ঢাকার শুনানি, ঢাকায় শুনানি (ঘ)

শুক্রবারে ধানমন্ডিতে কাকার বাসায় যাবার সময় দুই এক ফোঁটা বৃষ্টি মাথায় পড়েছিল। সেটা সহ্য হয়নি। দেশে আসার পর প্রথম রোগ বালাই কিংবা বলা চলে রোগ বালাইয়ের উপসর্গঃ হাল্কা জ্বর, গায়ে ব্যথা, মুখে অরুচি এইসব ধানাইপানাই। কিন্তু নিয়ম করে সন্ধ্যায় ও ভোররাতে জ্বরের আনাগোনা দেখে গতকাল গিয়েছিলাম ডাক্তারখানায়। টাইফয়েড ও প্যারাটাইফয়েড আমার খুব কাছের বন্ধু। ভাবলাম আবারো বাড়ি এলো কিনা?

এলাকার হাসপাতালের কাউন্টারের সামনে হেসে, খেলে গড়িয়ে পড়ে যাচ্ছে এক শিশু। তার সাথে যোগ দিয়েছে তার চাইতে বয়সে কিছুটা বড় আরো দুইজন। এই চেয়ারের তলা দিয়ে বের হয়ে ঘরের আরেক প্রান্তে ছুটে যাচ্ছে। আবার দৌড়ে মায়ের কাছে গিয়ে একদম যেন অদৃশ্য হয়ে যেতে চাইছে দুই পায়ের মাঝে। চোখাচোখি হতেই রহস্যময় এক হাসি দিয়ে আবারো দে ছুট। চোখ অনুসরণ করতে গিয়ে ঘাড় জানান দিল গত তিনদিন আগের বেকায়দায় ঘুমানোর দায়ে ঘাড়ের পেশীদের ধর্মঘট এখনো শিথিল হয়নি। ঘাড়ের চারপাশ একটু ডলে দিয়ে দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে ফিসফিস করে বলি, “don’t grow up kid. it’s a trap!”

আমাকে বসিয়ে রেখে ডাক্তার সাহেব একটু উপরতলায় ছুটে গেলেন। ফেরত এসে দুঃখ প্রকাশ করলেন বসিয়ে রাখার জন্য। বেশ গুরুতর অবস্থায় একজন রোগীকে এনে ভর্তি করা হয়েছে, যাওয়াটা দরকার ছিল। রাত তখন বাজে দশটা। উনাকে আশ্বস্ত করলাম। বৃত্তান্ত শোনার পর চেক-আপ করে দেখার মাঝেমাঝে টুকিটাকি কথা চলছে। কি করি, কোথায় থাকি, কোথায় ছিলাম ইত্যাদি। চেক-আপের সময় গল্পগুজব করেন না এরকম ডাক্তার আমার মনে হয় না কখনো দেখেছি। সম্ভবত দাঁতের ডাক্তারদের চেক-আপের সময় এরকম আলাপচারিতার সুযোগ সবসময় হয়ে উঠে না।

