জীবন চাপ দিচ্ছে

একটি দিনলিপি সিরিজ চালাচ্ছিলাম। সেটার মাঝে বিভিন্ন স্বাদের মসলা দেয়ার চেষ্টা করতাম। সেটায় হঠাৎ করেই খেই হারিয়ে ফেললাম। এরমাঝে ঘটে গিয়েছে অনেক কিছু। এতকিছু ঘটেছে যে সেগুলো নিয়ে লিখতেও ইচ্ছা করছে না। পাছে লোকে কিছু বলে (কিংবা বলতে পারেন পাছে লোকে কোপ মারে?) বলতে বলতে কোপ নিয়ে কিছু মরবিড রসিকতা করতে ইচ্ছে হচ্ছে। নাহ। সেটাও ঢোক হিসেবে গিলে ফেলি। তখন যদি আবার টিকটিকি পিছু নেয়? যাক সে কথা।

ফেইসবুক থেকেও ইদানিং ডুব দিয়েছি। মানুষের সাথে দেখা হলে জিজ্ঞাসা করে, “ভাই আপনার কি হইসে?” “কিরে কই ডুব দিলি?” এইতো ২০০৭ সালে যখন প্রথম ফেইসবুকে একাউন্ট খুললাম, তখনি বা তার আগে পিছের কয়টি বছর। তখন সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম হিসেবে মার্কেট জমিয়ে রাখতো হাইফাইভ, অরকুট, সঙ্গীতপ্রেমীদের জন্য মাইস্পেস। তখনও ডুব দিতাম। ফোন আসলে ধরতাম না। ক্ষুদেবার্তার উত্তর দিতাম না। তারপরে বন্ধুর সাথে দেখা হলে ডাহা মিথ্যা। আজকেও যখন অনেকদিন যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন থাকার পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের বন্ধুদের সাথে দেখা হলো, ভদ্র গোছের ছেলেরা মোলায়েম গলা জিজ্ঞাসা করলো, “কিরে তুই কোথায় থাকিস?” অভদ্ররা মুখের লাগাম খুলে দিলো। আর আমি তখন পার্ক করা গাড়ির নম্বর প্লেট দেখে ভাবছি এই গাড়িটা এখানে না থাকলেই ভাল হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের সহপাঠী/আইনজীবি সহকর্মী বন্ধু সোহান চুপচাপ দেখি ফিরোজা রঙের একটি ভেসপার উপর বসে মুচকি হাসছে। কাছে যেতেই ‘”ব্লাডি সিভিলিয়ান” রাস্তায় ঘুরে বেড়াস। কোর্টে আয়।’ অপ্রয়োজনীয় এরকম বিভিন্ন পলিটিকালি ইনকারেক্ট সম্বোধনে একে অপরকে ডাকি বহু বছর ধরে। স্কুটি চালানোর খুব সখ সোহানের। বহু খুঁজে এই উদ্ভট রঙের স্কুটি কিনে ফেলেছে বুয়েটের এক কর্মচারীর কাছ থেকে। ওর এসব পাগলামির সাথে আমার চোখ অভ্যস্ত। অল্পবিস্তর ধূমপানের অভ্যাস সেটা ফ্লাইং ডাচম্যান কিংবা বরকাম রিফ ও রিজলা কিনে খেতে হবে। শার্টের কাপড় কিনে সেটার বোতাম কিনতে আরেক দোকানে। কাঁপা হাতে ভেসপা স্টার্ট দিয়ে বললো চল নামিয়ে দিয়ে আসি। করজোড়ে ক্ষমা চাইলাম, “আরো ছয়টা মাস অক্ষত অবস্থায় চালিয়ে আয়।”

