“ফুটনোট অফ এ মেমো”

…পানিতে হাত দিয়েই শিউরে উঠলাম। ঠাণ্ডা পানি! হাতে স্পর্শ করা মাত্র ছ্যাঁৎ করে লাগে। সরিয়ে নিতে ইচ্ছা করে সাথে সাথে। কল থেকে বরফ-ভাঙা পানি নেমে আসছে। আমি তারপরেও হাত পানির মধ্যে পেতে রাখি। আঙুলগুলো ডলে ডলে তেল আর খাদ্য ধুয়ে ফেলি।
আমার অফিসে ক্যান্টিনে ফোন করলে, খাবার দিয়ে যায় রুমে। একটু আগে ফোন করে জিজ্ঞাসা করলাম, কী আছে? বললো, চিকেন বিরিয়ানি আছে। খেতে খেতে মনে হলো অনেকদিন বিরিয়ানির ক্ষিদে জিভে লেগে ছিল। টের পাইনি। এরকম আরও অনেক ক্ষুধা জিভে লেগে আছে হয়তো। মাত্র তিন ইঞ্চি লম্বা আর ইঞ্চি দেড়েকের মত মোটা অঙ্গে কত স্বাদ জমে থাকে। হালকা ঝোল মাখানো, তেলভাজা নরম ভাতগুলো হাতে মেখে একটুকরো মুরগীর মাংশের সাথে মুখে চালান দিচ্ছি। ভেতরে জিভের নড়াচড়ায় মিশে যাচ্ছে, পিষে যাচ্ছে দাঁতে।

খাওয়া শেষে হাত ধুতে গিয়েই স্বাদ মুছে গেল জিভ থেকে। বদলে চামড়ায় শৈত্য গেঁথে গেল। হাত মুছলাম। মুখের কাছে নিয়ে একটু ভাপ দিলাম। কিছুতেই কিছু হয় না। আসলেই, কত অজানা জড়-স্পর্শও আমাদের স্টিম্যুলেট করতে পারে এভাবে!…

২,১৬২ বার দেখা হয়েছে

৪৪ টি মন্তব্য : ““ফুটনোট অফ এ মেমো””

  1. এইটা ভালো লাগছে।
    অনুভূতির দারুন প্রকাশ।
    তবে একটা ডাউট আছে,

    মাত্র তিন ইঞ্চি লম্বা আর ইঞ্চি দেড়েকের মত মোটা অঙ্গে কত স্বাদ জমে থাকে।

    জিহবা কি দেড় ইঞ্চি পুরু ? আমার মনে হয় একটু কম হবে। 😀 😀 😀

    জবাব দিন
    • আন্দালিব (৯৬-০২)

      অফিসে বসে কাজ-কর্ম তো নাই, একটা মেমো লিখতেছিলাম। তারপরে লাঞ্চ করলাম। হাত ধুতে গিয়ে এই ঘটনা। ভাবনাগুলো লিখে ফেললাম। মেমোর ফুটনোটের মত করে। বেশি কথাবার্তা নাই, খালি ডেস্ক্রাইব করে যাওয়া। এজন্যে এরকম একটা নাম দিলাম। 😛

      জবাব দিন
  2. কাইয়ূম (১৯৯২-১৯৯৮)

    ব্যাপক গুরুপাক কোনো রাসন সুখকর খাদ্যের দ্বারা বিলোলিত রসনাও যে এইরূপে অথঃ সামান্য অথচ আপাতঃ রাজত্বকারী অস্থি কম্পনসৃষ্টিকারী তুহিনে কাবু হতে পারে, সেটা মেনে নেয়া আসলেই পীড়াকর 😀


    সংসারে প্রবল বৈরাগ্য!

    জবাব দিন

মন্তব্য করুন

দয়া করে বাংলায় মন্তব্য করুন। ইংরেজীতে প্রদানকৃত মন্তব্য প্রকাশ অথবা প্রদর্শনের নিশ্চয়তা আপনাকে দেয়া হচ্ছেনা।