নিজের ঘরে বসে একটি বই পড়ছি। বাজে প্রায় দুপুর একটা। হেডফোনে বাজছে থেলোনিয়াস মঙ্কের পিয়ানোর কারুকাজ। পড়ার মাঝেও পেরিফেরাল দৃষ্টি সজাগ ছিল। দিনের এই সময়টা একটু অলস, একটু নিরব, এবং সেখানেই আমার সমস্যা। গরমে কিছুটা স্বস্তির জন্য সদর দরজা কিছুটা খুলে রাখা হয়। চোরের উপদ্রব নেই কিন্তু এলে চোরের বড় ভাইরাই বরং আসতে পারে। হঠাৎ মনে হল আমার ঘরের সামনে দিয়ে তিনটি ছায়া গেল। সামনে তাকিয়ে দেখি চতুর্থ ছায়া কিংবা মানব কিংবা মানবী (বোরখা পরিহিত যেহেতু) মায়ের ঘরের দিকে যাচ্ছে। এক লাফে, এক ছুটে পাশের ঘরে ঠিক মাথাটা ঢুকিয়ে জিজ্ঞাসার দৃষ্টিতে তাকালাম। মা বললেন, “পাশের বাসার আন্টি?” মুখ ফসকে প্রশ্ন বের হয়ে এলো, “উনারা সবাই?” বলে আবার সবার চেহারা ভাল করে দেখলাম। খুবই অস্বস্তিকর ও বিব্রতকর নিরবতার প্রায় সেকেন্ড দশেকের মাথায় ছোট করে, “আচ্ছা” বলে এসে পড়লাম নিজের ঘরে। কিছুক্ষণ পরে উনারা চলে গেলেন। মাকে জিজ্ঞাসা করলাম, “এরা কারা?” বললেন, “পাশের বাসার আন্টি সাথে তাবলীগের তিন মহিলা।” “কি দাওয়াত পাইলা কিছু?” কন্ঠে সন্দেহের সুর টের পেয়ে মুচকি হেসে আবারো রান্নাঘরের দিকে ছুটে গেলেন, কলমি শাক ভাজিটা পুড়েই গেলো কিনা?

আবারো গত শুক্রবারের ঘটনায় আসি। খাবার টেবিলে বসে আছি। পাশে বসা দাদী। নিজের দাদা-দাদী, নানা-নানী মারা গিয়েছেন প্রায় অনেকগুলো বছর। নানাবাড়ির দিকে আমার নানার ছোট ভাই এবং দাদাবাড়ির দিকে আমার দাদার বড় ভাইয়ের স্ত্রী, যিনি বসে আছেন আমার পাশের চেয়ারে। বয়সের হিসেবে বেশ শক্তপোক্ত আছেন। দৃষ্টি ও শ্রবণশক্তি স্বাভাবিক। উচ্চ রক্তচাপের সমস্যা আছে। মাঝেমাঝেই স্মৃতিকাতর হয়ে গেলে রক্তচাপও নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। মাকে খুব পছন্দ করেন উনি। সেই সুবাদেই মা কে নিয়ে আসা। কত কথা যে বলছেন। উনি যখন নতুন বউ হয়ে এসেছিলেন সেই গল্পে চলে গিয়েছেন। তারপরে হঠাৎ করেই আমার দিকে মুখ খিঁচিয়ে জিজ্ঞাস করলেন, “ঐ বিয়াশাদী করবি না নি? তোর কাহার (কাকা) ডক ধরসোস? হেরে তো হের ভাই-বউ আছে দয়া কইরা হইলেও খাইতো দেয়? তোর মা গেলেগা তোরে খাওয়াইবো কেডা? তোর ভাই বউ তো আম্রিহা? পস্তাইবি কইলাম। হুদা পস্তাইবি।” মিটমিট করে হাসছে রোজি চাচী, মা। আমি বললাম, “না করুম বিয়া।” “হাছা নি?” “হ হাছা!” “তোর কাহারে তো বকতাম ফারি না তোরেই বকতাসি।” এবার ফুঁপিয়ে কেঁদে উঠলেন।

যেই মানুষটিকে নিয়ে কথা হচ্ছে উনার নাম শাহ আলম। আমার দুই ভাইয়ের বই পড়ার আগ্রহের যেই দুইজন রূপকার তার মাঝে উনি একজন। লিটল ম্যাগের এককালের কবি। উনাকে নিয়ে আগেও সম্ভবত লিখেছি। কোথায় লিখেছি মনে করতে পারছি না। যাই হোক আমার এই চিরকুমার কাকার চিন্তায় এখনো অস্থির হয়ে পড়েন দাদি।

