দূরত্ববোধক-

দূরত্বের নাম নেই, শহর কিংবা গ্রামে আমাদের দূরত্ব নিয়ম মেনেই বাড়ে-
স্থবির চোখ মেলে নিমেষব্যাপী আমরা দুঃখ থেকে দূরগামী হই
দুঃখ সিঁড়ি বেয়ে সাপের মত উঠে আসে সন্তর্পণে হৃদয়ের কাছে
ধাতব রেলিঙে যাবতীয় অনুসর্গ ছেড়ে আসা সাপের চোখে আমি কাতরতা পাই
শহরে কিংবা গ্রামে, এই প্রাপ্তি আমাকে সুখ দেয়
আমার চেয়েও অধিক কাতর দুঃখের অবয়ব আমার স্বভাবজাত অহমিকায়
পরশ বুলায় সাপের মায়ায় সিঁড়িঘরে একটি বাগান তৈরি করি
বাগানে বিষের ফুল ফুটে উঠবে একদিন, এমন প্রত্যাশায় শিখে নিই যাবতীয় কৃষি
মাটির গন্ধে সিড়িঘরে সাপেরা ঘুমিয়ে পড়ে, অপরিচিত ডাকপিয়ন
চিলেকোঠার কড়া নেড়ে বিভিন্ন হলুদ খাম রেখে গেছে, প্রত্যাগত আহ্বান
মাটি থেকে দূরে ধাতবের কাছে ডাকে উন্মাদ স্বরে, মাদকের ঘ্রাণ
আমার মগজে ডাকপিয়নের নাম লিখে রাখে সকলে, স্মৃতির অধিক কালিতে
আঁচড়সমূহ ব্যাপ্ত করে দেয় আমাদের আকাশে মুখের দাগের জ্যামিতি
দূরত্বের নিয়মে আমি দৈনন্দিন পথ সিঁড়িঘরে জমা রাখি।

***
৩.৭.৯

২,৬৫১ বার দেখা হয়েছে

৩৭ টি মন্তব্য : “দূরত্ববোধক-”

  1. দিহান আহসান

    কবিতা আমার খুব প্রিয় না,
    আন্দালিব ভাইয়া, তোমাকে কি মন্তব্য দিব? তোমার লিখা সবসময় ভাল লাগে, মাঝে মাঝে যদিও মাথার উপর দিয়েও যায়।

    অফটপিকঃ আজকে নাম ঠিক আছেতো? লেখকের নাম কি আবারো ভুল করে ফেলেছি? 😕

    জবাব দিন
        • আন্দালিব (৯৬-০২)

          ভাবি, কবিতা বুঝার জন্য কোন এন্টেনার দরকার নাই। এসব দুর্মুখেরা বলে। কবিতাকে আমি দেখি অনেকটা প্রেমিকার মত। মোহনীয়, রহস্যময় এবং তীব্র আকর্ষণ ধরে রাখে এমন কিছু। এখন চিন্তা করেন, যদি প্রেমিকাকে ঠিক মত সময় দেয়া না হয়, বা তার জন্য একটু মনোযোগ, একটু প্রশ্রয় না রাখা হয়, তাহলে কি সে আর মুখ ফিরিয়ে চাইবে।
          কবিতাও তেমনি। গড়পড়তা যেমনটি ঘটে, তার চেয়ে একটু বেশি মনোযোগ দাবি করে। আমরা যখন তাড়াহুড়ায় থাকি, তখন এজন্যেই কবিতা মগজে ঢুকে না, ধোঁয়াশা মনে হয়, অনেক উঁচু দিয়ে উড়ে যাচ্ছে বলে মনে হয়।
          কবিতার স্তবকে স্তবকে একটা চিত্রকর্মের চেয়েও সৌন্দর্য লুকিয়ে থাকে। একটু সময় দিয়েই দেখেন, সেই অপরূপ দৃশ্য, উপমা আর সুন্দরের জগৎ আপনার কাছে ধরা দিবে।

