করে,আকাশ থেকে অন্ততঃ কোন ক্যাডেট বিনা কারণে করতে পারেনা।প্লিজ ভাববেননা যে আমি গালাগালিকে সাপোর্ট করছি,তার প্রশ্নই আসেনা।আমি এটাও বলছি কোনভাবেই এই আচরণ সহ্য করা যায়না।কিন্তু ক্যাডেট কলেজের সাধারণ মূল্যবোধ কেন এই জায়গায় এভাবে ব্যর্থ হল,ঠিক কি কারণে এধরণের দুঃখজনক ঘটনা ঘটল-ভবিষ্যতের খাতিরে হলেও "ওয়ান্স এ্যান্ড ফর অল" এ জিনিসগুলো সবার সামনে বিস্তারিতভাবে আসার প্রয়োজন আছে বলেই আমার ক্ষুদ্র জ্ঞানে মনে করি।এক্ষেত্রে আদনান যেটি বলেছে সেখান থেকে কোট করিঃ

    আরো অনেক বেশি পরিষ্কার হত যদি ‘কিছু মেইল’ তুলে না দিয়ে এই প্রসঙ্গে তাদের সাথে আরো যত মেইল আদান-প্রদান হয়েছে সেগুলিও উপস্থাপন করা হত। অপমানকর নোংরা উক্তির কথা না বললাম, সেটা অবশ্যই দুঃখ পাবার মত, তবে তাতে কে কোন বিষয়ে specifically কিভাবে ‘সম্মতি প্রদান’ করেছে (ভাষার ব্যবহার ও টোন) যার জন্য সদস্যপদ বাতিল হবার মত অপরাধ বলে সেটি পরিগণিত হয় সেটা মনে হয় প্রমাণসহ বিশদভাবে আলোচনার প্রয়োজন ছিল। আমি যা জেনেছি (এবং পরে দেখেছি ও বুঝেছি) সে অনুসারে এই বিশদালোচনার কাজটি সম্পূর্ণরূপে হয়নি; এবং তথ্যের উপস্থাপনেও কিছু বিষয় গোপন রেখে দেবার মত ব্যাপার ঘটেছে। এমন সন্দেহের উদ্রেগ হয় ঐ ‘কিছু’ শব্দটির ব্যবহারেও। এতকিছু যদি express করা যায় (ঐ ধরণের অশ্রাব্য ভাষা-সম্বলিত মেইল সহ) তাহলে আরেকটু expressive হই… আরেকটু স্বচ্ছ হই… Autocratic Masquerade এর আড়াল থেকে বেরিয়ে আরো একটু গণতান্ত্রিক হই!

    আমি জানি ব্যাপারটা হয়তো একটু বেশি চাওয়া হয়ে যাচ্ছে।সিসিবির মডারেটরগন নিজেদের হাজারটা ব্যস্ততার মাঝে সিসিবির মডারেশনে সময় দিয়ে থাকেন বলেই আমরা সাধারণ সদস্যরা আরামের সাথে ইচ্ছেমত ব্লগিং করতে পারি-এ জিনিসটা আমি আবারো স্বীকার করছি।কাজেই,এরকম একটা বিষয় সবার সামনে পুরো বিস্তারিতভাবে এলে বিশাল একটা ঝামেলা তাঁদের পোহাতে হবে,এবং এই আশঙ্কায় তাঁরা পুরো বিষয়গুলো দিতে চাননি-আমার এমনটাই ধারণা,এবং সে কারণে তাঁদেরকে হয়তো খুব একটা দোষ দেয়া যায়না।কিন্তু যেহেতু এই ঘটনাটি কোন সাধারণ ঘটনা নয়,আমাদের ক্যাডেট কলেজ শিক্ষার প্রতি নিদারুণ এক চপেটাঘাত-এই কারণে পুরো বিষয়টা সবার সামনে হওয়াটাই আমার মনে হয় যুক্তিযুক্ত। অন্য কোন জায়গায় সিসিবির সমালোচনাকে গুরুত্ব দিয়ে যদি আমরা সিসিবিতেই কঠোর ব্যবস্থা নিতে পারি,তাহলে পুরো প্রক্রিয়াটাই এখানে হোক না কেন-যাতে অস্বচ্ছতার কোন প্রশ্ন না থাকে!