গতকাল বান্ধবীর ব্যাচমেটের বিয়ে ছিল। বাসা থেকে ঠিক পাঁচ মিনিটের হাঁটার পথ। বাড়ির গরু ঘাটার ঘাস খায় না এই প্রবাদকে চোখ রাঙানি দিলো বান্ধবী। শুধু স্বশরীরে নয় হাজির হতে হবে আলোকচিত্রগ্রাহক যন্ত্র সহকারে। মাকে দিয়ে খুঁজে পেতে একটা সুন্দর উপহার কিনলাম। কিন্তু মোড়ানোর কাগজ কেনা হলো না। আলসেমিতে যখন শুক্রবার দুপুর এসে পড়লো তখন পুরোনো খবরের কাগজ, টেপ ও আঠা নিয়ে বসলাম। উপহার মোড়ানো ব্যাপারটা বেশ মজার। খবরের কাগজ বলেই আরো বেশী উপভোগ করছি। রসিকতা। তবে সরকারবিরোধী পত্রিকা হলে বিপদ। প্রচুর দুঃসংবাদ থাকে পাতায় পাতায়। ইলিশ শূন্য জেলে পাড়ার সংবাদ ভাঁজের তলায় গুঁজতে গিয়ে দেখি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকের মানবেতর জীবন উঠে এসেছে। সবকিছু প্রায় সামলে নিয়ে মোড়ানো শেষে ডান পাশে তাকাতেই দেখি জ্বলজ্বল করছে ভয়াবহ সংবাদ, “গায়ে কেরোসিন ঢেলে গৃহবধুর আত্মহত্যার চেষ্টা। স্বামী পলাতক।” রসিকতার একি নমুনা? কালো কালি দিয়ে শিরোনাম ঢেকে দিলাম। পরে একটি কাগজে, “Had to hide the bad news.” লিখে সেটা সেঁটে দিলাম। শান্তি।

দেশে এসেছি এবছরের জানুয়ারী মাসের ২৯ তারিখ। টুকটাক চাকুরী খুঁজছিলাম। নিয়ম মেনে ডাকযোগে দরখাস্ত, ইমেইল, কিংবা অনলাইনে। ডাক শুনে কেউ এলো না। এদিকে বাবার দাদীর আদেশ রক্ষা করতে গিয়ে মা চাইছেন না আমি আদালত পাড়ায় ফেরত যাই। একি ঝামেলা। গোটা বিশেক কম্পানিতে চাকুরীর দরখাস্ত দেয়ার পর উপলব্ধি হলো, বাঙলাদেশের নিয়োগ যুদ্ধে স্বচ্ছতার মানদন্ডে সরকারী খাত বেসরকারী খাতের কাছে পিছিয়ে পড়ছে। “তোর বান্ধবীর বাবা আমার বন্ধু, লুঙ্গি পরেই তো যাব!”–এই ধরনের কেরামতি যদি আপনি না দেখাতে পারেন তাহলে চাকুরীর আশা ছাড়তে পারেন। পরিবারের অন্যান্য সবার চাপে মাকে দেখলাম নমনীয় হতে। নরসিংদী গেলে কয়দিন থাকতে হবে, সেখান থেকে ঢাকা আসা-যাওয়া করা কষ্টদায়ক ইত্যাদি চিন্তনীয় প্রশ্ন। চিন্তা আমার নিজেরও আছে। আইন ব্যবসায় নামলে এক পর্যায়ে প্রচুর ধনসম্পত্তি হাতে আসবে। সোহানের ভাষায়, “হাঁটার সময় কোটের পকেট থেকে বান্ডিল খসে পড়বে, আর সেটা দেখে গোটা পাঁচেক দশাসই রেফারেন্স বই হাতে জাগলিং করা জুনিয়র নাসির হোসেনের মত ক্যাচ ধরবে।” কিন্তু এতে জীবনটাকে উৎসর্গ করতে হবে। প্রায় সম্পূর্ণরূপে। দিন গড়াবে, সন্ধ্যে নামবে, রাত গড়াবে, আমার শ্রমে গড়ে উঠবে মামলার ভীত, আর্গুমেন্টের সিনপসিস। শ্রমের সাথে খ্যাতি আসবে। সাথে বাঁধভাঙা জোয়ারের মত অর্থকড়ি। কিন্তু কথা হলো এতটা জীবনের বিনিময়ে এতটা অর্থ-যশ-খ্যাতি কি আমি চাই? এর উত্তর আমি ঠিক জানি না। বস্তুবাদীতার এই প্রশ্নটি যদি পরীক্ষার খাতায় ছেড়ে আসা যেত?

