ভগি জগি পোষ্ট …

১। কত জায়গায় কত আড্ডা দিলাম, কিন্তু একাডেমিক ব্লকের টয়লেটের আড্ডার স্বাদ আর পেলাম কই। টয়লেটের ভেতরের লাইট বন্ধ করে দিয়ে সুইচ গুলির ‘জয়স্টিক’ ভেঙ্গে এমন করে রাখতাম যে শক্ত, সূক্ষ্য কিছু দিয়ে অনেকক্ষণ খোঁচাখুঁচি না করে লাইট জ্বালানো ছিল অসম্ভব। সেকেন্ড প্রেপ চলছে, আমরা ছয় জন টয়লেটে আড্ডাচ্ছি, হঠাৎ ভিপি জি,সি, বড়ুয়া’র আগমন। উনি উনার স্থূল আঙ্গুলের সাহায্যে লাইট জ্বালাবার অনেক চেষ্টা করেও ব্যার্থ হয়ে হুঙ্কার দিলেন, ‘ ভেতরে কে কে আছিস, বের হ’। ভয়ে ভয়ে বের হয়ে আসলাম। বাইরে এসে গননাতে দেখা গেল আমরা পাচজন। আমাদের অতি চালাক একজন চান্স-এ সটকে পড়েছে। কি আর করা, হ্যান্ডস ডাউন পজিশানে ‘টার্গেট’ উচিয়ে দিয়ে পাচজন-ই প্রহার গ্রহনে উদ্দ্যত হলাম। এই সময় ষষ্ঠ ব্যাক্তি টয়লেট থেকে বের হলেন। চেহারায় ‘আমি কিছুই জানিনা’ ভাব আর ভেজা ‘বাম’ হাতটি শরীর থেকে একটু দূরে হাল্কা মুঠো করে ঝুলিয়ে রেখে বোঝানোর চেষ্টা করলেন যে, এইমাত্র যে কর্মটি করে তিনি ‘বাম’ হাত ধুয়ে বের হলেন, তা আর যাই হোক আড্ডা নয় মোটেও। নির্বিকার চিত্তে ভিপি’কে পাশ কাটিয়ে চলে যাওয়ার সময় ভিপি হুঙ্কার দিলেন ‘আপনি কই যান?’ বাম হাতটা একটু এগিয়ে দিয়ে ‘এখনো ভেজা’ দেখানোর চেষ্টা করে ‘আমি টয়লেটে …’ বলতেই আবার হুঙ্কার ‘আ.প.না.রে আমি চিনি না, নাআআআআ …’ জীবনে প্রথম সততার পুরষ্কার পেলাম। ছয় জনের প্রহার এক ‘টার্গেট’এই বর্ষিত হল।

