ব্লগানুবাদঃ দ্য সেলফিশ জীন – রিচার্ড ডকিন্স

[নিজের কথাঃ কথায় বলে মাথায় কিছু না থাকলে অন্যের মাথার জিনিস নিয়ে ঘাঁটাঘাঁটি করা উত্তম। বিছানার পাশের টেবিলে পড়েছিলো বইটা। মাঝে মাঝে গুরুগম্ভীর বই ঘুমের টনিক হিসেবে ভালো। রিচার্ড ডকিন্সের প্রবল যুক্তিঘেঁষা আলোচনার পদ্ধতি আমার ভীষণ প্রিয়। বিবর্তন নিয়ে অনেক কু-ধারণা, কু-মত, আমাদের মাঝে বিরাজ করে। সেটা কি অজ্ঞতাবশত নাকি ভয়বশত তা আমি জানি না। ডকিন্স অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘Public Understanding of Science’ বিভাগের একজন প্রফেসর। তাঁর এই বইটি ১৯৭৬ সালে প্রকাশিত হয়েছিলো। সব মিলিয়ে প্রায় সাড়ে তিনশ পৃষ্ঠার বইটি আমি পুরো পড়ে শেষ করতে পারিনি এখনও। অনুবাদের শখ জেগেছে, যাতে আমার চাইতে কম আগ্রহীরাও এই বইটি পড়তে পারেন। প্রথম অধ্যায়ের চার-পাঁচ পাতা অনুবাদ করলাম। ভাষা, আঙ্গিকসহ যে কোন ব্যাপারে সকলের মতামত নির্দ্বিধায় জানাবেন। এমনকি থেমে যাওয়া উচিত হইলেও! মূর্খের হাতে জ্ঞান পড়ে নষ্ট না হওয়াও ভালো!]

প্রথম অধ্যায়ঃ মানুষ কেন?

একটি গ্রহে বুদ্ধিমান জীব পূর্ণতা পায় যখন তারা নিজেদের অস্তিত্বের কারণ খুঁজে বের করতে পারে। যদি বাইরের জগত থেকে কোন অতি বুদ্ধিমান প্রাণি পৃথিবীত আসতো, তাহলে তারা প্রথম যে প্রশ্নটি করতো সেটা হলো, ‘এই প্রাণিরা কি এখনো বিবর্তন আবিষ্কার করেছে?’ পৃথিবীতে প্রাণের উৎপত্তির প্রায় তিন হাজার মিলিয়ন বছর পর্যন্ত একজন ছাড়া এই সত্য আর কারো কাছে উন্মোচিত হয়নি। সেই একজনের নাম চার্লস ডারউইন। সত্যি বলতে কি, অনেকেই এই সত্যের খুব কাছাকাছি ধারণা করেছেন, কিন্তু ডারউইনই প্রথম আমাদের অস্তিত্বের সবচেয়ে গ্রহণযোগ্য এবং অকাট্য ধারণা দিতে পেরেছেন। এই অধ্যায়ের শিরোনামে যেই শিশুর মতো অবুঝ প্রশ্নটা তার খুব যুক্তিপূর্ণ উত্তর আমরা যাতে দিতে পারি সেই সুযোগ ডারউইন করে দিয়েছেন। জীবনের নানা গভীর অনুসন্ধান, যেমনঃ এই জীবনের কোন অর্থ আছে কী না? আমরা কেন এই পৃথিবীতে এসেছি? মানুষ কী? এগুলোর উত্তর জানতে আমাদের আর অলৌকিকতার কাছে আত্মসমর্পণের দরকার নেই। শেষবার এই ধরনের প্রশ্নগুলো নিয়ে কথা বলতে গিয়ে খ্যাতনামা প্রাণিবিজ্ঞানী G. G. Simpson বলেছেন,

আমি যা বলতে চাই তা হলো ১৮৫৯ সালের আগে এইসব প্রশ্নের উত্তর দেয়ার সকল প্রচেষ্টা এখন মূল্যহীন, এবং আমরা সেগুলো পুরোপুরি উপেক্ষা করলেই ভালো থাকবো।