    প্রদত্ত নোটিশে মডারেটরদের উল্লেখিত অশালীন ও অপাঠ্য মেইলগুলো তুলে দেয়া হয়েছে।কিন্তু এমন কেউ যদি থেকে থাকে যে তার মেইলগুলোতে অশালীনতা ছিলোনা/তারও নিজস্ব কোন বক্তব্য ছিলো,তাহলে সে নিজে থেকে এখানে কমেন্ট আকারে মডারেটরের মেইল এবং তার নিচেই তার সেই "অপেক্ষাকৃত সভ্য" প্রত্যুত্তরগুলো তুলে দিতে পারে( এটি একটি সাজেশনমাত্র, চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত অবশ্যই কর্তৃপক্ষের)।যারা অশালীন মেইল করেছে তাদের প্রতি আমার বিন্দুমাত্র সহানুভূতি নেই,কিন্তু এমন কেউ যদি থাকে যে এই দোষে দুষ্ট নয় এবং তারও যৌক্তিক বক্তব্য রয়েছে,সেটাও জানা প্রয়োজন বলে আমি মনে করি।

    মডারেটরগন তাঁদের দায়িত্ব পালনে নিজেদের প্রচুর শ্রম ও সময় ব্যয় করে থাকেন।যদি কমেন্ট আকারে উপরোক্ত কোন মেইল এখানে পোস্ট করা হয় এবং তা নিয়ে আমরা সাধারণ সদস্যরাও নিজেদের ফিডব্যাক দেই-তাহলে আমার মনে হয় সদস্য হিসেবে সিসিবির প্রতি আমাদেরও কিছুটা দায়িত্ব পালন করা হবে।এভাবে আলোচনা-পর্যালোচনা শেষে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত অবশ্যই সিসিবির সিনিয়র সদস্যবৃন্দ এবং মডারেশন প্যানেলের উপর ন্যস্ত থাকবে।এতে করে অন্ততঃ একটা জিনিস হবে,সিসিবি দেখিয়ে দিতে পারবে যে সে সবাইকে সমান সুযোগ দিয়েছে।খুঁজে খুঁজে কে কোথায় সমালোচনা করল সেটা ধরে তারপর কঠোর ব্যবস্থা নিয়ে সবাইকে জানানর চেয়ে সবার সামনা সামনি বিচারপূর্বক ব্যবস্থা নেয়াটাই এরকম গুরুতর ক্ষেত্রে হওয়া উচিত বলে আমার ধারণা।আর যদি সেরকম গুরুতর কিছু না হয় তাহলে তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেবার বদলে পুরোপুরি উপেক্ষা করাটাই মনে হয় অধিকতর যুক্তিযুক্ত।

    আমি জানি যে বিষয়টি অনেক লম্বা ও শ্রমসাধ্য হয়ে যাচ্ছে।কিন্তু আমার কাছে মনে হচ্ছে "ওয়ান্স এন্ড ফর অল" এ বিষয়টি নিষ্পত্তি হওয়াটা অতীব জরুরী।এটি কোন সাধারণ ঘটনা নয় বরং আমার মতে এটি সিসিবির প্রতি আমাদের আবেগের ভিত্তিতে একটি বড়সড় ধাক্কার মত।সবাই মিলে এই ধাক্কাটি প্রতিহত করার জন্যে আমি আমার প্রস্তাবগুলো বিবেচনা করতে বিনীত অনুরোধ জানাচ্ছি।ইতোপূর্বে অনেক ঝড়-ঝাপটা আমরা একসাথে মোকাবিলা করেছি।এবারও যে আমরা সফল হব সে ব্যাপারে আমি নিশ্চিত।জয়তু সিসিবি।

    • সাব্বির (৯৫-০১)

      আদনান এবং ম্যাশ কে ধন্যবাদ সব বিষয় গুলো তুলে আনার জন্য।
      পুর্ন সহমত প্রকাশ করছি।

      মেইল এখানে পোস্ট করা হয় এবং তা নিয়ে আমরা সাধারণ সদস্যরাও নিজেদের ফিডব্যাক দেই-তাহলে আমার মনে হয় সদস্য হিসেবে সিসিবির প্রতি আমাদেরও কিছুটা দায়িত্ব পালন করা হবে।

