তবু ফিরে ফিরে আসি (হতে পারতো ফেইসবুক, আপাতত সিসিবি)

পাঠক হিসেবে প্রায় প্রতিদিন লগ-ইন করে লেখা ও মন্তব্য পড়ে মন্তব্য করা বড় কষ্টকর। বিশেষ করে নিয়মিত হাতিঘোড়া লেখার অভ্যাস থেকে পাঠকের অবস্থানে নেমে আসলে হাত নিশপিশ করতেই থাকে। সেই অবস্থার চূড়ান্ত অবনতি ঘটে যখন সামাজিক মাদক ফেইসবুকে যাওয়া আসা বন্ধ করে দেয়া হয়। লোক দেখানো হচ্ছেনা। কি ভাবছি বলা হচ্ছে না। কি দেখছি লেখা হচ্ছে না। ছবি তোলা হচ্ছে না। ফেইসবুকে যাওয়া সম্পূর্ণ বন্ধ করেছি। কিভাবে করেছি সে সম্পর্কে বলতে গেলে বলতে হয়, “কিছু কথা থাকনা গুপন!” এদিকে গত দুই দিন আগের তুষার ঝড়ের পর চূড়ান্তভাবে শীতকাল বিদায় নেয়ার পর ভেবেছিলাম আর দুটো দিন অপেক্ষা করে একটি ছবিব্লগ নামিয়ে ফেলব। অসমাপ্ত ছবিব্লগ সিরিজ শুরু করার এরচেয়ে ভাল অজুহাত হতে পারে না। তবে ছবি তোলার মত পরিস্থিতি এখন‌ো তৈরী হয়নি। প্রকৃতি ও রমণী কেউই ডানা মেলা শুরু করেনি। তবে দ্রুত বেগে বরফ গলছে। তাপমাত্রাও বাড়ছে নিয়মিত বিরতিতে। রাস্তার ধারের দোকানগুলো বাইরে ইজি চেয়ার বসিয়েছে রোদ পোহাবার জন্য। এই শহরের ডাউনটাউনের এই রীতিটা আমার খুব ভাল লাগে। রোদ থাকলে ও চেয়ার খালি থাকলে রোদ পোহাবার জন্য বসে যাও। কেউ কিছু বলবে না। ওগুলো দেয়াই হয়েছে সবার জন্য।

গত কয়েকদিন ধরেই চোখের সমস্যায় ভুগছিলাম। বুঝতে পারছিলাম পাওয়ার বেড়েছে। চোখের ডাক্তারের খরচের ইন্সুরেন্স মিশিগান টেক দেয় না। অন্য কোথাও দেয়া হয় বলেও মনে হয় না। যাই হোক সাহস করে চলে গেলাম ওয়ালমার্ট ভিশন সেন্টারে। অনেকগুলো যন্ত্রপাতির মধ্য দিয়ে খেলাধুলা করার পর ডাক্তার জানালেন ডান চোখে ১.৫ ও বাম চোখে ১.০ এর মত পাওয়ার বেড়েছে। আগে দুটোতেই ২.০ এর মত ছিল। যতদূর জানতাম একটা বয়সের পর চোখের পাওয়ার আর বাড়ে না। কিন্তু গত দুই বছরের পড়াশোনা ও বিভিন্ন সামাজিক কাজে বই ও কম্পিউটারের পর্দায় চোখ আটকে ছিল প্রতিদিন। কোন কোন দিন ১০-১২ ঘন্টার অধিক। ঠেলার নাম বাবাজি। আপাতত মাথাব্যথাসহ সকল অস্বস্তির অবসান তবে এরমাঝে ১১৮ ডলার চলে গিয়েছে। ডাক্তারের ভিজিট ৪৮, দুই লেন্স (সবচাইতে সস্তা) ৩০+৩০ = ৬০, এবং পুরানো ফ্রেমে বসানোর প্রসেসিং ফি ১০ ডলার; সব মিলিয়ে ১১৮ ডলার। কিপ্টামি করে চলার চেষ্টা করছি কারণ গ্রীষ্মে কোন কাজ নেই, অর্থাৎ কোন আয় নেই। জমানো টাকা থেকেই সব শেষ করতে হবে, এরমাঝে প্লেনের ফিরতি টিকেটটাও কিনতে হবে। সব মিলিয়ে বেশ খানিকটা চিন্তা। এরমাঝে ১১৮ ডলার চলে যাওয়া বেশ খানিকটা কষ্টের।