আজ বিবর্তনতত্ত্ব ততোটাই নিঃসংশয়, যতোটা পৃথিবীর সূর্যকেন্দ্রিক ঘূর্ণনতত্ত্ব; যদিও ডারউইনের বৈজ্ঞানিক বিপ্লবের পুরো প্রভাব বিচার করা এখনো সম্ভব হয়নি। প্রাণিবিদ্যা এখনো বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে একটা গৌণ বিষয়, এমনকি যারা এটি নিয়ে পড়াশোনা করছেন তাদের অনেকেই এর প্রগাঢ় দার্শনিক গুরুত্ব না বুঝেই বিভিন্ন সিদ্ধান্তে উপনীত হচ্ছেন। দর্শন এবং ‘মানবিক’ বিভাগের বেশিরভাগ বিষয়ই এমনভাবে পড়ানো হয় যেন ডারউইন নামে কেউ ছিলেনই না! আমার কোন সন্দেহ নেই যে এটা বদলে যাবে। যা হোক, এই বইটি ডারউইনবাদের ওকালতি করতে লেখা হয়নি। বরঞ্চ এটি বিবর্তনতত্ত্বের একটি বিশেষ দিকের প্রভাব ও ফলাফল আলোচনা করবে। স্বার্থপরতা ও পরার্থবাদের জৈবনিক উদ্দেশ্য ঘেঁটে দেখাই আমার উদ্দেশ্য।

গবেষণাগত গুরুত্বের পাশাপাশি এই বিষয়ের মানবিক গুরুত্বও অনুমেয়। এই বিষয়টি আমাদের সামাজিক জীবনের সবগুলো দিককে স্পর্শ করে, আমাদের ভালোবাসা আর ঘৃণা, কলহ আর সহযোগিতা, দাতব্যতা আর চৌর্যতা, আমাদের লোভ এবং উদারতা। এই আলোচনার দাবি আরো কয়েকটি বই করতে পারে, Lorenz এর On Aggression, Ardrey এর The Social Contract, এবং Eibl-Eibesfeldt এর Love and Hate সেগুলোর মাঝে উল্লেখ্য। তবে বইগুলোর সমস্যা হলো এগুলোর লেখকেরা বিষয়টি সম্পূর্ণরূপে ভুল বুঝেছেন। তাদের ভুল করার কারণ তারা বিবর্তনের মূল প্রক্রিয়াটিকে বুঝতে পারেননি। তারা সকলেই বিবর্তনের ব্যাপারে একটা ভ্রান্ত অনুমান করেছেন যে প্রজাতির (বা দলের) ভালো দিকগুলো, একক প্রাণির (বা তার জীনের) ভাল দিকের চাইতে অধিক গুরুত্বপূর্ণ। পরিহাসের বিষয় হলো Ashley Montagu লরেঞ্জের সমালোচনা করতে গিয়ে তাকে ‘উনবিংশ শতকের “Nature red in tooth and claw” চিন্তাবিদদের সরাসরি বংশধর’ হিসেবে তুলনা করেছেন। অথচ লরেঞ্জের বিবর্তন বিষয়ে দৃষ্টিভঙ্গি আমি যতোটা বুঝতে পারি, তিনি Tennyson-এর এই বিখ্যাত পঙক্তিটির বিরোধিতায় মন্টেগুর সাথেই একমত হবেন। তাদের দুজনের বিপরীতে দাঁড়িয়ে আমি বলতে চাই “Nature red in tooth and claw” পঙক্তিটি দিয়েই প্রাকৃতিক নির্বাচনের আধুনিক ধারণাটি সহজে বোঝা যায়।

আমার যুক্তিগুলো দেয়ার আগে আমি সংক্ষেপে এই যুক্তি কী ধরনের এবং কী ধরনের নয় সেটা বলতে চাই। আমাদের যদি কেউ বলে যে একজন মানুষ শিকাগোর গ্যাংস্টারদের মাঝে সারাজীবন কাটিয়েছে, তাহলে সে কেমন মানুষ ছিলো সেই ব্যাপারে আমরা কিছু কিছু অনুমান করতেই পারি। আমরা আশা করতে পারি যে তার মধ্যে শক্তিমত্তা, ক্ষিপ্র ট্রিগার আঙ্গুল আর অনুগত বন্ধুদের প্রতি বাৎসল্যের মতো গুণাবলি থাকবে। এগুলো একেবারে বাঁধাধরা নিখুঁত পর্যবেক্ষণ না, তবে যদি কোন মানুষের টিঁকে থাকা ও সাফল্যের পরিবেশ সম্বন্ধে আমাদের জানা থাকে, তাহলে তার চরিত্রের ব্যাপারে আমরা একটি মতামতে উপনীত হতে পারি। এই বইয়ের বক্তব্য হলো আমরা এবং সকল প্রাণিরা কেবলমাত্র আমাদের জীনের তৈরি এক ধরনের যন্ত্র। সফল শিকাগোর গ্যাংস্টারদের মতোই আমাদের জীনগুলো এই প্রবল প্রতিদ্বন্দ্বিতায় ভরা পৃথিবীতে টিঁকে আছে, কখনো কখনো প্রায় মিলিয়ন বছর ধরে। এই তথ্য আমাদের জীনগুলোর ব্যাপারে কিছু সিদ্ধান্তে আসার সুযোগ দেয়। আমি দাবি করি যে একটি সফল জীনের মধ্যে এই একরোখা স্বার্থপরতাই মূল চালিকাশক্তি। জীনের এই স্বার্থপর আচরণই ব্যক্তির আচরণে স্বার্থপরতার জন্ম দেয়। তবে, কিছু বিশেষক্ষেত্রে দেখা যায় যে কোন জীন তার নিজের স্বার্থপর উদ্দেশ্য ভালোভাবে আদায় করতে পারে যদি সেটা একক ব্যক্তিপর্যায়ে কিছুটা সীমিত উদারতা দেখায়। ‘বিশেষ’ এবং ‘সীমিত’ শব্দ দুইটা এখানে খুব গুরুত্বপূর্ণ। যতোই অস্বীকার করতে চাই না কেন, পুরো প্রজাতির সার্বজনীন ভালোবাসা আর পরোপকার বিষয়গুলো কোন বিবর্তনীয় অর্থ তৈরি করে না।