একটি বই পড়ছি এবং একই সাথে একটু একটু করে অনুবাদ করার চেষ্টা করছি। খুব আনাড়ি কাজ। করাই হয়তো উচিৎ হচ্ছে না কিন্তু আমার মাঝে জেদ চেপে গিয়েছে। বইয়ের নাম The Blood Telegram: Nixon Kissinger and A Forgotten Genocide লিখেছেন স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞানের অধ্যাপক গ্যারি জে, ব্যাস। সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের ডিক্লাসিফাই করা ডকুমেন্ট ও অন্যান্য অনেক তথ্যের উপর ভিত্তি করে ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের সময়ের কূটনৈতিক তারবার্তা ও অন্যান্য আন্তর্জাতিক তৎপরতা গুলোকে সাজিয়ে লেখা এই বইটি। পারভেজ ভাই বলেছিলেন প্রথমআলো নাকি ইতমধ্যেই এর অনুবাদ ছাপিয়ে ফেলেছে। খোঁজ নিয়ে দেখলাম হয় নাই। এতে যদিও ক্রেডিট নেয়ার ইচ্ছে নেই। আইনগত দিক দিয়ে চিন্তা করলে এটি বরং কপিরাইট আইন লঙ্ঘন। কিন্তু বইটি পড়ছি আর মনে হচ্ছে এর একটি বাঙলা অনুবাদ থাকা উচিৎ। সেটা আত্মতৃপ্তির জন্য হলেও। তাই শুরু করে দিয়েছি। প্রথম অধ্যায় পাঠযোগ্য করে অনুবাদ করতেই নাভিশ্বাস উঠে যাচ্ছে। আগের রাতে লিখা একটি লাইন পড়ের দিন উঠে বিরক্ত হয়ে কেটে দিচ্ছি। রেজা শাওনের মত করে বললে, “খুব চাপ।”

আপাতত এইসব হাবিজাবি লিখে জানান দিলাম যে আছি, বেঁচে আছি, লিখে যাচ্ছি।

১৩,৩১৮ বার দেখা হয়েছে

৩৬ টি মন্তব্য : “জীবন চাপ দিচ্ছে”

  1. সাবিনা চৌধুরী (৮৩-৮৮)

    মোকা আমার মোকা,
    দিওনা আর ধোঁকা!

    অনুবাদ কর, বিয়ে কর অথবা খাও (দুটোই আনন্দের :D) কিংবা আলোকচিত্রী হিসেবে ক্যামেরা কাঁধে ছুটোছুটি কর সবই ঠিক আছে কিন্তু দিনলিপি লেখা থেকে ছাড়াছাড়ি নাই, জেনো।

    সিসিবিতে দিনলিপির ক্যাটাগরিটি আমার সবিশেষ পছন্দের। অনেকটা 'যেমন ইচ্ছে লেখার আমার কবিতার খাতা'র মত। রংতুলি হাতে বসে গেলে চিত্রা নদীর ধারে, তারপর তুমি কানি বগের ছা দেখবে নাকি জলকুক্কুট দেখতে পাবে সেটিতো সময়েই বলে দেবে। তোমার কাজ কেবল ছবিটি এঁকে যাওয়া!

    তোমার দিনলিপির একজন মুগ্ধ পাঠক আমি। এখন তুমি দেশের যে ছবি আঁকো, অথবা বিদেশে যখন ছিলে তার যে ছবি আঁকতে সেটির মধ্য দিয়ে যে টুকরো ছবিটি ফুটিয়ে তুলতে সেটি খুব মনোযোগের সাথে পড়তাম।

    তোমার দিনলিপি লেখালেখি বন্ধ করে দেয়া মানে হলো চোরের ভয়ে মাটিতে ভাত খাওয়া, ভাইয়া! আমরা যদি মাটিতে খাওয়া শুরু করি একে একে তবে সেটিই তো ট্রেন্ড হয়ে যাবেরে! তার মানে আমরা হেরে গেলাম!