Information influx এর বাঙলা যদি বলি তথ্য প্লাবন তবে কেমন হয়? এই ধরনের ইংরেজী শব্দগুলোর বাঙলা প্রচলন আর করা হচ্ছে না। তাই ইংরেজীটাই ঢুকে পড়ছে ভাষার মাঝে। এটার ভালো খারাপ দুদিকই হয়তো আছে কিন্তু আমার ভাল ঠেকে না। মূল বক্তব্যে ফেরত আসি। বলছি তথ্য প্লাবন নিয়ে। ফেইসবুকের কল্যানে এই তথ্য প্লাবনের ব্যাপ্তি ভিন্ন পর্যায়ে চলে গিয়েছে। ফেইসবুকের বিখ্যাত পেইজগুলোর কথা চিন্তা করুন। এদেরকে ভার্চুয়াল প্রফেট (প্রথমেই ক্ষমা চেয়ে নিচ্ছি। শব্দটি অনেকক্ষণ ধরে চিন্তা করেছি। মাঝে লিখা বন্ধ করে চিন্তা করেছি। পলিটিকাল কারেক্টনেস নিশ্চিত করতে গিয়ে কি বলা যায় কিংবা প্রফেট শব্দটি ব্যবহার করলে কেউ মনে আঘাত পাবে কিংবা এর বাঙলা ব্যবহার করলে আরো ভয়াবহ হতে পারে? সব মিলিয়ে ভয়ে ভয়ে ইংরেজির দিকেই পা বাড়ালাম। ঘাড়ে একটাই মাথা। আশা করি তালিকায় নাম উঠবে না।) বলতে পারি আমি। এই পর্যায়ে আসতে অবশ্য তাদের কম কষ্ট করতে হয়নি। কিছু প্রাথমিক খরচাপাতি (পোস্ট বুস্টিং ইত্যাদি), কিছু শেয়ার, এরপরে ফেবু এ্যালগরিদম বাকিটা সামলে নিয়েছে। তৈরী হয়েছে ভয়াবহ পেইজ বাঁশেরকেল্লা, বখতিয়ারের ঘোড়া ইত্যাদি থেকে শুরু করে ধরি-মাছ-না-ছুই-পানি ধরনের মজা লস, রেডিও মুন্না, বিদেশীগুলোর মাঝে ভার্জিন রেডিও, রেডিও ওয়ান লেবানন ইত্যাদি অসংখ্য পেইজ। এই পেইজগুলোর মূল চালিকাশক্তি তাদের অনুসারীরা (আবারো ক্ষমা চেয়ে নিচ্ছি। ফলোয়ার শব্দের আর কোন অনুভূতিবান্ধব বাঙলা পাইনি)। এ এক বিস্ময়কর ভার্চুয়াল গণতন্ত্র। জনগণ সকল ক্ষমতার উৎস। কিন্তু ভয়ংকর হলো এই পেইজগুলো তথ্য যেভাবে যতটুকু দিতে চায় সেভাবেই সেটা দিতে এবং অনুসারীদের গেলাতে সক্ষম হয়। রামুর গ্রামটিতে গেলে হয়তো এখনো পোড়া মাটি বা ঘরের অংশ পাওয়া যেতে পারে। এত চরমে যাচ্ছি না। সাধারণ একটি ঘটনায় আসি। এক বান্ধবী খুব আগ্রহ নিয়ে এই পেইজের পোস্টটি শেয়ার দিয়েছে। ছবিটি