এর সাথে সাথেই চলে আসে যে এই বইটিতে আমি কী বলতে চাই না তার প্রথম কথাটি। আমি বিবর্তনের ওপর ভিত্তি করে কোন নৈতিকতা প্রচার করছি না। আমি বলতে চাইছি সবকিছু কীভাবে বিবর্তিত হয়েছে। আমি বলছি না মানুষ হিসেবে নৈতিকভাবে কেমন আচরণ করা উচিত। আমি এটা জোর দিয়ে বলছি কারণ আমি জানি আমি এমন অনেক মানুষের কাছে ভুলভাবে পঠিত হবো, যারা একটা বিষয়ের ব্যাপারে বক্তব্য এবং বিষয়টি কেমন হওয়া উচিত তার প্রচারণা, এই দুইয়ের মাঝে পার্থক্য করতে পারেন না। আমার নিজের বিশ্বাস, কোন সমাজ যদি কেবলমাত্র জীনের একরোখা স্বার্থপরতার সূত্রের ওপর ভিত্তি করে গড়ে ওঠে তবে সেই সমাজ বসবাসের জন্যে খুবই অনুপযুক্ত, নোংরা। দূর্ভাগ্যজনক হলেও সত্যি যে আমরা যতোই সেটাতে বিশ্বাস করি না কেন, জীনের এই বৈশিষ্ট্য অস্বীকারের উপায় নেই। এই বইয়ের বক্তব্য আকর্ষণীয় হওয়ার কথা, তবে আপনি যদি এখান থেকে কোন নৈতিকতা বের করতে চান তবে সতর্ক হোন। আগেই সতর্ক করে দিচ্ছি, আপনি যদি এমন একটা সমাজ গড়ে তুলতে চান যেখানে প্রত্যেকে নিঃস্বার্থভাবে এবং উদারতার সাথে সকলের ভালোর জন্যে কাজ করে, ধরে নিতে পারেন আমাদের পশুবৃত্তি আপনাকে তেমন সাহায্য করবে না। আসুন, আমরা উদারতা ও নিঃস্বার্থতা শেখানোর চেষ্টা করি, যেহেতু আমরা জাত-স্বার্থপর। আগেই বুঝে নেয়া দরকার যে আমাদের স্বার্থপর জীন কী করতে যাচ্ছে, যাতে করে সেই নকশা ভেস্তে দেয়ার একটা সুযোগ আমরা পাবো, যা কোন প্রজাতির প্রাণি করার সাহস করেনি।