      বিষয় টি বিবেচনার জন্য মডারেটর দের অনুরোধ জানালাম তবে,
      সে ক্ষেত্রে পোষ্ট টা অবশ্যই শুধু মাত্র সদস্যদের জন্য উন্মুক্ত থাকবে। এতে গনতন্তের সুষ্ঠ ব্যবহার হবে এবং ব্যক্তিগত আক্রশ থেকে সিসিবি রক্ষা পাবে।
      এবারও যে আমরা সফল হব সে ব্যাপারে আমি নিশ্চিত।জয়তু সিসিবি।

  6. মেহবুবা (৯৯-০৫)

    আমাকে যেই মেইলগুলা করা হয়েছে আমি সেগুলা দিতে চাচ্ছি।তাহলে কেবল অপ্রকাশযোগ্য মেইলের সাথে প্রকাশযোগ্য মেইলগুলাও সবাই জানতে পারবে।কারণ যেই ক্যাডেট এই মেইলগুলা করেছে সে প্রচন্ড অসন্তষ্টি থেকেই করেছে বলে আমি মনে করি।

  7. মেহবুবা (৯৯-০৫)

    আমি এটাও মনে করি যে কেবল কিছু নোংরা টার্মস ব্যাবহার করেছে বলে একজন ক্যাডেটকে সিসিবি থেকে বের করে দেয়া হবে ......এটা কোন গঠনমূলক পদক্ষেপ না।তাও ফেইসবুকের মত ফালতু একটা জায়গায়।আমরা সবাই তাদের ঘৃণা করছি কারণ তাদের এই ভাষা দেখে কিন্তু আমরা কেউই এটার পিছনের কারণ্টা দেখছি না।আমরা কেউই সিসিবি থেকে বের হয়ে যেতে চাইনি।এটা আমাদের খুবি প্রিয় একটা জায়গা।তবুও যখন কাউকে জোর করে দোষী প্রমান করা হয় তখন সত্যি খুব খারাপ লাগে।

  8. মুস্তাকিম (৯৪-০০)

    ধর্মকর্ম ঠিকঠাকভাবে পালন করতে না পারলেও আল্লাহতে আমার বিশ্বাস আছে, খুব ভালোভাবেই আছে। কিন্তু এই বিষয়টা নিয়ে সিসিবিতে গরম আলোচনা হলেও আমি কোনো মন্তব্য করিনি একটি মাত্র কারনে - আস্তিক আর নাস্তিক দুই দলেরই একটি কমন বৈশিষ্ট্য আছে। দুই দলই বিশ্বাসী।

    আস্তিকরা বিশ্বাস করে সৃষ্টিকর্তা আছে, নাস্তিকরা বিশ্বাস করে সৃষ্টিকর্তা নেই। বিশ্বাস যেখানে মতবিরোধের মূল কারন সেখানে যুক্তি অর্থহীন।একজন আস্তিককে যত যুক্তিই দেয়া হোক না কেন, সে কখনো নাস্তিক হবে না। আবার একজন নাস্তিককে যত যুক্তিই দেয়া হোক না কেন সে কখনো আস্তিক হবে না। আর তাই আমি বিশ্বাস করি করোরই উচিত নয় হাজার হাজার যুক্তি দেখিয়ে অন্যকে নিজের দলে টানার চেষ্টা করা। কারন এখানে যারা আছেন তারা সবাই ভালো মন্দ পরিষ্কার বুঝতে পারেন, অন্য কাউকে তা বুঝিয়ে বলার দরকার পরে না।

    তাহলে নিজেদের মাঝে কাদা ছোড়াছুড়ি করে লাভটা কি? একটা জীবন না হয় ভিন্ন মতাবলম্বীদের কাছে বোকাই রয়ে গেলাম, তাতে কি আসে যায়?

    • মাসরুফ (১৯৯৭-২০০৩)

      ভাইয়া আমার মনে হয় আস্তিক-নাস্তিক বিতর্ক এই পোস্টের মূল উদ্দেশ্য না(আপনি তা শুরু করেনও নি)- কয়েকজন সিসিবি সদস্যের আচরণ,সেই আচরনের ফলে সিসিবি কর্তৃপক্ষের প্রতিক্রিয়া এবং সেই সদস্যদের প্রতি-প্রতিক্রিয়া নিয়েই "প্রসংগ সিসিবি" নিয়ে আদনানের লেখাটি এসেছে।নিজেদের মধ্যে কাদা ছোড়াছুড়ি করে লাভ নেই এ ব্যাপারে আপনার সাথে সহমত পোষণ করছি।আপনার সাথে কিছু কিছু জায়গায় তীব্র দ্বিমত রয়েছে তবে সেগুলো এখানে আলোচনা করছিনা কারণ তাহলে আবার ওই আগের মত আস্তিক-নাস্তিক বিতর্ক শুরু হয়ে যাবে-যা এই পোস্টের মূল উদ্দেশ্যকে ব্যাহত করবে।