২। সোহরাওয়ার্দি হাউসের প্রিফেক্ট’রা ফাইনাল টার্ম এন্ড’এর আগ দিয়ে গণনা করে দেখলেন, এই টার্ম’এ একাডেমিকস্’এ চ্যাম্পিয়ন হলেই ওভার-অল চ্যাম্পিয়ন হওয়া যাবে। শুরু হল দুর্বল ছাত্রদের সবল করবার ‘ব্যায়াম’ অনুশীলন, পাশাপাশি পড়াশুনা চলত যৎসামান্য। পরীক্ষার খাতা দেবার পর আন-অফিসিয়ালি রেজাল্ট গণনা’র জন্য সবার প্রাপ্ত নম্বর লিখে জমা দিতে বলা হল। ‘আপাতত’ বেঁচে থাকার লোভে, যারা ফেল করেছে তারা প্রাপ্তির চেয়ে অধিক নম্বর লিখে জমা দিল। ফলাফল, প্রিফেক্টদের আন-অফিসিয়াল গণনায় সোহরাওয়ার্দি হাউস ওভার-অল চ্যাম্পিয়ন। সেই খুশীতে একটা দুইটা অগ্রীম মিছিল নামল, লাল রঙ ছিটানোর অগ্রীম হাল্কা উৎসব হল। ফাইনালি যখন নজরুল হাউস চ্যাম্পিয়ন হল, শরম আর লজ্জায় আসল রহস্য উদ্ঘাটনে তৎপর হলেন প্রিফেক্ট’রা। আসামীদের চিন্হিত করার পর ফায়ারিং স্কোয়াডে নিয়ে শুরু হল ফায়ার। বাংলা সিনেমার নায়ক টাইপ কালচারাল প্রিফেক্ট এক ঘুষিতে, এক আসামী্র, এক চোখ, বাংলা সিনেমার ভিলেনের মত ‘কালো’ বানিয়ে দিলেন। ‘আমি কিছু দেখতে পাচ্ছি না’ চিৎকারের পর দ্বিতীয় ঘুষিতে আসামীর অপর চোখটিও একই রঙ পেল। অতি চালাক বন্ধুটি যুদ্ধের এই ডামাডোলে শরণার্থী হলেন হাউস মসজিদে। ‘পাইছিরে, পাইছিরে’ শব্দ শুনে তিনি দ্রূত নিয়ত বেঁধে নামাজ ধরলেন … তারপর রুকুতে যাবার আর নাম পর্যন্ত নিলেন না। ‘পইড়া ল, পইড়া ল, এইটাই তর জীবনের শেষ নামাজ’ বলে মৃত্ত্যু প্রিফেক্ট দাঁড়িয়ে রইলেন শিকার কখন অপরাধ স্বীকার করবে।

৩। অতি চালাক বন্ধুটির ছদ্মনাম ছিল ‘প্রবাদ পূরুষ’। তিনি বাংলা’র চালু প্রবাদ গুলোকে নিজ গুনে শুধরে দিয়ে নিজের মত করে বলতেন।‘ইটকেলটি মারিলে, পাটকেলটি খাইতে হয়’, ‘বোঝার উপর আমের আঁটি’, ‘যার বিয়া তার ঘুম নাই, পাড়া-পড়শীর খবর নাই’, ‘ভাঙা হাড়ী ভাঙলে আর জোড়া লাগে না’ ইত্যাদি নানা নতুন প্রবাদ তার নামকরণের সার্থকতায় আমাদের ১০ এ ১০ স্কোর করতে সাহায্য করত। ক্লাস টুয়েল্ভ’এ তিনি তার রুম কদাচিৎ পরিচ্ছন্ন করতেন। একদিন রুম ধুয়ে মুছে পরিষ্কার করার পর কেউ একজন তার রুমে জুতা সমেত প্রবেশ করায় তিনি বিরক্তি ভরে বলেছিলেন ‘জুতা পইরা ঢুকিস না, আমি রুমে খালি ‘গায়ে’ হাঁটাহাঁটি করি’।

৪। সদ্য টয়লেট ব্যবহার করে বের হয়ে এসে ক্লাসমেটের সার্টে, ভেজা বাম হাত মুছে দিয়ে তিনি উল্লসিত স্বরে বলেছিলেন ‘আমি হা… ছু.. নাই’।
(যারা মোস্তাকীম টাইপ, ‘জুক্স’ কম বোঝে তাদের জন্য সহনীয় মাত্রা’র hints, ‘ছু…’= যে কর্ম না করলে বাম হাত গান্ধা হয় না, বরং অন্য কোন জায়গা গান্ধাই থেকে যায়।)

৭,৮১৫ বার দেখা হয়েছে

৯২ টি মন্তব্য : “ভগি জগি পোষ্ট …”

  1. মুসতাকীম (২০০২-২০০৮)

    যারা মোস্তাকীম টাইপ, ‘জুক্স’ কম বোঝে

    এইটা মিয়া কি বললেন??? :(( :(( :(( :(( :((


    "আমি খুব ভাল করে জানি, ব্যক্তিগত জীবনে আমার অহংকার করার মত কিছু নেই। কিন্তু আমার ভাষাটা নিয়ে তো আমি অহংকার করতেই পারি।"

