ভাতিজার স্কুলে প্রথম দিন…সাথে একটি স্মৃতিচারণ ফ্রি…!!

মানুষের জীবনে কিছু কিছু দিন আছে খুবই গুরুত্বপুর্ণ। নানাভাবে এসব দিন আমাদের জীবনকে প্রভাবিত করে। এই দিন গুলোর মধ্যে নিঃসন্দেহে অন্যতম একটি হচ্ছে স্কুলে যাবার প্রথম দিনটি। এই দিনটি এতই গুরুত্বপূর্ণ যে বিভিন্ন পরীক্ষায় (বাংলা বা ইংরেজী) এই দিনটির উপর রচনা লিখতে বলা হয়ে থাকে… :khekz: !!! বেশিরভাগ ছেলেমেয়েই এদিন ভীষণ আগ্রহভরে বাবা অথবা মা, কিংবা দুজনের সাথে…নতুবা বড় ভাই-বোনের সাথে স্কুলে গিয়ে থাকে। এ দিনের পর সেই যে যাওয়া শুরু হয়…তা চলতেই থাকে…চলতেই থাকে…অনেকের তো বুড়ো বয়সেও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যাওয়া বন্ধ হয় না…!!! ;;;

আজ ছিল আমাদের মাহিনের স্কুলে যাবার প্রথম দিন। গত কিছুদিন থেকেই এই দিনটিকে সামনে রেখে ওর প্রস্তুতিগ্রহণ ছিল দেখার মতন…ড্রেস বানানো, বই খাতা কেনা, জুতা-মোজা কেনা…সব মিলিয়ে পুরো উৎসবের আমেজ। আজ যাতে কোন মতেই দেরী না হয় সেজন্য গতকাল রাতে নিজে নিজেই আগেভাগে শুয়ে পড়েছিল…

ওর কাহিনী দেখে আমার নিজের স্কুলের প্রথম দিনগুলোর কথা মনে পড়ে গেল।
সে সময় আমরা ছিলাম ঝিনাইদহ জেলার ছোট্ট একটি উপজেলা- কোটচাঁদপুর এ। ভাইয়া তখনো ক্যাডেট কলেজে যায় নি। কোন এক বিশেষ দিন আমাকে নিয়ে যাওয়া হল স্কুলে ভর্তি করিয়ে দেবার জন্য। আমার অবশ্য স্কুলে যাওয়া নিয়ে খুব বেশি একটা আগ্রহ ছিল না। সত্যি কথা বলতে কি আমি স্কুল মোটেই পছন্দ হয় নি। আমাকে স্কুলে নিয়ে গিয়েছিল আমার বাবা। ঐ সময় আব্বু ভেসপা চালাতেন। স্কুলে যাবার দুটো রাস্তা ছিল- একটা ছিল পাকা রাস্তা, অন্যটি ছিল শর্টকাট। আব্বু আমাকে স্কুলে দিয়ে অফিসে ফেরত গিয়ে দেখেন আমি ততক্ষণে শর্টকাট রাস্তা দিয়ে বাসায় পৌঁছে গেছি…(আমরা থাকতাম সরকারী কোয়ার্টারে, অফিসের বাউন্ডারির মধ্যেই ছিল সেটা…)। প্রথম দিনই এরকম হওয়ায় আব্বু-আম্মু সহ বাসার সবাই খুব মজা পেয়েছিল। কিন্তু দেখা গেল আমি প্রায় প্রতিদিনই এমন করছি…
এরকম এক সুন্দর সাত সকালে আব্বু আমাকে স্কুলে নিয়ে যাচ্ছিলেন…আমি যথারীতি মুখ কালো করে ‘স্কুলে যাবো না’ টাইপ ঘ্যানঘ্যান করছি…স্কুলে যাবার পর আব্বু আমাকে কিছুক্ষণ বোঝানো চেষ্টা করেও যখন পারলেন না, তখন আমার দিকে তাকিয়ে ঠাণ্ডা স্বরে বললেন, ‘ঠিক আছে বাসায় চল’। এই না শুনে আমি খুশিতে বাকবাকুম করতে করতে ভেসপায় লাফ দিয়ে চড়ে বসলাম। তখনো তো বুঝতে পারি নি সামনে কি ঘনিয়ে আসছে…

এরপরের ঘটনা খুব সামান্য। বাসায় নিয়ে ভেসপা থেকে নেমেই আমাকে দুই-চার ঘা বসিয়ে দিলেন…আমি আমার পথের দিশা পেয়ে গেলাম!!! পরদিন কেউ কিছু বলার আগেই আমি রেডি হয়ে স্কুলে একা একাই চলে গেলাম…এরপর যত রোদ-বৃষ্টি-ঝড় ই হক না কেন, আমাকে স্কুলে যাওয়া থেকে বিরত রাখা যেত না…লোকে ঠিকই বলে ‘মাইরের উপর ওষুধ নাই…!!!’

যাহোক, এখনকার ছেলেমেয়েরা স্কুলে যেতে এমনিতেই পছন্দ করে…সুতরাং ভাতিজাকে স্কুলে নিয়ে যাবার ব্যাপারে কোন ঝামেলা পোহাতে হবে না-এটা সুনিশ্চিত।
নিচে ওর স্কুলে যাবার প্রথমদিনের কয়েকটা ছবি দিয়ে দিলাম। জানি বলার দরকার নেই, আপনারা এম্নিতেই…তবুও আনুষ্ঠানিকতা রক্ষা করে বলি, আপনারা আমার ভাতিজার উজ্জ্বল ভবিষ্যতের জন্য দোয়া করবেন।

স্কুলে যাবার খুশি...কই, আমাদের সময় তো এমন ছিল না...!!!