শিক্ষার এই বক্তব্যের পাশাপাশি এটা বলে রাখি, যে জীনগতভাবেই আমরা সব বংশগত বৈশিষ্ট্য পেয়ে থাকি এবং তা অপরিবর্তনীয়- এমন যুক্তি একটা খুব সাধারণ ফ্যালাসি। আমাদের জীন আমাদের স্বার্থপরতা শেখায়, তবে সেই শিক্ষা সারাজীবন মানতে আমরা কেউ বাধ্য নই। এমন হতে পারে যে এখন উদারতা শেখা যতোটা কঠিন, সেটা একটু সহজ হতো যদি জীনগতভাবেই তা শেখানো হতো। প্রাণিদের মাঝে একমাত্র মানুষই তার সংস্কৃতি দিয়ে নিয়ন্ত্রিত হয়, কিছু কিছু শিখে, কিছু কিছু দেখে। অনেকে হয়তো বলবেন, সংস্কৃতি এতোটাই জরুরি যে জীন স্বার্থপর হোক আর না হোক, তাতে কিছু যায় আসে না, মনুষ্যপ্রকৃতি বুঝতে জীনের গুরুত্ব মোটামুটি অপ্রাসঙ্গিক। আবার অন্যেরা এর সাথে দ্বিমত করবেন। আসলে মানুষের আচরণ বিশ্লেষণ নির্ভর করে “প্রকৃতি বনাম শিক্ষা” বিতর্কে আপনি কোন পক্ষে দাঁড়াচ্ছেন সেটার ওপরে। এই বইটি কী ধরনের নয় সেটার দ্বিতীয় পয়েন্টটা এরই সাথে চলে আসেঃ এই বইটি প্রকৃতি/শিক্ষা বিতর্কের যে কোন একটা পক্ষের সাফাই গাইবে না। স্বাভাবিকভাবেই এই বিষয়টায় আমার একটা মতামত আছে, তবে সেটা আমি এখানে প্রকাশ করতে চাই না, তবে শেষ অধ্যায়ে সংস্কৃতির ব্যাপারে আমার দৃষ্টিভঙ্গি পাওয়া যাবে। যদি জীনগত বৈশিষ্ট্য আমাদের আচরণে কোনই প্রভাব না ফেলে, যদি আমরা বাকি সব প্রজাতির প্রাণিদের থেকে এতোটাই আলাদা হয়ে থাকি, তবে সেই ব্যতিক্রম আমরা কেন হয়ে উঠলাম সেই গবেষণাও খুব আকর্ষণীয় হবে। আর যদি আমরা প্রাণিজগত থেকে যতোটা আলাদা ভাবি ততোটা আলাদা না হয়ে থাকি, তাহলে এই নিয়মের অধ্যয়ন খুবই জরুরি।

এই বইটি কী ধরনের নয় তার তৃতীয়টি হলো এটি মানুষ বা অন্য কোন প্রজাতির আচরণের বিস্তারিত বিবরণ নয়। কেবল প্রাসঙ্গিক উদাহরণ হিসেবেই আমি কিছু কিছু তথ্য নিবেদন করবো। আমি কখনই বলবো নাঃ “আপনি যদি বেবুনের আচরণ পর্যবেক্ষণ করেন তাহলে দেখবেন যে তারা স্বার্থপর; সুতরাং মানুষের আচরণও স্বার্থপর হওয়ার সম্ভাবনা থাকে”। আমার ‘শিকাগোর গ্যাংস্টার’ নিয়ে উদাহরণের পেছনে যুক্তিটা এর থেকে আলাদা। সেটা এরকম- মানুষ এবং বেবুন প্রাকৃতিক নির্বাচন দ্বারা বিবর্তিত হয়েছে। যদি আপনি প্রাকৃতিক নির্বাচনের পদ্ধতির দিকে তাকান, তাহলে মনে হবে যে এর দ্বারা বিবর্তির যেকোন প্রজাতিই স্বার্থপর হবার কথা। সুতরাং যে কোন প্রজাতির, তা সে মানুষ বা বেবুন বা অন্য কোন প্রজাতির বৈশিষ্ট্য খুঁজতে গেলে আমরা ধরে নিতে পারি যে তা স্বার্থপর হবে। যদি আমরা সত্যিই খুঁজে পাই যে অনুমানটা ভুল, যদি সত্যিই মানুষের আচরণ পুরোপুরি উদার, তাহলে আমরা বিভ্রান্তিকর কিছু একটা পাবো, এমন কিছু যার ব্যাখ্যা আমাদের বের করতে হবে।

(চলবে?)
*******

৩,৮৯৩ বার দেখা হয়েছে

৩১ টি মন্তব্য : “ব্লগানুবাদঃ দ্য সেলফিশ জীন – রিচার্ড ডকিন্স”

  1. রায়হান আবীর (৯৯-০৫)

    সেলফিশ জিন!!

    চমকে উঠলাম সিসিবিতে ঢুকে। ডকিন্সের বই পড়া শুধু একটা কারণেই কষ্ট যে লোকটা এতো কঠিন আর এত বেশি কথা বলে 😀 যে ঘুম পেয়ে যায়।

    বাংলায় পড়লে আমার মতো "মনোযোগ ধরে রাখতে অপারগ" মানুষের জন্য উপরের অসুবিধা আর থাকবেনা।

    ডকিন্সের বইগুলো বিবর্তন বুঝার জন্য খুবই দরকারী (জনপ্রিয় করার চেয়েও)। কতকিছুর বাংলা অনুবাদ হয়, এর বইগুলোই হয়না। আন্দালিব ভাই তাই ধন্যবাদ পাবে। একবছরের প্ল্যানে পুরোটা অনুবাদ করে ফেলার চেষ্টান :D, লোডশেডিং, জাম শেডিং এর মধ্যে যদি সময় করে উঠতে পারেন আরকি। আর সত্যি বলতে ডকিন্স অনুবাদ শুরু করলে সেলফিশ জিন দিয়েই শুরু করা উচিত। আমাদের মুহাম্মদ প্ল্যান নিছিলো। তবে ও যেই অলস, সেই প্ল্যান জীবনের সফল হবেনা।