মির্জাপুরের একাডেমী ব্লকের কোন এক টয়লেটের উপরে “সংরক্ষিত প্রক্ষালন” লেখা পেয়েছিলাম। বলাবাহুল্য শিক্ষকদের জন্য সংরক্ষিত ছিল। ইংরেজী ‘ওয়াশরুম’ এর যে এক চমৎকার বাঙলা শব্দ আছে সেটা জানা হয় সেখান থেকেই। এই প্রক্ষালন ঘিরে ক্যাডেটদের ঘটনার শেষ নাই। মিশিগান টেকে এসেও দিনলিপিতে টয়লেটের দুই-দরজা ব্যবস্থা নিয়ে লিখেছি। আবার‌ো ঘটনা ঘটেছে গত বৃহস্পতিবার সেই দুই দরজাওয়ালা প্রক্ষালনেই। প্রাকৃতিক ছোট কাজে সাড়া দেবার সময় শীস বাজিয়ে “তোমার দিল কি দয়া হয়না” গাইতে গাইতে ডানে তাকিয়ে যা দেখলাম তাতে সাড়া দেবার প্রক্রিয়া প্রায় বন্ধ হবার উপক্রম। পুরুষের প্রক্ষালনে নারীর আবির্ভাব?! কোনমতে কার্য সমাপ্তির পর ভাবলেশহীন চেহারা নিয়ে বেসিনের সামনে গিয়ে আড়চ‌োখে তাকালাম। দেখি মেয়েটি নিবিষ্ট চিত্তে হাতমুখ ধুইছে। ইতমধ্যে কার্য সম্পাদনে আগত আরেক পুরুষ ঢুকেই যেন মেডুসার সাথে চোখাচোখি হয়েছে এমন বিস্ফোরিত চেহারা বানিয়ে দাড়িয়ে পড়ল‌ো। আমি যথাসম্ভব ভাবলেশহীন চেহারা ধরে রেখে বাইরে এসে দেখি মেয়েটির জনাকয়েক বন্ধুবান্ধব বাইরে দাড়িয়ে বত্রিশ দন্ত বিকশিত করে দরজার দিকে তাকিয়ে আছে। ধরে নিলাম বাজি ধরা হয়েছে।

থিসিস লিখার চেষ্টা করছি। বিষয় বাঙলাদেশের জলবায়ু পরিবর্তন সম্পর্কিত প্রজেক্ট, অবকাঠামো, প্রক্রিয়ার উপর কাগুজে গবেষণা। মেটা এনালিসিস এর ভাল বাঙলা খুঁজে পেলাম না তাই কাগুজে গবেষণা। জলবায়ু পরিবর্তন সম্পর্কিত প্রজেক্ট বাস্তবায়নের দিক দিয়ে সমসাময়িক দেশগুলোর মাঝে বাঙলাদেশ এগিয়ে আছে। ব্যাপারটা ভাবতে বেশ ভাল লাগে। তবে এরমাঝে প্রশ্ন থেকে যায়। কাজের ফাঁকে ভাবছি থিসিসের সারাংশ ও নিজের ভাবনা মিলিয়ে গোটা দুই-তিনেক পর্বে ব্লগ লিখে ফেলব। জলবায়ু পরিবর্তন এমন একটি বিষয় যেটা নিয়ে সাধারণত সবার ধারণা থাকে না। যতটুকু থাকে সেটা ঘোলাটে। বন্ধুদের মাঝে অনেককে দেখেছি, “নারে ভাই ক্লাইমেট চেঞ্জ টপিকটাই ক্যাচাল।” বলে দূরে সরে যেতে। সামনে সময় আসছে। এইডস নয় বরং জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব থেকে বাঁচতে হলে জানতে হবে। এসব কিছু নিয়েই কিছু একটা লেখার ইচ্ছা আছে। জলবায়ু পরিবর্তনে বাঙলাদেশের ভবিষ্যত ও করণীয় কি এই নিয়ে সবার জানার দরকার। অন্তত সিসিবি পাঠকরা জানুক। তাতেই বা কম কিসের। যদিও আপাতত থিসিসের কাজ নিয়ে বেশ খানিকটা হাবুডুবু খাচ্ছি। থিসিস প্রার্থীদের রাইটার্স ব্লক বলে কিছু আছে কিনা জানি না তবে ইদানিং লিখতে গেলেই কানাগলির সামনে দাড়াচ্ছি। ব্যাপারটি বিরক্তিকর।

