প্রিন্সিপাল এসেম্বলী (সিসিবি ভার্সন) পর্ব ২

পর্ব এক

৪।

‘৯৭, ‘৯৮ এর পোলাপাইন ব্লগে যেমন কম, এখানেও এসেছে কম। ‘৯৮ এর কনক, হায়দারকে দেখা গেল। ওদিকে ‘৯৭ এর এসেছে শাহেদ, সামিউর, আদনান এবং মাহবুবা। মাহবুবা আবার এক গাদা ফুল নিয়ে এসেছে, ‘কি ফুল’ জিজ্ঞাসা করতেই জানালো ‘মরুর ফুল’!!!! সামিউর এটা শুনে ফট করে বলে বসল, ‘শিউর কর্ছেন তো??? জবাবে ও আরবীতে হড়বড় করে অনেক কিছু বলল। সামিউর ব্যাটা তো কিছুই বুঝল না, কিন্তু আপনারা যারা একটু পুরনো তাদের অনেকেই জানেন- আরবী আমার চাতৃভাষা!! ফলে সহজেই বুঝলাম। তবে, সামিউরকে আর বললাম না, ওকে কি গালাগালিই না করল!!!

‘৯৬ এর প্রথমেই দেখলাম আন্দালিবকে। বড় অদ্ভুত এক পোশাক পড়ে এসেছে। কাছে আসতেই বুঝলাম, পোশাক নয়- অদ্ভুত ওর পড়নের বেল্টটি। অনেক চওড়া কিন্তু বেশ পাতলা। ওকে ডাক দিয়ে জিজ্ঞাসা করলাম,
-কিরে ব্যাটা, তোর বেল্ট এমন কেন???
-ভাই, এইটা আসলে বেল্ট না…ডিজিটাল একটা ডিসপ্লে!!! যে কোন কথাকে বাংলা ভাষায় রুপান্তর করে দেখায়।
-তাই নাকি??? আচ্ছা তোর লেটেস্ট লেখা ‘টেবিলিক’ টা একবার পড় তো দেখি…

ও মোবাইল দেখে দেখে পড়ল এবং আশ্চর্য্যের ব্যাপার, সত্যিই বেল্টের ওখানটায় ‘বাংলা’য় লেখা উঠতে থাকল। আমি তো সাবটাইটেল দেখেই চট করে বুঝে ফেললাম! অনেক দিন আগে ওকে একবার বলেছিলাম, ওর লেখার বাংলা সাবটাইটেল দেবার জন্য…সেটা যে এভাবে সত্যি হয়ে দেখা দেবে, কে জানত???? আমি আবেগাপ্লুত হয়ে গেলাম!!! টেকনোলজি আজ আমাদের জীবনকে কত সহজ করে দিচ্ছে…!!

এরপর দেখি একে একে আহসান আকাশ, মেহেদী হাসান, তৌফিক, ওর বউ শিরিন, আমিন, মুহিব, রানা…তৌফিককে দেখলাম ঘেমে নেয়ে একাকার। পরে শুনেছি, আসার সময় নাকি ওদের বাস নষ্ট হয়ে গিয়েছিল, স্টার্ট নিচ্ছিল না। সবাই মিলে ধাক্কা দিতে হয়েছে…একারনেই…

আহসান আকাশকে এই প্রথমবারের মতন দেখলাম। পোলাডা দেখি আসলেই অনেক চুপচাপ, ব্লগে যে কিভাবে এত ফটরফটর করে!!! জিজ্ঞাসা করলাম,
-কি রে কেমন আছিস?
-এই তো ভাই, আছি মোটামুটি…
-কয়দিনের ছুটি পাইলি?
-বেশিদিন না, এক সপ্তাহের সাত ভাগের পাঁচভাগ…!!!

কিছুটা থমকে গেলেও মুখে প্রকাশ করলাম না। আবার জিজ্ঞাসা করলাম,
-তা মিশনে যাবি কবে??
-আর মনে হয় বেশি দেরি নাই, খুব বেশি হলে ২৬ থেকে ৫২ সপ্তাহ…!!!

আজব তো! সব হিসাব দেখি সপ্তাহে…সমস্যা কি? চট করে মনে পড়ল, আরে তাই তো! ঠিকই আছে…ও তো সাপ্তাহিক আকাশ…!!!

‘সিসিটিভি’র উপস্থাপিকাকে দেখলাম আমিনের সাক্ষাৎকার নেবার চেষ্টা করছে। কিন্তু আমিনের সাফ জবাব,
-দেখুন, জ্যাম ফেস করে এসে এখন কিছু বলতে ইচ্ছে করছে না…পরে ধীরে সুস্থে বড় করে কমেন্ট করব, ঠিক আছে????