    এই পর্বের অনুবাদ সহজবোধ্য হয়েছে। ডকিন্সের গড ডিলুশ্যনের অনুবাদ শুরু করেছিলের অজয় রায় স্যার। তার অনুবাদটা বেশ কঠিন, ডকিন্সের ইংরেজির মতো দাঁতভাঙ্গা। আপনারটা একদম ঝরঝরে। পুরা বইটা আসলেই অনুবাদের চেষ্টা করেন 🙂

    জবাব দিন
    • আন্দালিব (৯৬-০২)

      ডকিন্সের বেশি কথা বলা আর কথা প্যাঁচায় বলার ঠেলা এখন বুঝতেছি। পড়ার সময়ে এরকম জায়গাগুলো চোখ বুলিয়ে যাওয়া যেত, কিন্তু এখন তো থেমে যাচ্ছে গাড়ি!

      আমার মতে এই বইগুলোর সহজ অনুবাদ হওয়া উচিত। পাঠ্য বই বা তারচেয়েও কঠিন বাংলা একেবারেই ব্যবহার করা উচিত না।

      পুরা বই কি আমার করার কথা ছিলো? তুমি না বলেছিলে এটা মিলিত প্রজেক্ট? আমাকে খালি ২ অধ্যায় করতে হবে?
      এখন পুরা বই গছায় দিলে আলসের দল! আমার কী হপে? x-(

      দিনপ্রতি একপাতা করে অনুবাদ করলে বছরের শেষে পুরা বই হয়ে যাবে আশা করি। অন্যেরাও হাত লাগালে আরো তাড়াতাড়ি হবে। 🙂

      জবাব দিন
      • রায়হান আবীর (৯৯-০৫)

        সেটা তো ছিল গ্রেটেস্ট শো অন আর্থ প্রজেক্ট। তবে ডকিন্স হিসেব করলে গ্রেটেস্ট শো অন আর্থ এর চেয়ে এইটা অনুবাদ বেশি দরকার। বিবর্তনের বেসিক বই হিসেবে গ্রেটেস্ট শো অন আর্থ এর থেকে জেরি কোয়েন এর হোয়াই ইভোলিউশন ইজ ট্রু টা অনেক সহজ বোধ্য। মুক্তমনায় একভাইয়া এই বই ভাবানুবাদে হাত দিয়েছেন।

        জবাব দিন
  2. তাইফুর (৯২-৯৮)

    জ্বীনের বাদশাহ জ্বীন ...
    কেরু ড্রাই জিন 'জরিনা' ...
    জেনেটি্কস এর জিন ...
    সেলফিস জীন ...
    (আন্দা, তোর করা অনূবাদ পড়তে গিয়া, তোর লিখাই না আবার অনূবাদ করতে হয় ... ভাবতে ভাবতে পইড়া দেখি ... তুই সিড়ি বাইয়া দুই/তিন তলা নীচে নাইম্মা আইসাই লিখছিস।)
    ব্লগানূবাদ সহজবোধ্য হইছে ..

    একবছরের প্ল্যানে পুরোটা অনুবাদ করে ফেলার চেষ্টান

    ৫ তারা ...


    পথ ভাবে 'আমি দেব', রথ ভাবে 'আমি',
    মূর্তি ভাবে 'আমি দেব', হাসে অন্তর্যামী॥

    জবাব দিন
    • আন্দালিব (৯৬-০২)

      বস, সেলফিস জীন ছাড়া উপরের তিনটার একটাও স্বচক্ষে দেখি নাই। আমার আসলেই কী যে হপে তাই ভাবতেছি। অনুবাদ করতে গিয়া একেবারে নিচতলায় চইলা আসছি ভাই, পারলে বেসমেন্ট নয়তো গুহাটুহায় ঢুকে পড়বো। 😀

      পুরা বছর আমাকে না খাওয়ায় মারার প্ল্যানে তো আপনি ৫ তারা দিবেনই! x-(

      জবাব দিন
  3. সানাউল্লাহ (৭৪ - ৮০)

    খুবই ভালো উদ্যোগ আন্দালিব। এই ধারাবাহিকের একনিষ্ঠ পাঠক হিসাবে পাবে আমাকে। লাগুক একবছর। কাজটা শেষ করো। অনুবাদ ভালো হচ্ছে। আমি নিশ্চিত এগোতে থাকলে দেখবে দিন দিন অনুবাদের আরো উন্নতি হচ্ছে। :hatsoff:


    "মানুষে বিশ্বাস হারানো পাপ"