বিবেচনার ক্ষমতা যখন হ্রাস পায় তখন এগুলো বিশ্বাস করা খুব একটা কষ্টকর হয় না।

বিবেচনার ক্ষমতা যখন হ্রাস পায় তখন এগুলো বিশ্বাস করা খুব একটা কষ্টকর হয় না।

দেখলেই বুঝতে কারো বাকি থাকার কথা নয় ঝামেলা কোথায়। সবচাইতে ভয়াবহ ব্যাপার হলো এটাই যে একাধিক ব্যক্তি মন্তব্যের ঘরে এই নিয়ে অভিযোগ করা সত্বেও পাঁচ লাখের অধিক লাইক ঠিকই পড়ে গিয়েছে। অর্থাৎ অনুসারীরা ভাল মতই গিলেছেন। এত তথ্যের ভীড়ে আমরা যাচাই বাছাই করতে ভুলে যাচ্ছি। যা দেখছি সেটাকেই ধ্রুব বলে ধরে নিচ্ছি। এমন না যে ভুল তথ্য দিয়ে মানুষজনকে ভুল ভাবে চিন্তা করতে দেয়ার চেষ্টা অতীতে করা হয় নি। কিন্তু সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের কল্যানে এই বিষয়টি এক নতুন পর্যায়ে পৌঁছে গিয়েছে। এ যেন এক ঐশ্বরিক ক্ষমতা। তবে, আমি এই ধরনের ঐশ্বরিক ক্ষমতার ভাল মন্দ বিচার করতে বসছি না। আমি শুধু পুরো ব্যাপারটির ব্যাপ্তি চিন্তা করে শিহরিত হচ্ছি। তথ্য যুদ্ধ, তথ্য দ্বারা যুদ্ধ।

শেষ করি দুই মেরুর দুটো গান দিয়ে।

প্রথমটি কান গরম করা বাড়ি ছাড়া করা ছ্যাকামাইসিনঃ

দ্বিতীয়টি কুসুম কুসুম প্রেমের দ্বৈত সঙ্গীতঃ

২,৬০১ বার দেখা হয়েছে

২৬ টি মন্তব্য : “ঢাকার শুনানি, ঢাকায় শুনানি (ঘ)”

  1. লুৎফুল (৭৮-৮৪)

    কচু গাছ কাটতে কাটতে একদিন সেই ধারালো ছুরির নীচে অনায়াসে বলি যায় কাতার কাতার মানুষ ।
    পেজ শেয়ারকে সাধুবাদ ...
    সেই সুবাদে (সংগে অন্য অনুসংগ গ্রাহ্যে রেখে)
    পেলাম এই সুখপাঠ্য ।

    জবাব দিন
  2. সাবিনা চৌধুরী (৮৩-৮৮)

    নিনজারূপী ছায়ারা আমাদের এখানেও সক্রিয়। সপ্তাহান্তের ছুটিতে এখানে বাড়ি বাড়ি দ্বীনের দাওয়াত চলে, আলোচনা চলে ঘোমটায় মুখ ঢেকে। সব শেষে ফ্রি ডিনারের আয়োজন থাকে সবার জন্য। এদেশের একটি মানুষের সাথে না মিশেও অবলীলায় তারা ইহুদী নাছারাদের সমালোচনায় মুখর হন।

    একবার এক পরিচিত বন্ধুর বাড়িতে তারা ওর আধ খাওয়া ম্যাকডোনাল্ডসের সোডার গ্লাস হাতে গাড়ি থেকে নামতেই ওবাড়ির সেকেন্ড গ্রেডার শিশুটি বলে উঠেছিল, তুমি হারাম খাও??

    জবাব দিন
    • মোকাব্বির (৯৮-০৪)

      উনারা সব জায়গায় সক্রিয়। সেদিন দরজা খোলা পেয়ে সক্রিয়তা একটু বেশীই দেখালেন আরকি! 😀 উনাদের কথায় বিস্তারিত আর না যাই। মনে কষ্ট পেয়ে যায় মানুষেরা। বড় সহজেই।


      \\\তুমি আসবে বলে, হে স্বাধীনতা
      অবুঝ শিশু হামাগুড়ি দিল পিতামাতার লাশের ওপর।\\\

      জবাব দিন
        • মোকাব্বির (৯৮-০৪)

          আমরা আপা সংখ্যালঘু। উনাদের নিয়মই নিয়ম। আমাদেরটা অনুভূতিতে আঘাত! 😀


          \\\তুমি আসবে বলে, হে স্বাধীনতা
          অবুঝ শিশু হামাগুড়ি দিল পিতামাতার লাশের ওপর।\\\

          জবাব দিন
          • সাবিনা চৌধুরী (৮৩-৮৮)

            আমরা যথাথর্ই সংখ্যালঘু, মোকা। তাই আপাতত ফুল, পাখি, গান অথবা ফুলকো লুচি বিষয়ক সেমিনার চলতে থাকুক। কারো অনুভূতিতে আঘাত দিতে চাই না হে! বরাহশাবকদিগকে গোলাপ বাগানে নিমন্ত্রণের কোন মানে হয়না।