কামরুল তপুর সাথে কথা বলতে গিয়েও চুপ করে গেলাম। ও কার সাথে জানি কথা বলছিল। কানে ‘আপু সোনা’ আসতেই বুঝলাম ও পাড়ে কে আছে…তবে কোনজন, তা ঠিক বোঝা গেল না…

যাক, ‘৯৬ এর ব্যাচ তো গেল…এবার আমার নিজের ব্যাচ!! তবে, বেশি উচ্ছ্বাস দেখালাম না…কারন আমি তো আর ব্লগের অন্যান্য অনেকের মতন সাম্প্রদায়িক নই…আমি ধীরে সুস্থে আমাদের পোলাপাইনদের দেখে এগিয়ে গেলাম, এরপর হঠাৎ গলা ফাটিয়ে চিৎকার করে ‘দোস্তরা কেমন আছিস’ বলে সবার মাঝে এক প্রকার উড়ে গিয়ে পড়লাম… 😀

ব্লগে রেগুলার না হলেও আজ দেখলাম অনেকেই এসেছে…ইফতেখার, ফরিদ, সাব্বির, মেহেদী সুমন, সাদীদ, জাফর, তানভীর এবং অতি অবশ্যই শাওন। ফরিদকে দেখলাম ‘পানি পানি’ করে চিল্লাচ্ছে…এখানে আসার আগে ভার্সিটির ‘ঘৃণা স্তম্ভে’ এত থুথু দিয়ে এসেছে যে ওর গলা শুকিয়ে গেছে…সাব্বিরের কপালে দেখি কাটা দাগ, তাও একেবারে টাটকা। কানে কানে জানালো আসার সময় বাসে ওর পাশের সুন্দরী এক আপুর সাথে ফ্লার্ট করতে গিয়ে এমন হয়েছে…সেই আপু নাকি মল্লযোদ্ধা জব্বারের ভাতিজি…!!!!

‘৯৫ ব্যাচ যেতেই সবার মধ্যে হাল্কা চাঞ্চল্য লক্ষ্য করলাম। নিশচয়ই আগে থেকেই বলা ছিল, কারন এবার আসবে ‘৯৪ ব্যাচ। ব্লগের সবচেয়ে সক্রিয়, সংখ্যাগরিষ্ঠ এবং স্বঘোষিত অন্যতম সেরা ব্যাচ…কি বলেন কাইয়ূম ভাই??? কিন্তু কাইয়ূম ভাই কোন জবাব দিলেন না, বরং রাগী রাগী চেহারা করে তাকিয়ে রইলেন।

আমার আগেই একটা সন্দেহ ছিল যে ক্যাডেট কলেজ কর্তৃপক্ষ সম্ভবত ‘৯৪ সালে এবং ‘৯৯ সালে স্বাভাবিকের চেয়ে অনেক বেশি ক্যাডেট নিয়েছিল। আজ সেই সন্দেহ বদ্ধমূল ধারনায় রূপ নিল।

মাইকে ঘোষনা আসতেই লাখে লাখে ‘৯৪ এর সবাই আসতে শুরু করল…কারে বাদ দিয়া কার কথা কই…রবিন ভাই, তানভীর ভাই, আদনান ভাই, সাইফ ভাই, শোয়েব ভাই, মান্নাদা, মিশেল ভাই, আরিফ ভাই, শহীদ ভাই, আরমান ভাই, টিটো ভাই, সিরাজ ভাই…উফ…কি বোর্ডে আর এত অক্ষর নাই…

মঈন ভাইকে দেখলাম ব্যাপক গেট আপ নিয়েছেন। জিন্স, ফ্লানেলের শার্ট, মাথায় হ্যাট এবং পায়ে বুট। পুরা ওয়েস্টার্ন এর নায়ক!! অ্যারিজোনার প্রভাব এখনো কাটে নাই মনে হয়…এক হাতে অয়োময়কে ধরে অন্য হাতে ল্যাপটপ নিয়ে আসছেন। জিজ্ঞাসা করলাম,
-বস, একা যে? কাহিনী কি?
-কাহিনী আর কিছুই না…বিশেষ অতিথীরা পরে আসবেন…
-আর জাভিয়ের??
-সেও তার মায়ের সাথেই আসবে…
-সবই বুঝলাম, কিন্তু আপনার হাতে ল্যাপটপ কেন??
-আর বলিস না, ল্যাপটপের কুফা লাগছিল…আমেরিকা যাবার পরই বিগড়ায়া গেছে…এই জন্য ডেটাবেজের কাজ বেশি আগায় নাই…এখন এসেম্বলীতে বসে বসে কাজ দেখাবো, যাতে প্রিন্সু স্যার ঝাড়ি না মারেন…