    জবাব দিন
  4. কাইয়ূম (১৯৯২-১৯৯৮)

    রিচার্ড ডকিন্স এবং দ্য সেলফিশ জীন এর রিভিউ সহ সংশ্লিষ্ট আলোচনা দিয়ে যদি অনুবাদের আগেই একটা ব্লগ আসতো তাহলে আরো ফ্যান্টাস্টিক হতো।
    বিশাল কঠিন একটা কাজের সূচনার জন্য আন্দালিবকে :hatsoff:
    সবাই বলছে যে বইটাই ব্যাপক খটোমটো 😕 অনুবাদ অতোটা খটমট না লাগলেও বেশ কঠিন প্রবন্ধটাইপ একটা অনুভূতি দিলো আমাকে 🙁 হয়তো বিষয়টাই এরকম! তবে এক্ষেত্রে লাবলু ভাইয়ের কথাটাই প্রণিধানযোগ্য, এগোতে থাকলে অনুবাদ আরো উন্নত হয়ে উঠতে থাকবে নিঃসন্দেহে।
    চলুক আন্দালিব।পড়ছিতো অবশ্যই। :thumbup:


    সংসারে প্রবল বৈরাগ্য!

    জবাব দিন
    • আন্দালিব (৯৬-০২)

      কাইয়ূম ভাই, সত্যি বলতে কী, আমি ঠিক বুঝতে পারি নাই এই কাজটা এতোটা সিরিয়াস আর সবাই এতো আগ্রহ দেখাবেন। হুট করে খেয়ালের বশে শুরু করেছি। এখন সবার রেসপন্স দেখে বিরাট বিপদ বিপদ অনুভব হচ্ছে! 😕

      হয়তো এক ফাঁকে বলতে পারবো, বা আসলেও আলাদা করে কিছু বলার আছে কি না- তা নিয়ে আমি সন্দিহান। আমার পড়াশোনা অনেক কম এই বিষয়ে।

      অনুবাদ যতোটা পারি সরল করার খুব চেষ্টা করছি। কারণ আমার এই এলিটসুলভ অনুবাদ পড়তে খুব খারাপ লাগে, যার অর্ধেক কথাই বুঝা যায় না। তবে বইটা পুরোপুরি সায়েন্টিফিক, বেশিরভাগ শব্দের সহজ বাংলা খুঁজতে খুঁজতে হয়রান! যেমন- Altruism শব্দের বাংলা পরার্থবাদ, পরহিতকর কাজের ইচ্ছা, ইত্যাদি। এগুলো খুব একটা চালু না, আবার পুরাপুরি অলট্রুইজমকে ধারণও করে না। এই সমস্যাগুলোর সমাধান কি, কে জানে? 🙁

      পুরা বই হয়তো ব্লগে দেয়া সম্ভব হবে না, তবে প্রথম দুই চ্যাপ্টার অবশ্যই দিবো! থেংকু আবারও বস! :boss:

      জবাব দিন
  5. মুহাম্মদ (৯৯-০৫)

    অসুস্থ থাকায় অনেকদিন সিসিবি-তে ঢুকতে পারিনি। আজকে ঢুকে তো রীতিমত বাকরুদ্ধ। মারাত্মক একটা কাজে হাত দিয়েছেন আন্দালিব ভাই। আমি গত বছর সেলফিশ জিন অনুবাদের কাজে হাত দিয়েছিলাম। সেই সত্তরের দশকের বই এবং বলতে গেলে বিবর্তনীয় জীববিজ্ঞানের ইতিহাসে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বইগুলোর একটা এটা। পুরো অনুবাদ যেভাবে পারেন শেষ করেন আন্দালিব ভাই। অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছি। আমি মাত্র আড়াই প্যারা অনুবাদ করেছিলাম। সেটুকু এখানে পেস্ট করছি:

    কোন গ্রহের বুদ্ধিমান জীবদের কেবল তখনই প্রাপ্তবয়স্ক বলা যায়, যখন তারা নিজেদের অস্তিত্বের কারণ আবিষ্কার করে ফেলে। দূর মহাকাশ থেকে মানুষের চেয়ে বুদ্ধিমান কোন জীব যদি পৃথিবীতে আসে, তাহলে আমাদের সভ্যতাকে মূল্যায়ন করার জন্য তাদের প্রথম প্রশ্নই হবে, "তোমরা কি বির্বতন আবিষ্কার করেছ?" ভাবতে অবাক লাগে, তিন শত কোটি বছরেরও বেশী সময় ধরে পৃথিবীতে নানা জাতের জীব নিজেদের অস্তিত্ব জাহির করে গেছে, অথচ সেই অস্তিত্বের কারণ সম্পর্কে তারা ছিল সম্পূর্ণ অজ্ঞ। তবে আশার কথা হচ্ছে, অজ্ঞতা থেকে জানার স্পৃহা জন্ম নিয়েছে। আর এভাবেই একদা অজ্ঞ জীবকূলের একজন চূড়ান্ত সত্যের সন্ধান পেয়েছে। সেই একজন হলেন চার্লস ডারউইন। সত্যি বলতে, ডারউইনের আগেও বেশ কয়েকজন সে সত্যের ছিটেফোটা সম্পর্কে জানতেন। কিন্তু ডারউইন প্রথমবারের মত সব যুক্তি একত্রিত করে একটি গ্রহণযোগ্য ব্যাখ্যা দাড় করান। এই অধ্যায়ের শিরোনামে যে প্রশ্ন করা হয়েছে প্রতিটি কৌতুহলী শিশুই তা কোন না কোন সময় করে থাকে। ডারউইন সেই শিশুতোষ প্রশ্নের এক পরিপক্ক জবাব দিয়েছেন। জীবনের কি কোন অর্থ আছে? আমরা কিসের জন্য আছি? মানুষ কি?- এই প্রশ্নগুলোর উত্তর দেয়ার জন্য তাই আর কুসংস্কারের আশ্রয় নেয়ার প্রয়োজন পড়ে না। ডারউইনের অবিস্মরণীয় উত্তরমালা দেখেই প্রখ্যাত প্রাণিবিজ্ঞানী জি জি সিম্পসন মন্তব্য করেছিলেন, "আমি বলতে চাই, এই প্রশ্নগুলোর উত্তর দেয়ার জন্য ১৮৫৯ সালের আগে যত উদ্যোগ নেয়া হয়েছে তার সবই এখন গুরুত্বহীন এবং সেগুলোর প্রতি আর ভ্রুক্ষেপ না করাই উত্তম।"

    পৃথিবী সূর্যের চারদিকে ঘোরে এটা যেমন বর্তমানে প্রতিষ্ঠিত সত্য, বিবর্তন তত্ত্বও তেমনি এক প্রতিষ্ঠিত সত্য। কিন্তু ডারউইনীয় বিপ্লবের প্রায়োগিক গুরুত্ব আমরা এখনও সঠিকভাবে অনুধাবন করতে পারিনি। বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে প্রাণিবিজ্ঞান এখনও খুব একটা গুরুত্ব পায় না। আর যারা এই বিষয়ে পড়তে আসে তারাও এর প্রকট দার্শনিক গুরুত্ব সম্পর্কে অজ্ঞ থেকে যায়। দর্শন বা "মানবিক বিভাগ"-এর বিষয়গুলো পড়ানোর ধরণ দেখে মনে হয়, ডারউইন নামে কারও অস্তিত্বই ছিল না। নিঃসন্দেহে সময়ের প্রয়োজনে এই অবস্থার পরিবর্তন ঘটবে। আর ডারউইনবাদের প্রসার ঘটানোও আমার এ বইয়ের মূল উদ্দেশ্য না। আমি বরং একটি নির্দিষ্ট বিষয়ের উপর বিবর্তন তত্ত্বের কার্যকারিতা নিয়ে আলোচনা করব। আমার উদ্দেশ্য স্বার্থপরতা এবং পরার্থপরতার জীববিজ্ঞান খতিয়ে দেখা।

    প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা বাদ দিয়ে কেবল মানবিক দিক বিবেচনা করলেও বিবর্তনের গুরুত্ব অপরিসীম। আমাদের সামাজিক জীবন, আমাদের ভালবাসা ও ঘৃণা, মারামারি ও সহযোগিতা, দান ও চৌর্য্যবৃত্তি, লোভ এবং ঔদার্য্য- সবকিছুকেই সে স্পর্শ করে যায়। এই মানবিক দিকগুলো বোঝার জন্য একসময় আমরা লরেঞ্জের "অন অ্যাগ্রেশন", আর্দ্রের "দ্য সোশ্যাল কন্ট্রাক্ট" বা এইবল-এইবেসফিল্ড্‌টসের "লাভ অ্যান্ড হেইট" এর মত বইগুলোর শরণাপন্ন হতাম। মনে হতো মানুষ নিয়ে কথা বলার অধিকার বুঝি কেবল তাদেরই আছে। কিন্তু এই লেখকেরা বিবর্তন কিভাবে কাজ করে সেটা ভুল বুঝেছেন। তারা ধরে নিয়েছিলেন, বিবর্তনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক হচ্ছে, এটা ব্যক্তির (বা জিন) ভাল না দেখে প্রজাতির (বা গোষ্ঠী) ভাল দেখে।