            জবাব দিন
            • মাহমুদ (১৯৯০-৯৬)
              কারো অনুভূতিতে আঘাত দিতে চাই না হে! বরাহশাবকদিগকে গোলাপ বাগানে নিমন্ত্রণের কোন মানে হয়না।

              আপা,
              উদ্ধৃতাংশের প্রথম বাক্য পর্যন্ত ঠিকই ছিল। দ্বিতীয়টি না-লিখলেই কি চলতো না? আফটারঅল এই আলোচনায় যারা আছেন, তাদের কেউই দাবী করতে পারবেন না যে তাবলীগের সকলের জন্যই আপনার উল্লিখিত 'বিশেষণ' যথার্থ।


              There is no royal road to science, and only those who do not dread the fatiguing climb of its steep paths have a chance of gaining its luminous summits.- Karl Marx

              জবাব দিন
              • সাবিনা চৌধুরী (৮৩-৮৮)

                তোমার অনুভূতিতে খুব আঘাত লাগলো বুঝি??

                দেখো সংখ্যালঘুদের কত সমিস্যে ভাইয়া, কল্লাটিকে বাঁচানোর নিমিত্তে দুখানা নিরীহ গোছের বাক্য লিখলুম, তার একটিই অপ্রয়োজনীয় বলে রায় দিয়ে দিলে। আমি হলাম সিসিবির নান্না মুন্না টাইপের লেখক যে কিনা গডের স্টেকের (ভাগ্যিস খোদার স্টেক বলিনি) রেসিপি লিখি অথবা চিনিটুশের ছেলেভুলানো গল্প লিখে বাহবা কুড়াই। লাভ কি হলো বলো, ফলাফল তো সেই থোরবড়িখাড়া আর খাড়াবড়িথোর।

                প্রতিবেশীর সেকেন্ড গ্রেডার যখন আমার দশ বছরের কন্যাটিকে হারাম খাও বললো, তাতে তোমার অনুভূতি সুদৃঢ় ছিল, তোমার মত মানুষদের কাছে সেটি যথাথর্ বলে মনে হলো। অথচ বরাহশাবক বলতেই অনুভূতিতে আঘাত লাগলো খুব।

                দেশের সাম্প্রতিক অবস্থার প্রেক্ষাপটে তিতিবিরক্ত হয়ে আছি। যে বা যারা ধমর্কে মানুষের ওপরে স্থান দেয় তাদের জন্য সীমাহীন করুণা ছাড়া আর কিছুই নাই। শুওরকে শুওর বলতেই শিখেছি, ভাইয়া। পিরিঅড।

                নাইস টু মিট ইউ। ভাল থেকো।

                জবাব দিন
                • মাহমুদ (১৯৯০-৯৬)

                  আপা,

                  আপনার করা জেনারালাইজেশনের ভিত্তি আমার কাছে দূর্বল মনে হয়েছে, তাই বলেছিলাম তাবলীগ করার সকলকেই একবাক্যে শুয়রের বাচ্চা বলাটা যথার্থ মনে করিনি। এইটুকু বলার জন্য আমার অনুভূতিতে আঘাত লাগার দরকার হয়নি। মানুষকে- সে যে-ই হোক, মতের পার্থক্য যতটাই থাকুক- শুয়র বলার শিক্ষাটা এখনো হয়ে ওঠেনি বলেই উপরের মন্তব্য করেছিলাম। দোওয়া করবেন যেন মানুষকে মানুষই ভেবে যেতে পারি, তার মধ্যে যত ভুলই থাকুক; তাদের ভুল দেখে যেন নিজেকে শুধরে নিতে পারি।

                  ইচ্ছে ছিল আরো বিস্তারিত ব্যাখ্যা করার কেন আমি মনে করি এমন জেনারালাইজেশন করা এসেন্সিয়ালী ভুল, কিন্তু আপনি বলেছেন "পিরিয়ড"। তাই, আমিও এখানেই থেমে গেলাম।