    আমি ট্রুলি বিশ্বাস করি, এভরি ক্লাউড হ্যাজ আ সিলভার লাইনিং, মোকা!

    সিসিবিতে মোকাচিনোর দিনলিপি জারী থাকুক! (সম্পাদিত)

    জবাব দিন
  2. রেজা শাওন (০১-০৭)

    উন্নতবিশ্ব থেকে উচ্চশিক্ষা করে লোকে দেশে গেছে, আর শুরুতে এই মরণচাপে পড়ে নাই- এমন নজির বিরল। ইনিশিয়াল ওরিয়েন্টেশন ব্রো- মরণ চাপ স্বাভাবিক। হোল্ড দি লাইন। সামনের বছর ঠিক এই চাপ কে প্রতিহত করার জন্য, আব্বার রেলের লিজ নেওয়া জমিতে হাইব্রিড চিচিঙ্গার চাষ করবো- নিদেনপক্ষে তিন মাস। এরপর ঢাকার বাতাসে সীসার পরিমাপ হবে। এর আগে না।

    লেখা খুবই সাবলীল। পড়তে আনন্দ লাগে। দিনলিপি চাপানো জারি থাকুক।

    জবাব দিন
    • মোকাব্বির (৯৮-০৪)

      সিদ্দিক তোমার কথায় ভরসা পাই। হাইব্রিড চিচিঙ্গার বুদ্ধিটা ভাল। বাজারে চাপ কম। ঢাকার সীসা পরিমাপ করতে যত দেরীতে আসা যায় ততই মঙ্গল। দেশে আসো আমিও তোমার সাথে লুঙ্গি কাছা দিয়ে নেমে যাব কিনা চিন্তা করবো।


      \\\তুমি আসবে বলে, হে স্বাধীনতা
      অবুঝ শিশু হামাগুড়ি দিল পিতামাতার লাশের ওপর।\\\

      জবাব দিন
  3. সাদাত (৯১-৯৭)

    'পরিণত' হওয়ার সাথে সাথে 'পরিণতি'......... মানে আর কি, চাপ তো বাড়বেই, বিয়ে করলে বাড়বে, বাবা হলে বাড়বে......... এভাবেই বাড়বেই, বাড়তেই থাকবে......... অনেকেই বলে থাকেন, "আমি কোন চাপ নেই না"......... কতখানি ঠিক সেটা যারা বলেন তারাই ভালো বলতে পারবেন। আমার ভাষ্য , পাপের মত, চাপ বাপকেও ছাড়ে না.........

    জবাব দিন
    • মোকাব্বির (৯৮-০৪)

      এক এক জনের পারবারিক পরিস্থিতি এক এক সময়ে চাপ দেয়। আমার ক্ষেত্রে সেটা এখন শুরু হয়েছে। আপাতদৃষ্টিতে অপ্রয়োজনীয় অনেক কিছুতেই আমাকে টেনে ঢোকানো হচ্ছে যেগুলো আগে হতো না। সমস্যা হয়ে যাচ্ছে বন্ধু কিংবা কাছের বড় ভাইদের নিয়ে। "আরে এইটা কোন ব্যাপার" টাইপের মনোভাব নিয়ে তারা আমার সাথে কথা বলার চেষ্টা করছেন। কিন্তু এই 'পরিণত' হওয়ার সাথে সাথে 'পরিণতি'-তে আমি তো নতুন। আমাকে তো সময় দিতে হবে। যাই হোক। চমৎকার একটা কথা বলেছেনঃ

      আমার ভাষ্য , পাপের মত, চাপ বাপকেও ছাড়ে না.........