    জবাব দিন
  2. কাইয়ূম (১৯৯২-১৯৯৮)
    ছয় জনের প্রহার এক ‘টার্গেট’এই বর্ষিত হল

    =))

    সদ্য টয়লেট ব্যবহার করে বের হয়ে এসে ক্লাসমেটের সার্টে, ভেজা বাম হাত মুছে দিয়ে তিনি উল্লসিত স্বরে বলেছিলেন ‘আমি হা… ছু.. নাই’।

    তাইফুর মাম্মা, ফাট্টায়া দিছো গুরু। লাস্টে দিয়া মুস্তাকীমিয় মোরালডা জট্টিল হইছে =)) =))


    সংসারে প্রবল বৈরাগ্য!

    জবাব দিন
  3. ইফতেখার (৯৫-০১)

    আমার মনে হয় এফ এইচ এর এ্যকাডেমিক্স কেউ হিসাব ও করতো না। এস এইচ আর এন এইচ এর টা হিসাব কইরা, ফার্ষ্ট সেকেন্ড ... টাইগার তো আগেই শিকার এ গেসে ধইরা নিয়া (অথবা শিকার থেইক্কা আইসা ঘুমাইতেসে ধইরা নিয়া) থার্ড কমন। সো আমাদের চিন্তা ও থাকতো না।

    হায়রে আমাদের ব্যাচ। ঢুইক্কাই দেখি লাষ্ট ইয়ার এ হাউস রানার্স-আপ (৭ দিনের টার্ম এ, যাতে আমাদের কনো হাত নাই)। অতঃপর হাউস হইলো থার্ড ... টানা ৬ বছর (আমাদের ৬ বছর আর কি) ... বাইর হইলাম, লগে লগে হাউস হইয়া গেলো চ্যাম্পিয়ান (রানার্স আপ ও হইতে পারে, অন্তঃত লাড্ডাগুড্ডা না)।

    জবাব দিন
  4. জুনায়েদ কবীর (৯৫-০১)

    তাইফুর ভাই, প্রথমে লেখা দেবার জন্য একটা :salute:
    এরপর লেখাটা সেইরকম হবার জন্য আরেকটা :salute:
    জয়তু ভগি জগি... :salute: (এইডা ফ্রি!! ঈদ অফার! দুইটার স্যালুটের লগে একটা পুরা ফ্রি... 😀 )


    ঐ দেখা যায় তালগাছ, তালগাছটি কিন্তু আমার...হুঁ

    জবাব দিন
  5. ওমর (১৯৯৬-২০০২)

    তাইফুর ভাই , আপনের অনেক প্রতিভার কথা আমি কলেজ এ থাকতেই জানতাম! কিন্তু আপনে যে এত ভাল লেখেন এইটা জানতাম না !! আজকে এক ধাক্কায় আমি আপনার সব কয়টা লেখা পড়ে ফেললাম ।সব কয়টা লেখা অসাধারণ।ফাটাফাটি !

    আপনি মনে হয় আমাকে চিনতে পারবেন না।আমরা আপনাদের ইলেভেন থেকে পাইসি।
    আপনি এখন কই আসেন ?

    আর দয়া কইরা আরও লেখেন !

    জবাব দিন
  6. ম হাতটা একটু এগিয়ে দিয়ে ‘এখনো ভেজা’ দেখানোর চেষ্টা করে ‘আমি টয়লেটে …’ বলতেই আবার হুঙ্কার ‘আ.প.না.রে আমি চিনি না, নাআআআআ …’ জীবনে প্রথম সততার পুরষ্কার পেলাম। ছয় জনের প্রহার এক ‘টার্গেট’এই বর্ষিত হল।

    ওরে না রে..... কেউ আমারে ধর... :goragori: :goragori: :goragori:

    জবাব দিন

মন্তব্য করুন

দয়া করে বাংলায় মন্তব্য করুন। ইংরেজীতে প্রদানকৃত মন্তব্য প্রকাশ অথবা প্রদর্শনের নিশ্চয়তা আপনাকে দেয়া হচ্ছেনা।