                  শুভ ব্লগিং 🙂


                  There is no royal road to science, and only those who do not dread the fatiguing climb of its steep paths have a chance of gaining its luminous summits.- Karl Marx

                  জবাব দিন
                  • সাবিনা চৌধুরী (৮৩-৮৮)

                    Jose Ortega Y Gasset বলেছেন, Tell me what you pay attention to and I will tell you who you are! যাহোক, আসল কথায় আসি। মোকার এই অতি নিরীহ পোষ্টে এবং আমার ততোধিক নিরীহ কমেন্টে কারো যে অনুভূতিতে আঘাত লাগতে পারে সেটি ভাবনার বাইরে ছিল। দ্বিতীয় পাতায় চলে যাওয়া একটি সাদামাটা দিনলিপির সূত্র ধরে কারো ধমর্ানুভূতিতে আঘাত দেয়া আমার কম্ম নয়। হাজার হোক আমরা সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মানুষ। একটি সামান্য কথা বলার আগে দুইবার ভাবতে হয়, না জানি কার কোমল মনে আঘাত লাগলো। বলি, অনুভূতি কি এতোই ঠুনকো যে এখন বাই ওয়ান গেট ওয়ান ফ্রি তে বিকোচ্ছে দেশে বিদেশে?

                    ধমর্ের ধ্বজাধারী মৌলভী অথবা মৌ-লোভী দুটোই সমানভাবে পরিত্যাজ্য। আমি শুওরকে সুগার কোটেড করে বরাহশাবক বলেছিলাম প্রথমে, আই ওয়াজ রং, ছোট ভাই। শুওরকে শুওর বলতে হয়, তাহলে যা বুঝাতে চাইছি সেটি প্রিসাইসলি বলা হয়। শিক্ষার কথা বললে অযাচিতভাবে তাই বলি, আমার উদারমনা পরিবার সারমেয়শাবকদের সারমেয় বলতেই শিখিয়েছে, শুওরকে শুয়োর। গোড়াতেই গন্ডগোল ছিল বলতে পার। ভিন্ন মতের কারণে যারা অভিজিত রায় অথবা অনন্ত বিজয় দাশদের নৃশংসভাবে খুন করে তাদের কি তুমি তাদের মানুষ বলবে? নাকি এরা শুয়োরস্য শুয়োর বৈ নয়।

                    কোথায় যেন পড়েছিলাম, ব্লুবাডর্ ক্যারিজ দা স্কাই অন হিস ব্যাক। আর আমরা বাইরে দু পেয়ে মানুষ ঠিকই কিন্তু আমাদের কারো মনে কুষ্ঠব্যাধি, কারোবা মরনঘাতি ক্যানসার মগজের করোটিতে। তারপরও দাবী করি আমরা আসরাফুল মাখলুকাত। সেলুকাস!

                    এন্জয় দা উইকেন্ড!

                    জবাব দিন
  3. মাহবুব (৭৮-৮৪)

    সুন্দর লেখা। আজকের বিশ্বে এত্ত এত্ত তথ্য শিক্ষআ দীক্ষার এত প্রসার বিজ্ঞানের এত বিস্ময়কর আবিষ্কার - এসবের পরো "ফলোয়ার" মার্কা মানুষের সংখ্যা কমেনি মোটেও। ফেবু তো নির্ভেজাল নির্বোধ নির্দেশক ছাঁকুনি বিশেষ। কারো মৃত্ত্যু বা দূর্ঘটনার সংবাদেও চোখ বুজে "লাইক" উদ্গার করে এমন লোক তো কম নয়।

    জবাব দিন
  4. সাইদুল (৭৬-৮২)

    ভালো লাগলো। কিছু কিছু বিদেশি শব্দ বাংলায় এসে গেলে ক্ষতি কি? (ফলোয়ার)