    পরে অন্য দিকে চলে যাওয়াওয়া এটা আর হয়নি এবং জীবনে আর কোনদিন হবেও না এটা নিশ্চিত। এই বইটার অনুবাদের জন্য কিন্তু অনেক প্রকাশকই মুখিয়ে আছে। আন্দালিব ভাই যদি শেষ করতে পারেন তাহলে খুব ভাল একটা কাজ হবে।

    আমি আপনার পুরোটা এক বার পড়লাম। খুটিনাটি বিশ্লেষণ করতে হলে আরও পড়তে হবে এবং আমি কথা দিচ্ছি যে আপনার প্রতিটা পর্বই আমি একাধিকবার পড়ে নিজের মতামত দিব।

    প্রথম বার পড়ে যেটা মনে হল: অনুবাদ খুবই সাবলীল হয়েছে। কিছু সায়েন্টিফিক টার্ম এর জায়গা ছাড়া অন্যান্য স্থানে বোঝাই যায়নি যে এটা অনুবাদ। আপাতত কিছু অংশের কথা বলি:

    স্বার্থপরতা ও পরার্থবাদের জৈবনিক উদ্দেশ্য ঘেঁটে দেখাই আমার উদ্দেশ্য।

    বায়োলজি এর বাংলা এখানে জৈবনিক উদ্দেশ্য না দিয়ে অন্য কিছু দিলে মনে হয় ভাল হতো। আর পরার্থবাদ না দিয়ে পরার্থপরতা কি দেয়া যায়? কারণ এখানে কিন্তু কোন বাদ নয় বরং একটা প্রবণতা নিয়ে কথা হচ্ছে। আমি এটার বাংলা করেছিলাম- "আমার উদ্দেশ্য স্বার্থপরতা এবং পরার্থপরতার জীববিজ্ঞান খতিয়ে দেখা।"

    আমি এটা জোর দিয়ে বলছি কারণ আমি জানি আমি এমন অনেক মানুষের কাছে ভুলভাবে পঠিত হবো

    এখানে প্যাসিভ থেকে অ্যাক্টিভ ভয়েসে নিলে মনে হয় বাক্যটা আরও সরল হবে। যেমন- আমি এটা জোর দিয়ে বলছি কারণ আমি জানি এমন অনেকেই আমায় ভুল বুঝবেন যারা ....

    যদি আপনি প্রাকৃতিক নির্বাচনের পদ্ধতির দিকে তাকান, তাহলে মনে হবে যে এর দ্বারা (বিবর্তির) যেকোন (প্রজাতিই) স্বার্থপর হবার কথা।

    এখানে ব্রাকেটের অংশগুলোতে বানান ঠিক করতে হবে। বিবর্তিত, প্রজাতিরই

    আপাতত এটুকুই। আরও পড়ে আরও জানাবো। তবে অনুরোধ একটাই... ভুলেও কাজটা বন্ধ কইরেন না।

    জবাব দিন
    • আন্দালিব (৯৬-০২)

      আগেরটুকু আগে- শরীর কেমন এখন তোমার?

      অনুবাদের কাজটা খেয়ালবশে শুরু করে বুঝতে পারছি একটা অসম্ভব-দায়িত্ব ঘাড়ে নিয়ে নিলাম। এমনিতে পিছু হটা স্বভাবে নাই, দেখি কতোদূর টানতে পারি।

      বায়োলজি এর বাংলা এখানে জৈবনিক উদ্দেশ্য না দিয়ে অন্য কিছু দিলে মনে হয় ভাল হতো। আর পরার্থবাদ না দিয়ে পরার্থপরতা কি দেয়া যায়?

      বায়োলজি ঠিক বায়োলজি অর্থে ব্যবহার হয়নি মনে হলো, তাই জৈবনিক উদ্দেশ্য দিলাম। তোমার লাইনটাও এখানে তো থাকলই। পরে আবার পড়ার সময়ে মনে হলে পাল্টে দিবো।
      পরার্থবাদ আসলে মূলশব্দে "ইজম" থাকার কারণে বেশি পছন্দ হলো। উদারতা-পরার্থবাদ-পরার্থপরতা খুবই কাছাকাছি। তোমাকে এক্সট্রা ধন্যবাদ কারণ আরেকটা অপশন বাতলে দিলে! 🙂

      বানানগুলো মূল ফাইলে ঠিক করে নিচ্ছি।

      প্যাসিভ থেকে অ্যাকটিভেও যাওয়া যায়।

      আবারও তোমাকে অসংখ্য ধন্যবাদ!! 😀

      জবাব দিন

মন্তব্য করুন

দয়া করে বাংলায় মন্তব্য করুন। ইংরেজীতে প্রদানকৃত মন্তব্য প্রকাশ অথবা প্রদর্শনের নিশ্চয়তা আপনাকে দেয়া হচ্ছেনা।