স্কুলে যাবার খুশি...কই, আমাদের সময় তো এমন ছিল না...!!!


নাহ্‌, পোলাডা অহনো সাবধানে দাঁড়ানো শিখল না...ঐ মাহি ই ই ই ন...যেমন ছিলে...!!!

নাহ্‌, পোলাডা অহনো সাবধানে দাঁড়ানো শিখল না...ঐ মাহি ই ই ই ন...যেমন ছিলে...!!!


পুরোপুরি প্রস্তুত...!!!

পুরোপুরি প্রস্তুত...!!!


স্কুলে যাস, নাকি ফটো সেশনে???...grrr

স্কুলে যাস, নাকি ফটো সেশনে???...grrr


স্কুলে যা তো আগে, তারপর টের পাবি...

স্কুলে যা তো আগে, তারপর টের পাবি...


বাপ বেটা...!

বাপ বেটা...!


ইটস আ কোডাক মোমেন্ট...

ইটস আ কোডাক মোমেন্ট...

৫,১০৮ বার দেখা হয়েছে

৬০ টি মন্তব্য : “ভাতিজার স্কুলে প্রথম দিন…সাথে একটি স্মৃতিচারণ ফ্রি…!!”

  1. সানাউল্লাহ (৭৪ - ৮০)

    মাহিনের জন্য আদর। ভাতিজাডাও মাশাল্লাহ! স্কুলের সব মাইয়া ফল-ইন হইবো পিছনে!!

    যাই খুশিতে ইফতারির কলাটা খাইয়া আসি!! :goragori: :goragori: :goragori:


    "মানুষে বিশ্বাস হারানো পাপ"

    জবাব দিন
  2. এখনকার ছেলেমেয়েরা স্কুলে যেতে এমনিতেই পছন্দ করে…সুতরাং ভাতিজাকে স্কুলে নিয়ে যাবার ব্যাপারে কোন ঝামেলা পোহাতে হবে না-এটা সুনিশ্চিত।

    =)) =)) :clap:

    তা তো হইবই.........তবে কম্বাইন স্কুল হইলে,আগে আমরা যেইসব,১১-১২ তে উইঠা চিন্তা করতাম,এখনকার পোলাপান তা ৪-৫ এ উইঠা চিন্তা ভাবনা করে। 😉
    তা জুনা ভাই,ভাতিজা রে কোন ইস্কুলে ভর্তি করাইলেন??এংরাজী প্রধান মাধ্যমে???

    জবাব দিন
  3. আহসান আকাশ (৯৬-০২)

    জুনা ভাই, কতদিন পর...

    ভাতিজার জন্য দোয়া রইল... স্কুল থেকে ফেরার পরে স্কুল সম্পর্কে তার অভিমত কি?


    আমি বাংলায় মাতি উল্লাসে, করি বাংলায় হাহাকার
    আমি সব দেখে শুনে, ক্ষেপে গিয়ে করি বাংলায় চিৎকার ৷

    জবাব দিন
  4. দিহান আহসান

    জুনায়েদ কবির ভাইয়া দেখি অনেক দিন পর ফাঁকিবাজি পোষ্ট দিসে, :duel:

    যাই এই খুশীতে ফ্রিজ থিকা একটা মিষ্টি খাইয়া আসি :grr:

    ভাতিজাতো মাশাল্লাহ অনেক অনেক সুইট-কুইট, পুট পুটি, কুট কুটি, আমার আদর দিও।

    জবাব দিন
  5. কামরুল হাসান (৯৪-০০)

    ওমা! এই পোলা এতো বড় হইয়া গেল ক্যাম্নে?
    লাস্ট গেট-টুগেদারে না আরো ছোট দেখছিলাম। 😛

    যা ব্যাটা, বেশি কইরা পড়াশুনা কইরা মানুষের মতো মানুষ হ! 🙂
    চাচার মতো গাছ হইস না! 😉


    ---------------------------------------------------------------------------
    বালক জানে না তো কতোটা হেঁটে এলে
    ফেরার পথ নেই, থাকে না কোনো কালে।।

    জবাব দিন
  6. রকিব (০১-০৭)

    ভাতিজার হাতেখড়ির জন্য অনেক অনেক আদর রইলো। দেখতে দেখতে চারাগাছটা দেখি ভালো বড় হয়ে যাচ্ছে। কবে যে পুরা গাছ হবে :dreamy: :dreamy:


    আমি তবু বলি:
    এখনো যে কটা দিন বেঁচে আছি সূর্যে সূর্যে চলি ..

    জবাব দিন
  7. ফয়েজ (৮৭-৯৩)

    :grr: :grr:

    জুনা, কেস তো বুঝলাম না, পোলার বাপের ঘ্যাড় ত্যাড়া ত্যাড়া লাগে ক্যান?

    হ ঠিকই কইছো, এরা স্কুলরে প্রচুর লভ করে। আমাগো উলটা।


    পালটে দেবার স্বপ্ন আমার এখনও গেল না

    জবাব দিন
  8. এরপরের ঘটনা খুব সামান্য। বাসায় নিয়ে ভেসপা থেকে নেমেই আমাকে দুই-চার ঘা বসিয়ে দিলেন…আমি আমার পথের দিশা পেয়ে গেলাম!!!

    খুব মজা পাইছি ॥ মাহিন অন্নেক কিউট

    জবাব দিন

মন্তব্য করুন

দয়া করে বাংলায় মন্তব্য করুন। ইংরেজীতে প্রদানকৃত মন্তব্য প্রকাশ অথবা প্রদর্শনের নিশ্চয়তা আপনাকে দেয়া হচ্ছেনা।