    কিছুদিন আগে কিছু বাঙালি ইংরেজি থেকে অনুবাদ করতে গিয়ে ভয়াবহ কিছু বাংলা শব্দের জন্মদিয়েছিলো, সেগুলি টেকেনি, প্রথম আলোর কিছু লেখক কুকুর বিড়াল বৃষ্টি, মুক্ত বর্ষা এসব চালু করার চেষ্টা করেছিলো কাজ হয়নি। কলেজ জীবনে ইংরেজি রচনায় বাংলা উদ্ধৃতি দিয়ে দেখেছি কাজ হয়নি, অথচ বাংলা রচনায় ইংরেজি কোটেশন দিব্যি ফলদায়ক হয়েছে।


    যে কথা কখনও বাজেনা হৃদয়ে গান হয়ে কোন, সে কথা ব্যর্থ , ম্লান

    জবাব দিন
    • মোকাব্বির (৯৮-০৪)

      পড়ার জন্য ধন্যবাদ ভাই। যতদূর বুঝি ফলোয়ারের চাইতে বাঙলায় অনুসারী ভালই চলে। কিন্তু কিছু শব্দ আছে যার বাঙলা করাটা ঝামেলার। কিন্তু তাই বলে এই চেষ্টা থেমে থাকাও উচিৎ নয়। অনেকে দেখেছি এই ইংরেজীর প্রতি ভালো লাগা ও প্রাধান্য বিস্তারের কারণ হিসেবে ঔপনিবেশিক অভ্যাসের প্রতি আঙুল তোলেন। যাই হোক, আমার মতে নিজের জন্য হলেও প্রতিটি লেখকের নিজের কিছু শব্দ অন্তত সাময়িক ব্যবহারের জন্য বা স্বকীয়তা তৈরী করার জন্য হলেও ব্যবহার করা উচিৎ। ইংরেজীতো সহজ সমাধান।


      \\\তুমি আসবে বলে, হে স্বাধীনতা
      অবুঝ শিশু হামাগুড়ি দিল পিতামাতার লাশের ওপর।\\\

      জবাব দিন
      • মাহবুব (৭৮-৮৪)

        বিশেষ ইন্টারনেটে যারা চলাফেরা করেন তার ধরে নেয়া যায় মোটামুটি শিক্ষিত ও সুবিধাপ্রাপ্তদের দলে। এর পরো যেভাবে তার "ডিটো" দিয়ে যান, তাতে বোধ হয় মুরীদ কিংবা শিষ্য বলাই সঙ্গত।
        আজ ফেবু তে এক বন্ধু শেয়ার করেছেন বিখ্যাত গানিতিক জন ন্যাশ ( আ বিউটিফুল মাইন্ড) স্বস্ত্রীক সড়ক দূর্ঘটনায় নিহত। খুবই মন খারাপ করা খবর। বেশ কিছু "লাইক" ইতিমধ্যে দেয়া সারা। কি বলবা?

        জবাব দিন
        • মোকাব্বির (৯৮-০৪)

          ঠিক এই মাত্র জন ন্যাশের কাহিনীটা পড়ে মন খারাপ হয়ে গেল। তার চাইতেও বেশী মেজাজ খারাপ হলো সংবাদে লাইকের বাহার দেখে। শব্দার্থ পরিবর্তন করে দিচ্ছি আমরা। :brick:

          শিষ্য কিংবা মুরীদ এই দুইটা নাম আসলে বেশী যায়। যাদের বোঝাতে চেয়েছি তাদের। 'অনুসারী' শব্দটার মান সম্মান এখনো অনেক উপরে আছে। ধন্যবাদ মনে করিয়ে দেয়ার জন্য।


          \\\তুমি আসবে বলে, হে স্বাধীনতা
          অবুঝ শিশু হামাগুড়ি দিল পিতামাতার লাশের ওপর।\\\

          জবাব দিন

মন্তব্য করুন

দয়া করে বাংলায় মন্তব্য করুন। ইংরেজীতে প্রদানকৃত মন্তব্য প্রকাশ অথবা প্রদর্শনের নিশ্চয়তা আপনাকে দেয়া হচ্ছেনা।