          জবাব দিন
            • আন্দালিব (৯৬-০২)
              নারীশ্চরিত্র দেবা ন জানন্তি কুতো মনুষ্যা

              দেবতাও জানেন না, আর সেখানে আমি কোন ছার।

              জোক্‌স এপার্ট, আমরা কি নিজেরাই নিজেদের পুরো বুঝে উঠতে পারি? নিজেই মাঝে মাঝে নিজের কাজকর্মে অবাক হই। সেখানে আরেকজন মানুষ (তা সে যতই আপন হোক)। সেই রহস্যের সমাধান কি আর হয়! 🙂

              আপনি কবিতার জন্যে কিছুটা সময় দিয়ে দেখেন, নেশার মত রক্তে কবিতার সুর ঢুকে যাবে! 🙂

              জবাব দিন
  2. রকিব (০১-০৭)
    মাদকের ঘ্রাণ
    আমার মগজে ডাকপিয়নের নাম লিখে রাখে সকলে, স্মৃতির অধিক কালিতে
    আঁচড়সমূহ ব্যাপ্ত করে দেয় আমাদের আকাশে মুখের দাগের জ্যামিতি
    দূরত্বের নিয়মে আমি দৈনন্দিন পথ সিঁড়িঘরে জমা রাখি।

    পঙ্গতিগুলো মনে ধরেছে ভাইয়া।
    একটা জিজ্ঞাসা, কবিতা সম্পর্কে আমার জ্ঞান খুব কম। দীনেশ স্যারের মুখে গদ্য কবিতার কথা শুনেছিলাম, দূরত্ববোধক- কি গদ্য কবিতা?


    আমি তবু বলি:
    এখনো যে কটা দিন বেঁচে আছি সূর্যে সূর্যে চলি ..

    জবাব দিন
    • আন্দালিব (৯৬-০২)

      মনে ধরার মত সংযোজক থাকলে আর কী লাগে! ভালো লাগলো রকিব।

      দীনেশ স্যারের কথা বলে অনেক কিছু মনে করিয়ে দিলে। স্যারই সম্ভবত প্রথম মানুষ যিনি আমাকে কবিতার ব্যাপারে আগ্রহী করে তুলেছিলেন।

      গদ্য কবিতার শরীরটাই গদ্যের ধাঁচের। আমরা যেমন লাইন ব্রেকিং দিয়ে কবিতা লিখি, তেমন নয়। তবে কবিতার অন্যান্য উপাদান, যেমন, উপমা, অলঙ্কার, চিত্রকল্প, ছন্দ, মাত্রা এসব মোটামুটি রক্ষা করা হয়। সেক্ষেত্রে সার্থক বা উল্লেখযোগ্য গদ্যকবিতা প্রথম এসেছে শার্ল বোদলেয়ারের কবিতায় । তারপরে অনেকেই এভাবে লিখেছেন। আমার নিজস্ব চিন্তায় কোন কোন কবিতা গদ্য ফরম্যাটেই বেশি মানানসই, আবার কোনটা বা পুরনো ধাঁচে। সম্পূর্ণ লেখকের নিজস্ব ভাবনা থেকেই এর প্রয়োগ।

      আমার কিছু টুকটাক নিরীক্ষা ছিল সেরকমের। সামনে শেয়ার করবো না'হয়! 🙂

      জবাব দিন
  3. মুসতাকীম (২০০২-২০০৮)

    ভাল্লাগছে :clap: :clap: :clap: তবে অর্থ বুঝি নাই ~x( ~x( ~x( ~x(


    "আমি খুব ভাল করে জানি, ব্যক্তিগত জীবনে আমার অহংকার করার মত কিছু নেই। কিন্তু আমার ভাষাটা নিয়ে তো আমি অহংকার করতেই পারি।"

    জবাব দিন
    • আন্দালিব (৯৬-০২)