            • মাসরুফ (১৯৯৭-২০০৩)

              মন্তব্যের জন্য ধন্যবাদ।আমার মনে হয়েছে উনার ওই মন্তব্যের ফলে এই পোস্টের ফোকাস থেকে সরে যাবার সম্ভাবনা আছে।ধর্ম বিষয়ক বিতর্ক না,এই পোস্টে কথা হচ্ছে কয়েকজন সিসিবি সদস্যের আচরণ এবং সেই আচরণের পরিপ্রেক্ষিতে সিসিবি যে ব্যবস্থা নিয়েছে সেটা সম্পর্কে।মুস্তাকিম ভাইয়ের কমেন্টে আস্তিক-নাস্তিক বিতর্ক কেন বৃথা সেটা তুলে ধরা হয়েছে যেটা নিয়ে অনেক কথা বলা যায় এবং বলতে গেলে মূল উদ্দেশ্যের জায়গায় এই বিতর্ক আবার শুরু হবে।আমি নিশ্চিত মোস্তাকিম ভাই সেটা চাননা-এই কারণেই ওই অংশটুকু যুক্ত করেছি।এটা আমার কাছে বাড়তি বলে মনে হয়নি।যাহোক,মন্তব্যটি সংশোধনের প্রচেষ্টার জন্যে ধন্যবাদ-যদিও তা নিতে পারছিনা বলে দুঃখিত।

    • তাসনিম (২০০২-২০০৮)

      একজন আস্তিককে যত যুক্তিই দেয়া হোক না কেন, সে কখনো নাস্তিক হবে না। আবার একজন নাস্তিককে যত যুক্তিই দেয়া হোক না কেন সে কখনো আস্তিক হবে না। আর তাই আমি বিশ্বাস করি করোরই উচিত নয় হাজার হাজার যুক্তি দেখিয়ে অন্যকে নিজের দলে টানার চেষ্টা করা।

      :thumbup:

      অনেক সময়ই "বিশ্বাস" ব্যাপারটার তেমন কোন যৌক্তিক ব্যাখ্যা নেই। তাই তর্কটা পুরাই অযথা...আর আমার মনে হয়, তর্ক করে নিজেদের পার্থক্য দেখাতে বা দেখতে সবসময় ভালো লাগে না...

      • মাসরুফ (১৯৯৭-২০০৩)

        একটু আগে করা আমার কমেন্টটা আবার দেইঃ
        ধর্ম বিষয়ক বিতর্ক(অথবা এই বিতর্ক কেন বৃথা সেটি) না,এই পোস্টে কথা হচ্ছে কয়েকজন সিসিবি সদস্যের আচরণ এবং সেই আচরণের পরিপ্রেক্ষিতে সিসিবি যে ব্যবস্থা নিয়েছে সেটা সম্পর্কে।

        একটু কষ্ট করে পোস্টটার মূল উদ্দেশ্য নিয়ে কিছু বললে মনে হয় আরো ভাল হয়।

  9. ব্লগ এডজুট্যান্ট

    প্রসঙ্গ সিসিবি- পোস্টটিতে জানানো হয়েছিলো কারও কোন মতামত থাকলে ইমেইল করে জানাতে। মন্তব্য অপশান সেজন্যেই বন্ধ রাখা হয়েছিলো। সেই পরিপ্রেক্ষিতে এই পোস্টটিতে মন্তব্য নেয়া আপাতত বন্ধ করা হলো।
    সিসিবি মডারেশান প্যানেল পুরো ঘটনার একটি টাইমলাইন সহ এবং মডারেশান প্যানেল ও সংশ্লিষ্ট সদস্যদের আলাপচারিতার পুরোটুকু প্রকাশের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
    ঈদের ছুটির কারণে কিছুটা সময় লাগছে, ততক্ষণ সবাইকে ধৈর্য্য ধরতে অনুরোধ করা হচ্ছে।
    সবাইকে অনেক ধন্যবাদ।