এক বসায় আরেকটি হাতি-ঘোড়া লিখে ফেলার মাঝে রেজার শাওনের “হুইসেল” পড়ে ফেললাম। মন্ত্রমুগ্ধতা থেকে বাস্তবে উঠে আসতে ইচ্ছা করছিলনা। মনটা ভাল হয়ে গেল। গত কয়েকদিনের কানাগলির হতাশা বেশখানিকটা কেটে গিয়েছে। নতুন উদ্যমে কাজ শুরু করার আগে ভাবলাম কিছু কথা লিখে যাই। আর শেষ করি হুইসেলের প্রিয় লাইনগুলো দিয়েঃ

আমি শুধু এগিয়ে যাই। আমার মোড়ের পর মোড় চলে আসে, রাজপথ কখনো আসেনা। শুধু কার্ত্তিকের অনিয়ত কিছু রাতে আমাদের নক্ষত্রের মত ঘাসফুল ছড়ানো প্রান্তর চিড়ে শৈশবের ট্রেনটার হুইসেল কানে এসে বাঁধে।

– হুইসেল (রেজা শাওন)

২,২৩০ বার দেখা হয়েছে

৩১ টি মন্তব্য : “তবু ফিরে ফিরে আসি (হতে পারতো ফেইসবুক, আপাতত সিসিবি)”

  1. রেজা শাওন (০১-০৭)

    কাজের চাপ খারাপ জিনিস। এটা সচেতনে দূরে রাখার পরামর্শ রইলো ভাই। ট্যুর দেন, হেনতেন করেন। কিন্তু চাপ নেওয়া যাবে না। স্ট্রেস ব্যাপারটাই ভয়ংকর। হল্যান্ড ঘুরে যান।

    জবাব দিন
    • মোকাব্বির (৯৮-০৪)

      হল্যান্ড ঘুরতে টাকা লাগে সিদ্দিক! 🙁 সামারে কাজ কর্ম নাই। কিন্তু থিসিসের কাজ আছে। বাড়ি ভাড়া আছে, একটা ছোট ভূড়িওয়ালা পেট আছে। বাঁচতে হলে আয় করতে হবে! তারপরে ঘুরতে হবে! 🙁


      \\\তুমি আসবে বলে, হে স্বাধীনতা
      অবুঝ শিশু হামাগুড়ি দিল পিতামাতার লাশের ওপর।\\\

      জবাব দিন
  2. ওয়াহিদা নূর আফজা (৮৫-৯১)

    পড়াশোনায় ভালই ব্যস্ত। "প্রকৃতি ও রমণী কেউই ডানা মেলে প্রস্ফূটিত হয় নি।" উপমাটা পরিষ্কার হলো না। তুমি কি আমাদের রমণীদের ছবি তুলেও পাঠাবে?