      =))


      \\\তুমি আসবে বলে, হে স্বাধীনতা
      অবুঝ শিশু হামাগুড়ি দিল পিতামাতার লাশের ওপর।\\\

      জবাব দিন
  4. জুনায়েদ কবীর (৯৫-০১)

    অনুবাদ অনেকটা নেশার মতন- একবার মজে গেলে ছাড়া কঠিন।
    তবে, সমস্যা হচ্ছে অনুবাদের চেয়ে ভাবানুবাদ করতে হয় বলে অনেক বেশি সময় লাগে।
    বারবার সম্পাদনা করাটাও বেশি সময় লাগার আরেকটি কারন।

    চালিয়ে যা। দারুণ কাজ হবে।


    ঐ দেখা যায় তালগাছ, তালগাছটি কিন্তু আমার...হুঁ

    জবাব দিন
    • মোকাব্বির (৯৮-০৪)

      প্রচুর ডায়ালগবাজি আছে জুনাদা। এইটাই বিপদে ফেলছে। ডায়ালগের অনুবাদে টিপস থাকলে দেন।


      \\\তুমি আসবে বলে, হে স্বাধীনতা
      অবুঝ শিশু হামাগুড়ি দিল পিতামাতার লাশের ওপর।\\\

      জবাব দিন
      • জুনায়েদ কবীর (৯৫-০১)

        টিপস দেবার জন্য আমি এখনো তেমন উপযুক্ত নই। তারপরও কিছু আগ বাড়িয়ে দিচ্ছি-
        ১। ডায়লগের ক্ষেত্রে আমি সাধারণত ঐ অবস্থানে বাংলাদেশী লোকজন কল্পনা করে নেই এবং তারা কি ধরনের বাক্য, উপমা, বিশেষণ ব্যবহার করতেন সেটা মাথায় রেখে এগোই। অবশ্যই মূলভাবকে অক্ষত রেখে।
        ২। তবে, সংজ্ঞা বা কোন উদ্ধৃতির ক্ষেত্রে সাধারণ হুবহু ইংরেজিটুকুই তুলে দিই। তা না হলে অনেক সময় অর্থ এদিক-ওদিক (কিছুটা হলেও) হয়ে যায়।
        ৩। অনুবাদ হচ্ছে এক ভাষা থেকে অন্য ভাষায় রূপান্তর। ফলে দুই ভাষাভাষীর সংস্কৃতিও খেয়াল রাখা জরুরী। ইংরেজিতে কোথাও যদি লেখা থাকে তার মুখটি ''ক্রিসমাস ট্রি'র মত আলোকিত হয়ে উঠল''- এটা বাংলায় লেখার কোন মানে হয় না। অনেকে হয়ত রিলেটও করতে পারবে না। এরচেয়ে বাংলায় অনুবাদ করার সময় সেটিকে '' বিয়ের বাড়ির মতন আলোকিত হয়ে উঠল'' বলাটাই আমার কাছে বেশি গ্রহণযোগ্য লাগে।
        ৪। আমি মনে করি অনুবাদক মূল লেখাকে ঠিক রেখে কিছুটা হলেও এদিক-ওদিক করার (শুধুমাত্র বিশেষণ, উপমা, উদাহরণ ইত্যাদি ক্ষেত্রে) স্বাধীনতা রাখেন। তবে সেক্ষেত্রে বলে নেয়া উচিত- এটা ভাবানুবাদ, অনুবাদ নয়।

        ব্যক্তিগত মতামত। ফলে, কতটুকু আইনগত বা নীতিগত সঠিক-তা জোর গলায় বলতে পারছি না।


        ঐ দেখা যায় তালগাছ, তালগাছটি কিন্তু আমার...হুঁ

        জবাব দিন
  5. ওয়াহিদা নূর আফজা (৮৫-৯১)

    ভাল লাগলো। সেই সাথে মনে এই ইচ্ছা দৃঢ় হল একদিন আমিও বাংলাদেশে চলে আসবো। অনেকদিন থেকেই ভাবছি। কবে আসবো জানি না - তবে আসবো।


    “Happiness is when what you think, what you say, and what you do are in harmony.”
    ― Mahatma Gandhi

    জবাব দিন
    • মোকাব্বির (৯৮-০৪)