অয়োময়কে কোলে নিয়ে ওনার সাথে সাথে গিয়ে সিটে বসিয়ে দিয়ে আসলাম। পাশেই দেখি তানভীর ভাই কেমন ঘোর লাগা চোখে তাকিয়ে আছেন। কি হল?? রবিন ভাই বললেন,
-ফ্যান্টাসি ফুটবলে ব্যাপক সাফল্য পেয়ে ও এখন সারাদিনই ফ্যান্টাসির জগতে থাকে…অবশ্য, যে বাংলাদেশের মধ্যে সবার আগে ১০০০ ক্রস করেছে, সে এইটুকু করতেই পারে, কিব্লিস???

এটুকু বলেই রবিন ভাই ক্যামেরা বের করে ছবি তোলা শুরু করলেন। নিশ্চয়ই পরে ফাঁকিবাজি করে ফটো-ব্লগ দেবার ধান্দা…

মান্নাদা এক কোনায় চুপ করে বসে আছেন। তাও একেবারে মাফলার, ক্যাপ পড়ে নিজেকে ঢেকে রেখে…
-মান্নাদা, এই গেট-আপের মাজেজা কি?
-আর কইস না, যে কোন গ্যাদারিং এ গেলেই এখন আমার ভয় লাগে…কখন কোন প্রেমিকার সাথে দেখা হয়ে যায়…তাই একটু…

সম্পদের এহেন বৈষম্যমূলক বন্টন দেখে মন তেতো হয়ে গেল…কেউ পায় না…কেউ চায় না…পুঁজিবাদী সমাজ ব্যবস্থার হেন…থুক্কু…কিসেরে মধ্যে কি কই?

টিটো ভাইকে দেখলাম মিষ্টি মিষ্টি করে কার সাথে জানি কথা বলছেন। কথা শেষ করে আস্তে করে জানালেন,
-নেক্সট নাটকের নায়িকা ঠিক করে ফেললাম…!!
-বস, গোলাগুলির সময় ডাক দিয়েন, মেকিং দেখব…
-আরে দেখবি…দেখবি…কাজটা আগে শুরু করি তো…
-ভালো কথা, তারেক ভাই কই? আইবো না?
-নারে, মেলা দিন ধরে চিল্লাইতেছিল না, ‘এক দিনের জন্য হলেও কবি হতে চাই??’ আজ সকালে উঠে দেখে ও কবি হয়ে গেছে…তাই, একটার পর একটা কবিতা লিখে যাচ্ছে…

কবিতা তেমন ভাল লাগে না, কিন্তু তারেক ভাই যাই লেখেন তাই গোগ্রাসে পড়ি…তাই, ‘অচিরেই ওনার লেখা পাব’ ভেবেই মনটা ফুরফুরে হয়ে গেল। আরো ভালো লাগল যখন দেখলাম অবশেষে ‘৯৪ এর সবাই মিলনায়তনে চলে গেছেন, অর্থাৎ আর কেউ বাকি নেই…বাপ্রে বাপ…ইনটেক একটা…!!!

ঠিক তখনই মাইকে কামরুল ভাই এর সুরেলা কন্ঠ শুনতে পেলাম, ‘এবার আসছে ‘৯৩ এর ভাই এবং বোনেরা…’

১,৪৯০ বার দেখা হয়েছে

৪৯ টি মন্তব্য : “প্রিন্সিপাল এসেম্বলী (সিসিবি ভার্সন) পর্ব ২”

  1. রকিব (০১-০৭)

    জুনাদা আমারে সেই যে লং আপ করাইছেন আগের পর্বে, নামাইবেন কবে?? :(( :((
    পরের পর্বের জন্য এ্যায়সা এক ঠেলাআআআআআআআআআ। :grr:


    আমি তবু বলি:
    এখনো যে কটা দিন বেঁচে আছি সূর্যে সূর্যে চলি ..

    জবাব দিন
  2. মিশেল (৯৪-০০)
    আজব তো! সব হিসাব দেখি সপ্তাহে…সমস্যা কি? চট করে মনে পড়ল, আরে তাই তো! ঠিকই আছে…ও তো সাপ্তাহিক আকাশ…!!!

    =)) =)) =))

    আমি তো সাবটাইটেল দেখেই চট করে বুঝে ফেললাম!

    হা হা হা :khekz: :khekz: :khekz: =)) =)) =))

    জবাব দিন

মন্তব্য করুন

দয়া করে বাংলায় মন্তব্য করুন। ইংরেজীতে প্রদানকৃত মন্তব্য প্রকাশ অথবা প্রদর্শনের নিশ্চয়তা আপনাকে দেয়া হচ্ছেনা।