    “Happiness is when what you think, what you say, and what you do are in harmony.”
    ― Mahatma Gandhi

    জবাব দিন
    • মোকাব্বির (৯৮-০৪)

      উপমাটা পরিষ্কার হয়নি। এখন আবার পড়ে বুঝতে পারছি। 😕 যেটা বোঝাতে চেয়েছিলাম কাদামাটি ফুঁড়ে বসন্তের বাহারী টিউলিপ আর ভারী জ্যাকেট, কানটুপি, মাফলার ছেড়ে এলোচুলে স্বল্পবসনা রমণী দুটোর কোনটাই এখনো দেখা মেলেনি। কিন্তু প্রকাশ করতে গিয়ে গুলিয়ে ফেললাম।

      তবে হ্যা। রমণীদের ছবি গতবারই এ্যালবাম আকারে ফেইসবুকে দিয়েছিলাম। এবার ব্লগ লিখে এখানে দিব। গত দুই বছর ধরে লতায় পাতায় আন্তর্জাতিক বান্ধবীর সংখ্যা নেহায়েত কম নয়। 🙂 (সম্পাদিত)


      \\\তুমি আসবে বলে, হে স্বাধীনতা
      অবুঝ শিশু হামাগুড়ি দিল পিতামাতার লাশের ওপর।\\\

      জবাব দিন
    • মোকাব্বির (৯৮-০৪)

      আচ্ছা আপা, "প্রকৃতি ও রমণী কেউই ডানা মেলা শুরু করেনি।" এভাবে বললে কি ঠিক হয়?


      \\\তুমি আসবে বলে, হে স্বাধীনতা
      অবুঝ শিশু হামাগুড়ি দিল পিতামাতার লাশের ওপর।\\\

      জবাব দিন
  3. সামিউল(২০০৪-১০)

    সু স্বাগতম মোকাব্বির ভাই। লেখা বরাবরের মতই ভাল্লাগছে......

    চারিদিকে ক্যাডেট; সিসিবি ছেড়ে পালাবি কোথায়??? 😛 😛 😛 (সম্পাদিত)


    ... কে হায় হৃদয় খুঁড়ে বেদনা জাগাতে ভালবাসে!

    জবাব দিন
  4. মাহমুদুল (২০০০-০৬)

    রমনী প্রস্ফুটিত হইলেই ছবি 😀 😀 😀 :awesome: :awesome: :awesome:

    জলবায়ু পরিবর্তন নিয়ে একটু আধটু আগ্রহ আছে। লিখে ফেলেন, পড়ে ফেলি 😀


    মানুষ* হতে চাই। *শর্ত প্রযোজ্য

    জবাব দিন
  5. জুনায়েদ কবীর (৯৫-০১)

    বিরতি জিনিসটা খারাপ না। মাঝে মাঝে এর দরকার আছে... :-B

    তবে দ্রুত বেগে বরফ গলছে। তাপমাত্রাও নামছে নিয়মিত বিরতিতে।

    আসলে তাপমাত্রা তো উঠছে, না কি? :-/


    ঐ দেখা যায় তালগাছ, তালগাছটি কিন্তু আমার...হুঁ

    জবাব দিন
  6. জুনায়েদ কবীর (৯৫-০১)
    পাঠক হিসেবে প্রায় প্রতিদিন লগ-ইন করে লেখা ও মন্তব্য পড়ে মন্তব্য করা বড় কষ্টকর।

    এজন্য আমি আর এস এস রিডার ব্যবহার করি। আগে গুগুল রিডার ছিল, ওটা বন্ধ হবার পর বর্তমানে InoReader। বাংলার প্রায় সবগুলো ব্লগ এর সাবস্ক্রিপশন করা আছে। একখানেই সবগুলোর পোস্ট এর আপডেট পেয়ে যাই। একমাত্র সিসিবির কমেন্ট + পোস্ট- দুটোরই সাবস্ক্রিপশন করা আছে।


    ঐ দেখা যায় তালগাছ, তালগাছটি কিন্তু আমার...হুঁ

    জবাব দিন

মওন্তব্য করুন : মোকাব্বির (১৯৯৮-২০০৪)

জবাব দিতে না চাইলে এখানে ক্লিক করুন।

দয়া করে বাংলায় মন্তব্য করুন। ইংরেজীতে প্রদানকৃত মন্তব্য প্রকাশ অথবা প্রদর্শনের নিশ্চয়তা আপনাকে দেয়া হচ্ছেনা।