      অনেকদিন পরে আসলেন। পড়ার জন্য অনেক ধন্যবাদ আপা। দেশে চলে আসা নিয়ে অনেকে অনেক কথা বলে। দেশের সার্বিক অবস্থা নিয়েও পরাবাস্তব ধরণের আলোচনা করে বন্ধুরা। নিজে এখনো "তবে কি ভুল ছিল?"--এই ধরণের চিন্তাভাবনা শুরু করি নাই। আমার মাঝে নৈরাশ্য খুব সহজেই ভর করে কিন্তু আমি কোন একটা কারণে এখনো দাঁতে দাঁত চেপে বসে আছি।


      \\\তুমি আসবে বলে, হে স্বাধীনতা
      অবুঝ শিশু হামাগুড়ি দিল পিতামাতার লাশের ওপর।\\\

      জবাব দিন
  6. রাজীব (১৯৯০-১৯৯৬)

    মূল লেখকের সাথে যোগাযোগ টা করে দেখ।
    তাইলে বুঝবি কেউ অনুবাদ করেছে বা করছে কিনা///
    হয়তো নিজের আনন্দে বা একটা দায়িত্ব বোধ থেকে করছিস। কিন্তু একই কাজ যদি হয়ে গিয়ে থাকে তবে বৃথা শ্রম হয়ে যাবে।

    লেখা ভালো লেগেছে।


    এখনো বিষের পেয়ালা ঠোঁটের সামনে তুলে ধরা হয় নি, তুমি কথা বলো। (১২০) - হুমায়ুন আজাদ

    জবাব দিন
  7. খায়রুল আহসান (৬৭-৭৩)

    অনুবাদের একটা নমুনা ছাপাওনা দেখি, কেমন হচ্ছে বলে দেয়া যাবে। লেখা পড়ে বোঝা যায়, ওসব চাপ টাপ দিয়ে জীবন তোমাকে টলাতে পারবেনা। আইনজীবির পেশাটায় স্বাধীনতা আছে বলেই জানতাম। তাছাড়া সম্মানেরও। পড়াশোনা যখন ও বিষয়েই করেছো, তখন কয়েকটা বছর লেগে থেকেই দেখো না কেন। আর বিয়ে? আমি মনে করি, বিয়ের আগে উপার্জনের অঙ্ক কষাটা নিরর্থক। জীবন গোছানো কখনোই শেষ হয় না। অতএব, শুভষ্য শীঘ্রম!

    জবাব দিন
  8. খায়রুল আহসান (৬৭-৭৩)

    এই লেখাটায় এত ভালো ভালো সব মন্তব্য এসেছে! লেখাটা যেমন ভালো হয়েছে, পাঠকের মন্তব্যগুলোও তেমনি চমৎকার হয়েছে। সবকিছুই বেশ উপভোগ করলাম।
    আমি যখন পাঁচ বছর বিদেশে ছিলাম (এনআরবি হিসেবে নয়, সরকারী পোস্টিং এ), বাবা দেশ থেকে চিঠি লিখে জানিয়েছিলেন, এ দেশে তোমরা টিকে থাকতে পারবেনা। পারলে কোন দেশে স্থায়ী ভাবে থেকে যাওয়ার সুযোগ খুঁজে নিও। তখন সুযোগ পেয়েছিলামও বটে, তবে দেশাত্মবোধের কারণে সেটা প্রত্যাখ্যান করেছিলাম। বিদেশে থাকতেই বাবাকে হারিয়েছিলাম। দেশে ফিরে এসে অবকাঠামোগত অনেক কিছুর উন্নয়ন দেখে মুগ্ধ হয়েছিলাম, কিন্তু মূল্যবোধের অবক্ষয় দেখতে দেখতে ক্রমান্বয়ে হতাশ হওয়া শুরু করলাম।
    এখন আমি আমাদের ছেলেদেরকে বলি, পারলে তোমরা বিদেশে যাওয়ার পথ খোঁজো। বাবারা বোধহয় এরকমই হয়!

    জবাব দিন

মন্তব্য করুন

দয়া করে বাংলায় মন্তব্য করুন। ইংরেজীতে প্রদানকৃত মন্তব্য প্রকাশ অথবা প্রদর্শনের নিশ্চয়তা আপনাকে দেয়া হচ্ছেনা।