      মুসতাকীম, যেভাবে মাথার চুল ছেঁড়ার ইমো দেখালে তাতে আমিই ব্যস্ত হয়ে উঠতেছি। এত টেনশনের কিছু নাই। কবিতার সবকিছু বুঝে উঠতে হবেই- এমন কোন কথা নাই। বোধের প্রশ্ন, বা বুঝে ওঠার বিষয়টা বেশি আসে যেখানে যৌক্তিক কোন প্রস্তাবনা থাকে। কবিতা অনেকটা চিত্রকর্মের মত, পুরোপুরি বুঝে ওঠা সম্ভবত কবির নিজের পক্ষেই সম্ভব না।

      পড়ে ভালো লাগলে, সময় পেলে আবারো পড়ে দেখ। ভালো লাগার শেষ হবে না। 🙂

      জবাব দিন
        • আন্দালিব (৯৬-০২)

          সব বুঝে ফেলার ব্যাপারটাও তো অসম্ভব বলে মনে হয়! এখনকার কবিতা তো "সোনার তরী" বা "পাঞ্জেরী" কবিতার মত শিক্ষামূলক বা মতবাদ-ধর্মী হয় না, সেকারণেই মানুষের জীবন-যাপনের মতই, কবিতাও জটিল ও বহুমুখী ধারণার হয়ে উঠছে।

          এতে অবশ্য ভয় পাওয়ারও কিছু নেই। মানুষ সম্ভবত সবচেয়ে জটিল ও অযৌক্তিক প্রাণী। কবিতা সেটারই সবচে' ভালো প্রমাণ! 😉

          জবাব দিন
  4. আদনান (১৯৯৪-২০০০)
    স্থবির চোখ মেলে নিমেষব্যাপী আমরা দুঃখ থেকে দূরগামী হই

    ভাল বলেছিস তো, দুঃখ থেকে আর দূরে যেতে পারলাম কোথায়? এক দুঃখ থেকে আরেক দুঃখের কাছে যাই । কবিতা ভাল লাগলেও তারা দিলাম না, আমি আবার তারায় বিশ্বাসী না 😀

    জবাব দিন
    • আন্দালিব (৯৬-০২)

      হ্যাঁ, চোখের দেখায়, উপরে উপরে আমরা দুঃখ থেকে দূরে যেতে পারলেও, আমাদের অন্তরের গহীন দুঃখেরা আমাদের ছেড়ে যায় না। আপনার কবিতাপাঠে আমিও সবসময় কিছু না কিছু শিখি। থ্যাঙ্কস আদনান ভাই।

      জবাব দিন
      • আদনান (১৯৯৪-২০০০)

        বলিস কি? বিরাট লজ্জা দিলিরে ভাই । আমি তোর কবিতাগুলো মনোযোগ দিয়ে পড়ার চেষ্টা করি । শুধু খুব ভাল হয়েছে বলতে ভাল লাগেনা । কেন ভাল লেগেছে সেটাও জানিয়ে যেতে চাই ।

        জবাব দিন
        • আন্দালিব (৯৬-০২)

          লজ্জার কি আছে, ভাই? কবিতা লেখার পরে, আমি নিজেও সেটা অনেকবার পড়ি। কিন্তু আমার মনের চোখ, পড়ার পরে চিন্তা করার মন তো একটাই। তাই অন্যদের অনুভূতি বা চিন্তা জানলে আমার লেখাটাকে আরো ঠিক ঠাক করার রসদ পাই। ভালো লাগা জানলে খুশি লাগে (প্রশংসা কার-ই বা খারাপ লাগে!), তবে কাজে কাজ হলো অনুভূতিটা। সেটা খারাপও হতে পারে, কোন জায়গা বেখাপ্পা বা কেমন কেমন লাগতে পারে (উপরে আমিনের যেটা লেগেছে, ওকে ধন্যবাদ)। সেটাই আমার কাছে বেশি জরুরি।

          জবাব দিন

মন্তব্য করুন

দয়া করে বাংলায় মন্তব্য করুন। ইংরেজীতে প্রদানকৃত মন্তব্য প্রকাশ অথবা প্রদর্শনের নিশ্চয়তা আপনাকে দেয়া হচ্ছেনা।